রবিবার, মে ২২, ২০২২

রোজা: রোজা কী? রোজার শর্ত, প্রকারভেদ, রোজা ভঙ্গের কারণ ও করণীয়, বিধিনিষেধ, উদ্দেশ্য ও উপকারিতা

‘রোজা’ একটি ফারসি শব্দ যার আরবি প্রতিশব্দ হলো ‘সাউম’ বা ‘সাওম’, এর অর্থ হলো সংযম। রোজা পালন বা সিয়াম হলো ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির একটি। সুবহে সাদিক বা ভোরের সূক্ষ আলো থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার,পাপাচার, কামাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোজা।

রোজা প্রসঙ্গে বিস্তারিত এখানে আলোচনা করা হলো। এই নিবন্ধটি কোনো মৌলিক নিবন্ধ নয়। ইন্টারনেটের বিভিন্ন সোর্স থেকে তথ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে। ‘বিশ্লেষণ সংকলন টিম’ দাবি করছে না যে, রোজা প্রসঙ্গে লেখা এই লেখাটি শতভাগ সঠিক। তথ্যগত কোনো ভুল থাকলে তা জানানোর অনুরোধ করছি। চাইলে আপনিও লিখতে পারেন। 

রোজা কী?

‘রোজা’ একটি ফারসি শব্দ যার আরবি প্রতিশব্দ হলো ‘সাউম’ বা ‘সাওম’, এর অর্থ হলো সংযম। রোজা পালন বা সিয়াম হলো ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির একটি। সুবহে সাদিক বা ভোরের সূক্ষ আলো থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার,পাপাচার, কামাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোজা। ইসলামি বিধান অনুসারে, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রমযান মাসের প্রতি দিন রোজা রাখা ফরজ, (فرض ফ়ার্দ্ব্‌) যার অর্থ অবশ্য পালনীয়।

রোজা শব্দের উৎপত্তি 

মূল কুরআনীয় ইসল আরবিতে ইসলামি উপবাসের নাম সাওম, বহুবচনে সিয়াম, যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে সংযম বা আত্মনিয়ন্ত্রণ বা বিরত থাকা। রোজা শব্দটি ফারসি শব্দ, যা এসেছে আদি-ইরানীয় ধাতুমূল রোওচাকাহ থেকে, যার অর্থ উপবাস, যা আবার এসেছে ইন্দো-ইরানীয় ধাতুমূল রোচস (रोचस्) থেকে, যার অর্থ দিন বা আলো। ফারসি ভাষায় সিয়ামের প্রতিশব্দ হিসেবে রোজা ব্যবহৃত হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য ভাষার মত কালক্রমে বাংলা ভাষাতেও শত শত বছর আগে থেকে এখন পর্যন্ত সাওম বা সিয়াম নামক ইসলামি উপবাস বোঝানোর জন্য সমধিকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার,কামাচার, পাপাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকার নাম সাওম বা রোজা।

রোজার ইতিহাস

কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে,

“হে যারা ঈমান এনেছ তোমাদের ওপর রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে করে তোমরা তাক্ওয়া অবলম্বন করতে পার”। (সূরা বাকারা: ১৮৩)

হযরত আদম যখন নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার পর তাওবাহ করেছিলেন তখন ৩০ দিন পর্যন্ত তার তাওবাহ কবুল হয়নি। ৩০ দিন পর তার তাওবাহ কবুল হয়। তারপর তার সন্তানদের উপরে ৩০টি রোযা ফরয করে দেয়া হয়।

নূহ (আ.)-এর যুগেও রোজা ছিল। কারণ, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন:

হযরত নূহ (আ.) ১ লা শাওয়াল ও ১০ জিলহজ ছাড়া সারা বছর রোযা রাখতেন। — ইবনে মাজাহ ১৭১৪ (সনদ দুর্বল)

হযরত ইবরাহীমের যুগে ৩০টি রোজা ছিল বলে কেউ কেউ লিখেছেন।

হযরত দাউদ (আ.) এর যুগেও রোযার প্রচলন ছিল। হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় রোযা হযরত দাউদ (আ.)-এর রোযা। তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন বিনা রোযায় থাকতেন।

আরববাসীরাও ইসলামের পূর্বে রোযা সম্পর্কে কমবেশী ওয়াকিফহাল ছিল। মক্কার কুরাইশগণ অন্ধকার যুগে আশুরার (অর্থাৎ ১০ মুহররম) দিনে এ জন্য রোযা রাখতো যে, এই দিনে খানা কাবার ওপর নতুন গেলাফ চড়ানো হতো। মদীনায় বসবাসকারী ইহুদীরাও পৃথকভাবে আশুরা উৎসব পালন করতো। অর্থাৎ ইহুদীরা নিজেদের গণনানুসারে সপ্তম মাসের ১০ম দিনে রোযা রাখতো।

রোজার শর্ত

রোজার কিছু মৌলিক আচার আছে। যা ফরজ বলে চিহ্নিত। সুস্থ-সবল প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমকে অবশ্যই রোজা রাখতে হবে। কিন্তু শারীরিক অসমর্থতার কারণে সে এ দায়িত্ব থেকে আপাতভাবে মুক্তি পেতে পারে। এর প্রতিবিধানে রয়েছে কাজা ও কাফফারার বিধান। নিচে রোজার ফরজ ও শর্তগুলো দেওয়া হলো— 

রোজার ৩ টি ফরজ হলো—

  1. নিয়ত করা
  2. সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকা
  3. যৌন আচরণ থেকে বিরত থাকা।

রোজা রাখার ৪ টি মৌলিক শর্ত—

  1. মুসলিম হওয়া
  2. বালেগ হওয়া
  3. অক্ষম না হওয়া
  4. ঋতুস্রাব থেকে বিরত থাকা নারী।

রোজার প্রকারভেদ

রোজা পাঁচ প্রকার, যথা—

  1. ফরজ রোজা
  2. ওয়াজিব রোজা
  3. সুন্নত রোজা
  4. নফল রোজা
  5. মোস্তাহাব দোজা

ফরজ রোজা

ফরজ রোজা চার প্রকার— 

  1. রমজান মাসের রোজা।
  2. কোন কারণ বশত রমজানের রোজা ভঙ্গ হয়ে গেলে তার কাযা আদায়ে রোজা।
  3. শরীয়তে স্বীকৃত কারণ ব্যতীত রমজানের রোজা ছেড়ে দিলে কাফ্ফারা হিসেবে ৬০টি রোজা রাখা।
  4. রোজার মান্নত করলে তা আদায় করা।

ওয়াজিব রোজা

নফল রোজা রেখে ভঙ্গ করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা ওয়াজিব।

সুন্নত রোজা

মহরম মাসের নয় এবং দশ তারিখে রোজা রাখা হলো সুন্নত রোজা।

মোস্তাহাব রোজা

প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪, এবং ১৫ তারিখে, প্রতি সাপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারে, কোন কোন ইমামের মতে শাওয়াল মাসে পৃথক পৃথক প্রতি সপ্তাহে দুটো করে ছয়টি রোজা রাখা মোস্তাহাব। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এক সাথে হোক কিংবা পৃথক পৃথক হোক শাওয়ালের ছয়টি রোজা মুস্তাহাব।

নফল রোজা

মোস্তাহাব আর নফল খুব কাছাকাছির ইবাদত। সহজ অর্থে নফল হলো যা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত নয় এমন ইবাদত পূণ্যের নিয়তে করা। রোজার ক্ষেত্রেও তাই।

রোজায় বিধিনিষেধ

ভাষাতাত্ত্বিকভাবে, আরবি ভাষায় উপবাস শব্দের অর্থ যে কোনো সময় কোনও কর্ম বা বক্তব্য থেকে নিঃশর্ত ‘সংযম’ (ইমসাক)। পবিত্র আইন অনুযায়ী, রোজা রাখা একটি বিধান যা বুঝায়:

  • দেহগহ্বরের মধ্যে কোনো কিছু প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকা;
  • যৌন ক্রিয়াকলাপে জড়ানো থেকে বিরত থাকা;
  • পরনিন্দার মতো অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকা;
  • সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ;
  • উপবাস বা রোজার নিয়তের সহিত থাকা;
  • উপবাসের জন্য অনুমোদিত ব্যক্তিদের নৈকট্য থেকে বিরত থাকা।

‘দেহগহ্বরের মধ্যে কোনো কিছু প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকা’ মানে খাবার, পানীয় বা ঔষধ দেহগহ্বরে প্রবেশ করাকে বুঝায়, এটি শরীরের গহ্বরে প্রবেশ করবে কিনা তা নির্বিশেষে এটি কোনো সাধারণ বস্তুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এসব জিনিসের যেকোনোটিরই দেহগহ্বরে প্রবেশ হওয়া বলতে সেটা গলা, অন্ত্র, পাকস্থলী বা নাসিকা গহ্বর দিয়ে মস্তিষ্কে, গোপনাঙ্গ বা কাঁটা ঘা ইত্যাদি দিয়ে প্রবেশ হওয়াকে বুঝায়।সেটা ইচ্ছাকৃতভাবে বা দুর্ঘটনাক্রমে যাই হোক না কেন তবে এর বহির্ভূত বিষয় হলো ভুলক্রমে আহার করা বা যৌন ক্রিয়াকলাপে জড়িত হওয়া। ‘যৌন ক্রিয়াকলাপে জড়ানো থেকে বিরত থাকা’র ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ যৌনমিলন এবং শৃঙ্গার জনিত বীর্যপাতও অন্তর্ভুক্ত। ‘সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা’ দ্বারা এটা বুঝানো হচ্ছে যে, প্রকৃত অর্থেই ফজর থেকে মাগরিবের পর্যন্ত সময় ধরে উপবাস পালন করা। ‘উপবাস বা রোজার নিয়তের সহিত থাকা’ মানে একজন ব্যক্তির এজন্য রোজা বা উপবাসের নিয়্যাত বা মনস্থির করা যে, সে ব্যক্তি আসলেই ইবাদত পালনের উদ্দেশ্যে রোজা রাখছে কিনা। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ রোজা রাখার উদ্দেশ্য ছাড়াই শুধু পানাহার বা যৌন ক্রিয়াকলাপে জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকে, তবে সেই রোজা আদায় হবে না এবং তা গণনাও করা হবে না। ‘উপবাসের জন্য অনুমোদিত ব্যক্তিদের নৈকট্য থেকে বিরত থাকা’ দ্বারা বুঝায় যে কোনো ব্যক্তিকে এমন অবস্থা থেকে দূরে থাকতে হবে যা কারো রোজা হালকা করে দেয়। যেমন: মাসিক বা যোনিস্রাব(প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ) ইত্যাদি। স্ত্রী বা অন্য কারও সাথে যৌন মিলন ছাড়াও রোজা রাখা অবস্থায় হস্তমৈথুন করাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এরূপ কাজ করলে তা অপরিবর্তনীয়ভাবে রোজা ভঙ্গ করবে এবং যে ব্যক্তি এই কাজ করেছে তাকে আল্লাহর তা’লার কাছে অনুতপ্ত হতে হবে ও পরবর্তী সময়ে এই রোজাটি পূরণ করতে হবে।

রোজা ভঙ্গের কারণ

  1. ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে।
  2. স্বামী-স্ত্রী সহবাস করলে ।
  3. কুলি করার সময় হলকের নিচে পানি চলে গেলে (অবশ্য রোজার কথা স্মরণ না থাকলে রোজা ভাঙ্গবে না)।
  4. ইচ্ছকৃত মুখভরে বমি করলে।
  5. নস্য গ্রহণ করা, নাকে বা কানে ওষধ বা তৈল প্রবেশ করালে।
  6. জবরদস্তি করে কেহ রোজা ভাঙ্গালে ।
  7. ইনজেকশান বা স্যালাইরনর মাধ্যমে দেমাগে ঔষধ পৌছালে।
  8. কংকর পাথর বা ফলের বিচি গিলে ফেললে।
  9. সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর দেখা গেল সুর্যাস্ত হয়নি।
  10. পুরা রমজান মাস রোজার নিয়ত না করলে।
  11. দাঁত হতে ছোলা পরিমান খাদ্য-দ্রব্য গিলে ফেললে।
  12. ধূমপান করা, ইচ্ছাকৃত লোবান বা আগরবাতি জ্বালায়ে ধোয়া গ্রহন করলে।
  13. মুখ ভর্তি বমি গিলে ফেললে ।
  14. রাত্রি আছে মনে করে সোবহে সাদিকের পর পানাহার করলে।
  15. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর নিদ্রা হতে জাগরিত হওয়া এ অবস্থায় শুধু কাজা ওয়াজিব হবে।

যেসব কারণে রোজা না রাখলে ক্ষতি নেই তবে কাযা আদায় করতে হবে

  • কোনো অসুখের কারণে রোযা রাখার শক্তি হারিয়ে ফেললে অথবা অসুখ বৃদ্ধির ভয় হলে। তবে পরে তা কাযা করতে হবে।
  • গর্ভবতী স্ত্রী লোকের সন্তান বা নিজের প্রাণ নাশের আশঙ্কা হলে রোজা ভঙ্গ করা বৈধ তবে কাযা করে দিতে হবে।
  • যেসব স্ত্রী লোক নিজের বা অপরের সন্তানকে দুধ পান করান রোজা রাখার ফলে যদি দুধ না আসে তবে রোজা না রাখার  অনুমতি আছে কিন্তু পরে কাযা আদায় করতে হবে।
  • শরিয়তসম্মত মুসাফির অবস্থায় রোযা না রাখার অনুমতি আছে। তবে রাখাই উত্তম।
  • কেউ হত্যার হুমকি দিলে রোযা ভঙ্গের অনুমতি আছে। পরে এর কাযা করতে হবে।
  • কোনো রোগীর ক্ষুধা বা পিপাসা এমন পর্যায়ে চলে গেল এবং কোনো দ্বীনদার মুসলিম চিকিৎসকের মতে রোজা
  • ভঙ্গ না করলে তখন মৃত্যুর আশঙ্কা আছে। তবে রোযা ভঙ্গ করা ওয়াজিব। পরে তা কাযা করতে হবে।
  • হায়েজ-নেফাসগ্রস্ত (বিশেষ সময়ে) নারীদের জন্য রোজা রাখা জায়েজ নয়। পরবর্তীতে কাযা করতে হবে।

রোজা ভঙ্গ হলে করনীয়

বিনা কারণে রোজা ভঙ্গ করলে তাকে অবশ্যই কাজা-কাফফারা উভয়ই আদায় করা ওয়াজিব। যতটি রোজা ভঙ্গ হবে, ততটি রোজা আদায় করতে হবে। কাজা রোজা একটির পরিবর্তে একটি অর্থাৎ রোজার কাজা হিসেবে শুধু একটি রোজাই যথেষ্ট। কাফফারা আদায় করার তিনটি বিধান রয়েছে।

একটি রোজা ভঙ্গের জন্য একাধারে ৬০টি রোজা রাখতে হবে। কাফফারা ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজার মাঝে কোনো একটি ভঙ্গ হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।

যদি কারও জন্য ৬০টি রোজা পালন সম্ভব না হয় তবে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খাওয়াতে হবে। কেউ অসুস্থতাজনিত কারণে রোজা রাখার ক্ষমতা না থাকলে ৬০ জন ফকির, মিসকিন, গরিব বা অসহায়কে প্রতিদিন দুই বেলা করে পেটভরে খাওয়াতে হবে।

গোলাম বা দাসী আজাদ করে দিতে হবে।

কোন কোন ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ করা যাবে?

যে সব কারণে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা যাবে কিন্তু পরে কাজা করতে হয় তা এখানে উল্লেখ করা হলো—

  • মুসাফির অবস্থায়
  • রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে
  • মাতৃগর্ভে সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে
  • এমন ক্ষুধা বা তৃষ্ণা হয়, যাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকতে পারে
  • শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে
  • কোনো রোজাদারকে সাপে দংশন করলে।
  • মহিলাদের মাসিক হায়েজ-নেফাসকালীন রোজা ভঙ্গ করা যায়

রোজা ভঙ্গের যেসব কারণে শুধু কাজা আদায় করতে হয়

  • স্ত্রীকে চুম্বন বা স্পর্শ করার কারণে যদি বীর্যপাত হয়
  • ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে
  • পাথরের কণা, লোহার টুকরা, ফলের বিচি গিলে ফেললে
  • ডুশ গ্রহণ করলে
  • বিন্দু পরিমাণ কোন খাবার খেলে তবে অনিচ্ছাকৃত ভাবে বা মনের ভুলে খেলেও রোজা ভাংবে না তবে মনে আসা মাত্রই খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে
  • নাকে বা কানে ওষুধ দিলে (যদি তা পেটে পৌঁছে)
  • মাথার ক্ষতস্থানে ওষুধ দেওয়ার পর তা যদি মস্তিষ্কে বা পেটে পেঁৗছে
  • যোনিপথ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সহবাস করার ফলে বীর্য নির্গত হলে
  • স্ত্রী লোকের যোনিপথে ওষুধ দিলে

রোজা মাকরুহ হওয়ার ১৬ কারণ

রোজা একটি ফরজ ইবাদত। এই রোজা পালনের কিছু বিধি-বিধান রয়েছে। সেগুলো মেনে অত্যন্ত পবিত্রতার সাথে রোজা পালন করতে বলা হয়েছে ইসলাম ধর্মে। ছোটখাটো কিছু ভুল থেকে শুরু করে বড় বড় কিছু কাজে রোজা মাকরুহ হয়ে যেতে পারে। এর পবিত্রতা নষ্ট হতে পারে।

রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণ

রোজা যে সকল কারণে মাকরুহ হতে পারে তা এখানে উল্লেখ করা হলো—

  1. সারাদিন রোজা সঠিকভাবে করার পরেও সন্ধ্যায় ইফতারির সময় আপনি যদি এমন কোনও খাবার গ্রহণ করেন যেটি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, তাহলে আপনার রোজাটি মাকরুহ হবে।
  2. কোনও কারণ ছাড়াই কিছু চিবুতে থাকলে রোজা মাকরুহ হবে।
  3. কোনও কিছু স্রেফ মুখে পুরে রাখলেন, খেলেন না তাতেও রোজা মাকরুহ হবে।
  4. গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেওয়ায় রোজা মাকরুহ হয়। আর এসব করার সময় পেটে পানি চলে গেলে রোজা ভেঙ্গে যায়।
  5. মুখের লালা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পেটে গেলে ক্ষতি নেই, তবে ইচ্ছাকৃত দীর্ঘ সময় মুখে থুথু ধরে রেখে পরে গিলে ফেললে রোজা মাকরুহ হবে।
  6. রমজানের সারাটি দিন শরীর নাপাক রাখলেও রোজা মাকরুহ হবে।
  7. কোনও বিষয়ে অস্থির হয়ে উঠলে কিংবা কাতরতা দেখালে রোজা মাকরুহ হওয়ার কথাও বলা হয়েছে কোনও কোনও ব্যাখ্যা।
  8. পাউডার, পেস্ট ও মাজন দিয়ে দাঁত পরিস্কার করলে রোজা মাকরুহ হয়ে যায়।
  9. মুখে গুল ব্যবহার মাকরুহ এবং থুথুর সঙ্গে গুল গলার ভেতর চলে গেলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।
  10. রোজা রেখে কারো গিবত করলে বা পরনিন্দা করলে রোজা মাকরুহ হয়।
  11. মিথ্যা কথা বলা মহাপাপ। রোজা রেখে এ কাজটি করলে তা মাকরুহ হবে।
  12. রোজা রেখে ঝগড়া-বিবাদ করলে রোজা মাকরুহ হবে।
  13. যৌন উদ্দিপক কিছু দেখা বা শোনা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতেও রোজা মাকরুহ হয়।
  14. নাচ, গান, সিনেমা দেখা ও তাতে মজে থাকলে রোজা মাকরুহ হয়।
  15. রান্নার সময় রোজাদার কোনও কিছুর স্বাদ নিলে, লবন চেখে দেখলে, ঝাল পরীক্ষা করলে মাকরুহ হয়। তবে বিশেষ প্রয়োজনে সেটা যদি করতেই

রোজার উদ্দেশ্য কী?

রোজা রাখার উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা, পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নিজেদের কামনা-বাসনা নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরহেজগারি বা তাকওয়া বৃদ্ধি করা।

কুরআনে বলা হয়েছে,

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো”। — সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩

আরও বলা হয়েছে,

“রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।” — সূরা বাকারা: ১৮৫

‘তাকওয়া’ শব্দটির মূল অর্থ ‘রক্ষা করা।’ এর অনুবাদ করা হয়েছে নানাভাবে। যেমন পরহেজগারি, আল্লাহর ভয়, দ্বীনদারি, সৎ কর্মশীলতা, সতর্কতা প্রভৃতি। রোজা ঢালের মতো কাজ করে, যা গোনাহের হাত থেকে বাঁচায়।

রোজার উপকারিতা

রমজানের একটি বিশেষ ফজিলত বা মাহাত্ম্য হচ্ছে,এই পবিত্র রমজান মাসে আল কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। রমজান মাসের রোজা মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি দেয়,মানুষের কুপ্রবৃত্তি ধুয়ে মুছে দেয় এবং আত্মাকে দহন করে ঈমানের শাখা প্রশাখা সঞ্জিবীত করে। সর্বোপরি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। এই মর্মে মহানবী ইরশাদ করেছেন,

“রোজাদারের জন্য দুটি খুশি। একটি হলো তার ইফতারের সময়, আর অপরটি হলো আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।” — (বুখারী ও মুসলিম)

মেরু অঞ্চলে রোজা

ইসলামে মেরু অঞ্চলসমূহে রোজা রাখা সম্পর্কে সরাসরি কিছুই বলা হয় নি। তবে সৌদি আরব রাজ্যের উর্ধতন বিশেষজ্ঞ পরিষদের মতামত অনুযায়ী, দজ্জাল সম্পর্কে একটি হাদিস রয়েছে, যেখানে প্রমাণিত হয় যে প্রতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোজা এবং একই সঙ্গে নামাজ উপক্রম করতে হবে।

এই সমস্যার কারণ হলো গ্রীষ্মকালে মেরু অক্ষাংশে নিশীথ সূর্য এবং শীতকালে মেরু নিশি দেখা যায়। এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি সংঘটিত হয় কারণ গ্রীষ্মকালে পৃথিবীর অক্ষাংশ সূর্যের দিকে হেলে থাকে এবং শীতকালে সূর্য থেকে দূরে সরে যায়, এই কারণে মেরু অঞ্চলসমূহে প্রতি ছয়-মাস যাবৎ টানা সূর্যের আলো দেখা যায়। ইসলামের প্রাথমিক যুগের আদি মুসলমানরা মেরু অঞ্চলে বসবাস করতেন না, তারা উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বসবাস করতেন যেখানে সূর্য দিনের বেলায় সরাসরি উপরিভাগে থাকে এবং রাতে অস্ত যায়। এজন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের এই ঘটনাগুলির অভিজ্ঞতা হয়নি।

উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে সৃষ্ট এ জটিলতা নিরসনে মুসলিম আলিমগণ কুরআন ও হাদিসের আলোকে যথার্থ বিধান দিয়েছেন, যে বিধান অনুযায়ী এ অঞ্চলের কোন বাসিন্দা রোজাব্রত পালন করলেও প্রাণ সংশয়ে পড়বেন না। তাই, উপর্যুক্ত অভিযোগের সত্যতা ভিত্তিহীন বলে মুসলিম ভাষ্যকারগণ দাবি করেন।

উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুতে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে মুসলিম উলামাবৃন্দ তাদের সুস্পষ্ট গবেষণা ও ফতওয়া প্রদান করেছেন। এসকল গবেষণা ও ফতওয়া কুরআন ও হাদিসের সার নির্যাস থেকে গৃহীত। উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুতে কীভাবে নামাজের সময় নিরূপণ করা হবে, তা ‘ইজতিহাদ’ এর মাধ্যমে আলিমগণ সমাধা করেছেন। তাই, উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে নির্ধারিত সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা অসম্ভব— এমন বক্তব্যকে মুসলিম ভাষ্যকারগণ নাকচ করে দিয়েছেন।

এছাড়া, ক্রমাগত ছয় মাস যাবৎ কোন ব্যক্তির পক্ষে রোজা রাখা তার সাধ্যাতীত। আর কুরআনের মূলনীতি হচ্ছে, আল্লাহ্‌ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজ বাধ্যবাধক করেন না। কুরআনে এসেছে,

“[রমজানের সময়] খাওয়া-দাওয়া করুন, যতক্ষণ না আপনার নিকট ভোরের সাদা সুতা এর কালো সুতা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়। [কুরআন ২:১৮৭]…… আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে।” [কুরআন ২:২৮৬]

তাই, সে দিক বিবেচনায়, ইসলামি মনীষীগণ বলেন, কুরআন ব্যক্তিকে রোজা পালনে শৈথিল্যের সুযোগ দিয়েছে। তারা বলেন, সামগ্রিকভাবে কুরআনে কোন অবৈজ্ঞানিক বা ভুল বা অসম্পূর্ণ বিধান জারি করা হয়নি।

অর্থাৎ রোজা মুসলমানদের উপর শুধু তখনই ফরজ হবে, যখন দিন-রাত্রির সমাগম ঘটে, অন্যথায় রোজা রাখবার প্রয়োজন নেই। সুতরাং সালভার্ডের (সুমেরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী মুসলমানদের উদাহরণ হিসাবে) মুসলমানদের কেবল তখনই রোজা রাখতে হবে, যখন দিন ও রাত সূর্য দ্বারা বিশিষ্ট হয়। যদি রমজান জুন/ডিসেম্বর মাসে আসে (যখন সালভার্ডে দিন-রাত নির্দিষ্ট হয় না), তাহলে তারা রোজা ছেড়ে দিতে পারেন। আর যদি রমজান মার্চ/সেপ্টেম্বরে আসে (যখন সালভার্ডে দিন-রাত নির্দিষ্ট হয়), তাহলে তারা তাদের রোজা সম্পন্ন করতে পারেন। এই নিয়মটিকে বলা হয় “কাজা”। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন—

“আল্লাহ আপনার জন্য সকল সুযোগ সুবিধা পরিকল্পনা করে রেখেছেন। [তিনি চান] আপনি নির্দিষ্ট সময়সীমা পূর্ণ করুন, এবং তিনি আপনাকে যে পথনির্দেশ করেছেন তা অনুসরণ করুন; এবং তার অনুগ্রহ গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন”। [কুরআন ২:১৮৪]

উৎসসমূহ: ইনফো বিডি, উইকিপিডিয়া,

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের অন্যান্য নিবন্ধ

সমাজমাধ্যম

সবচেয়ে জনপ্রিয়
সবচেয়ে জনপ্রিয়

শিক্ষা কী? শিক্ষার সংজ্ঞা, ধারণা এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

শিক্ষা নিয়ে যারা কথা বলেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই নিজের মতো করে ভেবে নিয়েছেন শিক্ষাকে, নিজের মতো করে সংজ্ঞা দিয়েছেন। শিক্ষাবীদ কিংবা মনিষী, যার সংজ্ঞাই দেখা হোক না কেন, খুব একটা সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। তাই বলে যাদের হাত ধরে শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা আজ পর্যন্ত এসেছে তাঁদের মতো শিক্ষাবিদ বা মনিষীদের বলে যাওয়া বা লিখে যাওয়া কথাগুলোকে এড়িয়ে চলাও সম্ভব নয়।

গবেষণা: গবেষণার সংজ্ঞা, ধারণা ও প্রকারভেদ

গবেষণা হলো কোনো কিছু সম্পর্কে জানার জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এবং একটি গবেষণা শুধু একটি প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দুই বা ততোধিক প্রকারের হতে পারে

মূল্যবোধ কাকে বলে এবং মূল্যবোধের উৎস ও প্রকারভেদ কী?

মূল্যবোধ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Value এটি গঠিত হয়েছে...

নেতা ও নেতৃত্ব কাকে বলে? একজন আদর্শ নেতার গুণাবলি কী?

নেতৃত্বের মূল কাজ হলো আওতাভুক্ত ব্যক্তিবর্গকে প্রভাবিত করা, যাতে তারা নেতার নির্দেশ মেনে নেয় ও সে মোতাবেক কাজ করে। 

শিক্ষা: অভীক্ষার সংজ্ঞা এবং বৈশিষ্ট্য

শিক্ষাক্ষেত্রে অভীক্ষা খুবই পরিচিত একটি পদ। যারা শিক্ষাবিজ্ঞান পড়েছেন...

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা, পরিধি এবং গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা

মানব সভ্যতার শুরু থেকেই ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন মানব সংগঠনের সাথে...

ইতিহাস কাকে বলে? ইতিহাসের বিষয়বস্তু, উপাদান এবং ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা কী?

ইতিহাস পাঠ করার আগে আমাদের প্রত্যেকেরই জানা প্রয়োজন ইতিহাস কী, ইতিহাসের প্রকৃতি কীরূপ; আবার পাঠ্য বিষয় হিসেবে ইতিহাসের ভূমিকা কী। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট কালের এবং নির্দিষ্ট দেশের ইতিহাস জানার সাথে সমসাময়িক প্রাকৃতিক অবস্থা এবং পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। এই নিবন্ধে ইতিহাসের সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু, উপাদান এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার নীতি বা মূলনীতি কয়টি ও কী কী?

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনা একটি বাংলা শব্দ যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো...

পরিবার কাকে বলে? পরিবারের সংজ্ঞা, ধারণা, প্রকারভেদ, কার্যাবলি ও গুরুত্ব কী?

আমরা জন্ম থেকেই পরিবারের সাথে পরিচিত। আমরা নিশ্চয়ই অবগত...

শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল

পাঠকে ফলপ্রসূ করার জন্য শিক্ষক পরিস্থিতি অনুসারে একাধিক পদ্ধতি ও কৌশলের সংমিশ্রণে নিজের মতো করে পাঠ পরিচালনা করতে পারেন। পাঠের সাফল্য নির্ভর করে শিক্ষকের বিচক্ষণতা এবং বিষয়জ্ঞান ও শিখন পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগের উপর।

পাঠ পরিকল্পনা: পাঠ পরিকল্পনার সংজ্ঞা এবং হার্বার্টের পঞ্চসোপান ও আধুনিক ত্রিসোপান

শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, কীভাবে তা শেখানো হবে এবং কীভাবে শিখন মূল্যায়ন করা হবে সে সম্পর্কে শিক্ষকের দৈনন্দিন নির্দেশনা হলো পাঠ পরিকল্পনা