রবিবার, মে ২২, ২০২২

ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা

জাতীয় শিক্ষার উন্নয়ন এবং ভারতের স্বাধীনতা লাভের প্রায় ৪৭ বছর পর ১৯৮৬ সালে ভারত সরকার 'জাতীয় শিক্ষানীতি ৮৬' নামে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে লেখা এই নিবন্ধটি পড়লে ভারতের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে না। তবে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাবেন যা থেকে বিভিন্ন পরীক্ষায় ন্যূনতম নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে উপকৃত হতে পারেন। ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে চাইলে নিবন্ধটি এড়িয়ে যেতে অনুরোধ করা হলো।

ভারতের জাতীয় শিক্ষা সংস্কারের পটভূমি

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা সংস্কারের মুধালিয়র শিক্ষা কমিশন (১৫৫৩) মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা সংস্কারের জন্য গঠিত হয়। ভারতের উচ্চ শিক্ষার সামগ্রিক মান উন্নয়নের জন্য রাধা কৃষ্ণনান শিক্ষা কমিশন এবং সকল স্তরের শিক্ষার সংস্কারের জন্য প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ডি. এস. কোঠারীর নেতৃত্বে ১৯৬৪ – ১৯৬৬ সালে শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।

জাতীয় শিক্ষার উন্নয়ন এবং ভারতের স্বাধীনতা লাভের প্রায় ৪৭ বছর পর ১৯৮৬ সালে ভারত সরকার ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ৮৬’ নামে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। ভারতের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে গত দুই/তিন দশক যাবৎ কেন্দ্রীয় সরকার পূর্বের তুলনায় অধিক পরিমাণ সময় ও আর্থিক ব্যয় করে যাচ্ছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে ভারতের ইউনিয়ন সরকারের দায়িত্ব

ভারতের ইউনিয়নের মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ করে বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে যে সব প্রধান বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে সেগুলো হলো: 

  1. বিভিন্ন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটি/বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সারা দেশের বিভিন্ন প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। 
  2. কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত এলাকার শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার দায়িত্ব ইউনিয়ন সরকারের। 
  3. কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংসদের অনুমোদন ও নির্দেশ অনুসারে ভারতের অপরাপর জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করা। 
  4. ভারতের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, আর্থিক অনুদান এবং তদারকীকরণ- এসব কাজ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাধ্যমে পরিচালনা করা। 
  5. দেশে ও বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থাকরণ। 
  6. উপদেষ্টা পরিষদসমূহের পরামর্শ মোতাবেক জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে Action Plan প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উপায় উদ্ভাবন এবং তা ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্বুদ্ধ করা।
  7. জাতীয় শিক্ষা সংস্কার ও উন্নয়নের পরামর্শ প্রদানের জন্য বিভিন্ন কমিটি/বোর্ড/উপদেষ্টা পর্ষদ ইত্যাদি নিয়োগ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা।
  8. প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি, নানা প্রকার গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এসব ইউনিয়ন সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। 
  9. ইউনিয়ন সরকার কর্তৃক প্রণীত শিক্ষা সম্বন্ধীয় ঘোষণা, আদেশ, আইন ইত্যাদি বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারকে সহায়তা করা। 

শিক্ষাক্ষেত্রে ভারতের রাজ্য সরকারের ভূমিকা

সংবিধান অনুসারে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্ব রাজ্য সরকার পালন করে থাকে। সমগ্র রাজ্যের শিক্ষা প্রশাসন, নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনার দায়িত্ব রাজ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপর ন্যস্ত। রাজ্য আইন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হতে মুখ্যমন্ত্রী তার সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ করে। কোন কোন রাজ্যে একজন ডেপুটি মন্ত্রী রাজ্য শিক্ষামন্ত্রীর কাজে সহায়তা করেন। শিক্ষামন্ত্রী তাঁর কাজের জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী থাকেন। 

রাজ্য সরকার ইউনিয়ন সরকার কর্তৃক প্রণীত রীতিনীতি, আইন, আদেশ, ঘোষণা ইত্যাদি যথাযথ বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে এর প্রধান কাজগুলো হলো: 

  • উচ্চ শিক্ষা পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা করা।
  • প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করা।
  • মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করা। 

এসব দায়িত্ব পালন ছাড়াও রাজ্য শিক্ষামন্ত্রী আরও কিছু দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যেমন— রাজ্য সরকারের প্রণীত শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন কাজ তদারক করা ও সমগ্র রাজ্যের শিক্ষার সমন্বয় সাধন করা, রাজ্যের সকল শিক্ষার উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যের নেতৃত্ব প্রদান, রাজ্যের শিক্ষা আইন ও নীতি বাস্তবায়ন কতদূর কার্যকরী হয়েছে তা মূল্যায়ন করা, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ সাহায্য প্রদান, পাঠ্যপুস্তক অনুমোদন ও স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করা ইত্যাদি।

শিক্ষায় স্থানীয় সরকারের ভূমিকা

শিক্ষা ব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট সহযোগিতা দান করেন। মিউনিসিপালিটি ও জেলা বোর্ডগুলো প্রথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পরিচালনার ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে থাকে।

(বি. দ্র.: শিক্ষানীতি ২০২০-এর আলোকে ভারতী শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নতুন নিবন্ধন আহ্বান করা যাচ্ছে। ভারত থেকে লেখা পাঠালে তা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হবে। লেখা পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন।)

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের অন্যান্য নিবন্ধ

সমাজমাধ্যম

সবচেয়ে জনপ্রিয়
সবচেয়ে জনপ্রিয়

শিক্ষা কী? শিক্ষার সংজ্ঞা, ধারণা এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

শিক্ষা নিয়ে যারা কথা বলেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই নিজের মতো করে ভেবে নিয়েছেন শিক্ষাকে, নিজের মতো করে সংজ্ঞা দিয়েছেন। শিক্ষাবীদ কিংবা মনিষী, যার সংজ্ঞাই দেখা হোক না কেন, খুব একটা সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। তাই বলে যাদের হাত ধরে শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা আজ পর্যন্ত এসেছে তাঁদের মতো শিক্ষাবিদ বা মনিষীদের বলে যাওয়া বা লিখে যাওয়া কথাগুলোকে এড়িয়ে চলাও সম্ভব নয়।

গবেষণা: গবেষণার সংজ্ঞা, ধারণা ও প্রকারভেদ

গবেষণা হলো কোনো কিছু সম্পর্কে জানার জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এবং একটি গবেষণা শুধু একটি প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দুই বা ততোধিক প্রকারের হতে পারে

মূল্যবোধ কাকে বলে এবং মূল্যবোধের উৎস ও প্রকারভেদ কী?

মূল্যবোধ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Value এটি গঠিত হয়েছে...

নেতা ও নেতৃত্ব কাকে বলে? একজন আদর্শ নেতার গুণাবলি কী?

নেতৃত্বের মূল কাজ হলো আওতাভুক্ত ব্যক্তিবর্গকে প্রভাবিত করা, যাতে তারা নেতার নির্দেশ মেনে নেয় ও সে মোতাবেক কাজ করে। 

শিক্ষা: অভীক্ষার সংজ্ঞা এবং বৈশিষ্ট্য

শিক্ষাক্ষেত্রে অভীক্ষা খুবই পরিচিত একটি পদ। যারা শিক্ষাবিজ্ঞান পড়েছেন...

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা, পরিধি এবং গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা

মানব সভ্যতার শুরু থেকেই ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন মানব সংগঠনের সাথে...

ইতিহাস কাকে বলে? ইতিহাসের বিষয়বস্তু, উপাদান এবং ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা কী?

ইতিহাস পাঠ করার আগে আমাদের প্রত্যেকেরই জানা প্রয়োজন ইতিহাস কী, ইতিহাসের প্রকৃতি কীরূপ; আবার পাঠ্য বিষয় হিসেবে ইতিহাসের ভূমিকা কী। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট কালের এবং নির্দিষ্ট দেশের ইতিহাস জানার সাথে সমসাময়িক প্রাকৃতিক অবস্থা এবং পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। এই নিবন্ধে ইতিহাসের সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু, উপাদান এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার নীতি বা মূলনীতি কয়টি ও কী কী?

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনা একটি বাংলা শব্দ যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো...

পরিবার কাকে বলে? পরিবারের সংজ্ঞা, ধারণা, প্রকারভেদ, কার্যাবলি ও গুরুত্ব কী?

আমরা জন্ম থেকেই পরিবারের সাথে পরিচিত। আমরা নিশ্চয়ই অবগত...

শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল

পাঠকে ফলপ্রসূ করার জন্য শিক্ষক পরিস্থিতি অনুসারে একাধিক পদ্ধতি ও কৌশলের সংমিশ্রণে নিজের মতো করে পাঠ পরিচালনা করতে পারেন। পাঠের সাফল্য নির্ভর করে শিক্ষকের বিচক্ষণতা এবং বিষয়জ্ঞান ও শিখন পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগের উপর।

পাঠ পরিকল্পনা: পাঠ পরিকল্পনার সংজ্ঞা এবং হার্বার্টের পঞ্চসোপান ও আধুনিক ত্রিসোপান

শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, কীভাবে তা শেখানো হবে এবং কীভাবে শিখন মূল্যায়ন করা হবে সে সম্পর্কে শিক্ষকের দৈনন্দিন নির্দেশনা হলো পাঠ পরিকল্পনা