০৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
                       

দেশের উন্নয়নে নারী শিক্ষা

মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান
  • প্রকাশ: ১১:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ১০৬২ বার পড়া হয়েছে

সম্রাট নেপোলিয়ন জাতির উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আমাকে তোমরা শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো।’


Google News
বিশ্লেষণ-এর সর্বশেষ নিবন্ধ পড়তে গুগল নিউজে যোগ দিন

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এবং স্বল্পমূল্যে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

প্রাচীনকাল থেকে আমাদের দেশে প্রচলিত আছে যে, ‘সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে’। মানবসমাজে নারী ও পুরুষ পরস্পর নির্ভরশীল হলেও আগেকার দিনে নারীকে গৃহসামগ্রীক কল্যাণার্থে বিবেচনা করা হতো। নারীকে তাদের স্বামী কিংবা পরিবারের ক্রীতদাসী হিসেবে ব্যবহার করা হতো। নারী শিক্ষার কথা কেউ ভাবত না, তখন পিতা-মাতারা তাদের কন্যাকে বিয়ে দিয়ে নাকি দায় মুক্ত হতেন? যার ফলে নানা রকম নির্যাতন তাদের সহ্য করতে হয়, কখনও প্রতিবাদী হতে পারত না। আজ আর সেদিন নেই, বর্তমান নারীরা পুরুষের পাশাপাশি কাজেই নেমেছে। 

তাই আজকাল নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। যেসব মহিলারা অশিক্ষিত তারা শুধু পরিবারেরই বোঝা নয়, জাতির জন্য বড়ো বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য নারী শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা অনেক আগে থেকেই নারী ও পুরুষের বেলায় শিক্ষার গুরুত্ব ও সমানভাবে বিচার করা হয়নি। পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ ও উদার মানসিকতা যতটুকু আছে, নারীর জন্য ততটুকু নেই বলে চলে?। ফলে একই পরিবারের পুরুষের শিক্ষার অগ্রগতির নমুনা থাকলেও নারীর সুযোগ করে দেয়া হয়নি। পরিণামে আমাদের সমাজ তারা অগ্রসর হতে পারেনি। তবে উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তায় অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে।

নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয় সম্পর্কে আজ আর কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। নারীরা দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হলেও আমাদের জাতীয় জীবনে পুরুষের মতো সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই অর্ধেক নারী জনসংখ্যাকে বাদ দিয়ে জাতির উন্নতি আশা করা যায় না। সম্রাট নেপোলিয়ন জাতির উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আমাকে তোমরা শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো।’

শিক্ষার অভাবে নারীরা আজ যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। তাই জাতির উন্নয়নের স্বার্থে নারী জাতিকে অবশ্যই শিক্ষার আলো লাভ করতে হবে। নারীর ভূমিকা প্রধানত মা হিসেবে হলেও রাষ্ট্রীয় ও সমাজ জীবনে ব্যবসা বাণিজ্যে সর্বক্ষেত্রে আজ নারীদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ নয়?। কারণ পুরুষের পাশাপাশি নারীরা বর্তমানে অফিস আদালতে কলকারখানায় কাজ করছে এবং আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে?। শুধু তাই নয়, অর্ধেক নারী যদি শিক্ষিত থাকে, তবে দেশকে এক বিরাট বোঝা বহন করতে হবে।

তাই জাতীয় জীবনে সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জন্য নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

নারীর ভূমিকা প্রধানত জননী হিসেবে বিবেচ্য। আগামী দিনের নাগরিক আজকের শিশুরা জননীর কোলে প্রতিপালিত হয়। ছেলেমেয়েদের লালন পালনের দায়িত্ব মায়েরা বহন করেন, শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রধান দায়িত্ব অর্পিত হয় মায়ের ওপর। ছেলেমেয়েদের ব্যবহার রীতিনীতি ইত্যাদি উৎস হলেন জননী।

মায়ের হাতে সন্তানের যে শিক্ষা লাভ হয়ে থাকে, তা দিয়ে আগামী দিনের জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করে। এক্ষেত্রে বা যদি উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত না হন, তাহলে সন্তানের জীবন গঠনে তিনি তার ভূমিকা ভালো-মন্দ বোঝার উপায় থাকে না বরং অশিক্ষিত মায়ের কাছ থেকে কখনও আশা করা যায় না। এদিকে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নারী সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে স্বীকার করে নিতে হবে, এ ভূমিকা যাতে বেশি পরিমাণে কার্যকর করা যায়, সেদিকে দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। নারী যোগ্যতা লাভের জন্য দরকার উপযুক্ত শিক্ষা-দীক্ষা পুরুষের মতো নারী সমাজকে এগিয়ে যেতে হবে এবং শিক্ষার আলোকে নিজেদের জীবনকে যোগ্যতার সম্পন্ন করতে হবে।

এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে নারীরা পুরুষের চেয়ে নিম্ন পর্যায়ভুক্ত নন। যেমন- রাশিয়া, আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড প্রভৃতি দেশের নারীরা বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা এমনকি সামরিক ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। সমাজসেবা ও রাজনীতির বেলায় তারা পিছিয়ে নেই, প্রাসঙ্গিকভাবেই যাদের নাম আসে, তারা হলেন সুলতানা রাজিয়া, হেলেন কিলার, মাদার কুরি, মাদার তেরেসা বেনজীর ভুট্টু প্রমুখ।

আমাদের দেশে নারী শিক্ষার অভাবে আজ যৌতুক প্রথা অভিশাপের মুখে পড়েছে। তাই দেশের উন্নতি ও জাতির যথার্থ কল্যাণের কথা বিবেচনা করে নারী শিক্ষাকে জোর দিতে হবে। তাহলে আমরা উন্নয়নের শেখরে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য সংরক্ষিত রাখুন

লেখকতথ্য

মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান

শিক্ষার্থী, উত্তর বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় 

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

দেশের উন্নয়নে নারী শিক্ষা

প্রকাশ: ১১:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২

প্রাচীনকাল থেকে আমাদের দেশে প্রচলিত আছে যে, ‘সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে’। মানবসমাজে নারী ও পুরুষ পরস্পর নির্ভরশীল হলেও আগেকার দিনে নারীকে গৃহসামগ্রীক কল্যাণার্থে বিবেচনা করা হতো। নারীকে তাদের স্বামী কিংবা পরিবারের ক্রীতদাসী হিসেবে ব্যবহার করা হতো। নারী শিক্ষার কথা কেউ ভাবত না, তখন পিতা-মাতারা তাদের কন্যাকে বিয়ে দিয়ে নাকি দায় মুক্ত হতেন? যার ফলে নানা রকম নির্যাতন তাদের সহ্য করতে হয়, কখনও প্রতিবাদী হতে পারত না। আজ আর সেদিন নেই, বর্তমান নারীরা পুরুষের পাশাপাশি কাজেই নেমেছে। 

তাই আজকাল নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। যেসব মহিলারা অশিক্ষিত তারা শুধু পরিবারেরই বোঝা নয়, জাতির জন্য বড়ো বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য নারী শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা অনেক আগে থেকেই নারী ও পুরুষের বেলায় শিক্ষার গুরুত্ব ও সমানভাবে বিচার করা হয়নি। পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ ও উদার মানসিকতা যতটুকু আছে, নারীর জন্য ততটুকু নেই বলে চলে?। ফলে একই পরিবারের পুরুষের শিক্ষার অগ্রগতির নমুনা থাকলেও নারীর সুযোগ করে দেয়া হয়নি। পরিণামে আমাদের সমাজ তারা অগ্রসর হতে পারেনি। তবে উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তায় অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে।

নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয় সম্পর্কে আজ আর কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। নারীরা দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হলেও আমাদের জাতীয় জীবনে পুরুষের মতো সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই অর্ধেক নারী জনসংখ্যাকে বাদ দিয়ে জাতির উন্নতি আশা করা যায় না। সম্রাট নেপোলিয়ন জাতির উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আমাকে তোমরা শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো।’

শিক্ষার অভাবে নারীরা আজ যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। তাই জাতির উন্নয়নের স্বার্থে নারী জাতিকে অবশ্যই শিক্ষার আলো লাভ করতে হবে। নারীর ভূমিকা প্রধানত মা হিসেবে হলেও রাষ্ট্রীয় ও সমাজ জীবনে ব্যবসা বাণিজ্যে সর্বক্ষেত্রে আজ নারীদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ নয়?। কারণ পুরুষের পাশাপাশি নারীরা বর্তমানে অফিস আদালতে কলকারখানায় কাজ করছে এবং আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে?। শুধু তাই নয়, অর্ধেক নারী যদি শিক্ষিত থাকে, তবে দেশকে এক বিরাট বোঝা বহন করতে হবে।

তাই জাতীয় জীবনে সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জন্য নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

নারীর ভূমিকা প্রধানত জননী হিসেবে বিবেচ্য। আগামী দিনের নাগরিক আজকের শিশুরা জননীর কোলে প্রতিপালিত হয়। ছেলেমেয়েদের লালন পালনের দায়িত্ব মায়েরা বহন করেন, শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রধান দায়িত্ব অর্পিত হয় মায়ের ওপর। ছেলেমেয়েদের ব্যবহার রীতিনীতি ইত্যাদি উৎস হলেন জননী।

মায়ের হাতে সন্তানের যে শিক্ষা লাভ হয়ে থাকে, তা দিয়ে আগামী দিনের জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করে। এক্ষেত্রে বা যদি উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত না হন, তাহলে সন্তানের জীবন গঠনে তিনি তার ভূমিকা ভালো-মন্দ বোঝার উপায় থাকে না বরং অশিক্ষিত মায়ের কাছ থেকে কখনও আশা করা যায় না। এদিকে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নারী সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে স্বীকার করে নিতে হবে, এ ভূমিকা যাতে বেশি পরিমাণে কার্যকর করা যায়, সেদিকে দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। নারী যোগ্যতা লাভের জন্য দরকার উপযুক্ত শিক্ষা-দীক্ষা পুরুষের মতো নারী সমাজকে এগিয়ে যেতে হবে এবং শিক্ষার আলোকে নিজেদের জীবনকে যোগ্যতার সম্পন্ন করতে হবে।

এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে নারীরা পুরুষের চেয়ে নিম্ন পর্যায়ভুক্ত নন। যেমন- রাশিয়া, আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড প্রভৃতি দেশের নারীরা বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা এমনকি সামরিক ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। সমাজসেবা ও রাজনীতির বেলায় তারা পিছিয়ে নেই, প্রাসঙ্গিকভাবেই যাদের নাম আসে, তারা হলেন সুলতানা রাজিয়া, হেলেন কিলার, মাদার কুরি, মাদার তেরেসা বেনজীর ভুট্টু প্রমুখ।

আমাদের দেশে নারী শিক্ষার অভাবে আজ যৌতুক প্রথা অভিশাপের মুখে পড়েছে। তাই দেশের উন্নতি ও জাতির যথার্থ কল্যাণের কথা বিবেচনা করে নারী শিক্ষাকে জোর দিতে হবে। তাহলে আমরা উন্নয়নের শেখরে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।