০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
                       

শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রীত্বের  দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়া

দেলোয়ার জাহিদ
  • প্রকাশ: ১১:৩৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৮৮ বার পড়া হয়েছে


Google News
বিশ্লেষণ-এর সর্বশেষ নিবন্ধ পড়তে গুগল নিউজে যোগ দিন

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এবং স্বল্পমূল্যে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছেন দেশে তার প্রধানমন্ত্রীর পদকে ছাপিয়ে জাতিসংঘে তার নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বের  জ্যেষ্ঠ, সাহসী ও একজন উচ্চকণ্ঠ  শান্তির দূত হিসেবে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক স্থানে নিয়ে আসার  জন্য শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা হচ্ছে মর্যাদাপূর্ণ মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট (Washington Post)-সহ নানাহ গণমাধ্যমে।  শেখ হাসিনার শিক্ষা সম্প্রসারণ,  দারিদ্র্য বিমোচন ও  নারীর ক্ষমতায়নের  প্রচেষ্টা ও সফলতার উল্লেখযোগ্য গুণ-কীর্তন হয়েছে।

সামসময়িক বিশ্বে দীর্ঘতম সময়ের জন্য অধিক জনবহুল দেশের একজন নারী সরকার প্রধান, শেখ হাসিনা, যিনি এখনো একজন জনপ্রিয় নেত্রী। তারপর ও গ্রেনেড হামলাসহ অন্তত ২০ বার তাকে হত্যা প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোলাটে হচ্ছে, অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে,ও সহিংসতা বেড়েই  চলেছে। স্ববিরোধী,  দিকনির্দেশনাহীন ও অভিবাবকশূন্য মনে হয়েছে ক্ষমতাসীন দলকে।  বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশ যেন অকল্পনীয় হয়ে পড়েছে। সেখানেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কারণ। সত্যিকারের কৌশলগত নেতা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বিশ্বে পরিবর্তন আনার জন্য জ্ঞানীয়, মানসিক এবং আচরণগত ক্ষমতার সম্পূর্ণ পরিসরকে ব্যবহার করে এসেছেন।  কৌশলগতভাবে শেখ হাসিনার পদক্ষেপ এবং প্রত্যাশিত বিশ্ব প্রতিক্রিয়ার  মূল্যায়ন করে আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রীত্ব এর দায়িত্ব থেকে সরে এসেও জনগণকে নিয়ে তিনি দেশকে পরিচালনা করতে পারেন।  শেখ হাসিনা গভীরভাবে বিভক্ত বাঙ্গালী জাতিকে বঙ্গবন্ধুর মতো সারিবদ্ধ করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশ্ব ও একজন সাহসী নেতা-নেত্রীর অপেক্ষায়।

শেখ হাসিনাবিহীন বাংলাদেশ (যুগান্তর ২১ মে ২০২২) একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম যা কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও নিউজ পোর্টালে ছাপা হলে পাঠক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তার হাত ধরে আজকের বাংলাদেশের পুনর্জন্ম। সমকাল, ১৭ মে ২২ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে লিখেছে— ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে জনগণ, থাকবে’— আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসক, সফল কূটনীতিক ও সৎ এবং জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা। সামনের দিনগুলোতে সব প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের মানুষ তাঁর সঙ্গে আছে, থাকবে। যুগান্তর, ১৭ মে ২২ লিখেছে শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেন সড়কবিশিষ্ট টানেল নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেল প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্প, পায়রাবন্দর, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দরসহ মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

ইত্তেফাক, ১৭ মে ২২ “তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আজ থেকে ৪১ বছর আগে ১৯৮১ সালের ১৭ মে ব্যক্তি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনই ছিল না, ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্রের অগ্নিবীণা ও উন্নয়ন-প্রগতির প্রত্যাবর্তন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বল্পোন্নত থেকে মধ্যম আয়ের দেশে, খাদ্যে ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তের দেশে উন্নীত করে চিরদিন দেশের মানুষের পাশে থাকা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত, তাদের দোসর আর কিছু বুদ্ধিজীবীর এই উন্নয়ন-অগ্রগতি ভালো লাগে না। এ কারণেই সমগ্র পৃথিবী যখন প্রশংসা করে, তখনো তারা প্রশংসা করতে পারে না বরং তাদের কথায় মনে হয়, দেশ দশ হাত দেবে গেছে, যা বাস্তবের বিপরীত।

দেশের মানুষের জন্য নিজের প্রাণকে নির্দ্বিধায় তুচ্ছ করতে পেরেছেন শেখ হাসিনা। তিনি  ধৈর্য ও সাহসের প্রতিমূর্তি, আস্থা ও ভরসার কেন্দ্রবিন্দু সাধারণ মানুষের। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া যেন কিছুই হয় না। দেশের  অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত ও সংকট উত্তরণে অনন্য স্বতন্ত্র নেতৃত্বের গৌরবজনক আসনে তিনি সমাসীন। রাজনীতির এক বহুমাত্রিক জ্যোতিষ্ক এখন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা | ছবি: Reuters
শেখ হাসিনা | ছবি: Reuters

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি সম্পর্কে একটি অপ্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে আলোচনা করতে  মহাত্মা গান্ধীর আদর্শিক রাষ্ট্রের প্রসঙ্গ টানবো  যেখানে কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার থাকবে না, কোনো সংবিধান থাকবে না, সেনাবাহিনী বা পুলিশ বাহিনী থাকবে না; কোন শিল্পায়ন, কোন মেশিন থাকবে না এবং অবশ্যই কোন আধুনিক শহর হবে না. গান্ধীবাদী মূল্যবোধ এর মূলে ছিল সত্য, অহিংসা, ত্যাগ, নম্রতা, সমতা প্রভৃতি মূল্যবোধ।  অশান্ত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারতকে  একটি দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে ছিল.গান্ধীর  এ মতাদর্শ।

গান্ধীবাদ কোনো আদর্শবাদের উপর জোর দেয়নি, বরং ব্যবহারিক আদর্শবাদের উপর জোর দিয়েছিল।  একটি দ্বি-ধারী অস্ত্র ছিল গান্ধীবাদী দর্শন। এর উদ্দেশ্য ছিল সত্য ও অহিংসার নীতিকে অনুসারন করে ব্যক্তি ও সমাজকে যুগপৎ পরিবর্তন করা।

মহাত্মা গান্ধী প্রথম ১৯৩০ সালে তার অহিংস শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মতাদর্শকে প্রয়োগ করেন। লবণ করের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ  চারশত কিলোমিটার পথ হাঁটেন, যা ছিল ইংরেজ শাসকদের প্রতি সরাসরি ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনের সূত্রপাত। গান্ধী ছিলেন উপমহাদেশের রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কারণে বেশ কয়েকবার দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতে কারাবরণ করেন মহাত্মা গান্ধী। অহিংস মতবাদ ও সত্যের ব্যাপারে সব পরিস্থিতিতেই গান্ধী ছিলেন অটল। সাধারণ জীবনযাপন করা এ রাজনীতিবিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আশ্রম। ২০০৭ সালের ১৫ জুন রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ২ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসেবে ঘোষণা করে.সারাবিশ্বে সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে, জাতিতে-জাতিতে যে বিদ্বেষ, হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে, তা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস বাণী আজো প্রেরণা যোগায়।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, অসীম সাহসিকতা দিয়ে জাতীয়, আঞ্চলিক, আন্ত- আঞ্চলিক পর্যায় এমনকি উন্নতনশীল বিশ্বের সীমানা অতিক্রম করে নিজেকে একজন ব্যতিক্রমধর্মী এবং প্রকৃত তারকা বিশ্বনেতায় পরিণত করেছেন। এখানেই শেষ নয়। শেখ হাসিনা একুশ শতকের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বনেতা। নেতৃত্বের স্থায়িত্ব এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও মানবতার কল্যাণের ক্ষেত্রে মৌলিক অবদান বিবেচনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাই বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা। উন্নত এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে তার সমপর্যায়ের কোন নেতা বর্তমানে দৃশ্যপটে নেই। তার মতো বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যরিয়ার সম্পন্ন নেতা পৃথিবীতে বিরল। (ড. সেলিম মাহমুদ, সারাবাংলা সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২)

নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, অসীম সাহসিকতা ও আর্ত মানবতার কল্যাণের ক্ষেত্রে মৌলিক অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। শোষক ও শোষিতের বিশ্বে তিনি একজন ব্যতিক্রমধর্মী এবং প্রকৃত তারকা নেতায় পরিণত করেছেন নিজেকে। শোষিতের  পক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যরিয়ার সম্পন্ন নেতা হিসেবে শেখ হাসিনাকে আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রীত্ব এর দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেয়া উচিত। তিনি হতে পারেন দলমত নির্বিশেষে জাতির অভিবাবক।  বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাই আগামী বিশ্বের  সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য একজন নেতা হয়ে উঠেছেন।  চলমান আর্থ সামাজিক, ভূরাজনৈতিক, জলবায়ু, প্রযুক্তির ট্রান্সফরমেশন বা পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল বিশ্বের আদর্শ প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে দরকষাকষি সহ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্বমানব কল্যাণের নানা মৌলিক ক্ষেত্রে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য ধ্রুবতারার মতো ভূমিকা রেখে চলেছেন। শেখ হাসিনা অদূর ভবিষ্যতে কৌশলগতভাবে তার রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলোকে বিবেচনা করবেন বলে প্রত্যাশা বোদ্ধামহলের।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য সংরক্ষিত রাখুন

লেখকতথ্য

দেলোয়ার জাহিদ

সিনিয়র রিসার্চ ফ্যাকাল্টি মেম্বার, প্রাবন্ধিক ও রেড ডিয়ার (আলবার্টা, কানাডা) নিবাসী

বিশেষ শর্তসাপেক্ষে এই ওয়েবসাইটটি সামাজিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করা হবে।

শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রীত্বের  দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়া

প্রকাশ: ১১:৩৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছেন দেশে তার প্রধানমন্ত্রীর পদকে ছাপিয়ে জাতিসংঘে তার নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বের  জ্যেষ্ঠ, সাহসী ও একজন উচ্চকণ্ঠ  শান্তির দূত হিসেবে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক স্থানে নিয়ে আসার  জন্য শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা হচ্ছে মর্যাদাপূর্ণ মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট (Washington Post)-সহ নানাহ গণমাধ্যমে।  শেখ হাসিনার শিক্ষা সম্প্রসারণ,  দারিদ্র্য বিমোচন ও  নারীর ক্ষমতায়নের  প্রচেষ্টা ও সফলতার উল্লেখযোগ্য গুণ-কীর্তন হয়েছে।

সামসময়িক বিশ্বে দীর্ঘতম সময়ের জন্য অধিক জনবহুল দেশের একজন নারী সরকার প্রধান, শেখ হাসিনা, যিনি এখনো একজন জনপ্রিয় নেত্রী। তারপর ও গ্রেনেড হামলাসহ অন্তত ২০ বার তাকে হত্যা প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোলাটে হচ্ছে, অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে,ও সহিংসতা বেড়েই  চলেছে। স্ববিরোধী,  দিকনির্দেশনাহীন ও অভিবাবকশূন্য মনে হয়েছে ক্ষমতাসীন দলকে।  বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশ যেন অকল্পনীয় হয়ে পড়েছে। সেখানেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কারণ। সত্যিকারের কৌশলগত নেতা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বিশ্বে পরিবর্তন আনার জন্য জ্ঞানীয়, মানসিক এবং আচরণগত ক্ষমতার সম্পূর্ণ পরিসরকে ব্যবহার করে এসেছেন।  কৌশলগতভাবে শেখ হাসিনার পদক্ষেপ এবং প্রত্যাশিত বিশ্ব প্রতিক্রিয়ার  মূল্যায়ন করে আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রীত্ব এর দায়িত্ব থেকে সরে এসেও জনগণকে নিয়ে তিনি দেশকে পরিচালনা করতে পারেন।  শেখ হাসিনা গভীরভাবে বিভক্ত বাঙ্গালী জাতিকে বঙ্গবন্ধুর মতো সারিবদ্ধ করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশ্ব ও একজন সাহসী নেতা-নেত্রীর অপেক্ষায়।

শেখ হাসিনাবিহীন বাংলাদেশ (যুগান্তর ২১ মে ২০২২) একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম যা কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও নিউজ পোর্টালে ছাপা হলে পাঠক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তার হাত ধরে আজকের বাংলাদেশের পুনর্জন্ম। সমকাল, ১৭ মে ২২ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে লিখেছে— ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে জনগণ, থাকবে’— আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসক, সফল কূটনীতিক ও সৎ এবং জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা। সামনের দিনগুলোতে সব প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের মানুষ তাঁর সঙ্গে আছে, থাকবে। যুগান্তর, ১৭ মে ২২ লিখেছে শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেন সড়কবিশিষ্ট টানেল নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেল প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্প, পায়রাবন্দর, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দরসহ মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

ইত্তেফাক, ১৭ মে ২২ “তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আজ থেকে ৪১ বছর আগে ১৯৮১ সালের ১৭ মে ব্যক্তি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনই ছিল না, ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্রের অগ্নিবীণা ও উন্নয়ন-প্রগতির প্রত্যাবর্তন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বল্পোন্নত থেকে মধ্যম আয়ের দেশে, খাদ্যে ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তের দেশে উন্নীত করে চিরদিন দেশের মানুষের পাশে থাকা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত, তাদের দোসর আর কিছু বুদ্ধিজীবীর এই উন্নয়ন-অগ্রগতি ভালো লাগে না। এ কারণেই সমগ্র পৃথিবী যখন প্রশংসা করে, তখনো তারা প্রশংসা করতে পারে না বরং তাদের কথায় মনে হয়, দেশ দশ হাত দেবে গেছে, যা বাস্তবের বিপরীত।

দেশের মানুষের জন্য নিজের প্রাণকে নির্দ্বিধায় তুচ্ছ করতে পেরেছেন শেখ হাসিনা। তিনি  ধৈর্য ও সাহসের প্রতিমূর্তি, আস্থা ও ভরসার কেন্দ্রবিন্দু সাধারণ মানুষের। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া যেন কিছুই হয় না। দেশের  অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত ও সংকট উত্তরণে অনন্য স্বতন্ত্র নেতৃত্বের গৌরবজনক আসনে তিনি সমাসীন। রাজনীতির এক বহুমাত্রিক জ্যোতিষ্ক এখন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা | ছবি: Reuters
শেখ হাসিনা | ছবি: Reuters

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি সম্পর্কে একটি অপ্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে আলোচনা করতে  মহাত্মা গান্ধীর আদর্শিক রাষ্ট্রের প্রসঙ্গ টানবো  যেখানে কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার থাকবে না, কোনো সংবিধান থাকবে না, সেনাবাহিনী বা পুলিশ বাহিনী থাকবে না; কোন শিল্পায়ন, কোন মেশিন থাকবে না এবং অবশ্যই কোন আধুনিক শহর হবে না. গান্ধীবাদী মূল্যবোধ এর মূলে ছিল সত্য, অহিংসা, ত্যাগ, নম্রতা, সমতা প্রভৃতি মূল্যবোধ।  অশান্ত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারতকে  একটি দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে ছিল.গান্ধীর  এ মতাদর্শ।

গান্ধীবাদ কোনো আদর্শবাদের উপর জোর দেয়নি, বরং ব্যবহারিক আদর্শবাদের উপর জোর দিয়েছিল।  একটি দ্বি-ধারী অস্ত্র ছিল গান্ধীবাদী দর্শন। এর উদ্দেশ্য ছিল সত্য ও অহিংসার নীতিকে অনুসারন করে ব্যক্তি ও সমাজকে যুগপৎ পরিবর্তন করা।

মহাত্মা গান্ধী প্রথম ১৯৩০ সালে তার অহিংস শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মতাদর্শকে প্রয়োগ করেন। লবণ করের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ  চারশত কিলোমিটার পথ হাঁটেন, যা ছিল ইংরেজ শাসকদের প্রতি সরাসরি ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনের সূত্রপাত। গান্ধী ছিলেন উপমহাদেশের রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কারণে বেশ কয়েকবার দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতে কারাবরণ করেন মহাত্মা গান্ধী। অহিংস মতবাদ ও সত্যের ব্যাপারে সব পরিস্থিতিতেই গান্ধী ছিলেন অটল। সাধারণ জীবনযাপন করা এ রাজনীতিবিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আশ্রম। ২০০৭ সালের ১৫ জুন রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ২ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসেবে ঘোষণা করে.সারাবিশ্বে সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে, জাতিতে-জাতিতে যে বিদ্বেষ, হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে, তা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস বাণী আজো প্রেরণা যোগায়।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, অসীম সাহসিকতা দিয়ে জাতীয়, আঞ্চলিক, আন্ত- আঞ্চলিক পর্যায় এমনকি উন্নতনশীল বিশ্বের সীমানা অতিক্রম করে নিজেকে একজন ব্যতিক্রমধর্মী এবং প্রকৃত তারকা বিশ্বনেতায় পরিণত করেছেন। এখানেই শেষ নয়। শেখ হাসিনা একুশ শতকের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বনেতা। নেতৃত্বের স্থায়িত্ব এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও মানবতার কল্যাণের ক্ষেত্রে মৌলিক অবদান বিবেচনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাই বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা। উন্নত এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে তার সমপর্যায়ের কোন নেতা বর্তমানে দৃশ্যপটে নেই। তার মতো বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যরিয়ার সম্পন্ন নেতা পৃথিবীতে বিরল। (ড. সেলিম মাহমুদ, সারাবাংলা সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২)

নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, অসীম সাহসিকতা ও আর্ত মানবতার কল্যাণের ক্ষেত্রে মৌলিক অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। শোষক ও শোষিতের বিশ্বে তিনি একজন ব্যতিক্রমধর্মী এবং প্রকৃত তারকা নেতায় পরিণত করেছেন নিজেকে। শোষিতের  পক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যরিয়ার সম্পন্ন নেতা হিসেবে শেখ হাসিনাকে আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রীত্ব এর দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেয়া উচিত। তিনি হতে পারেন দলমত নির্বিশেষে জাতির অভিবাবক।  বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাই আগামী বিশ্বের  সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য একজন নেতা হয়ে উঠেছেন।  চলমান আর্থ সামাজিক, ভূরাজনৈতিক, জলবায়ু, প্রযুক্তির ট্রান্সফরমেশন বা পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল বিশ্বের আদর্শ প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে দরকষাকষি সহ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্বমানব কল্যাণের নানা মৌলিক ক্ষেত্রে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য ধ্রুবতারার মতো ভূমিকা রেখে চলেছেন। শেখ হাসিনা অদূর ভবিষ্যতে কৌশলগতভাবে তার রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলোকে বিবেচনা করবেন বলে প্রত্যাশা বোদ্ধামহলের।