বুধবার, অক্টোবর ৫, ২০২২

লাদাখের টাইগার হিল এবং ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ

ভারতের লাদাখের একটি পর্বত। ১৯৯৯ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের (কার্গিল যুদ্ধ) জন্য বিখ্যাত।

টাইগার হিল (The Tiger Hill) হলো ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের দ্রাস-কার্গিল (Drass-Kargil) অঞ্চলের একটি পর্বত। টাইগার হিলের অপর নাম গাংজ লা; এটি পয়েন্ট ৫০৬২ (Point 5062) নামেও পরিচিত। লাদাখ অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলির মধ্যে একটি হলো টাইগার হিল। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় পর্বতটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। কারণ, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র ছিল। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং-এ একই নাম অর্থাৎ টাইগার হিল নামে আরেকটি পর্বত রয়েছে।

কার্গিল টাইগার হিলের কৌশলগত গুরুত্ব

টাইগার হিল ভারতের লাদাখ অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হওয়ায়, এর উপর থেকে ১ডি ন্যাশনাল হাইওয়েতে নজর রাখা যায়। এই হাইওয়ে শ্রীনগরকে কার্গিলের সাথে যুক্ত করেছে এবং এটি কার্গিল সেক্টরের প্রধান পথ। টাইগার হিলের চূড়ায় অবস্থানরত যে-কোনো শত্রু এই অঞ্চলের প্রধান ভারতীয় ইউনিট ৫৬ ব্রিগেডের সদর দফতরের উপর প্রত্যক্ষ নজর রাখতে পারত। এছাড়াও শত্রুপক্ষ জাতীয় হাইওয়ের দুইদিকের ২৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আর্টিলারি ফায়ারও চালাতে পারত। যার ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পথে ভারতীয় সৈন্যদের চলাচল এবং সরবরাহে বাধা ছিল। এছাড়াও টাইগার হিলের চূড়ার আশেপাশেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি পয়েন্ট ছিল।

টাইগার হিল যুদ্ধ ১৯৯৯

ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কার্গিল যুদ্ধ। দেশের সেনার শৌর্যের গাথা লিখেছে এই রক্তক্ষয়ী ইতিহাস। সেই অধ্যায়েরই একটি প্রাসঙ্গিক দিক টাইগার হিল দখল। এই টাইগার হিল জম্মু ও কাশ্মীরের দ্রাস এলাকার একচি পয়েন্ট। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় এখান দিয়েও অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে পাকিস্তান।

১৯৯৯ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং তাঁর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে স্থায়ী সমাধান বের করে আনার জন্য পাকিস্তানের লাহোর সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। তবে তারপরেই পাকিস্তানি সেনারা নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে  অনুপ্রবেশ করে।

যেহেতু পাকিস্তানের সৈন্যরা ভারতে অনুপ্রবেশ শুরু করেছিল তাই অনুপ্রবেশকারীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কারণে ভারতের জন্যে টাইগার হিলের দখল নেওয়া খুব জরুরি হয়ে পড়েছিল। কারগিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল সেই চূড়াগুলি পুনরায় দখল করা। এই লক্ষ্যটি সামনে রেখেই ভারতীয় সেনারা প্রথমে দ্রাসের টাইগার হিল এবং টোলিং কমপ্লেক্সকে টার্গেট করে এবং পরে বাতালিক-তুরটক সাব-সেক্টর, আক্রমণ করে যা সিয়াচেন হিমবাহে যাতায়াত সহজ করেছিল।

আচমকা  ভারতের টাইগার হিল পুনরায় দখল  এবং একসাথে তিন দিক থেকে আক্রমণে ধাক্কা খায় পাকিস্তান। ভারতের ১৮ জন গ্রেনেডিয়ার, ২ জন নাগা এবং ৮ জন শিখ সেনা পাকিস্তানি বাহিনীকে আক্রমণ করার জন্য ১০০০ ফুট উচ্চতার খাড়া টাইগার হিলের চূড়ায় চড়াও হয়ে গুলি বর্ষণ শুরু করে। এই আক্রমণের আকস্মিকতায় বাকরূদ্ধ হয়ে যায় পাকিস্তান। ১৮ জন গ্রেনেডিয়ার টানা বারো ঘণ্টা ধরে দড়ি বেঁধে ১৬,৭০০ ফুট উঁচু খাঁড়া পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আক্রমণ করেন।

জুলাই ৩, ১৯৯৯ তারিখ শুরু হওয়া যুদ্ধ জুলাই ৮, ১৯৯৯ শেষ হয় ভারতের জয় লাভের মধ্য দিয়ে। সুতরাং, টাইগার হিলের দখল ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয় ভারত যা ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের আরেকটি সহজ অথচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ জয়।

সূত্র: ভারতের কিছু ওয়েবসাইট

বিশ্লেষণ-এর সকল লেটেস্ট নিবন্ধ পেতে Google News-এ অনুসরণ করুন

নিবন্ধটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান আমাদেরকে। নিচের মন্তব্যের ঘরে সংক্ষেপে লিখুন আপনার মন্তব্য। মন্তব্যের ভাষা যদি প্রকাশযোগ্য হয় তবে তা এখানে প্রকাশিত হবে। আর যদি আপনার কোনো অপ্রকাশিত নিবন্ধ বিশ্লেষণ-এ প্রকাশ করতে চান তাহলে নিম্নোক্ত ইমেইলে তা পাঠিয়ে দিন নিজের নাম, পরিচয় ও ছবিসহ।

ইমেইল: [email protected]

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের অন্যান্য নিবন্ধ

সমাজমাধ্যম

সাম্প্রতিক মন্তব্য

সবচেয়ে জনপ্রিয়
সবচেয়ে জনপ্রিয়

গবেষণা: গবেষণার সংজ্ঞা, ধারণা ও প্রকারভেদ

গবেষণা হলো কোনো কিছু সম্পর্কে জানার জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এবং একটি গবেষণা শুধু একটি প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দুই বা ততোধিক প্রকারের হতে পারে

শিক্ষা কী? শিক্ষার সংজ্ঞা, ধারণা এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

শিক্ষা নিয়ে যারা কথা বলেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই নিজের মতো করে ভেবে নিয়েছেন শিক্ষাকে, নিজের মতো করে সংজ্ঞা দিয়েছেন। শিক্ষাবীদ কিংবা মনিষী, যার সংজ্ঞাই দেখা হোক না কেন, খুব একটা সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। তাই বলে যাদের হাত ধরে শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা আজ পর্যন্ত এসেছে তাঁদের মতো শিক্ষাবিদ বা মনিষীদের বলে যাওয়া বা লিখে যাওয়া কথাগুলোকে এড়িয়ে চলাও সম্ভব নয়।

মূল্যবোধ কাকে বলে এবং মূল্যবোধের উৎস ও প্রকারভেদ কী?

মূল্যবোধ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Value এটি গঠিত হয়েছে...

পরিবার কাকে বলে? পরিবারের সংজ্ঞা, ধারণা, প্রকারভেদ, কার্যাবলি ও গুরুত্ব কী?

আমরা জন্ম থেকেই পরিবারের সাথে পরিচিত। আমরা নিশ্চয়ই অবগত...

শিক্ষা: অভীক্ষার সংজ্ঞা এবং বৈশিষ্ট্য

শিক্ষাক্ষেত্রে অভীক্ষা খুবই পরিচিত একটি পদ। যারা শিক্ষাবিজ্ঞান পড়েছেন...

নেতা ও নেতৃত্ব কাকে বলে? একজন আদর্শ নেতার গুণাবলি কী?

নেতৃত্বের মূল কাজ হলো আওতাভুক্ত ব্যক্তিবর্গকে প্রভাবিত করা, যাতে তারা নেতার নির্দেশ মেনে নেয় ও সে মোতাবেক কাজ করে। 

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা, পরিধি এবং গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা

মানব সভ্যতার শুরু থেকেই ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন মানব সংগঠনের সাথে...

ইতিহাস কাকে বলে? ইতিহাসের বিষয়বস্তু, উপাদান এবং ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা কী?

ইতিহাস পাঠ করার আগে আমাদের প্রত্যেকেরই জানা প্রয়োজন ইতিহাস কী, ইতিহাসের প্রকৃতি কীরূপ; আবার পাঠ্য বিষয় হিসেবে ইতিহাসের ভূমিকা কী। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট কালের এবং নির্দিষ্ট দেশের ইতিহাস জানার সাথে সমসাময়িক প্রাকৃতিক অবস্থা এবং পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। এই নিবন্ধে ইতিহাসের সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু, উপাদান এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার নীতি বা মূলনীতি কয়টি ও কী কী?

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনা একটি বাংলা শব্দ যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো...

শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল

পাঠকে ফলপ্রসূ করার জন্য শিক্ষক পরিস্থিতি অনুসারে একাধিক পদ্ধতি ও কৌশলের সংমিশ্রণে নিজের মতো করে পাঠ পরিচালনা করতে পারেন। পাঠের সাফল্য নির্ভর করে শিক্ষকের বিচক্ষণতা এবং বিষয়জ্ঞান ও শিখন পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগের উপর।

সুশাসন কী? সুশাসনের ধারণা, সংজ্ঞা ও উপাদান কী?

সুশাসন হলো এক ধরনের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতার...