দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্ব রাজনীতিতে ঘটল এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। একসাথে তিনটি পশ্চিমা শক্তিশালী রাষ্ট্র—যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া—আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি ঘোষণা করেছে।
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো G7 রাষ্ট্র (কানাডা) ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন অধ্যায় সূচিত করল।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের ঘোষণা
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) এক ভিডিও বার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেন:
“আজ, শান্তির আশাকে পুনর্জীবিত করার জন্য এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে আমি ঘোষণা করছি—যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।”
স্টারমার আরও জানান, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল প্রতীকী নয় বরং বাস্তব পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক ধাপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে আলোচনার নতুন পথ উন্মোচন করবে।
যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বিবিসিকে বলেন, “এখন সময় এসেছে একটি দুই রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে দাঁড়ানোর।”
কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত
স্টারমারের ঘোষণার আগে কানাডা প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, যা ইতিহাসে প্রথম কোনো G7 রাষ্ট্র হিসেবে নথিভুক্ত হলো। কানাডার এই পদক্ষেপকে “মানবাধিকার ও শান্তির প্রতি অঙ্গীকার” হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
অল্প সময়ের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াও একই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, “ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অস্বীকার করা যায় না। আমাদের এই স্বীকৃতি সেই ন্যায়বিচারের প্রতিফলন।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কঠোরভাবে এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন,
“এটি হামাসের সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করার সমতুল্য এবং জিম্মি মুক্তির প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলবে।”
জিম্মিদের পরিবারের উদ্বেগ
গাজায় আটক থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তাদের প্রিয়জনদের মুক্তির প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
- মুসলিম বিশ্ব এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ফিলিস্তিনি সংগ্রামের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
- মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের জন্য এক ঐতিহাসিক বিজয়।
- যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছে এবং বলেছে, স্বীকৃতি দেওয়া আলোচনার প্রক্রিয়াকে জটিল করতে পারে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
- দুই রাষ্ট্র সমাধানকে জোরদার করা হলো।
- ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ল।
- ভবিষ্যতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হবে।
এটি প্রতীকী স্বীকৃতি হলেও এর কৌশলগত প্রভাব বিরাট।
যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার এই ঐতিহাসিক ঘোষণা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। যদিও এখনও সামনে অনেক বাধা—গাজায় চলমান যুদ্ধ, জিম্মি সমস্যা এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা—তবুও এই সিদ্ধান্ত নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
বিশ্ব সম্প্রদায় এখন অপেক্ষা করছে—এই স্বীকৃতি কতটা কার্যকরভাবে শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।











