০৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
                       

বাংলাদেশে ব্যাংকিং ডিপ্লোমার আধুনিকায়ন জরুরি

কে এম মাসুম বিল্লাহ
  • প্রকাশ: ১২:২২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২
  • / ৩৫৬ বার পড়া হয়েছে

দি ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (আইবিবি) | প্রতীকী চিত্র


Google News
বিশ্লেষণ-এর সর্বশেষ নিবন্ধ পড়তে গুগল নিউজে যোগ দিন

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এবং স্বল্পমূল্যে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা হয়েছে ডিজিটালাইজড। ম্যানুয়াল ব্যাংকিং বিদায় নিয়েছে, অনলাইন ব্যাংকিং সবার জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা সহজ করে দিয়েছে। বর্তমান যুগে দেশের সব সরকারি বেসরকারি ব্যাংকে লেগেছে আধুনিকায়নের ছোঁয়া, কিন্তু ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষা থেকে গেছে সেই পুরোনো ধারায়! যার যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পরেছে। বিশেষ করে তাত্ত্বিক পরিক্ষাগুলো কতটা প্রয়োজনীয়, সে বিষয়ে নিয়ে হয়তো ভাবার সময় হয়েছে নীতিনির্ধারকদের। গত কয়েক বছরে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বেশ পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষাগুলো হচ্ছে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে। অর্থাৎ সেখানে সরাসরি বই পড়ে উত্তর করার থেকে নিজের দক্ষতা দিয়ে লেখাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অথচ ব্যাংকাররা সবাই উচ্চ শিক্ষার লেভেল পার করে চাকরিতে এলেও তাদের আবার তাত্ত্বিক বিষয়ে ১২টি সাবজেক্টের লিখিত পরীক্ষা দিতে হচ্ছে!

ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষা নিয়ে বেশ হতাশায় কাজ করে ব্যাংকারদের মধ্যে। বিশেষ করে বেশিরভাগ রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকেই ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় পাসের ওপরে অনেকাংশেই প্রমোশন নির্ভর করে। আবার ব্যাংকিং ডিপ্লোমার বেশিরভাগ সাবজেক্টই বাণিজ্য বিভাগের হওয়ায় বেশ সমস্যায় পড়তে হয় বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ থেকে স্নাতক/স্নাতকোত্তর শেষ করা ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য। এছাড়া খুব ভালো লেখার পরও বারবার ফেল করানোর মতো অভিযোগও আছে ব্যাংকারদের। বিশেষ করে বাণিজ্য বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে অনার্স/মাস্টার্স শেষ করা অনেক ব্যাংকারকেই ডিপ্লোমা পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট সাবজেক্টে পাস করতে কয়েকবার পরীক্ষা দিতে হচ্ছে! আর একারনেই হতাশ হতে হচ্ছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের। বিশেষ করে ডিপ্লোমা পরীক্ষার দুই পার্টে পাস করা না থাকলে প্রমোশন হচ্ছে না অনেক দক্ষ ব্যাংকারের! অথচ সবাই তাদের উচ্চ শিক্ষা শেষ করে মেধার স্বাক্ষর রেখে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ব্যাংকের চাকরিতে জয়েন করে!

বিগত বছরগুলোতে ডিপ্লোমা পরীক্ষা দিতে গিয়ে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের। বিশেষ করে ডিপ্লোমা পরীক্ষার হলে পরিদর্শক কর্তৃক ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়েছেন। ডিপ্লোমা পরীক্ষা দিতে গিয়ে হল পরিদর্শক কর্তৃক পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখানো হয় ব্যাংকারদের! একজন ৫ম/৬ষ্ঠ গ্রেডের ব্যাংক কর্মকর্তাকে (এসপিও/পিও) ৯ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা কর্তৃক অপমানিত হতে হয়, যা ব্যাংকারদের জন্য বেশ হতাশার! এমনকি কাউকে পরীক্ষার হলে সার্চ করার নামে যে হয়রানি করা হয়, তাকে অন্য সব কর্মকর্তাদের সামনে বেশ লজ্জার মধ্যে পড়তে হয়। ব্যাংকারদের কাজের প্রেশারের কথা সবাই অবগত। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়ে যখন সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, তখনও দেশের অর্থনীতিকে সমুন্নত রাখতে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় একেকজন ব্যাংকার। করোনার মধ্যে সেবা দিতে গিয়ে অনেক ব্যাংক কর্মকর্তাই প্রাণ হারিয়েছেন। তারপরও ব্যাংকিং সেবা দেয়া বন্ধ হয়নি। অথচ একটা ডিপ্লোমা পরীক্ষা দিতে গিয়ে যদি ব্যাংকারদের লাঞ্ছিত হতে হয়, তবে তা বেশ হতাশাজনক।

ব্যাংকিং ডিপ্লোমার যৌক্তিকতা নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলে আসছে। বিশেষ করে বেশ কিছু সাবজেক্টের পরীক্ষা দিতে হয়, যা কি-না ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কিত নয়। এছাড়া এতে দক্ষ ব্যাংকাররা পিছিয়ে পড়ছে। সারাদিন ব্যাংকিং কাজ শেষ করে পরিবারকে সময় দেয়ার মতো সময় থাকে না অনেক ব্যাংকারের। অফিস টাইমের বাইরেও কাজ করতে হয়। অনেক সময় বন্ধের দিনও কাজ করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে তাত্ত্বিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার মতো সময় যে থাকে না তা নিশ্চিত। এরপর আবার যদি হয়রানি কিংবা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে, তবে তা সত্যিই দুঃখজনক। দীর্ঘদিন থেকেই তাই একটা চাপা ক্ষোভ নিয়ে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষা দিতে হচ্ছে ব্যাংকারদের ৯৫তম ব্যাংকিং ডিপ্লোমার আবেদন শুরু হচ্ছে সামনের সপ্তাহ থেকে, যার পরীক্ষার সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে হঠাৎ করেই পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে! আইবিবির এমন সিদ্ধান্তও সবাইকে হতাশ করেছে। বিশেষ করে একই সাবজেক্ট বারবার দেয়ার পরও যখন ফেল করানো হচ্ছে, তখন একটি সাবজেক্টের জন্য বারবার সমপরিমাণ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করানোটা বাড়তি বোঝা!

ব্যাংক কর্মকর্তাদের চাকরি ক্ষেত্রে বেশ চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। অফিস টাইমের বাইরে গিয়েও কাজ করতে হয়। অর্থনিতীর যেকোনো চাপ মোকাবিলায় সবসময়ই প্রস্তুত ব্যাংকাররা। করোনাকালীন অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও ব্যাংকারদের ছিল সম্মুখ ভূমিকা। তাই ব্যাংকারদের অধিকার নিয়েও ভাবতে হবে নীতিনির্ধারকদের। ব্যাংকিং ডিপ্লোমার আধুনিকায়ন হতে পারে যুগান্তকারী পরিবর্তন। বিশেষ করে তাত্ত্বিক বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা কমিয়ে দক্ষ ব্যাংকারদের মূল্যায়নে প্রাকটিক্যাল কোর্সের আয়োজন করা যেতে পারে। ডিপ্লোমা পরীক্ষায় শুধু ব্যাংকিং রিলেটেড সাবজেক্ট অন্তর্ভুক্তিকরণ কিংবা অসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাদ দেওয়া, পরীক্ষার হলে ব্যাংকারদের হয়রানি না করা, কিংবা বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ হতে পারে সমাধান।

ব্যাংকিং ডিপ্লোমার আধুনিকায়ন হতে পারে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত— এটি বাংলাদেশের সব ব্যাংকারের বিশ্বাস।

বিষয়:

শেয়ার করুন

মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য সংরক্ষিত রাখুন

লেখকতথ্য

কে এম মাসুম বিল্লাহ

ব্যাংকার ও কলামিস্ট

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

বাংলাদেশে ব্যাংকিং ডিপ্লোমার আধুনিকায়ন জরুরি

প্রকাশ: ১২:২২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা হয়েছে ডিজিটালাইজড। ম্যানুয়াল ব্যাংকিং বিদায় নিয়েছে, অনলাইন ব্যাংকিং সবার জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা সহজ করে দিয়েছে। বর্তমান যুগে দেশের সব সরকারি বেসরকারি ব্যাংকে লেগেছে আধুনিকায়নের ছোঁয়া, কিন্তু ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষা থেকে গেছে সেই পুরোনো ধারায়! যার যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পরেছে। বিশেষ করে তাত্ত্বিক পরিক্ষাগুলো কতটা প্রয়োজনীয়, সে বিষয়ে নিয়ে হয়তো ভাবার সময় হয়েছে নীতিনির্ধারকদের। গত কয়েক বছরে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বেশ পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষাগুলো হচ্ছে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে। অর্থাৎ সেখানে সরাসরি বই পড়ে উত্তর করার থেকে নিজের দক্ষতা দিয়ে লেখাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অথচ ব্যাংকাররা সবাই উচ্চ শিক্ষার লেভেল পার করে চাকরিতে এলেও তাদের আবার তাত্ত্বিক বিষয়ে ১২টি সাবজেক্টের লিখিত পরীক্ষা দিতে হচ্ছে!

ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষা নিয়ে বেশ হতাশায় কাজ করে ব্যাংকারদের মধ্যে। বিশেষ করে বেশিরভাগ রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকেই ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় পাসের ওপরে অনেকাংশেই প্রমোশন নির্ভর করে। আবার ব্যাংকিং ডিপ্লোমার বেশিরভাগ সাবজেক্টই বাণিজ্য বিভাগের হওয়ায় বেশ সমস্যায় পড়তে হয় বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ থেকে স্নাতক/স্নাতকোত্তর শেষ করা ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য। এছাড়া খুব ভালো লেখার পরও বারবার ফেল করানোর মতো অভিযোগও আছে ব্যাংকারদের। বিশেষ করে বাণিজ্য বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে অনার্স/মাস্টার্স শেষ করা অনেক ব্যাংকারকেই ডিপ্লোমা পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট সাবজেক্টে পাস করতে কয়েকবার পরীক্ষা দিতে হচ্ছে! আর একারনেই হতাশ হতে হচ্ছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের। বিশেষ করে ডিপ্লোমা পরীক্ষার দুই পার্টে পাস করা না থাকলে প্রমোশন হচ্ছে না অনেক দক্ষ ব্যাংকারের! অথচ সবাই তাদের উচ্চ শিক্ষা শেষ করে মেধার স্বাক্ষর রেখে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ব্যাংকের চাকরিতে জয়েন করে!

বিগত বছরগুলোতে ডিপ্লোমা পরীক্ষা দিতে গিয়ে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের। বিশেষ করে ডিপ্লোমা পরীক্ষার হলে পরিদর্শক কর্তৃক ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়েছেন। ডিপ্লোমা পরীক্ষা দিতে গিয়ে হল পরিদর্শক কর্তৃক পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখানো হয় ব্যাংকারদের! একজন ৫ম/৬ষ্ঠ গ্রেডের ব্যাংক কর্মকর্তাকে (এসপিও/পিও) ৯ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা কর্তৃক অপমানিত হতে হয়, যা ব্যাংকারদের জন্য বেশ হতাশার! এমনকি কাউকে পরীক্ষার হলে সার্চ করার নামে যে হয়রানি করা হয়, তাকে অন্য সব কর্মকর্তাদের সামনে বেশ লজ্জার মধ্যে পড়তে হয়। ব্যাংকারদের কাজের প্রেশারের কথা সবাই অবগত। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়ে যখন সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, তখনও দেশের অর্থনীতিকে সমুন্নত রাখতে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় একেকজন ব্যাংকার। করোনার মধ্যে সেবা দিতে গিয়ে অনেক ব্যাংক কর্মকর্তাই প্রাণ হারিয়েছেন। তারপরও ব্যাংকিং সেবা দেয়া বন্ধ হয়নি। অথচ একটা ডিপ্লোমা পরীক্ষা দিতে গিয়ে যদি ব্যাংকারদের লাঞ্ছিত হতে হয়, তবে তা বেশ হতাশাজনক।

ব্যাংকিং ডিপ্লোমার যৌক্তিকতা নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলে আসছে। বিশেষ করে বেশ কিছু সাবজেক্টের পরীক্ষা দিতে হয়, যা কি-না ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কিত নয়। এছাড়া এতে দক্ষ ব্যাংকাররা পিছিয়ে পড়ছে। সারাদিন ব্যাংকিং কাজ শেষ করে পরিবারকে সময় দেয়ার মতো সময় থাকে না অনেক ব্যাংকারের। অফিস টাইমের বাইরেও কাজ করতে হয়। অনেক সময় বন্ধের দিনও কাজ করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে তাত্ত্বিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার মতো সময় যে থাকে না তা নিশ্চিত। এরপর আবার যদি হয়রানি কিংবা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে, তবে তা সত্যিই দুঃখজনক। দীর্ঘদিন থেকেই তাই একটা চাপা ক্ষোভ নিয়ে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষা দিতে হচ্ছে ব্যাংকারদের ৯৫তম ব্যাংকিং ডিপ্লোমার আবেদন শুরু হচ্ছে সামনের সপ্তাহ থেকে, যার পরীক্ষার সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে হঠাৎ করেই পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে! আইবিবির এমন সিদ্ধান্তও সবাইকে হতাশ করেছে। বিশেষ করে একই সাবজেক্ট বারবার দেয়ার পরও যখন ফেল করানো হচ্ছে, তখন একটি সাবজেক্টের জন্য বারবার সমপরিমাণ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করানোটা বাড়তি বোঝা!

ব্যাংক কর্মকর্তাদের চাকরি ক্ষেত্রে বেশ চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। অফিস টাইমের বাইরে গিয়েও কাজ করতে হয়। অর্থনিতীর যেকোনো চাপ মোকাবিলায় সবসময়ই প্রস্তুত ব্যাংকাররা। করোনাকালীন অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও ব্যাংকারদের ছিল সম্মুখ ভূমিকা। তাই ব্যাংকারদের অধিকার নিয়েও ভাবতে হবে নীতিনির্ধারকদের। ব্যাংকিং ডিপ্লোমার আধুনিকায়ন হতে পারে যুগান্তকারী পরিবর্তন। বিশেষ করে তাত্ত্বিক বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা কমিয়ে দক্ষ ব্যাংকারদের মূল্যায়নে প্রাকটিক্যাল কোর্সের আয়োজন করা যেতে পারে। ডিপ্লোমা পরীক্ষায় শুধু ব্যাংকিং রিলেটেড সাবজেক্ট অন্তর্ভুক্তিকরণ কিংবা অসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাদ দেওয়া, পরীক্ষার হলে ব্যাংকারদের হয়রানি না করা, কিংবা বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ হতে পারে সমাধান।

ব্যাংকিং ডিপ্লোমার আধুনিকায়ন হতে পারে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত— এটি বাংলাদেশের সব ব্যাংকারের বিশ্বাস।