০১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
                       

প্রেষণা চক্র কী ও প্রেষণা চক্রের ধাপ

শেহনাজ ইসলাম মুক্তি
  • প্রকাশ: ০১:০০:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১
  • / ২০৪৮৫ বার পড়া হয়েছে

কর্মীদেরকে উৎসাহ-উদ্দীপনা তথা প্রণোদনা দানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কাজে উদ্বুদ্ধ করার এ প্রক্রিয়াকে প্রেষণা বলা হয়। | ছবি: Unsplash

প্রেষণা চক্র (Motivation Cycle) 

প্রেষণা কতিপয় মনস্তাত্ত্বিক ও ধারাবাহিক কাজের সমষ্টি যা কোনো বিশেষ কাজ সম্পাদনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে; এই ধারাবাহিক কাজগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় শুরু হয় বিধায় এটিকে প্রেষণা চক্র বলা হয়।

মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে অভাব বোধ হয় যেখান থেকে চাহিদা সৃষ্টি, পরে অভাব পূরণে অনুপ্রাণিত হয়ে কার্য সম্পাদন করতে থাকে। মূলত মানুষের অভাব অসীম। মানুষ তার জীবনে কোনো না কোনো অভাব দ্বারা তাড়িত। মানুষের একটি চাহিদা পুরণ হলে অন্য একটি চাহিদা তার সামনে হাজির হয়। প্রেষণা চক্রের আকারে আবর্তিত হয়ে মানুষের সব নিত্য নতুন চাহিদা পূরণ করে থাকে।

অর্থাৎ প্রেষণা একটি প্রক্রিয়া যা মানুষের অভাববোধ থেকে শুরু হয় এবং শেষ হয় সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্য দিয়ে; প্রেষণা একটিচক্রের ন্যায় আবর্তিত হয় বিধায় এটিকে প্রেষণা চক্র বলা হয়।

প্রেষণা চক্রের ধাপ

প্রেষণা চক্রের ৭ টি ধাপ রয়েছে।

প্রেষণা চক্রের আকারে আবর্তিত হয়ে মানুষের সব নিত্য নতুন চাহিদা পূরণ করে থাকে।

প্রেষণাচক্রের ধাপগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:

  1. কর্মীর অভাব অনুসন্ধান: প্রেষণা প্রক্রিয়ার প্রথম কাজ হল কর্মীদের অভাব /প্রয়োজন অনুসন্ধান। এ অনুসন্ধানের মাধ্যমে কর্মীদের উদ্বিগ্নতার মাত্রা বেরিয়ে আসবে। 
  2. প্রয়োজনের স্বীকৃতি দান: প্রতিষ্ঠানের সবধরনের অভাব বা প্রয়োজনকে চাহিদা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এ ছাড়া সকলের প্রত্যাশা এক রকম হয় না। সে কারণে সামষ্টিক বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের প্রয়োজনের স্বীকৃতি প্রদান করতে হয়। এটি প্রেষণা চক্রের দ্বিতীয় ধাপ। 
  3. চাহিদা পুরনের উপায় চিহ্নিতকরণ: কর্মীর অভাব বা প্রয়োজন শনাক্ত করার পর তা পূরনের পদ্ধতি নির্বাচন করতে হবে। এটি প্রেষণা চক্রের তৃতীয় ধাপ। এটিকে উদ্দীপক পদ্ধতি বলা হয়। এ পদ্ধতি আর্থিক বা অনার্থিক উভয়ই হতে পারে। শুধু পদ্ধতি চিহ্নিত করা হলেই চলবে না- তা প্রয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। 
  4. প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বিবেচনা: কর্মীদের চাহিদা থাকলেই চলবে না। তা পূরণের সামর্থ অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের থাকতে হবে। কতিপয় দাবির গুরুত্ব বিবেচনা করে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ করার ব্যবস্থা করতে হবে। 
  5. অনুপ্রাণিতকরণ কর্মসূচি গ্রহণ: কর্মীর চাহিদা ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা- এ দুইয়ের মধ্যে সুষম সমন্বয় করে অনুপ্রাণিতকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। 
  6. উদ্দীপক প্রয়োগ: এ পর্যায়ে নির্বাচিত উদ্দীপকগুলো প্রয়োগ করা হয়। গুরুর্তেব তালিকা অনুযায়ী একে একে কর্মীদের চাহিদাগুলো পূরণ করা হয়। প্রথমে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। পরে কর্মীর মনোভাব পর্যালোচনা করে অনার্থিক উদ্দীপক প্রয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 
  7. চাহিদার পরিতৃপ্তি: এটি প্রেষণা চক্রের সর্বশেষ ধাপ। উদ্দীপক ব্যবহারের পর কর্মীদের চাহিদার পরিতৃপ্তি ঘটে। কর্মীরা কতটুকু পরিতৃপ্ত হলো তা ব্যবস্থাপনা খুব সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করে এবং কর্মীর সন্তুষ্টি পরিমাপ করে । 

উপরের ধাপগুলো শেষ হওয়ার পর শুরু হবে নতুন চাহিদা পূরণের বিষয়। এভাবে চক্রাকারে চাহিদা পূরনের ব্যাপারটি চক্রাকারে ঘুরতে থাকে। এ কারণে এটিকে প্রেষণা চক্র বলে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য সংরক্ষিত রাখুন

তাহসান খান এবং মুনজেরিন শহীদের দুটি প্রফেশনাল কমিউনিকেশন কোর্স করুন ২৮% ছাড়ে
তাহসান খান এবং মুনজেরিন শহীদের দুটি প্রফেশনাল কমিউনিকেশন কোর্স করুন ২৮% ছাড়ে

২৮℅ ছাড় পেতে ৩০/০৬/২০২৪ তারিখের মধ্যে প্রোমো কোড “professional10” ব্যবহার করুন। বিস্তারিত জানতে ও ভর্তি হতে ক্লিক করুন এখানে

প্রেষণা চক্র কী ও প্রেষণা চক্রের ধাপ

প্রকাশ: ০১:০০:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১

প্রেষণা চক্র (Motivation Cycle) 

প্রেষণা কতিপয় মনস্তাত্ত্বিক ও ধারাবাহিক কাজের সমষ্টি যা কোনো বিশেষ কাজ সম্পাদনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে; এই ধারাবাহিক কাজগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় শুরু হয় বিধায় এটিকে প্রেষণা চক্র বলা হয়।

মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে অভাব বোধ হয় যেখান থেকে চাহিদা সৃষ্টি, পরে অভাব পূরণে অনুপ্রাণিত হয়ে কার্য সম্পাদন করতে থাকে। মূলত মানুষের অভাব অসীম। মানুষ তার জীবনে কোনো না কোনো অভাব দ্বারা তাড়িত। মানুষের একটি চাহিদা পুরণ হলে অন্য একটি চাহিদা তার সামনে হাজির হয়। প্রেষণা চক্রের আকারে আবর্তিত হয়ে মানুষের সব নিত্য নতুন চাহিদা পূরণ করে থাকে।

অর্থাৎ প্রেষণা একটি প্রক্রিয়া যা মানুষের অভাববোধ থেকে শুরু হয় এবং শেষ হয় সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্য দিয়ে; প্রেষণা একটিচক্রের ন্যায় আবর্তিত হয় বিধায় এটিকে প্রেষণা চক্র বলা হয়।

প্রেষণা চক্রের ধাপ

প্রেষণা চক্রের ৭ টি ধাপ রয়েছে।

প্রেষণা চক্রের আকারে আবর্তিত হয়ে মানুষের সব নিত্য নতুন চাহিদা পূরণ করে থাকে।

প্রেষণাচক্রের ধাপগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:

  1. কর্মীর অভাব অনুসন্ধান: প্রেষণা প্রক্রিয়ার প্রথম কাজ হল কর্মীদের অভাব /প্রয়োজন অনুসন্ধান। এ অনুসন্ধানের মাধ্যমে কর্মীদের উদ্বিগ্নতার মাত্রা বেরিয়ে আসবে। 
  2. প্রয়োজনের স্বীকৃতি দান: প্রতিষ্ঠানের সবধরনের অভাব বা প্রয়োজনকে চাহিদা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এ ছাড়া সকলের প্রত্যাশা এক রকম হয় না। সে কারণে সামষ্টিক বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের প্রয়োজনের স্বীকৃতি প্রদান করতে হয়। এটি প্রেষণা চক্রের দ্বিতীয় ধাপ। 
  3. চাহিদা পুরনের উপায় চিহ্নিতকরণ: কর্মীর অভাব বা প্রয়োজন শনাক্ত করার পর তা পূরনের পদ্ধতি নির্বাচন করতে হবে। এটি প্রেষণা চক্রের তৃতীয় ধাপ। এটিকে উদ্দীপক পদ্ধতি বলা হয়। এ পদ্ধতি আর্থিক বা অনার্থিক উভয়ই হতে পারে। শুধু পদ্ধতি চিহ্নিত করা হলেই চলবে না- তা প্রয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। 
  4. প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বিবেচনা: কর্মীদের চাহিদা থাকলেই চলবে না। তা পূরণের সামর্থ অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের থাকতে হবে। কতিপয় দাবির গুরুত্ব বিবেচনা করে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ করার ব্যবস্থা করতে হবে। 
  5. অনুপ্রাণিতকরণ কর্মসূচি গ্রহণ: কর্মীর চাহিদা ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা- এ দুইয়ের মধ্যে সুষম সমন্বয় করে অনুপ্রাণিতকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। 
  6. উদ্দীপক প্রয়োগ: এ পর্যায়ে নির্বাচিত উদ্দীপকগুলো প্রয়োগ করা হয়। গুরুর্তেব তালিকা অনুযায়ী একে একে কর্মীদের চাহিদাগুলো পূরণ করা হয়। প্রথমে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। পরে কর্মীর মনোভাব পর্যালোচনা করে অনার্থিক উদ্দীপক প্রয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 
  7. চাহিদার পরিতৃপ্তি: এটি প্রেষণা চক্রের সর্বশেষ ধাপ। উদ্দীপক ব্যবহারের পর কর্মীদের চাহিদার পরিতৃপ্তি ঘটে। কর্মীরা কতটুকু পরিতৃপ্ত হলো তা ব্যবস্থাপনা খুব সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করে এবং কর্মীর সন্তুষ্টি পরিমাপ করে । 

উপরের ধাপগুলো শেষ হওয়ার পর শুরু হবে নতুন চাহিদা পূরণের বিষয়। এভাবে চক্রাকারে চাহিদা পূরনের ব্যাপারটি চক্রাকারে ঘুরতে থাকে। এ কারণে এটিকে প্রেষণা চক্র বলে।