০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
'জনতা পার্টি বাংলাদেশ'-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ইলিয়াস কাঞ্চন ও মহাসচিব পদে শওকত মাহমুদ।

নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’: নেতৃত্বে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন

'জনতা পার্টি বাংলাদেশ'-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ইলিয়াস কাঞ্চন ও মহাসচিব পদে শওকত মাহমুদ।

রাজনীতির উত্তাল প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করল নতুন একটি রাজনৈতিক দল—‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’। দেশের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন এই দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দলটির মহাসচিব হিসেবে রয়েছেন সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে অভিজ্ঞ শওকত মাহমুদ।

২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাজনৈতিক দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। “গড়বো মোরা ইনসাফের দেশ”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দলের নতুন পথচলা শুরু হয়।

একটি ‘ইনসাফ-ভিত্তিক’ রাষ্ট্রব্যবস্থার অঙ্গীকার

দলটির মহাসচিব শওকত মাহমুদ অনুষ্ঠানে বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—প্রতিটি গণ-অভ্যুত্থান, বিপ্লব ও আন্দোলনের পরে নতুন রাজনৈতিক দলের উদ্ভব ঘটেছে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪-এর গণজাগরণ আমাদের প্রমাণ দিয়েছে, জনগণ চাইলে পরিবর্তন সম্ভব। সেই চেতনায় নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান সময়ের দাবি।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় প্রত্যাশায় সব প্রকার বৈষম্য, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে, জনকল্যাণ, ইনসাফ ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে এবং গর্বিত জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করতে আমরা ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’-এর আত্মপ্রকাশ করছি।”

দলীয় কাঠামো ও নেতৃত্ব

অনুষ্ঠানে দলটির ২৭ সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির ঘোষণা দেন দলের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। এ কমিটির প্রধান পদগুলোতে রয়েছেন:

  • চেয়ারম্যান: ইলিয়াস কাঞ্চন
  • নির্বাহী চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র: গোলাম সারোয়ার মিলন
  • মহাসচিব: শওকত মাহমুদ
  • সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব: এম আসাদুজ্জামান
  • যুগ্ম মহাসচিবগণ: এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, আল আমিন রাজু, নাজমুল আহসান
  • সমন্বয়কারী: নুরুল কাদের সোহেল
  • সাংগঠনিক সম্পাদক: মুরাদ আহমেদ
  • প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক: গুলজার হোসেন
  • প্রচার সম্পাদক: হাসিবুর রেজা কল্লোল

উল্লেখযোগ্যভাবে, সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও কয়েকজন দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন মেজর (অব.) ইমরান ও কর্নেল (অব.) সাব্বির। উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যাদের মধ্যে আছেন শাহ মো. আবু জাফর, মেজর (অব.) মুজিব, ডা. ফরহাদ হোসেন মাহবুব, তৌহিদা ফারুকী ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ।

ইলিয়াস কাঞ্চন: অভিনয় থেকে রাজনীতির মাঠে

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তার ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন দেশজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে। এবার তিনি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আসছেন সরাসরি নেতৃত্ব দিয়ে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জনগণের কল্যাণের জন্য রাজনীতিই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করতে এসেছি, ক্ষমতার জন্য নয়।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ

দলের আত্মপ্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অনাস্থার যে পরিবেশ বিরাজ করছে, সেই প্রেক্ষাপটে নতুন একটি দল নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিতে পারে। তবে দলটি কতোটা প্রভাব ফেলবে, সেটি নির্ভর করবে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল, নীতিমালা ও মাঠ পর্যায়ের সংগঠনের ওপর।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি

জনতা পার্টি বাংলাদেশ এখনো তাদের পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। তবে শিগগিরই তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সভা-সমাবেশ এবং গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করবে বলে জানা গেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে।

উপসংহার

‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’-এর আত্মপ্রকাশ রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সময়ই বলে দেবে এই দল দেশের রাজনীতিতে কতোটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। তবে যাত্রা শুরুর দিনেই দলটি যেভাবে ইনসাফ, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের কথা বলেছে, তা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

মন্তব্য

জনপ্রিয়

'জনতা পার্টি বাংলাদেশ'-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ইলিয়াস কাঞ্চন ও মহাসচিব পদে শওকত মাহমুদ।

নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’: নেতৃত্বে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন

০৩:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫

রাজনীতির উত্তাল প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করল নতুন একটি রাজনৈতিক দল—‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’। দেশের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন এই দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দলটির মহাসচিব হিসেবে রয়েছেন সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে অভিজ্ঞ শওকত মাহমুদ।

২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাজনৈতিক দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। “গড়বো মোরা ইনসাফের দেশ”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দলের নতুন পথচলা শুরু হয়।

একটি ‘ইনসাফ-ভিত্তিক’ রাষ্ট্রব্যবস্থার অঙ্গীকার

দলটির মহাসচিব শওকত মাহমুদ অনুষ্ঠানে বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—প্রতিটি গণ-অভ্যুত্থান, বিপ্লব ও আন্দোলনের পরে নতুন রাজনৈতিক দলের উদ্ভব ঘটেছে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪-এর গণজাগরণ আমাদের প্রমাণ দিয়েছে, জনগণ চাইলে পরিবর্তন সম্ভব। সেই চেতনায় নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান সময়ের দাবি।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় প্রত্যাশায় সব প্রকার বৈষম্য, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে, জনকল্যাণ, ইনসাফ ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে এবং গর্বিত জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করতে আমরা ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’-এর আত্মপ্রকাশ করছি।”

দলীয় কাঠামো ও নেতৃত্ব

অনুষ্ঠানে দলটির ২৭ সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির ঘোষণা দেন দলের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। এ কমিটির প্রধান পদগুলোতে রয়েছেন:

  • চেয়ারম্যান: ইলিয়াস কাঞ্চন
  • নির্বাহী চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র: গোলাম সারোয়ার মিলন
  • মহাসচিব: শওকত মাহমুদ
  • সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব: এম আসাদুজ্জামান
  • যুগ্ম মহাসচিবগণ: এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, আল আমিন রাজু, নাজমুল আহসান
  • সমন্বয়কারী: নুরুল কাদের সোহেল
  • সাংগঠনিক সম্পাদক: মুরাদ আহমেদ
  • প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক: গুলজার হোসেন
  • প্রচার সম্পাদক: হাসিবুর রেজা কল্লোল

উল্লেখযোগ্যভাবে, সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও কয়েকজন দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন মেজর (অব.) ইমরান ও কর্নেল (অব.) সাব্বির। উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যাদের মধ্যে আছেন শাহ মো. আবু জাফর, মেজর (অব.) মুজিব, ডা. ফরহাদ হোসেন মাহবুব, তৌহিদা ফারুকী ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ।

ইলিয়াস কাঞ্চন: অভিনয় থেকে রাজনীতির মাঠে

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তার ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন দেশজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে। এবার তিনি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আসছেন সরাসরি নেতৃত্ব দিয়ে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জনগণের কল্যাণের জন্য রাজনীতিই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করতে এসেছি, ক্ষমতার জন্য নয়।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ

দলের আত্মপ্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অনাস্থার যে পরিবেশ বিরাজ করছে, সেই প্রেক্ষাপটে নতুন একটি দল নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিতে পারে। তবে দলটি কতোটা প্রভাব ফেলবে, সেটি নির্ভর করবে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল, নীতিমালা ও মাঠ পর্যায়ের সংগঠনের ওপর।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি

জনতা পার্টি বাংলাদেশ এখনো তাদের পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। তবে শিগগিরই তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সভা-সমাবেশ এবং গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করবে বলে জানা গেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে।

উপসংহার

‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’-এর আত্মপ্রকাশ রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সময়ই বলে দেবে এই দল দেশের রাজনীতিতে কতোটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। তবে যাত্রা শুরুর দিনেই দলটি যেভাবে ইনসাফ, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের কথা বলেছে, তা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।