বুধবার, অক্টোবর ৫, ২০২২

পানি দিবস ২০২২: পানি দূষণ রোধ এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা

ভূ-উপরিস্থ পানির দূষণ দৃশ্যমান হলেও, ভূ-গর্ভস্থ পানির দূষণ এবং পানির স্থর হ্রাস হওয়া ইত্যাদি চোখের আড়ালে হওয়ায় আমরা কিছুই সে সম্পর্কে জানি না।

পৃথিবীব্যাপী পানির প্রয়োজনীয়তা, নিরাপদ পানির সংস্থান ও সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ১৯৯৩ সাল থেকে সারাবিশ্বে একযোগে ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরেরই পানি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে একটি করে প্রতিপাদ্য নির্বাচন করা হয়। ২০২২ সালের বিশ্ব পানি দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে— “Groundwater: Making the Invisible Visible” অর্থাৎ ” ভূ-গর্ভস্থ পানি: অদৃশ্যকে দৃশ্যমান করা”। 

আমরা উন্নয়নশীল দেশের মানুষেরা পানিকে কখনোই গুরুত্বসহকারে নিই না। তাই আমাদের কাছে পানি বিষয়টি সবসময়ই গুরুত্বহীন। অথচ সুপেয় পানির অভাব দিনদিন বাড়ছেই। সেইসাথে কমছে বিশুদ্ধ পানির উৎস। বিশেষকরে ভূ-গর্ভস্থ পানির মজুুদ দিনদিন কমে যাচ্ছে। যা আমাদের দেশসহ সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এই নিবন্ধে পানি দূষণ এবং এর প্রতিকার, ভূ-গর্ভস্থ পানির বর্তমান পরিস্থিতি এবং এর রক্ষণাবেক্ষণে  করণীয় সম্পর্কে আলোচনার চেষ্টা করা করা হলো।

বিশুদ্ধ পানির হাহাকার

মানব জীবনে পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদান হলেও আমাদের দেশে সুপেয় পানি প্রাপ্তি একটি কষ্টসাধ্য ব্যাপার। আমাদের দেশে সুপেয় পানির সংস্থান হয় ভূ-উপরিস্থ এবং ভূ-গর্ভস্থ এই দুই উৎস থেকে। অথচ কল্পনাতীত পানি দূষণের ফলে বিশুদ্ধ পানির জন্য ভূ -উপরিস্থ পানির ব্যবহার আজ নেই বললেই চলে।

তাই বিশুদ্ধ পানির প্রাকৃতিক আধার ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর সীমাহীন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যা ধীরে ধীরে নিঃশেষিত হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থান থেকে আমাদের দেশের বিশুদ্ধ পানির ভবিষ্যৎ সংস্থান চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তাই এই বছরের পানি দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়, “ভূ-গর্ভস্থ পানি: অদৃশ্যকে দৃশ্যমান করা”- একটি যুগোপযোগী নির্দেশনা।

এবারের বিষয়টির মূল উদ্দেশ্য হলো, সমগ্র পৃথিবী আজ বিশুদ্ধ পানির জন্য ভূ-গর্ভস্থ পানির উৎসকে যথেচ্ছ ব্যবহার করছে। অথচ এই উৎস লোক চক্ষুর অন্তরালে থাকার কারণে  সাধারণ মানুষ এই উৎস সম্পর্কে কিছুই জানে না। যেহেতু এটা সসীম প্রাকৃতিক সম্পদ, সেহেতু এই সম্পদের অপচয়, অবহেলা এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এই সম্পদকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই আমাদের সকলের উচিত পানি সম্পর্কে সচেতন হওয়া, পরিমিত ব্যবহার এবং ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা রাখা। তা না হলে বিশুদ্ধ পানির সমস্যা থেকে খুব সহজে আমাদের উত্তোরণের কোনো পথ নেই। 

পানি দূষণই মূল সমস্যা

ভূ-উপরিস্থ পানির দূষণ দৃশ্যমান হলেও, ভূ-গর্ভস্থ পানির দূষণ এবং পানির স্থর হ্রাস হওয়া ইত্যাদি চোখের আড়ালে হওয়ায় আমরা কিছুই সে সম্পর্কে জানি না। অথচ ভূগর্ভস্থ পানির দূষণ ও পানির স্থর কমে যাওয়ার জন্য ভূ-উপরিস্থ পানি দূষণই দায়ী। কেননা বিভিন্ন কারণে ভূ-উপরিস্থ পানি দূষণ এবং সহজ প্রাপ্যতা না হওয়ার ফলে বিশুদ্ধ এবং সহজ প্রাপ্য ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর চাপ বেড়ে গেছে। এই ভূ-উপরিস্থ পানি দূষণের প্রধান ক্ষেত্র হচ্ছে সাগর,  নদনদী, খাল-বিল পুকুর ইত্যাদি। 

পানি দূষণের প্রধান কারণ শিল্প কারখানার দূষিত রসায়নিক পদার্থ, কৃষিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সার কীটনাশক।  বিভিন্ন নৌযানের ভাঙ্গা অংশ, তেল, মবিল, তেল জাতীয় সামগ্রী যা সরাসরি ফেলা হয় নদীতে। সেইসাথে ছোটবড় কলকারখানার তৈলাক্ত বর্জ্য, ছাপাখানা, টেক্সটাইলের বিষাক্ত রাসায়নিক রঙ, গার্মেন্টস কারখানার ব্যবহৃত পানি, ট্যানারির মারাত্মক পানিদূষণকারী রাসায়নিক বর্জ্য ইত্যাদি প্রতিনিয়ত নদীর পানিতে মিশে পানি দূষিত করছে। এছাড়াও  বড় বড় শহরের যাবতীয় বর্জ্যে সরাসরি গিয়ে পড়ে নদীতে। যা ভূ-উপরিস্থ পানিকে ব্যাপকভাবে দূষিত করছে। এই ভূ-উপরিস্থ দূষিত পানি বিভিন্ন উপায়ে ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ভূ-গর্ভস্থ পানিকেও নষ্ট করে তুলছে।

দূষণ রোধ করা খুবই জরুরি

বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ব্যাপক পানি দূষণের কারণে ভূ-উপরিস্থ পানির অবস্থা শোচনীয়। যারফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর ব্যাপক চাপ পড়ছে। তাই এখনই আমাদের  উচিত ভূ-গর্ভস্থ পানি রক্ষা করার জন্য ব্যাপক পানি দূষণ বন্ধ করা। আর পানি দূষণের প্রধান ক্ষেত্র হচ্ছে নদনদী খালবিল, সমুদ্র ইত্যাদি। তাই ভূ-উপরিস্থ এইসব পানিকে পানিদূষণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নদনদীতে  সব ধরনের কঠিন, গৃহস্থালি ও সেনিটারি বর্জ্যের মিশ্রণ রোধ করা অত্যাবশ্যক। 

নদী তীরে শিল্প-কারখানা নির্মাণ বন্ধ, সেইসাথে দেশের বড় বড় শিল্প জোনের  শিল্প-কারখানার রাসায়নিক ও ট্যানারি বর্জ্য পরিশোধন বাধ্যতামূলক করা এবং এর নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। তাই প্রতিটি শিল্পকারখানার সাথে শোধনাগার বা অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক।

নদী  ও সমুদ্রের পাড়ে জাহাজভাঙা শিল্প, লঞ্চ, স্টিমার নির্মাণসহ মেরামত কালে নদী ও সমুদ্রের পানিতে কারখানার তৈলাক্ত বর্জ্যের মিশ্রণ প্রতিহত করতে হবে। কৃষি জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মিশ্রিত পানি যাতে খাল-বিল-নদীতে মিশতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে  হবে। পরিবেশ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতসহ পানি দূষণকারীদের আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নদনদী দূষণ রোধে দেশের আপামর জনগণকে সম্পৃক্ত করে তাদের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

ভূ-গর্ভস্থ পানির বর্তমান অবস্থা

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে কৃষি, গৃহস্থালি এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পানির অধিকাংশের যোগান আসে ভূ-গর্ভস্থ উৎস থেকে। সমীক্ষায় দেখা যায় যে বিশ্বব্যাপী সমস্ত পানীয় জলের প্রায় অর্ধেক, সেচের জন্য প্রায় ৪০ শতাংশ এবং শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পানির এক তৃতীয়াংশ ভূ-গর্ভস্থ পানি থেকে  সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

সারা বিশ্ব সেচের জন্য ৪০ শতাংশ পানি ভূ-গর্ভস্থ থেকে ব্যবহার করলেও বাংলাদেশে ব্যবহৃত হয় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। শুধু তাইনয় বাংলাদেশে বড় বড় নগরী গুলোতে বিশুদ্ধ পানির জন্য  ব্যাপকভাবে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীল। সমীক্ষা মতে ঢাকা শহরে ৭০ শতাংশ পানির যোগান দেওয়া হয় ভূ-গর্ভস্থ থেকে। একইভাবে গ্রামবাংলার ৯৭ শতাংশ পানি আসে ভূ-গর্ভস্থ থেকে।সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা হচ্ছে শিল্পকারখানায়, বিশেষকরে গার্মেন্টস শিল্পের ওয়াসিং সেক্টর  পুরোপুরি ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীল। 

দিনদিন ব্যাপক হারে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে, বাংলাদেশে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর কল্পনাতীতভাবে নেমে যাচ্ছে। আজ থেকে দশ বছর আগেও যেখানে ৫০/৬০ ফুট নিচে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যেতো, সেখানে এখন ১২০/১৬০ ফুটে নিচেও বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু তাইনয় প্রতিবছর পানির স্তর ৪/৫ ফুট নেমে যাচ্ছে। যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও বন্যায় অতীতে ভূ-গর্ভস্থ পানি রিচার্জ হলেও, বর্তমানে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে পরিমিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি রিচার্জ পর্যাপ্ত পরিমাণে হচ্ছে না। ফলে ধীরে ধীরে পানির স্তর কমে যাচ্ছে। শুধু পানি স্তর কমে যাচ্ছে তাইনয়, নানান কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানি দূষিতও হচ্ছে। যারফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির নিরাপদ ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে উঠছে।

ভূ-গর্ভস্থ পানির দূষণের ক্ষতিকর দিক

আবহমানকাল থেকে ভূ-গর্ভস্থ পানি নিরাপদ থাকলেও বর্তমানে ভূ-গর্ভস্থ পানি আর নিরাপদ নেই। বিভিন্ন কারণে বর্তমানে  ভূ-গর্ভস্থ পানিতেও  এখন মিলছে নানান ধরনের ক্ষতিকারক উপদান। যা নির্বিশেষে গ্রহণের ফলে শরীরে সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার ও নন ক্যান্সারজনিত রোগ। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে,  পরিবেশ দূষণের ফলে বিশেষকরে শিল্পকারখানার বর্জ্য যা সরাসরি ভূ -উপরিস্থ পানিতে মিশে বিভিন্ন উপায়ে  ভূ-গর্ভস্থ পানিতে প্রবেশ করে। যা মারাত্মকভাবে ভূ-গর্ভস্থ পানিকে দূষিত করে।  আর অপরিশোধিত সেই পানি  পান করে বেড়ে যাচ্ছে  স্বাস্থ্যঝুঁকি।

ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ঝুঁকি

মানব জীবনের প্রয়োজনে গৃহস্থালি, সেচ এবং শিল্প কলকারখানায় ভূ-গর্ভস্থ পানির  ব্যাপক উত্তোলন হচ্ছে। এরফলে  কল্পনাতীতভাবে পরিবেশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।  বিশেষকরে মাটির নিচের স্তর থেকে অতিরিক্ত পানি তুলে নেওয়ার ফলে মাটির নিচে ফাঁকা জায়গায় আর্সেনিক বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ধাতব যৌগ তৈরি করে পানিকে দূষিত করে। আর্সেনিক ছাড়াও লোহার উচ্চমাত্রা ও ম্যাঙ্গানিজের অত্যধিক আধিক্য পানির গুণকে নষ্ট করছে। দূষণের ফলে পানিতে মিশে থাকা  কেমিক্যাল, ভারী ধাতু, মরিচা, সিসা, ক্যাডমিয়ামসহ বিভিন্ন দূষিত পদার্থ শুধু সিদ্ধ করার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব নয়। তা সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করছে। 

তাছাড়া অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে পানিতে প্রাকৃতিক ফ্লোরাইডের উপস্থিতি বেড়ে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানিতে উচ্চ মাত্রার ফ্লোরাইড একটি গুরুতর সমস্যা।এছাড়াও প্রত্যক্ষভাবে যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তাহলো, পানির স্তর ক্রমাগত নেমে যাওয়ার ফলে পানি তোলার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং পানির প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত পানি তোলার কারণে সেখানে ব্যাপক খালি জায়গার সৃষ্টি হয়। ফলে সে খানে বিভিন্ন কারণে  ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে।

উত্তরণের উপায়

এভাবে ব্যাপকহারে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলিত হলে খুব শীঘ্রই পৃথিবী একটি হুমকির মুখে পড়ে যাবে। তাই এখনই উচিত আমাদের এর থেকে পরিত্রাণের উপায় খোঁজা।

ভূ-গর্ভস্থ পানির চাপ কমাতে হলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার সর্বোচ্চ হারে বাড়াতে হবে। বিশেষকরে পানি দূষণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রোধ করার জন্য ব্যাপক নীতিমালা গ্রহণ করার পাশাপাশি নদীনালা, খালবিল ইত্যাদি ব্যাপকভাবে খনন করতে হবে। যাতে ভূ-উপরিস্থ পানির মজুদ বাড়ে।

নদনদীতে  পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতিবছর সকল নদনদীর ড্রেজিং করতে হবে। সেইসাথে ব্যয়সাপেক্ষ হলেও  নদীর পানিকে পরিশোধন করে সুপেয় পানিতে রূপান্তরিত করার পরিমাণ বাড়াতে হবে। যতদ্রুত সম্ভব প্রতিটি ওয়াসাকে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমাতে হবে। 

কোনো প্রকার প্রাকৃতিক অপ্রাকৃতিক  জলাশয় যেমন— হ্রদ, পুকুর, দীঘি, ডোবা ইত্যাদি ভরাট করা যাবে না। প্রয়োজনে আইন করে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে এইসব রক্ষা করতে হবে।

গৃহস্থালি ও শিল্প কারখানায়  বেশি বেশি ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।  এবং ব্যবহৃত পানিকে পরিশোধন করে পূনঃব্যবহার করতে হবে।

সারাদেশে ব্যাপক প্রচারণা করে বৃষ্টির পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার বাড়াতে হবে। সেইসাথে সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে  বৃষ্টির পানি সর্বোচ্চ ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টি করে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু তাইনয় সরকারি উদ্যোগে বৃষ্টির পানি সরাসরি ভূঅভ্যান্তরে প্রবেশ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে ভু-গর্ভস্থ পানির স্তরের উন্নতি হয়।

ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র যেখানে সেখানে গভীর নলকূপ বসানো বন্ধ করে এরজন্য  একটি নীতিমালা করে ডাটা তৈরি করতে হবে। সকল ওয়াসার লাইনে ডিজিটাল মিটার বসাতে হবে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত নলকূপেও মিটারিংয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে কেউ অতিরিক্ত পানি অপচয় করতে না পারে।

পানির অপচয় রোধ করতে পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে হবে। এইজন্য সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। শুধু তাইনয় নতুন নতুন আবাসিক ভবনে পানি সাশ্রয়ী সরঞ্জাম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

আসুন সচেতন হই

ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যাপক দূষণ এবং মিঠা পানির সহজ প্রাপ্যতা না হওয়ার কারণে সারাবিশ্বসহ আমাদের দেশেও দিনদিন ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়ে গেছে।  অথচ সারাবিশ্বে ব্যাপকহারে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির মজুদ আজ হুমকির মুখে। তাই এই বছরের পানি দিবসের লক্ষ্য হলো ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পর্কে সারা বিশ্বের মানুষকে আরও বেশি সচেতন করা। যাতে বিশুদ্ধ পানির এই উৎস সম্পর্কে মানুষ আরও বেশি সজাগ হয়।

বিশেষকরে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমা‌নো, দূষণ রোধ এবং এর বিকল্প উৎসের সংস্থান করা। যাতেকরে পৃথিবী আরো বেশিদিন এই উৎস থেকে পানি আহরণ করতে পারে। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পানি দূষণের কারণে পৃথিবীতে আজ বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ চরম হুমকিতে। এই অবস্থায় প্রাকৃতিক ভূ-গর্ভস্থ পানিও যদি নিঃশেষ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ব জীববৈচিত্র্য ব্যাপক হুমকির মখে পড়বে। তাই ২০২২ সালের পানির প্রতিপাদ্য , ” ভূ-গর্ভস্থ পানি: অদৃশ্যকে দৃশ্যমান করা” একটি যুগোপযোগি  বিষয়। আমাদের সকলের উচিত এই বিষয়ে যথাযথ সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বিশ্লেষণ-এর সকল লেটেস্ট নিবন্ধ পেতে Google News-এ অনুসরণ করুন

সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী
সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী জন্ম চট্টগ্রামে। জীবিকার প্রয়োজনে একসময় প্রবাসী ছিলেন। প্রবাসের সেই কঠিন সময়ে লেখেলেখির হাতেখড়ি। গল্প, কবিতা, সাহিত্যের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলা পত্রিকায়ও নিয়মিত কলাম লিখেছেন। প্রবাসের সেই চাকচিক্যের মায়া ত্যাগ করে মানুষের ভালোবাসার টানে দেশে এখন স্থায়ী বসবাস। বর্তমানে বেসরকারি চাকুরিজীবী। তাঁর ভালোলাগে বই পড়তে এবং পরিবারকে সময় দিতে।

নিবন্ধটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান আমাদেরকে। নিচের মন্তব্যের ঘরে সংক্ষেপে লিখুন আপনার মন্তব্য। মন্তব্যের ভাষা যদি প্রকাশযোগ্য হয় তবে তা এখানে প্রকাশিত হবে। আর যদি আপনার কোনো অপ্রকাশিত নিবন্ধ বিশ্লেষণ-এ প্রকাশ করতে চান তাহলে নিম্নোক্ত ইমেইলে তা পাঠিয়ে দিন নিজের নাম, পরিচয় ও ছবিসহ।

ইমেইল: [email protected]

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের অন্যান্য নিবন্ধ

সমাজমাধ্যম

সাম্প্রতিক মন্তব্য

সবচেয়ে জনপ্রিয়
সবচেয়ে জনপ্রিয়

গবেষণা: গবেষণার সংজ্ঞা, ধারণা ও প্রকারভেদ

গবেষণা হলো কোনো কিছু সম্পর্কে জানার জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এবং একটি গবেষণা শুধু একটি প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দুই বা ততোধিক প্রকারের হতে পারে

শিক্ষা কী? শিক্ষার সংজ্ঞা, ধারণা এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

শিক্ষা নিয়ে যারা কথা বলেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই নিজের মতো করে ভেবে নিয়েছেন শিক্ষাকে, নিজের মতো করে সংজ্ঞা দিয়েছেন। শিক্ষাবীদ কিংবা মনিষী, যার সংজ্ঞাই দেখা হোক না কেন, খুব একটা সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। তাই বলে যাদের হাত ধরে শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা আজ পর্যন্ত এসেছে তাঁদের মতো শিক্ষাবিদ বা মনিষীদের বলে যাওয়া বা লিখে যাওয়া কথাগুলোকে এড়িয়ে চলাও সম্ভব নয়।

মূল্যবোধ কাকে বলে এবং মূল্যবোধের উৎস ও প্রকারভেদ কী?

মূল্যবোধ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Value এটি গঠিত হয়েছে...

পরিবার কাকে বলে? পরিবারের সংজ্ঞা, ধারণা, প্রকারভেদ, কার্যাবলি ও গুরুত্ব কী?

আমরা জন্ম থেকেই পরিবারের সাথে পরিচিত। আমরা নিশ্চয়ই অবগত...

শিক্ষা: অভীক্ষার সংজ্ঞা এবং বৈশিষ্ট্য

শিক্ষাক্ষেত্রে অভীক্ষা খুবই পরিচিত একটি পদ। যারা শিক্ষাবিজ্ঞান পড়েছেন...

নেতা ও নেতৃত্ব কাকে বলে? একজন আদর্শ নেতার গুণাবলি কী?

নেতৃত্বের মূল কাজ হলো আওতাভুক্ত ব্যক্তিবর্গকে প্রভাবিত করা, যাতে তারা নেতার নির্দেশ মেনে নেয় ও সে মোতাবেক কাজ করে। 

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা, পরিধি এবং গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা

মানব সভ্যতার শুরু থেকেই ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন মানব সংগঠনের সাথে...

ইতিহাস কাকে বলে? ইতিহাসের বিষয়বস্তু, উপাদান এবং ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা কী?

ইতিহাস পাঠ করার আগে আমাদের প্রত্যেকেরই জানা প্রয়োজন ইতিহাস কী, ইতিহাসের প্রকৃতি কীরূপ; আবার পাঠ্য বিষয় হিসেবে ইতিহাসের ভূমিকা কী। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট কালের এবং নির্দিষ্ট দেশের ইতিহাস জানার সাথে সমসাময়িক প্রাকৃতিক অবস্থা এবং পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। এই নিবন্ধে ইতিহাসের সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু, উপাদান এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার নীতি বা মূলনীতি কয়টি ও কী কী?

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনা একটি বাংলা শব্দ যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো...

শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল

পাঠকে ফলপ্রসূ করার জন্য শিক্ষক পরিস্থিতি অনুসারে একাধিক পদ্ধতি ও কৌশলের সংমিশ্রণে নিজের মতো করে পাঠ পরিচালনা করতে পারেন। পাঠের সাফল্য নির্ভর করে শিক্ষকের বিচক্ষণতা এবং বিষয়জ্ঞান ও শিখন পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগের উপর।

সুশাসন কী? সুশাসনের ধারণা, সংজ্ঞা ও উপাদান কী?

সুশাসন হলো এক ধরনের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতার...