০৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
                       

খাদ্য কাকে বলে? খাদ্য ও খাদ্য উপাদানের সংজ্ঞা খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা কী?

বিশ্লেষণ সংকলন টিম
  • প্রকাশ: ০৬:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ এপ্রিল ২০২২
  • / ২১৮০৩ বার পড়া হয়েছে

খাদ্য ও পুষ্টি


Google News
বিশ্লেষণ-এর সর্বশেষ নিবন্ধ পড়তে গুগল নিউজে যোগ দিন

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এবং স্বল্পমূল্যে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

খাদ্য ছাড়া আমরা বাঁচতে পারিনা। খাদ্য দেহ গঠন করে ও দেহে শক্তি এবং তাপ উৎপাদন করে। ফলে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্মক্ষম এবং সবল হয়। অপরদিকে খাদ্যের অভাব হলে দেহ গঠন ব্যাহত হয়, শরীর দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো অক্ষম হয়ে পড়ে, দেহ সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত হয় না। খাদ্যের অভাবে ধীরে ধীরে মানুষ ও জীব মারাও যায়। তাই দেহকে সবল, সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে হলে বিভিন্ন খাদ্য উপাদান প্রয়োজন। এসব খাদ্য উপাদান বিভিন্ন ভাবে প্রয়োজন অনুসারে শরীরে কাজ করে থাকে। পুষ্টি প্রক্রিয়ায় খাদ্যবস্তু পরিপাক হয়ে শরীরে বিশোষিত হয়। পরিপাকের মাধ্যমে আহার্য বস্তু ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত হয়। তারপর দেহের বিভিন্ন কাজ করে। এভাবে খাদ্য থেকে উপাদানগুলো আমাদের দেহে বহু কাজে লাগে ও শরীরের সুস্থতা বিধান করে দেহকে কর্মক্ষম রাখে।

খাদ্যের সংজ্ঞা

মানুষ বা প্রাণি যা খায় তাই খাদ্য নয়। খাদ্য হচ্ছে যেসব বস্তু বা দ্রব্য যা আহার করলে, আহার্য বস্তু হজম হয়ে বিশোষিত হবে এবং বিশোষণের পর রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনমত কাজে লাগবে। দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে, শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখবে।

যেমন: চাল, ডাল, মাছ, মাংস, শাক, সবজি, ফলমূল, দুধ, চিনি, পানি ইত্যাদি। 

খাদ্য উপাদানের সংজ্ঞা 

আমরা জানি একটি খাদ্য বস্তু দেহে এক বা একাধিক কাজ করতে পারে। তার কারণ হচ্ছে একটি খাদ্যবস্তুতে এক বা একাধিক রাসায়নিক দ্রব্য বা পদার্থের মিশ্রণে বিভিন্ন উপাদান থাকে। মৌলিক রাসায়নিক পদার্থগুলো হচ্ছে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার, আয়োডিন, লৌহ, ফসফরাস, পটাসিয়াম ইত্যাদি। এসব রাসায়নিক পদার্থের আনুপাতিক সংমিশ্রনে এক একটি উপাদান গঠিত হয়। খাদ্য উপাদানগুলো হচ্ছে— প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পানি। 

যেকোন খাদ্যে মিশ্র উপাদানের উপস্থিতি থাকে। যেমন: মাছ— এতে আছে প্রোটিন, চর্বি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন। মাংসে আছে, প্রোটিন, খনিজ লবণ, ফ্যাট কিছু ভিটামিন। এভাবে দেখা যায় কোন খাদ্যবস্তু একক কোন উপাদানে গঠিত নয়। তাই একটি খাদ্যবস্তু দেহে এক বা একাধিক কাজ করে যেতে পারে। দুধে লৌহ ছাড়া প্রায় সকল উপাদানই কমবেশি বিদ্যমান থাকে সেজন্য দুধ খেয়ে সুস্থ অবস্থায় শিশুরা ১ বছর কাল ধরে বেঁচে থাকতে পারে। 

যে খাদ্যে যে উপাদানটি বেশি বিদ্যমান থাকে সে খাদ্যকে আমরা সেই উপাদানবহুল খাদ্য নামে চিহ্নিত করি। অর্থাৎ “যেসব রাসায়নিক পদার্থ বিদ্যমান থেকে দেহে এক বা একাধিক কাজ সম্পন্ন করতে পারে তাকে খাদ্য-উপাদান বলে।”

খাদ্য উপাদানের কাজগুলো হলো নিম্নরূপ-

  1. দেহের তাপ ও শক্তি যোগায়
  2. দেহের বর্ধন ও ক্ষয়পূরণ করে
  3. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে দেহকে সুস্থ রাখে 

অতএব খাদ্যের উপাদানই উল্লেখিত কাজগুলো একক বা যৌথভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়।

খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা কী?

খাদ্যের প্রয়োজন এক কথায় শেষ করা যায় না। আমরা খাদ্যের কারণে বেঁচে থাকি। ক্ষুধা লাগলেই খাদ্যের প্রয়োজন হয়। এই খাদ্য আমাদের দেহে তাপ ও শক্তি যোগায়। কঠিন ও তরল যাবতীয় খাদ্যবস্তু গ্রহণ করে দেহ তার নানাবিধ প্রয়োজন মিটায়, খাদ্য গ্রহণের পর হজম প্রক্রিয়ার খাদ্য তরল পদার্থে পরিণত হয়। তারপর তরল পদার্থ নানান প্রক্রিয়ায় দেহের রক্ত তরলে প্রবাহিত হয় বিশেষণের জন্য। পুষ্টি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই খাদ্য দেহের বিভিন্ন কাজ করে পুষ্টি সাধন করে। অতএব খাদ্য গ্রহণ আমাদের দেহের সুস্থতা, সক্ষমতা ও জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। 

কাজ অনুযায়ী খাদ্য বস্তুগুলোকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। 

  • তাপ ও শক্তি প্রদানকারী খাদ্য: চাল, গম, মুড়ি, খই, চিড়া, আলু, গুড়, চিনি, মিষ্টি,  তেল, ঘি, মাংস ইত্যাদি। 
  • গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয় পূরণকারী খাদ্য: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম, বিচি, শুটকি  ইত্যাদি।
  • রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য: সবুজ ও হলুদ শাকসবজি, যেকোন ফলমূল, দুধ ও  ডিম ইত্যাদি। 

আমরা যে-কোনো খাদ্যই গ্রহণ করি না কেন তাতে সব রকম উপাদানই কমবেশি থাকে। 

খাদ্যের উপাদান ছয়টি। এই ছয়টি খাদ্য উপাদান হলো—

  1. প্রোটিন বা আমিষ
  2. কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা
  3. ফ্যাট বা তেল ও চর্বি
  4. ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ 
  5. খনিজ লবণ
  6. পানি

যে সমস্ত খাদ্যে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট উপাদান বহুল পরিমাণে থাকে সেসব খাদ্য আমাদের দেহে শক্তি যোগায়। তাপ ও শক্তি প্রদানকারী খাদ্যসমূহের মধ্যেই আমরা শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় উপাদান পেয়ে থাকি বেশি। শক্তি পরিমাপের একক হলো কিলোক্যালরি। 

প্রতি গ্রাম কার্বোহাইড্রেট হতে ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়, প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের ৩৫০-৪০০ কিলোক্যালরি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য থেকে গ্রহণ করা উচিত। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের অভাবে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। 

বৃদ্ধি, গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে সে সব খাদ্য সেগুলোতে বেশিরভাগই প্রোটিন জাতীয় উপাদান বিদ্যমান থাকে। প্রাণি থেকে আমরা মাছ, মাংস, দুধ, ডিম এবং উদ্ভিদ থেকে ডাল, বীচি, বাদাম এ প্রোটিন বা আমিষ উপাদানটি বেশি পেয়ে থাকি। প্রোটিনের অভাবে কোয়াশিয়রকর নামক রোগ হয়। 

টাট্কা শাকসবজি ফলমূল ইত্যাদিতে ভিটামিন নামক রোগ প্রতিরোধক উপাদানটি বহুল পরিমাণে পাওয়া যায়। এছাড়াও তেল ও চর্বি জাতীয় খাদ্যে ভিটামিন এ, ডি, ই, কে ভিটামিনগুলো এককভাবে পাওয়া যায়। ভিটামিন ‘সি’ স্কার্ভি নামক রোগ প্রতিরোধ করে। 

ভিটামিন ‘ডি’ রিকেট রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়া ভিটামিন ‘এ’ নানা ধরনের চোখের রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করে। 

ভিটামিনের মতো খনিজ পদার্থ দেহের বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য আবশ্যক। লৌহ, ক্যালসিয়াম ফসফরাস ও আয়োডিন এগুলো উল্লেখযোগ্য খনিজ লবণ। 

পানি একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। রসালো ফলমূল যেমন, লেবু, টমাটো, তরমুজ, শশা, লাউ, ইত্যাদি খাদ্য বস্তুতে প্রচুর পানি পাওয়া যায়। তদুপরি আমাদের দেশে নান রকম কোমল 

পানীয় পাওয়া যায় যেমন— কোক, ফান্টা ইত্যাদি।এছাড়াও অন্যান্য ফলের রসও বাজারজাত করা হয়। পানি দেহে রক্তের তরলতা বজায় রেখে দেহকে সচল ও সুস্থ রাখে। 

পেটের পীড়া, ঘামে, বমিতে এবং ডায়রিয়াতে দেহ কোষের তরলতা নষ্ট হয়। এতে রক্তের চাপ কমে যায়। জিহ্বা শুকিয়ে যায়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে, সুতরাং পানি দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করতে হয়।

সারাংশ

খাদ্য দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধন করে। দেহকে নানা প্রকার রোগ থেকে রক্ষা করে 

বিভিন্ন কাজে শক্তি প্রদান করে, খাদ্যের মধ্যে ছয়টি রাসায়নিক উপাদান বিভিন্ন পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। যেমন-কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রোটিন, ফ্যাট (তেল বা চর্বি) ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং পানি।

বিষয়:

শেয়ার করুন

মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য সংরক্ষিত রাখুন

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

খাদ্য কাকে বলে? খাদ্য ও খাদ্য উপাদানের সংজ্ঞা খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা কী?

প্রকাশ: ০৬:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ এপ্রিল ২০২২

খাদ্য ছাড়া আমরা বাঁচতে পারিনা। খাদ্য দেহ গঠন করে ও দেহে শক্তি এবং তাপ উৎপাদন করে। ফলে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্মক্ষম এবং সবল হয়। অপরদিকে খাদ্যের অভাব হলে দেহ গঠন ব্যাহত হয়, শরীর দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো অক্ষম হয়ে পড়ে, দেহ সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত হয় না। খাদ্যের অভাবে ধীরে ধীরে মানুষ ও জীব মারাও যায়। তাই দেহকে সবল, সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে হলে বিভিন্ন খাদ্য উপাদান প্রয়োজন। এসব খাদ্য উপাদান বিভিন্ন ভাবে প্রয়োজন অনুসারে শরীরে কাজ করে থাকে। পুষ্টি প্রক্রিয়ায় খাদ্যবস্তু পরিপাক হয়ে শরীরে বিশোষিত হয়। পরিপাকের মাধ্যমে আহার্য বস্তু ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত হয়। তারপর দেহের বিভিন্ন কাজ করে। এভাবে খাদ্য থেকে উপাদানগুলো আমাদের দেহে বহু কাজে লাগে ও শরীরের সুস্থতা বিধান করে দেহকে কর্মক্ষম রাখে।

খাদ্যের সংজ্ঞা

মানুষ বা প্রাণি যা খায় তাই খাদ্য নয়। খাদ্য হচ্ছে যেসব বস্তু বা দ্রব্য যা আহার করলে, আহার্য বস্তু হজম হয়ে বিশোষিত হবে এবং বিশোষণের পর রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনমত কাজে লাগবে। দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে, শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখবে।

যেমন: চাল, ডাল, মাছ, মাংস, শাক, সবজি, ফলমূল, দুধ, চিনি, পানি ইত্যাদি। 

খাদ্য উপাদানের সংজ্ঞা 

আমরা জানি একটি খাদ্য বস্তু দেহে এক বা একাধিক কাজ করতে পারে। তার কারণ হচ্ছে একটি খাদ্যবস্তুতে এক বা একাধিক রাসায়নিক দ্রব্য বা পদার্থের মিশ্রণে বিভিন্ন উপাদান থাকে। মৌলিক রাসায়নিক পদার্থগুলো হচ্ছে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার, আয়োডিন, লৌহ, ফসফরাস, পটাসিয়াম ইত্যাদি। এসব রাসায়নিক পদার্থের আনুপাতিক সংমিশ্রনে এক একটি উপাদান গঠিত হয়। খাদ্য উপাদানগুলো হচ্ছে— প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পানি। 

যেকোন খাদ্যে মিশ্র উপাদানের উপস্থিতি থাকে। যেমন: মাছ— এতে আছে প্রোটিন, চর্বি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন। মাংসে আছে, প্রোটিন, খনিজ লবণ, ফ্যাট কিছু ভিটামিন। এভাবে দেখা যায় কোন খাদ্যবস্তু একক কোন উপাদানে গঠিত নয়। তাই একটি খাদ্যবস্তু দেহে এক বা একাধিক কাজ করে যেতে পারে। দুধে লৌহ ছাড়া প্রায় সকল উপাদানই কমবেশি বিদ্যমান থাকে সেজন্য দুধ খেয়ে সুস্থ অবস্থায় শিশুরা ১ বছর কাল ধরে বেঁচে থাকতে পারে। 

যে খাদ্যে যে উপাদানটি বেশি বিদ্যমান থাকে সে খাদ্যকে আমরা সেই উপাদানবহুল খাদ্য নামে চিহ্নিত করি। অর্থাৎ “যেসব রাসায়নিক পদার্থ বিদ্যমান থেকে দেহে এক বা একাধিক কাজ সম্পন্ন করতে পারে তাকে খাদ্য-উপাদান বলে।”

খাদ্য উপাদানের কাজগুলো হলো নিম্নরূপ-

  1. দেহের তাপ ও শক্তি যোগায়
  2. দেহের বর্ধন ও ক্ষয়পূরণ করে
  3. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে দেহকে সুস্থ রাখে 

অতএব খাদ্যের উপাদানই উল্লেখিত কাজগুলো একক বা যৌথভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়।

খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা কী?

খাদ্যের প্রয়োজন এক কথায় শেষ করা যায় না। আমরা খাদ্যের কারণে বেঁচে থাকি। ক্ষুধা লাগলেই খাদ্যের প্রয়োজন হয়। এই খাদ্য আমাদের দেহে তাপ ও শক্তি যোগায়। কঠিন ও তরল যাবতীয় খাদ্যবস্তু গ্রহণ করে দেহ তার নানাবিধ প্রয়োজন মিটায়, খাদ্য গ্রহণের পর হজম প্রক্রিয়ার খাদ্য তরল পদার্থে পরিণত হয়। তারপর তরল পদার্থ নানান প্রক্রিয়ায় দেহের রক্ত তরলে প্রবাহিত হয় বিশেষণের জন্য। পুষ্টি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই খাদ্য দেহের বিভিন্ন কাজ করে পুষ্টি সাধন করে। অতএব খাদ্য গ্রহণ আমাদের দেহের সুস্থতা, সক্ষমতা ও জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। 

কাজ অনুযায়ী খাদ্য বস্তুগুলোকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। 

  • তাপ ও শক্তি প্রদানকারী খাদ্য: চাল, গম, মুড়ি, খই, চিড়া, আলু, গুড়, চিনি, মিষ্টি,  তেল, ঘি, মাংস ইত্যাদি। 
  • গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয় পূরণকারী খাদ্য: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম, বিচি, শুটকি  ইত্যাদি।
  • রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য: সবুজ ও হলুদ শাকসবজি, যেকোন ফলমূল, দুধ ও  ডিম ইত্যাদি। 

আমরা যে-কোনো খাদ্যই গ্রহণ করি না কেন তাতে সব রকম উপাদানই কমবেশি থাকে। 

খাদ্যের উপাদান ছয়টি। এই ছয়টি খাদ্য উপাদান হলো—

  1. প্রোটিন বা আমিষ
  2. কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা
  3. ফ্যাট বা তেল ও চর্বি
  4. ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ 
  5. খনিজ লবণ
  6. পানি

যে সমস্ত খাদ্যে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট উপাদান বহুল পরিমাণে থাকে সেসব খাদ্য আমাদের দেহে শক্তি যোগায়। তাপ ও শক্তি প্রদানকারী খাদ্যসমূহের মধ্যেই আমরা শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় উপাদান পেয়ে থাকি বেশি। শক্তি পরিমাপের একক হলো কিলোক্যালরি। 

প্রতি গ্রাম কার্বোহাইড্রেট হতে ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়, প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের ৩৫০-৪০০ কিলোক্যালরি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য থেকে গ্রহণ করা উচিত। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের অভাবে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। 

বৃদ্ধি, গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে সে সব খাদ্য সেগুলোতে বেশিরভাগই প্রোটিন জাতীয় উপাদান বিদ্যমান থাকে। প্রাণি থেকে আমরা মাছ, মাংস, দুধ, ডিম এবং উদ্ভিদ থেকে ডাল, বীচি, বাদাম এ প্রোটিন বা আমিষ উপাদানটি বেশি পেয়ে থাকি। প্রোটিনের অভাবে কোয়াশিয়রকর নামক রোগ হয়। 

টাট্কা শাকসবজি ফলমূল ইত্যাদিতে ভিটামিন নামক রোগ প্রতিরোধক উপাদানটি বহুল পরিমাণে পাওয়া যায়। এছাড়াও তেল ও চর্বি জাতীয় খাদ্যে ভিটামিন এ, ডি, ই, কে ভিটামিনগুলো এককভাবে পাওয়া যায়। ভিটামিন ‘সি’ স্কার্ভি নামক রোগ প্রতিরোধ করে। 

ভিটামিন ‘ডি’ রিকেট রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়া ভিটামিন ‘এ’ নানা ধরনের চোখের রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করে। 

ভিটামিনের মতো খনিজ পদার্থ দেহের বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য আবশ্যক। লৌহ, ক্যালসিয়াম ফসফরাস ও আয়োডিন এগুলো উল্লেখযোগ্য খনিজ লবণ। 

পানি একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। রসালো ফলমূল যেমন, লেবু, টমাটো, তরমুজ, শশা, লাউ, ইত্যাদি খাদ্য বস্তুতে প্রচুর পানি পাওয়া যায়। তদুপরি আমাদের দেশে নান রকম কোমল 

পানীয় পাওয়া যায় যেমন— কোক, ফান্টা ইত্যাদি।এছাড়াও অন্যান্য ফলের রসও বাজারজাত করা হয়। পানি দেহে রক্তের তরলতা বজায় রেখে দেহকে সচল ও সুস্থ রাখে। 

পেটের পীড়া, ঘামে, বমিতে এবং ডায়রিয়াতে দেহ কোষের তরলতা নষ্ট হয়। এতে রক্তের চাপ কমে যায়। জিহ্বা শুকিয়ে যায়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে, সুতরাং পানি দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করতে হয়।

সারাংশ

খাদ্য দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধন করে। দেহকে নানা প্রকার রোগ থেকে রক্ষা করে 

বিভিন্ন কাজে শক্তি প্রদান করে, খাদ্যের মধ্যে ছয়টি রাসায়নিক উপাদান বিভিন্ন পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। যেমন-কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রোটিন, ফ্যাট (তেল বা চর্বি) ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং পানি।