রবিবার, মে ২৯, ২০২২

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী এবং তাঁর আজীবন সংগ্রাম

শাহ ওয়ালিউল্লাহ কেবল আঞ্চলিক ও জাতীয় রাজনীতির গভীর উপলব্ধিই রাখেননি; তিনি অর্থনীতির গভীর প্রভাবও স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছিলেন

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (১৭০৩-১৭৬২) ছিলেন এমন একজন মানুষ যাকে এখনো পুরো এশিয়ার মুসলমানরা সম্মান করে। তাঁর ভাবধারা বা দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এই নিবন্ধে এই বিখ্যাত মানুষটি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী কে ছিলেন?

শাহ ওয়ালিউল্লাহ মোহাদ্দেস দেহলভী (Shah Waliullah Dehlawi) ছিলেন ভারতীয় ধর্মীয় নেতা এবং প্রভাবশালী ইসলামি সংস্কারক যিনি এশিয়ার মুসলিম সমাজকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। হানাফি ধারার অনুসারী শাহ ওয়ালিউল্লাহ ছিলেন একজন বিশিষ্ট পণ্ডিত এবং লেখক। তিনি ৫১টি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

তাঁর লেখাগুলি এবং তার শিক্ষার পাশাপাশি তিনি যে ধরণের জীবনযাপন করেছিলেন, তার মাধ্যমে শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী পরবর্তী প্রজন্মের ইসলামী অনুসারীদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন যারা তাঁর মৃত্যুর পরে তার সংস্কার মিশন। পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর লেখাগুলিকে তার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় বিশেষ করে তার করা পবিত্র কুরআনের একটি অনুবাদ।

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীর জন্ম

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী ভারতের মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বের শেষ মুহূর্তে ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজফফরনগরের ফুলাত শহরে ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৭০৩ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন (তাঁর জন্মের চার বছর পরে, আওরঙ্গজেব মারা যান)। তাঁর জন্ম নাম ছিল কুতুবউদ্দীন। পূর্ণনাম কুতুবউদ্দিন আহমেদ ইবনে আবদুর রহিম, তবে তিনি শাহ ওয়ালিউল্লাহ নামে বিশেষ পরিচিতি বা খ্যাতি লাভ করেন।

তাঁর দাদা শেখ ওয়াজিহউদ্দীন শাহজাহানের সেনাবাহিনির একজন উচ্চমানের সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি পরের যুদ্ধে যুবরাজ আওরঙ্গজেবের পক্ষে ছিলেন। তাঁর বাবা শাহ আবদুর রহিম ছিলেন একজন সুফী এবং একজন বিশিষ্ট আলেম, যিনি ইসলামিক আইনের বিশাল লিখিত রচনা ফাতাওয়া-ইআলমগিরি রচনা করতে সহায়তা করেছিলেন। তিনি মাদ্রাসা-ই-রহিমিয়া নামে একটি ধর্মতাত্ত্বিক কলেজে পড়িয়েছিলেন যার প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজেই সহায়তা করেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি মুসলিম ভারতের ধর্মীয় মুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠে কারণ এটিই পরবর্তীতে ধর্মীয় সংস্কারকদের জন্য একটি সূতিকাগার হিসেবে কাজ করেছিল।

শিক্ষা

শাহ ওয়ালিউল্লাহ তাঁর দাদার কাছ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন, তবে তার পিতা পরে তাকে তার প্রাতিষ্ঠানিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা এ দিয়েছিলেন। তার বয়স যখন মাত্র পাঁচ বছর তখন শাহ ওয়ালিউল্লাহর ইসলামি শিক্ষার সাথে পরিচয় হয়। দুই বছর পরে তিনি পবিত্র কে তেলাওয়াত করতে পারেন। এই সময়ে তিনি তাফসীর, হাদিস, আধ্যাত্মিকতা, রহস্যবাদ, অধিবিদ্যা, যুক্তি এবং ইলম-উল-কালাম সম্পর্কেও জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। এরপর ফারসি ও আরবি ভাষার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলে তিনি এক বছরে তার পাঠ শেষ করতে সক্ষম হন। এর পরে তিনি ব্যাকরণ এবং বাক্য গঠনে মনােনিবেশ করেন। সর্বোপরি তিনি চিকিৎসা নিয়েও পড়াশোনা করেছিলেন।

কর্মজীবনে প্রবেশ

১৭ বছর বয়স শাহ ওয়ালিউল্লাহ পিতাকে হারান। তখন জীবিকার জন্য তিনি মাদ্রাসা-ই-রহিমিয়ার শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তিনি সেখানে ১২ বছর ধরে শিক্ষকতা করেছিলেন। পাশাপাশি মুসলমানদের তাদের আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কারের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। গভীর ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি শাহ ওয়ালিউল্লাহ দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ার ইসলামরীতিনীতি মেনে চলেন। মাদ্রাসা-ই-রহিমিয়া ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামিক রেনেসার কেন্দ্র হয়ে উঠে, কারণ এটি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্ডিতদের আকর্ষণ করেছিল। তাদের প্রশিক্ষণের পরে তারা বিভিন্ন অঞ্চলে এর শিক্ষাকে বহন করে নিয়ে যায়।

আরবে শাহ ওয়ালিউল্লাহর উচ্চশিক্ষা

১৭৩০ সালে শাহ ওয়ালিউল্লাহ আরবে উচ্চতর পড়াশোনা শুরু করেন। তিনি মক্কা এবং মদীনায় নামকরা দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশােনা করেছিলেন, যেখানে তিনি একজন স্বনামধন্য আলেম হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সব মিলিয়ে তিনি ১৪ বছর মদিনায় পড়াশোনা করেছিলেন, যেখানে তিনি হাদিসে তাঁর সনদ অর্জন করেছিলেন। এ সময় তিনি আরও সচেতন হয়েছিলেন যে অধিকারের পক্ষে। মারাঠারা (মারাঠা সাম্রাজ্যের আক্রমণকারী যোদ্ধারা) ভারতে অনবরত আক্রমণ চালিয়েছিল এবং মুসলমানদের সম্পদ লুট করে নিয়ে যায় যা তাকে ভাবিয়ে তোলে।

শাহ ওয়ালিউল্লাহর মিশন

জানা যায়, তিনি আরবে থাকাকালীন শাহ ওয়ালিউল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর একটি দর্শন পেয়েছিলেন; তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে তিনি যেন ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়কে সংগঠিত করার এবং তারপরে মুক্তি দেওয়ার জন্য কাজ করেন (সত্য কিংবা মিথ্যা যাচাই করা সম্ভব নয়)। স্পষ্টতই এই দর্শনের প্রতিক্রিয়া হিসাবে, শাহ ওয়ালিউল্লাহ ১ জুলাই, ১৭৩২ সালে দিল্লিতে ফিরে আসেন, যেখানে তিনি তার জীবনের লক্ষ্য হিসাবে বিবেচিত কর্ম শুরু করেছিলেন।

এই মিশনের অনুসরণে, শাহ ওয়ালিউল্লাহ একটি দুর্দান্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এ সময় ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম সমাজ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে বিশৃঙ্খলায় ছিল। তবে শাহ ওয়ালিউল্লাহ সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে যথাযথ প্রতিকারের ইঙ্গিত দিয়েছেন । তিনি মুসলিম সমাজে একীভূত হয়ে ওঠা এমন অনৈসলামিক রীতিনীতি সম্পর্কে সমালােচনা করেছিলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যা মুসলিম সমাজে হিন্দু ধর্মের সংস্পর্শে থাকার কারণে এসেছিল। বিশেষত, তিনি অযৌক্তিক বিবাহ অনুষ্ঠান এবং উৎসবগুলির নিন্দা করেছিলেন। এছাড়াও, তিনি মুসলিম সমাজে অর্থনৈতিক অবক্ষয়ের কারণগুলি নির্ধারণ করেছিলেন এবং সম্পদের বৃহত্তর বন্টন সহ যথাযথ পরিবর্তনগুলির প্রস্তাব করেছিলেন। এটি এমন একটি ধারণা যা কার্ল মার্ক্সের অর্থনৈতিক তত্ত্বগুলির পূর্বাভাস করেছিল যিনি উনিশ শতকের দার্শনিক এবং অর্থনীতিবিদ। তিনি পুঁজিবাদকে অবজ্ঞা করেছিলেন এবং সাম্যবাদের পিতা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

তবে বৃহত্তর, অন্তর্নিহিত সমস্যাটি ইসলাম ও পবিত্র কুরআন সম্পর্কে মুসলমানদের জ্ঞানের অভাব বলে বিশ্বাস করতেন। এই অজ্ঞতাই তিনি অনুভব করেছিলেন যে, মুসলমানরা যে সমস্ত ঝামেলা সহ্য করেছিল তার কারণ ছিল কুরআনের জ্ঞানের তাদের মধ্যে ছিল না।

এ পর্যায়ে দিল্লিতে বসতি স্থাপন করার পরে, শাহ ওয়ালিউল্লাহ ইসলামি শিক্ষার বিভিন্ন বিস্তৃত শাখায় শিক্ষার্থীদের পড়াতে শুরু করেছিলেন, পাশাপাশি তাদের মিশনারি হওয়ার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন যারা পরবর্তিতে জনসাধারণের কাছে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা দান করেছিলেন। তদুপরি, ইসলামি শিক্ষার প্রচার ও পবিত্র কুরআনকে লোকদের কাছে আরও বোধধগম্য করে তুলতে তিনি কুরআনকে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। ফারসি ভাষা ছিল সে সময়ের সাধারণ ভাষা।

তিনি মুসলমানদের বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীতে বিভক্ত হওয়া পার্থক্য নিরসনে সহায়তা করারও চেষ্টা করেছিলেন। এইভাবে তিনি একজন মহান নেতা হওয়ার সাথে সাথে একজন পণ্ডিত হয়ে উঠলেন এবং তার অনুগামীরা তার মধ্যে কিছু সাধু গুণাবলিকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। তার উচ্চাকাক্ষা দুর্দান্ত হলেও নিঃস্বার্থ ছিল এবং তিনি ভারতে ইসলাম পুনরুদ্ধারের অগ্রদূত হিসাবে তার নিজের লক্ষ্য দেখেছিলেন। একজন নম্র ব্যক্তি শাহ ওয়ালিউল্লাহ তার সহকর্মী মুসলমানদের জন্য কোন ব্যক্তিগত পুরস্কার চাননি। গভীর আধ্যাত্মিক ও খ্যাতিমান অ্যাকাডেমিক হওয়ার পাশাপাশি শাহ ওয়ালিউল্লাহ রাজনৈতিকভাবেও উল্লেখযোগ্য ছিলেন। তিনি ক্রমবর্ধমান মারাঠা শক্তির বিরোধিতা করার জন্য মুসলিম ফ্রন্ট (Muslim Front) গঠনে সহায়তা করেছিলেন।

আহমদ শাহ আবদালিকে চিঠি লিখেছিলেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ

শাহ ওয়ালিউল্লাহ তিনি আহমদ শাহ আবদালির কাছে চিঠি লিখেছিলেন ভারতবর্ষের মুসলমানদের মারাঠাদের পরাজিত করতে সাহায্য করার পাশাপাশি ক্রমহাসমান মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতি তাদের ক্রমাগত হুমকি দূর করার জন্য। এই আবেদনের ফলস্বরূপ আহমদ শাহ আবদালি ১৭৬১ সালে পানিপথের যুদ্ধক্ষেত্রে হাজির হন এবং তার সেনাবাহিনি নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মারাঠা উচ্চাভিলাষকে থামিয়ে দিয়েছিলেন (Third Battle of Panipat)। শাহ ওয়ালিউল্লাহর আহমদ শাহ আবদালির কাছে লেখা চিঠিটি এখন অষ্টাদশ শতাব্দীর সাথে সম্পর্কিত অন্যতম ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে বিবেচিত। কারণ শাহ ওয়ালিউল্লাহ তৎকালীন ভারতের গুরুতর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুসলিম সমাজে চতুর্দিক থেকে আগত অসংখ্য বিপদকে বর্ণনা করেছিলেন।

আর্থসামাজিক ভারসাম্য ধারণার প্রচার

শাহ ওয়ালিউল্লাহ কেবল আঞ্চলিক ও জাতীয় রাজনীতির গভীর উপলব্ধিই রাখেননি; তিনি অর্থনীতির গভীর প্রভাবও স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি যা দেখেছিলেন তার উপর ভিত্তি করে তিনি আর্থসামাজিক ভারসাম্য ধারণার প্রচার করেছিলেন এবং ধন-সম্পদের সঞ্চারকে অবহেলা করেছিলেন। এবং এটিকে মূলতঃ বিশ্বের সমস্ত অশুভের প্রবাদকূপ হিসাবে দেখেন। অধিকন্তু তিনি এমন একটি সামাজিক শৃঙ্খলার পক্ষে ছিলেন যা সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং ভ্রাতৃত্বের ইসলামি নীতিগুলিকে মেনে চলে।

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীর রচনা

শাহ ওয়ালিউল্লাহর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা হলো ‘হুজ্জাতুল্লাহ-ইল-বালিগাহ’। রচনাটির একটি অধ্যায়ে তিনি পুঁজিবাদের কুফল সম্পর্কে বর্ণনা করেন। শাহ ওয়ালিউল্লাহ বিশ্বাস করতেন যে, রোমান ও সাসানিয় সাম্রাজ্যের পতনের কারণ ছিল। অর্থনীতি ও সমাজতত্ত্ব সম্পর্কিত তার অনেক তত্ত্বই এখন বিপ্লবী হিসাবে বিবেচিত। শাহ ওয়ালিউল্লাহকে কার্ল মার্ক্সের (Karl Marx) অগ্রদূত হিসাবে বিবেচিত করা হয়।

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দরিদ্রদের শোষণের করেছিলেন। দরিদ্রদের শোষণ করাকে তিনি রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের রূপক হিসাবে দেখতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিপ্লব হবে শান্তিপূর্ণ ও বৌদ্ধিক প্রকৃতির। তিনি শান্তিপূর্ণ এবং বৌদ্ধিক বিপ্লবের প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন।

শাহ ওয়ালিউল্লাহ রচিত আরেকটি বই হলো ‘ইজালাত-উল-খিফা’। শাহ ওয়ালিউল্লাহ রাজনৈতিক বিপ্লব সম্পর্কে যে ভাবধারা লালন করতেন তা পুরোপুরি বর্ণনা করা হয় এই রচনায়। মুসলিম সমাজের জন্য তার আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি এমন ছিল যে, সাধারণ মানুষ নিজেদের বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে এবং এবং শাসকরা তাদের সিদ্ধান্তগুলো নিবেন পবিত্র কুরআনের উপর ভিত্তি করে। বইটিতে তিনি মুঘল শাসক এবং ভারতের বিলাসিতাপ্রিয় অলস ধনী ব্যক্তিদের সমালোচনা করেছিলেন।

শাহ ওয়ালিউল্লাহর মৃত্যু

আজীবন ইসলামি অধ্যয়ন তথা ইসলাম সম্পর্কে লেখাপড়া ও লেখার প্রতি নিবেদিত থাকার পরে শাহ ওয়ালিউল্লাহ ২০ আগস্ট, ১৭৬২ সালে মারা যান। এই মুসলিম নেতা ও সংস্কারকের বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। তাঁকে তাঁর বাবার পাশে ভারতের বিখ্যাত কবরস্থান ‘মুনাহাদিয়ানে’ দাফন করা হয়েছিল। শাহ ওয়ালিউল্লাহর মৃত্যুর পরে তাঁর পুত্র শাহ আবদুল আজিজ তাঁর অনুসারীদের এবং উত্তরসূরিদের বংশপরম্পরায় মুসলিম বিশ্বাসকে নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।

আজও শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীকে পুরো এশিয়ার মুসলমানরা সম্মান করে। তাঁর শিক্ষা ও ঐতিহ্য দেওবন্দ এবং বরেলভী আন্দোলনের সাথে জড়িত। পরে শাহ আবদুল আজিজ পিতার পদক্ষেপ অনুসরণ করে পবিত্র কুরআনকে ভারতের মুসলমানদের ভাষা উর্দুতে অনুবাদ করেছিলেন। এদিকে শাহ ওয়ালিউল্লাহর প্রভাব অনেক ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনুভূত হতে থাকে।

(বিশ্লেষণ টিম কর্তৃক সম্পাদিত)

ওমর খালেদ রুমি
লেখক পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি এক্সিম ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত আছেন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের অন্যান্য নিবন্ধ

সমাজমাধ্যম

সবচেয়ে জনপ্রিয়
সবচেয়ে জনপ্রিয়

শিক্ষা কী? শিক্ষার সংজ্ঞা, ধারণা এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

শিক্ষা নিয়ে যারা কথা বলেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই নিজের মতো করে ভেবে নিয়েছেন শিক্ষাকে, নিজের মতো করে সংজ্ঞা দিয়েছেন। শিক্ষাবীদ কিংবা মনিষী, যার সংজ্ঞাই দেখা হোক না কেন, খুব একটা সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। তাই বলে যাদের হাত ধরে শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা আজ পর্যন্ত এসেছে তাঁদের মতো শিক্ষাবিদ বা মনিষীদের বলে যাওয়া বা লিখে যাওয়া কথাগুলোকে এড়িয়ে চলাও সম্ভব নয়।

গবেষণা: গবেষণার সংজ্ঞা, ধারণা ও প্রকারভেদ

গবেষণা হলো কোনো কিছু সম্পর্কে জানার জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এবং একটি গবেষণা শুধু একটি প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দুই বা ততোধিক প্রকারের হতে পারে

মূল্যবোধ কাকে বলে এবং মূল্যবোধের উৎস ও প্রকারভেদ কী?

মূল্যবোধ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Value এটি গঠিত হয়েছে...

নেতা ও নেতৃত্ব কাকে বলে? একজন আদর্শ নেতার গুণাবলি কী?

নেতৃত্বের মূল কাজ হলো আওতাভুক্ত ব্যক্তিবর্গকে প্রভাবিত করা, যাতে তারা নেতার নির্দেশ মেনে নেয় ও সে মোতাবেক কাজ করে। 

শিক্ষা: অভীক্ষার সংজ্ঞা এবং বৈশিষ্ট্য

শিক্ষাক্ষেত্রে অভীক্ষা খুবই পরিচিত একটি পদ। যারা শিক্ষাবিজ্ঞান পড়েছেন...

ইতিহাস কাকে বলে? ইতিহাসের বিষয়বস্তু, উপাদান এবং ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা কী?

ইতিহাস পাঠ করার আগে আমাদের প্রত্যেকেরই জানা প্রয়োজন ইতিহাস কী, ইতিহাসের প্রকৃতি কীরূপ; আবার পাঠ্য বিষয় হিসেবে ইতিহাসের ভূমিকা কী। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট কালের এবং নির্দিষ্ট দেশের ইতিহাস জানার সাথে সমসাময়িক প্রাকৃতিক অবস্থা এবং পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। এই নিবন্ধে ইতিহাসের সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু, উপাদান এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা, পরিধি এবং গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা

মানব সভ্যতার শুরু থেকেই ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন মানব সংগঠনের সাথে...

পরিবার কাকে বলে? পরিবারের সংজ্ঞা, ধারণা, প্রকারভেদ, কার্যাবলি ও গুরুত্ব কী?

আমরা জন্ম থেকেই পরিবারের সাথে পরিচিত। আমরা নিশ্চয়ই অবগত...

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার নীতি বা মূলনীতি কয়টি ও কী কী?

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনা একটি বাংলা শব্দ যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো...

শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল

পাঠকে ফলপ্রসূ করার জন্য শিক্ষক পরিস্থিতি অনুসারে একাধিক পদ্ধতি ও কৌশলের সংমিশ্রণে নিজের মতো করে পাঠ পরিচালনা করতে পারেন। পাঠের সাফল্য নির্ভর করে শিক্ষকের বিচক্ষণতা এবং বিষয়জ্ঞান ও শিখন পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগের উপর।

জেন্ডার কাকে বলে? জেন্ডার সমতা, সাম্য, লেন্স এবং বৈষম্য কী?

সাধারণভাবে বা সঙ্কীর্ণ অর্থে জেন্ডার শব্দের অর্থ বলতে অনেকে...