০৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আঈনুদ্দীন আল আজাদের পরিবার ও কলরব নিয়ে কিছু অকপট কথা

কলরব-প্রতিষ্ঠাতার পরিবার উপেক্ষিত কেন?

  • আবরার লিখন
  • ০৩:৪১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • ১২৩৪ বার পড়া হয়েছে

আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)

সবকিছুর পরও এটা সত্য বা আমার কাছে বাস্তব মনে হয়, আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)-এর পরিবার কলরব‘র একটি বড় অংশীদার বা হকদার। অথচ আজাদ পরিবার সেটা ভোগ করতে পারেনি, পারছে না। বা এভাবেও বলা যায়, কলরব তাদেরকে তেমন কিছুই দেয়নি, যতখানি তাদের পাওয়ার কথা ছিল। এটা সত্য যে, আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.) ইন্তেকালের পর কলরব নতুন করে গড়তে হয়েছে; অনেক ত্যাগ করেছেন, শ্রম দিয়েছেন বর্তমান সদস্যগণ। তাই বলে এটা অস্বীকার করার কোনো পথ খোলা নেই যে, আজাদ (রহ.)-এর কোনো অবদানই নেই; তাঁর ইন্তেকালের পরও ওই তাঁর নামের কারণেই কলরব’র চলার পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে কারণ আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)-এর প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন কলরবকে কাছে টানার মাধ্যমে।

আরে ভাই, তিনি মারা যাওয়ার পরও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। “এই করেছি, সেই করেছি” বলে যতই বড়াই করে বেড়ান, বাস্তবতা মানতেই হবে আপনাকে। সাঈদ আহমাদ, বদরুজ্জামান—আপনারা দাবানল নাকি কোন গোষ্ঠী থেকে উঠে এসেছেন, এসব হিস্টোরি সবই জানি আমরা। দুনিয়ায় ইসলামি সঙ্গীত গোষ্ঠীর অভাব নাই—দেখেন তো, কয়জন তার গোষ্ঠীকে কলরব‘র মতো উঠাতে পেরেছে? আপনারা বহুত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি হওয়ার পরে এত ডাকনাম কোনোদিনও হতো না, আজাদ (রহ.)-এর ছোঁয়া না পেলে। তাঁর উসিলায় আজকে এতদূর।

সুতরাং অতীতকে ভুলে যাবেন না, তাহলে উপরে উঠার সিঁড়ি ফুরিয়ে যাবে, ভাই।

আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)
আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)

আপনারা বিভিন্ন দোষারোপ করছেন আজাদ পরিবারকে। এমন স্পর্ধা কে দিল আপনাদের? আপনারা বলছেন, ব্রেন ওয়াশ করা হয়েছে তাদেরকে। কোথায়? আমরা তো দেখছি, তারা আজাদ (রহ.)-এর রেখে যাওয়া সম্পদ ‘কলরব’-এর অংশীদারিত্বের অধিকার চেয়েছে মাত্র!

এটা নতুন কিছু না। বহুত আগে থেকেই শুনে আসছি তাদের ‘হায় আফসোস’-এর বর্ণনা! তারা তো আর কলরব ধরে টান দেয়নি, তারা চাচ্ছে তাদের ন্যায্য অধিকার—যেটা কখনোই দেওয়া হয়নি। মনকে হাজার বার প্রশ্ন করুন, “এই কলরবের মালিক কে?” উত্তর একটাই আসবে, “এর মালিক আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)।”

আজাদ (রহ.)-এর ইন্তেকালের খবর যখন শুনি, তখন আমি ছোট, হিফজ পড়ি। শোনামাত্রই প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না। অঝোরে, নীরবে কেঁদেছি! আমার বড় ভাই প্রতিদিন বিকালে আমাকে ১০ টাকা দিত মাত্র নাস্তা করার জন্য। আমি নাস্তা না খেয়ে টাকা জমিয়ে মাদ্রাসা বন্ধের সময় তাঁর ক্যাসেট কিনে আনতাম বাড়িতে। আসলে তিনি আমার ছোটবেলার অনুভূতি! সেই ভালোবাসা থেকেই আমার এই দুঃখপ্রকাশ।

এই সময়ে, তাঁর অনুপস্থিতে তাঁর পরিবারের এমন দুরবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা যতই অন্যায় করুক, আপনারা তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন না নিয়ে আপোষে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিন—তারা কীভাবে খুশি থাকবে। হাজার হলেও, তাঁরা আপনাদের উস্তাদের পরিবার। প্রয়োজনে তাদের বাড়িতে যান, ক্ষমা চান। বোঝার চেষ্টা করুন, তিনি আজ যদি জীবিত থাকতেন, তাঁর পরিবারের এই দুরবস্থা অবশ্যই থাকতো না—আল্লাহ্‌ চাহেতো। তাহলে কেন আপনারা থাকতে তাদের এই দুর্দশা? কেন তাঁর স্ত্রীকে, মেয়েকে ভিডিওতে আসতে হলো? এমনটি তো ইতিপূর্বে দেখিনি বা দেখা যায়নি?

সত্যকে স্বীকার করুন, ইতিহাসকে সম্মান করুন—তাহলেই কলরব আরও সমৃদ্ধ হবে, এবং আমরা সবাই তা থেকে উপকৃত হবো।

মন্তব্য

জনপ্রিয়

আঈনুদ্দীন আল আজাদের পরিবার ও কলরব নিয়ে কিছু অকপট কথা

কলরব-প্রতিষ্ঠাতার পরিবার উপেক্ষিত কেন?

০৩:৪১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

সবকিছুর পরও এটা সত্য বা আমার কাছে বাস্তব মনে হয়, আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)-এর পরিবার কলরব‘র একটি বড় অংশীদার বা হকদার। অথচ আজাদ পরিবার সেটা ভোগ করতে পারেনি, পারছে না। বা এভাবেও বলা যায়, কলরব তাদেরকে তেমন কিছুই দেয়নি, যতখানি তাদের পাওয়ার কথা ছিল। এটা সত্য যে, আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.) ইন্তেকালের পর কলরব নতুন করে গড়তে হয়েছে; অনেক ত্যাগ করেছেন, শ্রম দিয়েছেন বর্তমান সদস্যগণ। তাই বলে এটা অস্বীকার করার কোনো পথ খোলা নেই যে, আজাদ (রহ.)-এর কোনো অবদানই নেই; তাঁর ইন্তেকালের পরও ওই তাঁর নামের কারণেই কলরব’র চলার পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে কারণ আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)-এর প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন কলরবকে কাছে টানার মাধ্যমে।

আরে ভাই, তিনি মারা যাওয়ার পরও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। “এই করেছি, সেই করেছি” বলে যতই বড়াই করে বেড়ান, বাস্তবতা মানতেই হবে আপনাকে। সাঈদ আহমাদ, বদরুজ্জামান—আপনারা দাবানল নাকি কোন গোষ্ঠী থেকে উঠে এসেছেন, এসব হিস্টোরি সবই জানি আমরা। দুনিয়ায় ইসলামি সঙ্গীত গোষ্ঠীর অভাব নাই—দেখেন তো, কয়জন তার গোষ্ঠীকে কলরব‘র মতো উঠাতে পেরেছে? আপনারা বহুত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি হওয়ার পরে এত ডাকনাম কোনোদিনও হতো না, আজাদ (রহ.)-এর ছোঁয়া না পেলে। তাঁর উসিলায় আজকে এতদূর।

সুতরাং অতীতকে ভুলে যাবেন না, তাহলে উপরে উঠার সিঁড়ি ফুরিয়ে যাবে, ভাই।

আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)
আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)

আপনারা বিভিন্ন দোষারোপ করছেন আজাদ পরিবারকে। এমন স্পর্ধা কে দিল আপনাদের? আপনারা বলছেন, ব্রেন ওয়াশ করা হয়েছে তাদেরকে। কোথায়? আমরা তো দেখছি, তারা আজাদ (রহ.)-এর রেখে যাওয়া সম্পদ ‘কলরব’-এর অংশীদারিত্বের অধিকার চেয়েছে মাত্র!

এটা নতুন কিছু না। বহুত আগে থেকেই শুনে আসছি তাদের ‘হায় আফসোস’-এর বর্ণনা! তারা তো আর কলরব ধরে টান দেয়নি, তারা চাচ্ছে তাদের ন্যায্য অধিকার—যেটা কখনোই দেওয়া হয়নি। মনকে হাজার বার প্রশ্ন করুন, “এই কলরবের মালিক কে?” উত্তর একটাই আসবে, “এর মালিক আঈনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)।”

আজাদ (রহ.)-এর ইন্তেকালের খবর যখন শুনি, তখন আমি ছোট, হিফজ পড়ি। শোনামাত্রই প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না। অঝোরে, নীরবে কেঁদেছি! আমার বড় ভাই প্রতিদিন বিকালে আমাকে ১০ টাকা দিত মাত্র নাস্তা করার জন্য। আমি নাস্তা না খেয়ে টাকা জমিয়ে মাদ্রাসা বন্ধের সময় তাঁর ক্যাসেট কিনে আনতাম বাড়িতে। আসলে তিনি আমার ছোটবেলার অনুভূতি! সেই ভালোবাসা থেকেই আমার এই দুঃখপ্রকাশ।

এই সময়ে, তাঁর অনুপস্থিতে তাঁর পরিবারের এমন দুরবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা যতই অন্যায় করুক, আপনারা তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন না নিয়ে আপোষে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিন—তারা কীভাবে খুশি থাকবে। হাজার হলেও, তাঁরা আপনাদের উস্তাদের পরিবার। প্রয়োজনে তাদের বাড়িতে যান, ক্ষমা চান। বোঝার চেষ্টা করুন, তিনি আজ যদি জীবিত থাকতেন, তাঁর পরিবারের এই দুরবস্থা অবশ্যই থাকতো না—আল্লাহ্‌ চাহেতো। তাহলে কেন আপনারা থাকতে তাদের এই দুর্দশা? কেন তাঁর স্ত্রীকে, মেয়েকে ভিডিওতে আসতে হলো? এমনটি তো ইতিপূর্বে দেখিনি বা দেখা যায়নি?

সত্যকে স্বীকার করুন, ইতিহাসকে সম্মান করুন—তাহলেই কলরব আরও সমৃদ্ধ হবে, এবং আমরা সবাই তা থেকে উপকৃত হবো।