০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
                       

হোমিওপ্যাথি কী? হোমিওপ্যাথিক ঔষধ, চিকিৎসা এবং এর ঝুঁকি কী?

জারিন তাসনিম
  • প্রকাশ: ০৩:২৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১
  • / ৬৭৬২ বার পড়া হয়েছে

হোমিওপ্যাথি কী? হোমিওপ্যাথিক ঔষধ, চিকিৎসা এবং এর ঝুঁকি কী?


Google News
বিশ্লেষণ-এর সর্বশেষ নিবন্ধ পড়তে গুগল নিউজে যোগ দিন

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এবং স্বল্পমূল্যে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

বলা হয়ে থালে হোমিওপ্যাথি (homeopathy) হলো একটি কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি। হোমিওপ্যাথিকে যে সব ঔষধ ব্যবহার করা হয় সেগুলোকেও ন্যায়সঙ্গত বলে উপস্থাপন করা হয়৷ কিন্তু এই হোমিওপ্যাথি আসলে কী?

হোমিওপ্যাথি কী?

১৭৯৬ সালে স্যামুয়েল হানেমান হোমিওপ্যাথি আবিষ্কার করেন। ক্রিস্টিয়ান ফ্রেইডরিক স্যামুয়েল হানেমান  (Christian Friedrich Samuel Hahnemann) ছিলেন একজন জার্মান চিকিৎসক। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাপদ্ধতির উদ্ভাবক স্যামুয়েল হানেমান প্রদত্ত তত্ত্ব হলো, কোনো একজন সুস্থ ব্যক্তির দেহে কোনো একটি সাবস্টেন্স (substance) বা উপাদান প্রয়োগ করা হলে যে প্রতিক্রিয়া হয়, সেই একই প্রতিক্রিয়া দেখানো রোগীকে সুস্থ করতে সেই সাবস্টেন্স ব্যবহার করতে হবে৷

হোমিওপ্যাথি পদ্ধিতির চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক লক্ষণগুলোর পাশাপাশি মানসিক এবং আবেগীয় অবস্থাকেও মূল্যায়ন করা হয়৷ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের বলা হয় হোমিওপ্যাথ।

হোমিওপ্যাথরা একটি ঔষধে যেসব উপাদান ব্যবহার করেন, সেগুলো এতটাই দ্রবীভূত করা হয় যে, তার মধ্যে থাকা উপাদানটি বিশ্লেষণ করে আর মূল উপাদান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না৷ 

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ কীভাবে কাজ করে?

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার উদ্ভাবক স্যামুয়েল হানেমান বলেছেন, ‘হোমিওপ্যাথিক ঔষধে এক ধরনের ‘স্পিরিট-লাইক পাওয়ার’ রয়েছে’৷ বলা হয়, বিশেষ এক ধরনের উপাদানকে বেশ কিছু নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে অ্যালকোহল বা পানিতে দ্রবীভূত করে লঘু করা হয় এবং এর পর তা প্রয়োগ করা হয়।  অনেকেই বলেন যে, এ ধরনের কথাবার্তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবুও কেমন করে সফল বলে বিশেষ এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে সাফল্য পেয়েছেন হোমিওপ্যাথির জনক ক্রিস্টিয়ান ফ্রেইডরিক স্যামুয়েল হানেমান।

হোমিওপ্যাথি ঔষধ কী দিয়ে তৈরি করা হয়?

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ঔষধ হিসেবে যা কিছু ব্যবহৃত হয়, তা বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন ভাবে আসে৷ হোমিওপ্যাথি ওষুধ বনানোর জন্য খুবই বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান ‘আর্সেনিক’ এবং ‘প্লুটোনিয়াম’ প্রায়ই ব্যবহার করা হয়৷ হোমিওপ্যাথি ঔষুধ তৈরির উপাদানের তালিকায় ‘পটাশিয়াম সায়ানাইড’ এবং ‘মার্কারি সায়ানাইড’ও থাকে। বিভিন্ন হার্বাল এবং অ্যানিমেল প্রোডাক্ট হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়৷

গোল বড়ি বা পিল আকারের হোমিওপ্যাথিক ঔষধগুলোর মূল উপাদান হচ্ছে ‘ক্রিস্টাল সুগার’৷ আর তরল অবস্থায় হোমিওপ্যাথি সাবস্টেন্সগুলোকে আসলে অ্যালকোহল বা পানির বাইরে আর কিছু বলা যায় না৷ কেননা, অ্যাক্টিভ কম্পোনেন্টগুলোকে দ্রবীভূত করে এতটাই পাতলা করে ফেলা হয় যে, সেগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত জটিল ব্যাপার৷

রোগী কি জানেন তাঁকে ঠিক কী ঔষধ দেয়া হচ্ছে?

স্বাভাবিকভাবেই রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা ঔষধ চিকিৎসক বা হোমিওপ্যাথি চর্চা করা ব্যক্তির উপর নির্ভর করে৷ অধিকাংশ রোগীই জানেন না যে, তিনি ঔষধ হিসেবে ঠিক কী গ্রহণ করছেন৷

ঔষধের দোকানগুলোতে যে সব হোমিওপ্যাথিক ঔষধ পাওয়া যায় তা শুধু ল্যাটিন নাম দিয়ে চিহ্নিত করা থাকে৷

হোমিওপ্যাথির সমালোচকরা অবশ্য বারংবার দাবি করে আসছেন যে, একজন রোগীকে যেসব ঔষধ দেয়া হয় সেগুলোতে যাতে নিজস্ব ভাষার নাম যোগ করা হয়, যাতে করে একজন রোগী বুঝতে পারেন যে তিনি ঔষুধ হিসেবে কী গ্রহণ করছেন৷

ন্যাটোরোপ্যাথির সঙ্গে এটির সম্পর্ক কী?

ন্যাটোরোপ্যাথি এবং পাইথ্যোথেরাপিকে বিজ্ঞানসম্মত মনে করা হয়৷ তবে এসবের সঙ্গে হোমিওপ্যাথির কোনো সম্পর্ক নেই৷ যেমন হার্বাল চায়ের মধ্যে অনেক শনাক্ত করা যায় এমন সক্রিয় উপাদান রয়েছে, আর হোমিওপ্যাথিক ঔষধে অসনাক্তযোগ্য উপাদানই বেশি৷ 

হোমিওপ্যাথিক থেরাপির সবচেয়ে বড়ো ঝুঁকি কী?

অকার্যকর বলে মনে করা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিতে একজন রোগী যে সময় ব্যয় করেন, সেই সময়ের কারণে তাঁর রোগ আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে৷

যেমন, একজন ক্যান্সার রোগী যদি কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির বদলে হোমিওপ্যাথিক উপায়ে রোগ সারানোর পথ বেছে নেন, তাহলে পরবর্তীতে তাঁর ক্যানসার চিকিৎসা করা দুরূহ হয়ে পড়তে পারে৷

আর এ ধরনের ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা বেড়ে যায়৷ তাছাড়া জার্মানিতে কোনো অভিভাবক যদি তাঁর সন্তানকে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থাথেকে জোর করে বাইরে রেখে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণে বাধ্য করেন, তাহলে তিনি আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন৷ 

হোমিওপ্যাথির সাফল্য কিসের উপর নির্ভরশীল?

হোমিওপ্যাথরা সাধারণত একজন রোগীকে এবং তাঁর রোগ সম্পর্কে জানতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন৷ তাঁরা সহানুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে রোগীর দুর্বলতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন এবং নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেন যাতে রোগী নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শুরু করেন৷ 

আর এ কারণে হোমিওপ্যাথিকে মেডিসিনের বদলে সাইকোথেরাপি হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকে৷ এভাবে আসলে একজন মানুষের ‘সেল্ফ-হিলিং’ ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়৷ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে ঔষধ গৌণ বিষয়৷ হোমিওপ্যাথি তাই বিশ্বাসের ব্যাপার, যুক্তির নয়৷

বন্ধ্যা নারীর সন্তানলাভ ও অটিজম ভালো হয় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায়?

সম্প্রতি একজন হোমিওপ্যাথ দাবি করেছেন যে, হোমিওপ্যাথ চিকিৎসার মাধ্যমে কোনো বন্ধ্যা নারী তার বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারেন এবং স্বাভাবিক নারীদের মতোই সন্তান জন্ম দিতে পারে।

এছাড়া তিনি জানিয়েছেন যে, হোমিওপ্যাথ চিকিৎসায় অটিজম থেকে স্বাভাবিক হওয়া যায়।

এরকম দাবি করেছেন আমিনুল ইসলাম নামের একজন হোমিওপ্যাথ। তিনি থাকেন বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার উপশহর এলাকায়। তিনি ফেইসবুকে বিশ্বাস হোমিওপ্যাথ রিসার্চ সেন্টার (Biswas Homoeo Research Centre) নামে একটি ফেইসবুক গ্রুপে এ নিয়ে বিভিন্ন রকম পোস্ট করছেন নিয়মিত।

এই নিবন্ধে ডয়চে ভেলের একটি রিপোর্টের কিছু অংশ ব্যবহার করা হয়েছে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য সংরক্ষিত রাখুন

লেখকতথ্য

জারিন তাসনিম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্বাধীন লেখক।

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

হোমিওপ্যাথি কী? হোমিওপ্যাথিক ঔষধ, চিকিৎসা এবং এর ঝুঁকি কী?

প্রকাশ: ০৩:২৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১

বলা হয়ে থালে হোমিওপ্যাথি (homeopathy) হলো একটি কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি। হোমিওপ্যাথিকে যে সব ঔষধ ব্যবহার করা হয় সেগুলোকেও ন্যায়সঙ্গত বলে উপস্থাপন করা হয়৷ কিন্তু এই হোমিওপ্যাথি আসলে কী?

হোমিওপ্যাথি কী?

১৭৯৬ সালে স্যামুয়েল হানেমান হোমিওপ্যাথি আবিষ্কার করেন। ক্রিস্টিয়ান ফ্রেইডরিক স্যামুয়েল হানেমান  (Christian Friedrich Samuel Hahnemann) ছিলেন একজন জার্মান চিকিৎসক। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাপদ্ধতির উদ্ভাবক স্যামুয়েল হানেমান প্রদত্ত তত্ত্ব হলো, কোনো একজন সুস্থ ব্যক্তির দেহে কোনো একটি সাবস্টেন্স (substance) বা উপাদান প্রয়োগ করা হলে যে প্রতিক্রিয়া হয়, সেই একই প্রতিক্রিয়া দেখানো রোগীকে সুস্থ করতে সেই সাবস্টেন্স ব্যবহার করতে হবে৷

হোমিওপ্যাথি পদ্ধিতির চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক লক্ষণগুলোর পাশাপাশি মানসিক এবং আবেগীয় অবস্থাকেও মূল্যায়ন করা হয়৷ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের বলা হয় হোমিওপ্যাথ।

হোমিওপ্যাথরা একটি ঔষধে যেসব উপাদান ব্যবহার করেন, সেগুলো এতটাই দ্রবীভূত করা হয় যে, তার মধ্যে থাকা উপাদানটি বিশ্লেষণ করে আর মূল উপাদান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না৷ 

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ কীভাবে কাজ করে?

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার উদ্ভাবক স্যামুয়েল হানেমান বলেছেন, ‘হোমিওপ্যাথিক ঔষধে এক ধরনের ‘স্পিরিট-লাইক পাওয়ার’ রয়েছে’৷ বলা হয়, বিশেষ এক ধরনের উপাদানকে বেশ কিছু নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে অ্যালকোহল বা পানিতে দ্রবীভূত করে লঘু করা হয় এবং এর পর তা প্রয়োগ করা হয়।  অনেকেই বলেন যে, এ ধরনের কথাবার্তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবুও কেমন করে সফল বলে বিশেষ এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে সাফল্য পেয়েছেন হোমিওপ্যাথির জনক ক্রিস্টিয়ান ফ্রেইডরিক স্যামুয়েল হানেমান।

হোমিওপ্যাথি ঔষধ কী দিয়ে তৈরি করা হয়?

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ঔষধ হিসেবে যা কিছু ব্যবহৃত হয়, তা বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন ভাবে আসে৷ হোমিওপ্যাথি ওষুধ বনানোর জন্য খুবই বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান ‘আর্সেনিক’ এবং ‘প্লুটোনিয়াম’ প্রায়ই ব্যবহার করা হয়৷ হোমিওপ্যাথি ঔষুধ তৈরির উপাদানের তালিকায় ‘পটাশিয়াম সায়ানাইড’ এবং ‘মার্কারি সায়ানাইড’ও থাকে। বিভিন্ন হার্বাল এবং অ্যানিমেল প্রোডাক্ট হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়৷

গোল বড়ি বা পিল আকারের হোমিওপ্যাথিক ঔষধগুলোর মূল উপাদান হচ্ছে ‘ক্রিস্টাল সুগার’৷ আর তরল অবস্থায় হোমিওপ্যাথি সাবস্টেন্সগুলোকে আসলে অ্যালকোহল বা পানির বাইরে আর কিছু বলা যায় না৷ কেননা, অ্যাক্টিভ কম্পোনেন্টগুলোকে দ্রবীভূত করে এতটাই পাতলা করে ফেলা হয় যে, সেগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত জটিল ব্যাপার৷

রোগী কি জানেন তাঁকে ঠিক কী ঔষধ দেয়া হচ্ছে?

স্বাভাবিকভাবেই রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা ঔষধ চিকিৎসক বা হোমিওপ্যাথি চর্চা করা ব্যক্তির উপর নির্ভর করে৷ অধিকাংশ রোগীই জানেন না যে, তিনি ঔষধ হিসেবে ঠিক কী গ্রহণ করছেন৷

ঔষধের দোকানগুলোতে যে সব হোমিওপ্যাথিক ঔষধ পাওয়া যায় তা শুধু ল্যাটিন নাম দিয়ে চিহ্নিত করা থাকে৷

হোমিওপ্যাথির সমালোচকরা অবশ্য বারংবার দাবি করে আসছেন যে, একজন রোগীকে যেসব ঔষধ দেয়া হয় সেগুলোতে যাতে নিজস্ব ভাষার নাম যোগ করা হয়, যাতে করে একজন রোগী বুঝতে পারেন যে তিনি ঔষুধ হিসেবে কী গ্রহণ করছেন৷

ন্যাটোরোপ্যাথির সঙ্গে এটির সম্পর্ক কী?

ন্যাটোরোপ্যাথি এবং পাইথ্যোথেরাপিকে বিজ্ঞানসম্মত মনে করা হয়৷ তবে এসবের সঙ্গে হোমিওপ্যাথির কোনো সম্পর্ক নেই৷ যেমন হার্বাল চায়ের মধ্যে অনেক শনাক্ত করা যায় এমন সক্রিয় উপাদান রয়েছে, আর হোমিওপ্যাথিক ঔষধে অসনাক্তযোগ্য উপাদানই বেশি৷ 

হোমিওপ্যাথিক থেরাপির সবচেয়ে বড়ো ঝুঁকি কী?

অকার্যকর বলে মনে করা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিতে একজন রোগী যে সময় ব্যয় করেন, সেই সময়ের কারণে তাঁর রোগ আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে৷

যেমন, একজন ক্যান্সার রোগী যদি কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির বদলে হোমিওপ্যাথিক উপায়ে রোগ সারানোর পথ বেছে নেন, তাহলে পরবর্তীতে তাঁর ক্যানসার চিকিৎসা করা দুরূহ হয়ে পড়তে পারে৷

আর এ ধরনের ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা বেড়ে যায়৷ তাছাড়া জার্মানিতে কোনো অভিভাবক যদি তাঁর সন্তানকে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থাথেকে জোর করে বাইরে রেখে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণে বাধ্য করেন, তাহলে তিনি আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন৷ 

হোমিওপ্যাথির সাফল্য কিসের উপর নির্ভরশীল?

হোমিওপ্যাথরা সাধারণত একজন রোগীকে এবং তাঁর রোগ সম্পর্কে জানতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন৷ তাঁরা সহানুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে রোগীর দুর্বলতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন এবং নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেন যাতে রোগী নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শুরু করেন৷ 

আর এ কারণে হোমিওপ্যাথিকে মেডিসিনের বদলে সাইকোথেরাপি হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকে৷ এভাবে আসলে একজন মানুষের ‘সেল্ফ-হিলিং’ ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়৷ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে ঔষধ গৌণ বিষয়৷ হোমিওপ্যাথি তাই বিশ্বাসের ব্যাপার, যুক্তির নয়৷

বন্ধ্যা নারীর সন্তানলাভ ও অটিজম ভালো হয় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায়?

সম্প্রতি একজন হোমিওপ্যাথ দাবি করেছেন যে, হোমিওপ্যাথ চিকিৎসার মাধ্যমে কোনো বন্ধ্যা নারী তার বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারেন এবং স্বাভাবিক নারীদের মতোই সন্তান জন্ম দিতে পারে।

এছাড়া তিনি জানিয়েছেন যে, হোমিওপ্যাথ চিকিৎসায় অটিজম থেকে স্বাভাবিক হওয়া যায়।

এরকম দাবি করেছেন আমিনুল ইসলাম নামের একজন হোমিওপ্যাথ। তিনি থাকেন বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার উপশহর এলাকায়। তিনি ফেইসবুকে বিশ্বাস হোমিওপ্যাথ রিসার্চ সেন্টার (Biswas Homoeo Research Centre) নামে একটি ফেইসবুক গ্রুপে এ নিয়ে বিভিন্ন রকম পোস্ট করছেন নিয়মিত।

এই নিবন্ধে ডয়চে ভেলের একটি রিপোর্টের কিছু অংশ ব্যবহার করা হয়েছে