০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
                       

মৌর্য সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট বিন্দুসার

বিশ্লেষণ সংকলন টিম
  • প্রকাশ: ০৮:১৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২
  • / ১১৬৬ বার পড়া হয়েছে

মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন বিন্দুসারের পিতা এবং শ্রেষ্ঠ সম্রাট অশোক ছিলেন বিন্দুসারের পুত্র।


Google News
বিশ্লেষণ-এর সর্বশেষ নিবন্ধ পড়তে গুগল নিউজে যোগ দিন

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এবং স্বল্পমূল্যে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

বিন্দুসার ছিলেন মৌর্য্য সাম্রাজ্যের ২য় সম্রাট যিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের পর ২৯৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসন লাভ করেন।  বিন্দুসার গ্রিকদের নিকট আমিত্রোখাতেস বা আল্লিত্রোখাদেস নামে পরিচিত ছিলেন, যা সংস্কৃত শব্দ অমিত্রঘাত বা শত্রু বিনাশকারী থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

বিন্দুসারের উপাধী ছিল অমিত্রাঘাত। তার আসল নাম সিংহসেন।

বিন্দুসার চক্রবর্তী সম্রাট সম্পর্কে মৌলিক তথ্য

  • জন্ম: খ্রিস্টপূর্ব ৩২০
  • মৃত্যু: খ্রিস্টপূর্ব ২৭২ (বয়স ৪৮ বছর)
  • দাম্পত্য সঙ্গী: চারুমিত্রা, সুভদ্রাঙ্গী
  • পদ: মৌর্য্য সম্রাট
  • রাজত্বকাল: খ্রিস্টপূর্ব ২৯৮ – খ্রিস্টপূর্ব ২৭২
  • রাজ্যাভিষেক: খ্রিস্টপূর্ব ২৯৮
  • উপাধি: অমিত্তাঘাত
  • সাম্রাজ্যে পূর্বসূরি: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য
  • সাম্রাজ্যে উত্তরসূরি: অশোক
  • সন্তান: সুসীম, অশোক, বীতাশোক
  • রাজবংশ: মৌর্য্য
  • পিতা: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য
  • মাতা: দুর্ধরা
  • ধর্ম: ব্রাহ্মণ্যবাদ

বিন্দুসারের জন্ম ও বংশপরিচয়

বিন্দুসার প্রথম মৌর্য্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য ও তার পত্নী দুর্ধরার সন্তান ছিলেন। জন্মের সময় বিন্দুসারের নাম রাখা হয় সিংহসেন। জৈন প্রবাদানুসারে, শত্রু দ্বারা বিষপ্রয়োগে হত্যা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে শারীরিক প্রতিষেধক তৈরী করার উদ্দেশ্যে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের উপদেষ্টা চাণক্য প্রতিদিন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যকে তার অজান্তে অল্প মাত্রায় বিষ পান করাতেন। একদিন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য তার বিষযুক্ত খাবার অন্তঃসত্ত্বা দুর্ধরার সঙ্গে ভাগ করে খান এবং এতে দুর্ধরার মৃত্যু হয়। সন্তানকে বাঁচাতে চাণক্য সদ্যমৃত দুর্ধরার পেট কেটে তাকে বের করে আনেন।

বিন্দুসারের সাম্রাজ্যলাভ

২৯৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মাত্র বাইশ বছর বয়সে পিতৃসূত্রে বিন্দুসার এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন। এই সাম্রাজ্যকে তিনি দক্ষিণ দিকে আরো প্রসারিত করেন এবং কলিঙ্গ, চের, পাণ্ড্য ও চোল রাজ্য ব্যতিরেকে সমগ্র দক্ষিণ ভারত ছাড়াও উত্তর ভারতের সমগ্র অংশ তার করায়ত্ত হয়। তার রাজত্বকালে তক্ষশীলার অধিবাসীরা দুইবার বিদ্রোহ করেন কিন্তু বিন্দুসারের পক্ষে তা দমন করা সম্ভব হয়নি।

বিন্দুসারের ধর্ম

বিন্দুসার আজীবিক ধর্মসম্প্রদায়ের মত বিশ্বাস করতেন। তার আধ্যাত্মিক শিক্ষক পিঙ্গলবস্ত বা জনাসন একজন ব্রাহ্মণ আজীবিক ছিলেন। বিন্দুসারের পত্নী সুভদ্রাঙ্গীও আজীবিক ধর্মমতে বিশ্বাসী ছিলেন। বিন্দুসার বেশ কিছু ব্রাহ্মণভট্টো বা ব্রাহ্মণ মঠেও দান ধ্যান করেন।

জনপ্রিয় মাধ্যমে

  • ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত ‘অশোকা’ নামক হিন্দি চলচ্চিত্র গার্সন ডা কুনহা বিন্দুসারের চরিত্রে অভিনয় করেন।
  • ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত ‘চক্রবর্তী অশোক সম্রাট’ নামক হিন্দি টেলিভিশন ধারাবাহিকে সমীর ধর্মাধিকারী বিন্দুসারের চরিত্রে অভিনয় করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য সংরক্ষিত রাখুন

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

মৌর্য সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট বিন্দুসার

প্রকাশ: ০৮:১৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২

বিন্দুসার ছিলেন মৌর্য্য সাম্রাজ্যের ২য় সম্রাট যিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের পর ২৯৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসন লাভ করেন।  বিন্দুসার গ্রিকদের নিকট আমিত্রোখাতেস বা আল্লিত্রোখাদেস নামে পরিচিত ছিলেন, যা সংস্কৃত শব্দ অমিত্রঘাত বা শত্রু বিনাশকারী থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

বিন্দুসারের উপাধী ছিল অমিত্রাঘাত। তার আসল নাম সিংহসেন।

বিন্দুসার চক্রবর্তী সম্রাট সম্পর্কে মৌলিক তথ্য

  • জন্ম: খ্রিস্টপূর্ব ৩২০
  • মৃত্যু: খ্রিস্টপূর্ব ২৭২ (বয়স ৪৮ বছর)
  • দাম্পত্য সঙ্গী: চারুমিত্রা, সুভদ্রাঙ্গী
  • পদ: মৌর্য্য সম্রাট
  • রাজত্বকাল: খ্রিস্টপূর্ব ২৯৮ – খ্রিস্টপূর্ব ২৭২
  • রাজ্যাভিষেক: খ্রিস্টপূর্ব ২৯৮
  • উপাধি: অমিত্তাঘাত
  • সাম্রাজ্যে পূর্বসূরি: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য
  • সাম্রাজ্যে উত্তরসূরি: অশোক
  • সন্তান: সুসীম, অশোক, বীতাশোক
  • রাজবংশ: মৌর্য্য
  • পিতা: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য
  • মাতা: দুর্ধরা
  • ধর্ম: ব্রাহ্মণ্যবাদ

বিন্দুসারের জন্ম ও বংশপরিচয়

বিন্দুসার প্রথম মৌর্য্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য ও তার পত্নী দুর্ধরার সন্তান ছিলেন। জন্মের সময় বিন্দুসারের নাম রাখা হয় সিংহসেন। জৈন প্রবাদানুসারে, শত্রু দ্বারা বিষপ্রয়োগে হত্যা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে শারীরিক প্রতিষেধক তৈরী করার উদ্দেশ্যে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের উপদেষ্টা চাণক্য প্রতিদিন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যকে তার অজান্তে অল্প মাত্রায় বিষ পান করাতেন। একদিন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য তার বিষযুক্ত খাবার অন্তঃসত্ত্বা দুর্ধরার সঙ্গে ভাগ করে খান এবং এতে দুর্ধরার মৃত্যু হয়। সন্তানকে বাঁচাতে চাণক্য সদ্যমৃত দুর্ধরার পেট কেটে তাকে বের করে আনেন।

বিন্দুসারের সাম্রাজ্যলাভ

২৯৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মাত্র বাইশ বছর বয়সে পিতৃসূত্রে বিন্দুসার এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন। এই সাম্রাজ্যকে তিনি দক্ষিণ দিকে আরো প্রসারিত করেন এবং কলিঙ্গ, চের, পাণ্ড্য ও চোল রাজ্য ব্যতিরেকে সমগ্র দক্ষিণ ভারত ছাড়াও উত্তর ভারতের সমগ্র অংশ তার করায়ত্ত হয়। তার রাজত্বকালে তক্ষশীলার অধিবাসীরা দুইবার বিদ্রোহ করেন কিন্তু বিন্দুসারের পক্ষে তা দমন করা সম্ভব হয়নি।

বিন্দুসারের ধর্ম

বিন্দুসার আজীবিক ধর্মসম্প্রদায়ের মত বিশ্বাস করতেন। তার আধ্যাত্মিক শিক্ষক পিঙ্গলবস্ত বা জনাসন একজন ব্রাহ্মণ আজীবিক ছিলেন। বিন্দুসারের পত্নী সুভদ্রাঙ্গীও আজীবিক ধর্মমতে বিশ্বাসী ছিলেন। বিন্দুসার বেশ কিছু ব্রাহ্মণভট্টো বা ব্রাহ্মণ মঠেও দান ধ্যান করেন।

জনপ্রিয় মাধ্যমে

  • ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত ‘অশোকা’ নামক হিন্দি চলচ্চিত্র গার্সন ডা কুনহা বিন্দুসারের চরিত্রে অভিনয় করেন।
  • ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত ‘চক্রবর্তী অশোক সম্রাট’ নামক হিন্দি টেলিভিশন ধারাবাহিকে সমীর ধর্মাধিকারী বিন্দুসারের চরিত্রে অভিনয় করেন।