০৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
                       

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কী, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কী কী কাজে ব্যবহার করা যায় এবং এটি আগুনের মাত্রা কীভাবে বাড়ায়?

বিশ্লেষণ সংকলন টিম
  • প্রকাশ: ০১:১২:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুন ২০২২
  • / ২০৭৭ বার পড়া হয়েছে

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দাহ্য পদার্থ না হলেও এটা অক্সিডাইজিং এজেন্ট


Google News
বিশ্লেষণ-এর সর্বশেষ নিবন্ধ পড়তে গুগল নিউজে যোগ দিন

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এবং স্বল্পমূল্যে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কী, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কী কী কাজে ব্যবহার করা যায় এবং এটি আগুনের মাত্রা কীভাবে বাড়ায়; এ নিয়ে সাজানো হয়েছে এই নিবন্ধ

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কী?

হাইড্রোজনের পার অক্সাইড (Hydrogen peroxide) একটি রাসায়নিক যৌগ। এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত H2O2 এবং এই হাইড্রোজেন পার অক্সাইড বিশুদ্ধ অবস্থায় বর্ণহীন তরল।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কোনো দাহ্য পদার্থ নয় তবে এটি একটি অক্সিডাইজিং এজেন্ট।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইডকে বিশেষজ্ঞরা বর্ণনা করেন অক্সিডাইজিং এজেন্ট হিসেবে; সাধারণভাবে একে বলা যায় ব্লিচিং এজেন্ট। সরাসরি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহার বিপজ্জনক। তাই নিরাপত্তাজনিত কারণে সবসময় এর জলীয় দ্রবণ পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। এটি নিজে দাহ্য পদার্থ না হলেও আগুন বা দাহ্য পদার্থের আশেপাশে রাখলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কোথায় ব্যবহৃত হয় বা কী কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

বাংলাদেশে অনেক কোম্পানি এখন হাইড্রোজেন পার অক্সাইড উৎপাদন করে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পর্যায়ে এর ব্যবহার আছে।

যে সকল ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় সেগুলো হলো—

  • ব্লিচিংয়ের জন্য টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি বিশেষ করে ডাইং ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার করা হয়।
  • অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে বহুল ব্যবহৃত হয় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড।
  • লেদার ইন্ডাস্ট্রি বা চামড়া শিল্পে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ব্যবহার করা হয়।
  • ওয়াটার ট্রিটমেন্টে ব্যবহার করা সহ বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • বাথরুম ও টয়লেট পরিষ্কার, কাপড় ধোয়াসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যেও ব্যবহৃত হয় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড।

কতটা বিপজ্জনক হাইড্রোজেন পার অক্সাইড?

নানা কাজে এই হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ব্যবহার করা হলেও সঠিকভাবে সঠিক তাপমাত্রায় এটি ব্যবহার না করলে বিপজ্জনক হতে পারে।

  • শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড প্রবেশ করলে মাথাব্যথা, নাক জ্বলা বা বমিও হতে পারে।
  • হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের স্ফুটনাঙ্ক পানির তুলনায় ৫০ ডিগ্রি বেশি, সে কারণে বেশি তাপমাত্রায় এটা বিপজ্জনক হতে পারে।
  • হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের উচ্চ ঘনত্ব বেশ বিপজ্জনক।
  • হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ত্বক ও চোখের সংস্পর্শে আনা উচিত নয়, এ থেকে সতর্ক থাকা উচিত। এটি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। ত্বকে ও চোখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। সে কারণে চোখ বা ত্বকের সংস্পর্শে আসলে তাড়াতাড়ি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • অতিরিক্ত হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ফুসফুসেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড নিয়ে সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন এটা শীতল, শুষ্ক, ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এরকম জায়গায় সংরক্ষণ করা উচিত। বিশেষ করে ফ্লেমেবল কেমিক্যাল অর্থাৎ দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে এটা রাখা বিপজ্জনক।

দাহ্য পদার্থ থেকে দূরে এটাকে সংরক্ষণ করা উচিত। কারণ কোন দাহ্য পদার্থের কাছে থাকলে বা আগুন লাগার জায়গায় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড থাকলে আগুন বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যেতে পারে, বিস্ফোরণও ঘটতে পারে।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড হলো এমন এক ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল যা খুব সাবধানে ব্যবহার করতে হয়। এটা রাখার জন্য কনটেইনার আছে আলাদা। আলাদাভাবে রাখতে হলে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখতে হবে।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড আগুনের মাত্রা কীভাবে বাড়ায় এবং পানি দিয়ে এর আগুন নেভানো যায় না কেন?

পারিপার্শ্বিক অনেকগুলো অবস্থার উপর নির্ভর করে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড বিস্ফোরিত হবে কিনা।  রাসায়নিক সংরক্ষণের বৈশ্বিক নিয়ম ‘ম্যাটারিয়াল সেইফটি ডেটাশিট’ অনুযায়ী হাইড্রোজেন পার অক্সাইড রাখতে হবে গ্লাস, স্টেইনলেস স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম অথবা প্লাসিক কনটেইনারে। অন্য কোনো ধাতুর সংস্পর্শ পেলে এটা বিক্রিয়া করে।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড যেখানে রাখা হয় তার আশেপাশে কী আছে, কতদিন ধরে কীভাবে রাখা আছে— এসব অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে এর আচরণ।

উচ্চ তাপে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড বিস্ফোরক আচরণ করতে পারে। এটা দাহ্য পদার্থ না হলেও এটা অক্সিডাইজিং এজেন্ট। অর্থাৎ এই রাসায়নিক যৌগটি অক্সিডাইজার হিসেবে কাজ করে। আর অক্সিডাইজারে অক্সিজেন বা ফ্লোরিন বা ক্লোরিনের মতো পদার্থ যুক্ত থাকে যা দাহ্য পদার্থের মতো আচরণ করতে পারে। তার মানে হলো আগুন লাগলে তার আশেপাশে কোন অক্সিডাইজিং এজেন্ট থাকলে সেটি আগুনের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়, পর্যাপ্ত তাপ ও জ্বালানি পেলেই আগুনের তীব্রতা বাড়ে এবং এই তীব্রতায় বিস্ফোরণও ঘটতে পারে।

পানির সংস্পর্শে এলেও বিস্ফোরক আচরণ করতে পারে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড। হাইড্রোজেন পার অক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ সেই কারণে এই যৌগের প্রভাবে আগুন আগুন লাগলে বা আগুনের পরিসর বৃদ্ধি পেলে তা পানি দিয়ে নেভানো যায় না।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের আগুন নেভানোর কৌশল কী?

এ ধরনের আগুন নেভাতে হয় অন্য কৌশলে; ফগ সিস্টেমে এ ধরনের আগুন নেভানো সম্ভব। এছাড়া ফোম বা ড্রাই পাউডার জাতীয় অগ্নি নির্বাপন যন্ত্র দিয়ে এমন আগুন নেভাতে হয়।

বিবিসি’র একটি রিপোর্ট থেকে প্রয়োজনীয় অংশ সংকলন করা হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় সম্পাদনার মাধ্যমে সংযোজন ও বিয়োজন করেছে বিশ্লেষণ সংকলন টিম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য সংরক্ষিত রাখুন

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কী, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কী কী কাজে ব্যবহার করা যায় এবং এটি আগুনের মাত্রা কীভাবে বাড়ায়?

প্রকাশ: ০১:১২:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুন ২০২২

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কী, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কী কী কাজে ব্যবহার করা যায় এবং এটি আগুনের মাত্রা কীভাবে বাড়ায়; এ নিয়ে সাজানো হয়েছে এই নিবন্ধ

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কী?

হাইড্রোজনের পার অক্সাইড (Hydrogen peroxide) একটি রাসায়নিক যৌগ। এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত H2O2 এবং এই হাইড্রোজেন পার অক্সাইড বিশুদ্ধ অবস্থায় বর্ণহীন তরল।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কোনো দাহ্য পদার্থ নয় তবে এটি একটি অক্সিডাইজিং এজেন্ট।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইডকে বিশেষজ্ঞরা বর্ণনা করেন অক্সিডাইজিং এজেন্ট হিসেবে; সাধারণভাবে একে বলা যায় ব্লিচিং এজেন্ট। সরাসরি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহার বিপজ্জনক। তাই নিরাপত্তাজনিত কারণে সবসময় এর জলীয় দ্রবণ পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। এটি নিজে দাহ্য পদার্থ না হলেও আগুন বা দাহ্য পদার্থের আশেপাশে রাখলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কোথায় ব্যবহৃত হয় বা কী কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

বাংলাদেশে অনেক কোম্পানি এখন হাইড্রোজেন পার অক্সাইড উৎপাদন করে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পর্যায়ে এর ব্যবহার আছে।

যে সকল ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় সেগুলো হলো—

  • ব্লিচিংয়ের জন্য টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি বিশেষ করে ডাইং ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার করা হয়।
  • অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে বহুল ব্যবহৃত হয় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড।
  • লেদার ইন্ডাস্ট্রি বা চামড়া শিল্পে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ব্যবহার করা হয়।
  • ওয়াটার ট্রিটমেন্টে ব্যবহার করা সহ বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • বাথরুম ও টয়লেট পরিষ্কার, কাপড় ধোয়াসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যেও ব্যবহৃত হয় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড।

কতটা বিপজ্জনক হাইড্রোজেন পার অক্সাইড?

নানা কাজে এই হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ব্যবহার করা হলেও সঠিকভাবে সঠিক তাপমাত্রায় এটি ব্যবহার না করলে বিপজ্জনক হতে পারে।

  • শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড প্রবেশ করলে মাথাব্যথা, নাক জ্বলা বা বমিও হতে পারে।
  • হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের স্ফুটনাঙ্ক পানির তুলনায় ৫০ ডিগ্রি বেশি, সে কারণে বেশি তাপমাত্রায় এটা বিপজ্জনক হতে পারে।
  • হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের উচ্চ ঘনত্ব বেশ বিপজ্জনক।
  • হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ত্বক ও চোখের সংস্পর্শে আনা উচিত নয়, এ থেকে সতর্ক থাকা উচিত। এটি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। ত্বকে ও চোখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। সে কারণে চোখ বা ত্বকের সংস্পর্শে আসলে তাড়াতাড়ি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • অতিরিক্ত হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ফুসফুসেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড নিয়ে সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন এটা শীতল, শুষ্ক, ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এরকম জায়গায় সংরক্ষণ করা উচিত। বিশেষ করে ফ্লেমেবল কেমিক্যাল অর্থাৎ দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে এটা রাখা বিপজ্জনক।

দাহ্য পদার্থ থেকে দূরে এটাকে সংরক্ষণ করা উচিত। কারণ কোন দাহ্য পদার্থের কাছে থাকলে বা আগুন লাগার জায়গায় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড থাকলে আগুন বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যেতে পারে, বিস্ফোরণও ঘটতে পারে।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড হলো এমন এক ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল যা খুব সাবধানে ব্যবহার করতে হয়। এটা রাখার জন্য কনটেইনার আছে আলাদা। আলাদাভাবে রাখতে হলে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখতে হবে।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড আগুনের মাত্রা কীভাবে বাড়ায় এবং পানি দিয়ে এর আগুন নেভানো যায় না কেন?

পারিপার্শ্বিক অনেকগুলো অবস্থার উপর নির্ভর করে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড বিস্ফোরিত হবে কিনা।  রাসায়নিক সংরক্ষণের বৈশ্বিক নিয়ম ‘ম্যাটারিয়াল সেইফটি ডেটাশিট’ অনুযায়ী হাইড্রোজেন পার অক্সাইড রাখতে হবে গ্লাস, স্টেইনলেস স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম অথবা প্লাসিক কনটেইনারে। অন্য কোনো ধাতুর সংস্পর্শ পেলে এটা বিক্রিয়া করে।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড যেখানে রাখা হয় তার আশেপাশে কী আছে, কতদিন ধরে কীভাবে রাখা আছে— এসব অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে এর আচরণ।

উচ্চ তাপে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড বিস্ফোরক আচরণ করতে পারে। এটা দাহ্য পদার্থ না হলেও এটা অক্সিডাইজিং এজেন্ট। অর্থাৎ এই রাসায়নিক যৌগটি অক্সিডাইজার হিসেবে কাজ করে। আর অক্সিডাইজারে অক্সিজেন বা ফ্লোরিন বা ক্লোরিনের মতো পদার্থ যুক্ত থাকে যা দাহ্য পদার্থের মতো আচরণ করতে পারে। তার মানে হলো আগুন লাগলে তার আশেপাশে কোন অক্সিডাইজিং এজেন্ট থাকলে সেটি আগুনের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়, পর্যাপ্ত তাপ ও জ্বালানি পেলেই আগুনের তীব্রতা বাড়ে এবং এই তীব্রতায় বিস্ফোরণও ঘটতে পারে।

পানির সংস্পর্শে এলেও বিস্ফোরক আচরণ করতে পারে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড। হাইড্রোজেন পার অক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ সেই কারণে এই যৌগের প্রভাবে আগুন আগুন লাগলে বা আগুনের পরিসর বৃদ্ধি পেলে তা পানি দিয়ে নেভানো যায় না।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের আগুন নেভানোর কৌশল কী?

এ ধরনের আগুন নেভাতে হয় অন্য কৌশলে; ফগ সিস্টেমে এ ধরনের আগুন নেভানো সম্ভব। এছাড়া ফোম বা ড্রাই পাউডার জাতীয় অগ্নি নির্বাপন যন্ত্র দিয়ে এমন আগুন নেভাতে হয়।

বিবিসি’র একটি রিপোর্ট থেকে প্রয়োজনীয় অংশ সংকলন করা হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় সম্পাদনার মাধ্যমে সংযোজন ও বিয়োজন করেছে বিশ্লেষণ সংকলন টিম