০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
                       

Education, শিক্ষা ও বিদ্যা শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ এবং শিক্ষার ভারতীয় ও পাশ্চাত্য সংজ্ঞা

বিশ্লেষণ সংকলন টিম
  • প্রকাশ: ১১:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ মার্চ ২০২২
  • / ৯২২০ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা কী? শিক্ষার সংজ্ঞা, ধারণা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য


Google News
বিশ্লেষণ-এর সর্বশেষ নিবন্ধ পড়তে গুগল নিউজে যোগ দিন

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এবং স্বল্পমূল্যে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

শিক্ষা সম্পর্কে এই ‘বিশ্লেষণ’-এ প্রচুর কন্টেন্ট আছে। এখানে শুধু ‘education’, ‘শিক্ষা’ ও ‘বিদ্যা’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ উল্লেখ এবং শিক্ষার কিছু সংজ্ঞা উল্লেখ করা হলো

‘Education’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

প্রথম মত

‘শিক্ষা’ শব্দটির ইংরেজি ‘Education’ অনেকের মতে এ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘Educare’ থেকে। ‘Educare’ বলতে ‘to bring up’, ‘to nourish, to develop’ এসব বোঝায়। ভাবগত বিচারে এই কথাগুলো থেকে বুঝৰ শিক্ষা ব্যক্তিকে লালন করে, অন্য কথায় তাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয় মত

‘Education’ শব্দটির উৎপত্তি বিচারে অনেকে ‘Educere’ শব্দটিকেও তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেন। আর ‘Educere’ বলতে বোঝানো হয় ‘to draw out,’ ‘to lead out’ হত্যাদি। এ কথাগুলোর শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায়— বের করে নিয়ে আসা অথবা ভিতরের ভিনিসকে বাহরে আসার সুযোগ দেওয়া। এই ‘বের করার’ বিষয় হিসেবে তারা দেখেছেন মানুষের সুপ্ত সন্ভাবনাকে। অন্য কথায়, ‘Educere’ শব্দটি শিক্ষার মাধ্যমে মানব শিশুর বিকাশ সম্ভাবনার রূপায়ণের ওপরই গুরুত্ব দিয়েছে।

তৃতীয় মত

‘Education’ শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে তৃতীয় একটি মতও প্রচলিত রয়েছে। এ মতানুযায়ী ‘Education’ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Educatum’ থেকে। এ ল্যাটিন শব্দটি নির্দেশ করে শিক্ষাদানের কাজটিকে। শিক্ষাদান প্রসঙ্গে শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার অভীষ্ট লক্ষ্যের প্রশ্নগুলোও এসে যায়।

শিক্ষা’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

সংস্কৃত ধাতু ‘শাস’ থেকে এসেছে এসেছে ‘শিক্ষা’ শব্দটি। ‘শাস’ কথাটির অর্থ হচ্ছে ‘শাসন, নিয়ন্ত্রণ, নির্দেশ বা উপদেশ দান’। শাব্দিক অর্থে ‘শাস’ কথাটিতে একটি আরোপিত ব্যবস্থার হঙ্গিত রয়েছে। ভাবগত বিচারে আমরা ‘শাস’ বা শাসনকে নমনীয় দৃষ্টিতে দেখতে পারি। শিক্ষা ব্যক্তির সম্ভাবনার বিকাশে সহায়তা করে, কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে তার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, ব্যক্তির নিজের কল্যাণে অথবা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে হপ্সিত আচরণ মাত্রই নিয়ন্ত্রিত আচরণ।  

‘বিদ্যা’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

শিক্ষার আর একটি সমার্থক শব্দ হচ্ছে ‘বিদ্যা’ এ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘বিদ’ ধাতু থেকে। ‘বিদ’ বলতে ‘জানা’ বা ‘জ্ঞান আহরণ করা’ বোঝানো হয়৷ ‘জানা’ বলতে শিক্ষার ব্যাপক ও বিচিত্র ক্ষেত্রকে অথবা শিক্ষার্থীকে জ্ঞান লাভের স্পৃহা বা অনুসন্ধিৎসাকে নির্দেশ করা হয়েছে। এ দু’টি দিকের মধ্যে বিরোধ নেই একটি অন্যটির পরিপূরক বিশেষ।

শিক্ষা কী?

ইংরেজি ‘Education’ এবং বাংলা ‘শিক্ষা’ শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করতে গিয়ে আমরা শিক্ষার স্বরূপ ও শিক্ষার অভীষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করেছি। এই ‘ধারণা’ থেকে আমরা শিক্ষাকে সীমিত ও ব্যাপক অর্থে বিচার করতে পারি।

সীমিত অর্থে, শিক্ষা জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষকে বিভিন্নমুখী দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করে। এখানে ভীবন ধারণের প্রশ্নটি বড়ো, জীবন বিকাশের প্রশ্নটি নয়।

আসলে দরিদ্র ও অনুন্নত সমাজে যেখানে টিকে থাকার প্রশ্নটি বড়, সেখানে জীবনের বিচিত্রিত বিকাশ ও সম্ভাবনা মানুষকে খুব একটা ভাবিয়ে তোলে না। অন্যদিকে, ব্যাপক অর্থে শিক্ষা ও জীবন সমার্থক। শিক্ষা হচ্ছে জীবনব্যাপী একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া এ. এন. হোয়াইটহেড এ কথাটিকেই জোর দিয়ে বলেছেন— “শিক্ষার বিষয়বস্তু একটি এবং তা হচ্ছে জীবনের সার্বিক প্রকাশ”।

প্রাচীন ভারতীয় চিন্তাবিদদের ধারণায় শিক্ষা

  • উপনিষদে বলা হয়েছে, “শিক্ষা মানুষকে সংস্কারমুক্ত করে তোলে”।
  • ঋগবেদে বলা হয়েছে, “শিক্ষা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসী এবং আত্মত্যাগী করে তোলে”।
  • কৌটিল্যের মতে, “শিক্ষা হলো শিশুকে দেশ বা জাতিকে ভালোবাসার প্রশিক্ষণ দেওয়ার কৌশল”।
  • শঙ্করাচার্যের মতে, “আত্মজ্ঞান লাভই হলো শিক্ষা”।

আধুনিক ভারতীয় শিক্ষাবিদগণের মতানুযায়ী শিক্ষা

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “তাকেই বলি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা, যা কেবল তথ্য পরিবেশন করে না , যা বিশ্ব সত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে”।
  • মহাত্মা গান্ধী বলেছেন, “ব্যক্তির দেহ , মন ও আত্মার সুষম বিকাশের প্রয়াস”।
  • স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, “মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তার পরিপূর্ণ বিকাশই হলো শিক্ষা”।
  • ঋষি অরবিন্দ বলেছেন, “মানুষ যে বিকাশমান আত্মসত্তার অধিকারী তাকে সম্পূর্ণভাবে বিকাশ করার যে প্রচেষ্টা তাই হলো শিক্ষা”।

পাশ্চাত্য শিক্ষাবিদগণের মতানুযায়ী শিক্ষা

  • অ্যারিস্টটল বলেছেন, “শিক্ষার্থীদের দেহ মনের বিকাশ সাধন এবং তার মাধ্যমে জীবনের মাধুর্য ও সত্য উপলব্ধিকরণ”।
  • রুশোর মতে, “শিক্ষা হলো শিশুর স্বতস্ফুর্ত আত্মবিকাশ, যা মানব সমাজে সকল কৃত্রিমতা বর্জিত একজন স্বাভাবিক মানুষ তৈরীতে সহায়ক”।
  • জন ডিউই বলেছেন, “শিক্ষা হলো অভিজ্ঞতার অবিরত পুনর্গঠনের মাধ্যমে জীবন-যাপনের প্রক্রিয়া”।
  • প্লেটোর মতে, “শিক্ষা হলো শিশুর নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী দেহ মনের সার্বিক বিকাশের সহায়ক প্রক্রিয়া”।
  • ফ্রেডরিখ উইলহেম ফ্রয়বেলের মতে, “শিক্ষা হলো অন্তর্নিহিত সুপ্ত সম্ভাবনার উন্মেষ সাধন”।
  • জীবনব্যাপী শিক্ষার ক্ষেত্র নির্দিষ্ট গণ্ডিকে অতিক্রম করে যায়। ফলে তা আনুষ্ঠানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় সীমিত নয়। শিক্ষার পরিধি ব্যাপ্ত হয় জীবনের সমগ্র অঙ্গন জুড়ে এবং এ দিক থেকে শিক্ষা জীবনের গতিশীলতারই পরিপোষক। 

শেয়ার করুন

One thought on “Education, শিক্ষা ও বিদ্যা শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ এবং শিক্ষার ভারতীয় ও পাশ্চাত্য সংজ্ঞা

  1. ডিউই এর মতে শিক্ষার প্রধান উদ্দশ্য কি

মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য সংরক্ষিত রাখুন

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

Education, শিক্ষা ও বিদ্যা শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ এবং শিক্ষার ভারতীয় ও পাশ্চাত্য সংজ্ঞা

প্রকাশ: ১১:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ মার্চ ২০২২

শিক্ষা সম্পর্কে এই ‘বিশ্লেষণ’-এ প্রচুর কন্টেন্ট আছে। এখানে শুধু ‘education’, ‘শিক্ষা’ ও ‘বিদ্যা’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ উল্লেখ এবং শিক্ষার কিছু সংজ্ঞা উল্লেখ করা হলো

‘Education’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

প্রথম মত

‘শিক্ষা’ শব্দটির ইংরেজি ‘Education’ অনেকের মতে এ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘Educare’ থেকে। ‘Educare’ বলতে ‘to bring up’, ‘to nourish, to develop’ এসব বোঝায়। ভাবগত বিচারে এই কথাগুলো থেকে বুঝৰ শিক্ষা ব্যক্তিকে লালন করে, অন্য কথায় তাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয় মত

‘Education’ শব্দটির উৎপত্তি বিচারে অনেকে ‘Educere’ শব্দটিকেও তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেন। আর ‘Educere’ বলতে বোঝানো হয় ‘to draw out,’ ‘to lead out’ হত্যাদি। এ কথাগুলোর শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায়— বের করে নিয়ে আসা অথবা ভিতরের ভিনিসকে বাহরে আসার সুযোগ দেওয়া। এই ‘বের করার’ বিষয় হিসেবে তারা দেখেছেন মানুষের সুপ্ত সন্ভাবনাকে। অন্য কথায়, ‘Educere’ শব্দটি শিক্ষার মাধ্যমে মানব শিশুর বিকাশ সম্ভাবনার রূপায়ণের ওপরই গুরুত্ব দিয়েছে।

তৃতীয় মত

‘Education’ শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে তৃতীয় একটি মতও প্রচলিত রয়েছে। এ মতানুযায়ী ‘Education’ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Educatum’ থেকে। এ ল্যাটিন শব্দটি নির্দেশ করে শিক্ষাদানের কাজটিকে। শিক্ষাদান প্রসঙ্গে শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার অভীষ্ট লক্ষ্যের প্রশ্নগুলোও এসে যায়।

শিক্ষা’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

সংস্কৃত ধাতু ‘শাস’ থেকে এসেছে এসেছে ‘শিক্ষা’ শব্দটি। ‘শাস’ কথাটির অর্থ হচ্ছে ‘শাসন, নিয়ন্ত্রণ, নির্দেশ বা উপদেশ দান’। শাব্দিক অর্থে ‘শাস’ কথাটিতে একটি আরোপিত ব্যবস্থার হঙ্গিত রয়েছে। ভাবগত বিচারে আমরা ‘শাস’ বা শাসনকে নমনীয় দৃষ্টিতে দেখতে পারি। শিক্ষা ব্যক্তির সম্ভাবনার বিকাশে সহায়তা করে, কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে তার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, ব্যক্তির নিজের কল্যাণে অথবা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে হপ্সিত আচরণ মাত্রই নিয়ন্ত্রিত আচরণ।  

‘বিদ্যা’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

শিক্ষার আর একটি সমার্থক শব্দ হচ্ছে ‘বিদ্যা’ এ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘বিদ’ ধাতু থেকে। ‘বিদ’ বলতে ‘জানা’ বা ‘জ্ঞান আহরণ করা’ বোঝানো হয়৷ ‘জানা’ বলতে শিক্ষার ব্যাপক ও বিচিত্র ক্ষেত্রকে অথবা শিক্ষার্থীকে জ্ঞান লাভের স্পৃহা বা অনুসন্ধিৎসাকে নির্দেশ করা হয়েছে। এ দু’টি দিকের মধ্যে বিরোধ নেই একটি অন্যটির পরিপূরক বিশেষ।

শিক্ষা কী?

ইংরেজি ‘Education’ এবং বাংলা ‘শিক্ষা’ শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করতে গিয়ে আমরা শিক্ষার স্বরূপ ও শিক্ষার অভীষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করেছি। এই ‘ধারণা’ থেকে আমরা শিক্ষাকে সীমিত ও ব্যাপক অর্থে বিচার করতে পারি।

সীমিত অর্থে, শিক্ষা জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষকে বিভিন্নমুখী দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করে। এখানে ভীবন ধারণের প্রশ্নটি বড়ো, জীবন বিকাশের প্রশ্নটি নয়।

আসলে দরিদ্র ও অনুন্নত সমাজে যেখানে টিকে থাকার প্রশ্নটি বড়, সেখানে জীবনের বিচিত্রিত বিকাশ ও সম্ভাবনা মানুষকে খুব একটা ভাবিয়ে তোলে না। অন্যদিকে, ব্যাপক অর্থে শিক্ষা ও জীবন সমার্থক। শিক্ষা হচ্ছে জীবনব্যাপী একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া এ. এন. হোয়াইটহেড এ কথাটিকেই জোর দিয়ে বলেছেন— “শিক্ষার বিষয়বস্তু একটি এবং তা হচ্ছে জীবনের সার্বিক প্রকাশ”।

প্রাচীন ভারতীয় চিন্তাবিদদের ধারণায় শিক্ষা

  • উপনিষদে বলা হয়েছে, “শিক্ষা মানুষকে সংস্কারমুক্ত করে তোলে”।
  • ঋগবেদে বলা হয়েছে, “শিক্ষা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসী এবং আত্মত্যাগী করে তোলে”।
  • কৌটিল্যের মতে, “শিক্ষা হলো শিশুকে দেশ বা জাতিকে ভালোবাসার প্রশিক্ষণ দেওয়ার কৌশল”।
  • শঙ্করাচার্যের মতে, “আত্মজ্ঞান লাভই হলো শিক্ষা”।

আধুনিক ভারতীয় শিক্ষাবিদগণের মতানুযায়ী শিক্ষা

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “তাকেই বলি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা, যা কেবল তথ্য পরিবেশন করে না , যা বিশ্ব সত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে”।
  • মহাত্মা গান্ধী বলেছেন, “ব্যক্তির দেহ , মন ও আত্মার সুষম বিকাশের প্রয়াস”।
  • স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, “মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তার পরিপূর্ণ বিকাশই হলো শিক্ষা”।
  • ঋষি অরবিন্দ বলেছেন, “মানুষ যে বিকাশমান আত্মসত্তার অধিকারী তাকে সম্পূর্ণভাবে বিকাশ করার যে প্রচেষ্টা তাই হলো শিক্ষা”।

পাশ্চাত্য শিক্ষাবিদগণের মতানুযায়ী শিক্ষা

  • অ্যারিস্টটল বলেছেন, “শিক্ষার্থীদের দেহ মনের বিকাশ সাধন এবং তার মাধ্যমে জীবনের মাধুর্য ও সত্য উপলব্ধিকরণ”।
  • রুশোর মতে, “শিক্ষা হলো শিশুর স্বতস্ফুর্ত আত্মবিকাশ, যা মানব সমাজে সকল কৃত্রিমতা বর্জিত একজন স্বাভাবিক মানুষ তৈরীতে সহায়ক”।
  • জন ডিউই বলেছেন, “শিক্ষা হলো অভিজ্ঞতার অবিরত পুনর্গঠনের মাধ্যমে জীবন-যাপনের প্রক্রিয়া”।
  • প্লেটোর মতে, “শিক্ষা হলো শিশুর নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী দেহ মনের সার্বিক বিকাশের সহায়ক প্রক্রিয়া”।
  • ফ্রেডরিখ উইলহেম ফ্রয়বেলের মতে, “শিক্ষা হলো অন্তর্নিহিত সুপ্ত সম্ভাবনার উন্মেষ সাধন”।
  • জীবনব্যাপী শিক্ষার ক্ষেত্র নির্দিষ্ট গণ্ডিকে অতিক্রম করে যায়। ফলে তা আনুষ্ঠানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় সীমিত নয়। শিক্ষার পরিধি ব্যাপ্ত হয় জীবনের সমগ্র অঙ্গন জুড়ে এবং এ দিক থেকে শিক্ষা জীবনের গতিশীলতারই পরিপোষক।