বুধবার, ডিসেম্বর ১, ২০২১

সংগঠন কত প্রকার? বিভিন্ন ধরনের সংগঠনের বৈশিষ্ট্য, সুবিধা, অসুবিধা কী?

দুই বা ততোধিক ব্যক্তির সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার একটি প্রণালীকে সংগঠন বলা যায়।

‘Organising’ শব্দটি ‘Organism’ থেকে এসেছে; এর অন্তর্নিহিত অর্থ হচ্ছে কতগুলো পৃথক অংশকে এমনভাবে সমন্বিত করা যার কারণে প্রত্যেকটি অংশের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সামগ্রিকভাবে কোনো কিছুর সৃষ্টি হয়। সাধারণভাবে, দুই বা ততোধিক ব্যক্তির সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার একটি প্রণালীকে সংগঠন বলা যায়।

সংগঠনের প্রকারভেদ 

সংগঠনকে প্রধানত তিনভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা- 

  • ১. আনুষ্ঠানিক সংগঠন (Formal Organisation)
  • ২. অনানুষ্ঠানিক সংগঠন (Informal Organisation)
  • ৩. কমিটি (Committee) 
ব্যবস্থাপনা সংগঠন
ব্যবস্থাপনা সংগঠন

১. আনুষ্ঠানিক সংগঠন (Formal Organisation)

প্রতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মনীতির গন্ডীর মধ্যে আবদ্ধ থেকে প্রতিষ্ঠানের নিম্নস্তর থেকে শীর্ষস্তর পর্যন্ত কর্তৃত্বের বা আদেশের যে শিকল প্রস্তুত (chain of command) করা হয় তাকেই আনুষ্ঠানিক সংগঠন বলা হয়। এখানে কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, কে কার নিকট দায়ী থাকবে এবং জবাবদিহি করবে তার রুপরেখা, কে কার সাথে কিভাবে যোগাযোগ করবে তার নিয়মকানুন, কর্মীদের দায়িত্ব ও ক্ষমতার স্তরবিন্যাসে সব কিছুই এ সংগঠনে উপস্থিত থাকে। এখানে একজন কর্মী ইচ্ছা করলেই তার উপরস্থ নির্বাহীকে বাদ দিয়ে আরো উপরের স্তরের নির্বাহীর সাথে আলাপ করতে বা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এই সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত সবাইকে নির্ধারিত দায়িত্ব সবাইকে অবশ্যই পালন করতে হয়। দায়িত্বের অবহেলার জন্য শাস্তির বিধান থাকে। নানারকম আনুষ্ঠানিক সংগঠন যেমন সরলরৈখিক, কার্যভিত্তিক, সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠন ইত্যাদি একটি প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়।

আনুষ্ঠানিক সংগঠনের প্রকারভেদ

আনুষ্ঠানিক সংগঠনকে নিম্নোক্ত কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। 

  • i. সরলরৈখিক সংগঠন (Line Organisation)
  • ii. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠন (Line and Staff Organisation)
  • iii. কার্যভিত্তিক সংগঠন (Functional Organisation)
  • iv. কমিটি (Committee)

i. সরলরৈখিক সংগঠন (Line Organisation) : 

শুধু সরলরৈখিক কর্মকর্তা অথবা কর্তৃত্ব সহকারে যে সংগঠন কাঠামো গঠিত হয় অর্থাৎ যে সংগঠন কাঠামোতে সরলরৈখিক নির্বাহীর সাথে কোনো সহযোগী বা উপদেষ্টা কর্মী থাকে না তাকে সরলরৈখিক সংগঠন বলে। এই সংগঠন কাঠামো সবচাইতে সহজ ও পুরাতন সংগঠন কাঠামো। 

প্রকৃত অর্থে, যে সংগঠন পদ্ধতিতে ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব রেখা কোনো প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ স্তর হতে সরল রেখার মত উপর থেকে বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে নেমে আসে তাকে সরল রৈখিক সংগঠন বলা হয়। সামরিক সংগঠনে উর্ধ্বতনের আদেশ অধীনস্থরা বিনা দ্বিধায় মানতে যেভাবে বাধ্য থাকে, সরলরৈখিক সংগঠনে আদেশদান এবং তা পালনে অনুরূপ নীতিমালা অনুসরণ করা হয় বলে একে সামরিক সংগঠন ও বলা হয়। 

এই ধরনের সংগঠনে প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সুন্দরভাবে বর্ণিত থাকে এবং আদেশ ও নির্দেশদানের জন্যও সুনির্দিষ্ট পথরেখা থাকে। এই নির্দিষ্ট পথরেখা অনুসারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যাবতীয় আদেশ ও নির্দেশ অধীনস্থ কর্মচারীদের দিকে প্রবাহিত হয়। রৈখিক কর্মকর্তাদের সাহায্যের জন্য কোনো উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা থাকে না। 

সরলরৈখিক সংগঠনের সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলীকে প্রয়োজনীয় কয়েকটি বিভাগে বিভক্ত করা হয়। প্রতিটি বিভাগের অধীনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপবিভাগ তৈরী করা হয়। এসব বিভাগ এবং উপ-বিভাগে একজন করে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকেন। এই কর্মকর্তাকে তার নিয়ন্ত্রণাধীন যাবতীয় কাজের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জবাবদিহি করতে হয়। তিনি তার অর্ধস্তনদের কাজের দিকে লক্ষ্য রাখেন। 

শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা তার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে কর্তৃত্ব অর্পন করেন   আর এভাবেই সংগঠনের শীর্ষস্তর থেকে নিম্নস্তর পর্যন্ত দায়িত্ব ও কর্তত্বের লম্ব রেখার সৃষ্টি হয়।

প্রাচীনতম সংগঠন পদ্ধতি হিসেবে সরলরৈখিক সংগঠন এমন কিছু বৈশিষ্টের অধিকারী যার জন্য নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আজ পর্যন্তও এটি একটি গ্রহণযোগ্য সংগঠন কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়।

সরলরৈখিক সংগঠন
সরলরৈখিক সংগঠন

সরলরৈখিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্য

নিম্নে সরলরৈখিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা  হলো: 

  • ১. সরলরৈখিক সংগঠন সবচেয়ে সরল এবং সহজবোধ্য সংগঠন কাঠামো। 
  • ২. সরলরৈখিক  সংগঠন কাঠামোতে ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব শীর্ষ ব্যবস্থাপনা স্তর থেকে পর্যায়ক্রমে নিম্ন স্তরের ব্যবস্থাপনার দিকে সরলরেখার মত নেমে আসে। ফলে সংগঠনে একটি উর্ধ্বতন-অধস্তন সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। 
  • ৩. সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামোতে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যাবলীকে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করা হয় এবং এর প্রতিটি বিভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং পৃথক ভাবে তাদের যাবতীয় কার্য পরিচালনা করে। 
  • ৪. সরলরৈখিক প্রকার সংগঠন কাঠামোতে অধঃস্তন নির্বাহী শুধু তার অব্যবহিত উর্ধ্বতনের আদেশ মানতে বাধ্য থাকে এবং অর্পিত কাজের জন্য শুধু উপরের উর্ধ্বতনের নিকট জবাবদিহি করে। 
  • ৫. সরলরৈখিক প্রকার সংগঠনে প্রত্যেক বিভাগের জন্য একজন বিভাগীয় দায়িত্বশীল নিয়োগ করা হয় এবং সব বিভাগ একজন সাধারণ ব্যবস্থাপকের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। 
  • ৬. সরলরৈখিক প্রকার সংগঠনের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো সংগঠনে এক বিভাগ অন্য বিভাগের সাথে সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা না করে বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে। 
  • ৭. সরলরৈখিক ধরনের সংগঠনে উর্ধ্বতন নির্বাহী তার নিচের অধীনস্থের উপর অধিক মাত্রায় কর্তৃত্ব আরোপ করে। 
  • ৮. সরলরৈখিক সংগঠনের ক্ষেত্রে একজন নির্বাহীর দক্ষতা তার অধীনে ন্যস্ত বিভাগ বা সংগঠনকে অধিক মাত্রায় প্রভাবিত করে। 
  • ৯. সরলরৈখিক প্রকার সংগঠনে প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট লক্ষ্য সঠিক ভাবে অর্জন করার জন্য একজন নির্বাহীকে অধিক মাত্রায় দয়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হয়। এজন্য দায়িত্ব এবং কর্তৃত্বার্পনে সমতা বিধান সরলরৈখিক এবং সংগঠনের একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। 
  • ১০. অন্যান্য সংগঠনের চেয়ে সরলরৈখিক ধরনের সংগঠনে অধিক শৃক্মখলা প্রতিষ্ঠা করা যায়। 

উপরের বিশেষ বিশেষ কতগুলো বৈশিষ্ট্যের কারণে ক্ষুদ্রায়তন ও জটিলতামুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামো অধিকতর উপযোগী হয়। 

সরলরৈখিক সংগঠনের সুবিধা

সরলরৈখিক সংগঠনের যেসব সুবিধা রয়েছে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো: 

  • ১. সরলরৈখিক সংগঠনে কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের সুনির্দিষ্ট গতিরেখা নির্ধারিত থাকে বলে প্রত্যেকটি কর্মীই তার উপর অর্পিত কর্তব্য ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারে।
  • ২. সরলরৈখিক সংগঠনে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাদের অধীনস্ত কর্মীদেরকে কাজের মাধ্যমে বা সহকারী হিসেবে প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। এতে কর্মীদের দক্ষতা ও মেধা বিকশিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
  • ৩. সরলরৈখিক সংগঠনে প্রত্যেক কর্মীর দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সুনির্দিষ্ট ও সুন্দরভাবে সংজ্ঞায়িত থাকায় কার্যক্ষেত্রে বিশৃক্মখলা দূরীভূত হয় এবং কর্তৃত্বের অপব্যবহার রোধ করা যায।
  • ৪. সরলরৈখিক সংগঠনে কোনো বিশেষজ্ঞ বা উপদেষ্টার পরামর্শ গ্রহণের প্রয়োজন হয় না বলে উর্ধ্বতন কর্ম কর্মকর্তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। 
  • ৫. সরলরৈখিক সংগঠনের আর একটি সুবিধা হলো, প্রত্যেকটি কর্মীই পরবতীৃ পদ ও কার্য বন্টন সম্পর্কে পূর্ব থেকেই জ্ঞাত বা ওয়াকিবহাল থাকে এবং পদোন্নতির জন্য সকলেই সচেষ্ট থাকে। 
  • ৬. সরলরৈখিক সংগঠনে দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট রূপরেখা, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ ইত্যাদি কর্মীদেরকে নিজ নিজ কাজ সটিকভাবে সম্পাদনের জন্য বিশেষভাবে প্রেষিত করে। 
  • ৭. সামরিক নিয়মতান্ত্রিকতা অনুসারে সরলরৈখিক ধরনের সংগঠন পরিচালিত হয় বলে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, উপরিভাগ ও শাখা ও প্রশাখার কার্যাবলীর মধ্যে সহজেই সমন্বয় সাধন করা সম্ভবপর হয়। 
  • ৮. প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষমতা ও দায়িত্বের সুষ্ঠু বন্টন এবং আদেশ ও নির্দেশের সুষ্ঠু গতিরেখা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খুব সহজেই অধস্তনদের কার্য নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। 
  • ৯. সরলরৈখিক সংগঠনের আর একটি সুবিধা হলো যে, এটা একটি স্থায়ী প্রকৃতি সংগঠন। আর এজন্য এর ভিত খুবই শক্তিশালী হয়। 
  • ১০. অধীনস্তদের উপর অর্পিত কাজের ফলাফল ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও যোগাযোগের মাধ্যমে সহজেই নির্ণয় করা যায়। 

সরলরৈখিক সংগঠনের অসুবিধা 

একটি সরলরৈখিক সংগঠনে যে সব অসুবিধা দেকা দেয় নিম্নে সেগুলো আলোচনা করা  হলো 

  • ১. সরলরৈখিক সংগঠনে নির্বাহীরা কোনো বিশেষজ্ঞের সাহায্য ছাড়াই নিজেরা যাবতীয় কার্য সম্পাদন করেন বলে প্রতিটি কাজেই বিশেষায়নের অভাব পরিলক্ষিত হয়। 
  • ২. সরলরৈখিক সংগঠনে দক্ষ সর্বগুণে গুণান্বিত ও সার্বিক অর্থে দক্ষ কর্মীর অপ্রতুলতার কারণে সংগঠনের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ড, প্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনকে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত করে। 
  • ৩. প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় প্রধানদের হাতে নিজ নিজ বিভাগের সার্বিক ক্ষমতা থাকায় সরলরৈখিক সংগঠন খুবই সহজেই স্বৈরাচারী সংগঠনে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের অভাবে রৈখিক কর্মকর্তারা প্রায়ই যুক্তিকে পাশ কাটিয়ে নিজের মতকে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যস্ত থাকেন। এতে কাজের অগ্রগতি ব্যহত হয়। 
  • ৪. সরলরৈখিক সংগঠনে কর্মীর স্বল্পতার কারণে এক এক জন কর্মীর ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনেক বেশি হয়। ফলে কাজের ভেতর বিশৃক্মখলা পরিলক্ষিতহয়। 
  • ৫. সরলরৈখিক সংগঠনে অধস্তন কর্মীরা জানে যে তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খেয়ালখুশির ওপরই তাদের উন্নতি অবনতি নির্ভর করে। এতে স্বভাবতঃই অধস্তনেরা তোষামোদের আশ্রয় গ্রহন করতে প্রবৃত্ত হয় এবং উর্ধ্বতনেরাও স্বজন-প্রীতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। 
  • ৬. রৈখিক কর্মকর্তাগণ কদাচিৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধস্তনদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। 
  • ৭. সরলরৈখিক সংগঠনে উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য বহু সংখ্যক নির্বাহী নিয়োগ করতে হয়। এছাড়াও আন্তঃবিভাগীয় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কাজেও অনেক সময় লাগে। ফলে খরচ বৃদ্ধি পায়।

ii. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠন (Line and Staff Organisation)

বর্তমান বৃহদায়তন ব্যবসায় জগতে সাংগঠনিক শৃক্মখলা ও বিশেষজ্ঞতা অর্জন এবং সহযোগিতা লাভের উদ্দেশ্যে সরলরৈখিক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ বা পদস্থ কর্মীদের নিয়ে যে নতুন ধনের সংগঠন কাঠামো গড়ে উঠেছে তাকেই সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠন বলে। 

আরও সহজভাবে বলতে গেলে এটা এমন এক ধরনের সংগঠন যাতে সরলরৈখিক কর্মকর্তাকে যথোপযুক্ত পরামর্শ ও উপদেশ দানের জন্য উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়। এরূপ সংগঠনে উপদেষ্টাগণ শুধু উপদেশ বা পরামর্শ দিয়ে থাকেন সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা আদেশ নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা তাদের থাকে না। এক্ষেত্রে সরলরৈখিক কর্মকর্তারাই সমস্ত ব্যবস্থাপকীয় ক্ষমতার অধিকারী এবং উপদেষ্টাদের পরামর্শ বা উপদেশ কার্যকরী করা বা না করা তাদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। সংগঠনের জটিল টেকনিক্যাল বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য রৈখিক কর্মকর্তাগণ উপদেষ্টাদের পরামর্শের উপর নির্ভর করেন। রৈখিক কর্মকর্তাগণ নিয়মানুবর্তিতা ও শৃক্মখলা বিধান করেন এবং উপদেষ্টাগণ কি করা উচিত সে ব্যাপারে পরামর্শ 

প্রদান করেন। এই ধরনের সংগঠনে রৈখিক কর্মকর্তাগণ পণ্য উৎপাদন সুনিশ্চিত করেন, অপর দিকে বিশেষজ্ঞ কর্মীগণ গবেষণা, পরিকল্পনা, গণসংযোগ, শিল্প সম্পর্ক, কারিগরি প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এখানে বিশেজ্ঞগণ রৈখিক।

কর্মকর্তাদের উপর কোনোরূপ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারেন না। অবশ্য সংগঠনে বিশেষজ্ঞ কর্মীদের গুরুত্ব থাকায় রৈখিক কর্মকর্তাগণ তাদের উপদেশ ও পরামর্শ মেনে চলেন। 

সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠন
সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠন

সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনের বৈশিষ্ট্য

সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনের নিম্ন লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করা যায়-

  • ১. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনে দুধরনের কর্মী থাকে, একদল সরলরৈখিক কর্মী বা নির্বাহী এবং অন্যদল উপদেষ্টা কর্মী। 
  • ২. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনের কর্তৃত্ব রেখা ব্যবস্থাপনার শীর্ষস্তর হতে ক্রমশ নিম্নস্তরে নেমে আসে, তবে সরলরৈখিক নির্বাহীর পাশে উপদেষ্টা কর্মীগণ প্রয়োজনীয় অবস্থান ও পদ গ্রহণ করেন। 
  • ৩. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনে দুই ধরনের কর্মী থাকলেও সরলরৈখিক কর্মকর্তাগণই ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। 
  • ৪. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনে উপদেষ্টা কর্মীদের কাজ হলো সরলরৈখিক কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও উপদেশ প্রদান এবং কার্যক্ষেত্রে সহযোগীতা করা। 
  • ৫. উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞ কর্মীদের দেওয়া উপদেশ ও পরামর্শ সংগঠনের রৈখিক নির্বাহীগণ মানতে বাধ্য থাকে না তবে উপদেষ্টাদের বিশেষ গুরুত্ব থাকায় তা মেনে চলা হয়। 
  • ৬. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনে একজন অধীনস্থ নির্বাহী তার কাজের জন্য কেবলমাত্র তার অব্যবহিত উপরের নির্বাহীর নিকট দায়ী হয় এবং তারই নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকে। 
  • ৭. তুলনামূলকভাবে বৃহদায়তন ও জটিল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠন কাঠামো ব্যবহৃত হয়।

সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনের সুবিধা

সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনের সুবিধাসমূহ নিম্নে সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনের সুবিধাগুলো উল্লেখ করা হলো: 

  • ১. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনে কর্মীরা নৈপুণ্যের সাথে সব বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন, সুতরাং এটা বাস্তবায়নের সাথে জড়িত কর্মীরা অভিজ্ঞ ও দক্ষ হয়ে ওঠে। 
  • ২. বিশেষজ্ঞ কর্মী বিদ্যমান থাকায় সরলরৈখিক কর্মীদের কার্যভার লাঘব হয়; এর ফলে সরলরৈখিক সংগঠনের সাথে বিশেষজ্ঞতা ও শ্রম বিভাজনজনিত সুবিধাদি লাভ করা যায়।
  • ৩. সর্বগুণে গুণান্বিত ব্যক্তির অভাবে বিভিন্ন কার্য সম্পাদনে সরলরৈখিক সংগঠনে যে সময়ের অহেতুক অপব্যবহার হতো, প্রযুক্তির জ্ঞানের ব্যবহারে সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনে সেই সময় বেঁচে যায়।
  • ৫. বিশেষজ্ঞ কর্মীদের সাথে পরামর্শ করে কাজ সম্পাদনের ফলে লাইন কর্মকর্তারাও বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে ওঠে।
  • ৬. উপদেষ্টাদের সাথে পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে গৃহিত সিদ্ধান্ত সঠিক ও যথার্থতার দাবি রাখে। 

সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনের অসুবিধা 

নিম্নে বিভিন্ন প্রকার অসুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো: 

  • ১. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা কর্মীদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হতে পারে। ফলে কাংখিত কাজের পরিবেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। 
  • ২. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনে বারবার সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হওয়া মূলতঃ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে। 
  • ৩. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠন ব্যবস্থাপনায় সরলরৈখিক কর্মী ও বিশেষজ্ঞ কর্মীদের পারিশ্রমিক ছাড়াও কারিগারি ও প্রযুক্তিগত ব্যয় সংশিণ্ঢষ্ট থাকে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বেশি হয় এবং এর সাথে বিক্রয়মূল্যও বেশি পড়ে। 
  • ৪. সরলরৈখিক কর্মকর্তা উপদেষ্টা কর্মীদের উপর এত বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যে, এটা প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক সময়ই কল্যাণকর হয় না। 
  • ৫. বিশেষজ্ঞ কর্মী তথা উপদেষ্টারা শুধু একটি বিষয়েই মনোনিবেশ করে পারদর্শিতা অর্জন করে। ফলে অন্যান্য দিকে তার দুর্বলতা থেকেই যায়। 

iii. কার্যভিত্তিক সংগঠন (Functional Organisation)

কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট কার্যকে সমজাতীয়তার ভিত্তিতে বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করে এক এক বিভাগে এক একজন করে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে শীর্ষ পদে নিযুক্ত করা হলো এবং উক্ত বিভাগ পরিচালনার জন্য দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব অর্পন করা হলোে তাকে কার্যভিত্তিক সংগঠন বলে। কার্যভিত্তিক সংগঠনে বিশেষজ্ঞদেরকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ না করে সরাসরি নির্বাহী হিসেবে বিশেষ দায়িত্বে আসীন করা হয়। 

বস্তুতঃপক্ষে বিশেষজ্ঞদেরকে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে সরলরৈখিক কার্য সম্পাদনের দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমেই কার্যভিত্তিক সংগঠনের জন্ম হয়, কার্যভিত্তিক সংগঠনে বিশেষায়ন ও শ্রমবিভাগের নীতির পূর্ণ সদ্ব্যবহার ঘটে। এক্ষেত্রে বিশষজ্ঞ ব্যক্তিগণ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারেন। 

এক্ষেত্রে কর্তৃত্ব ব্যবস্থাপনার শীর্ষস্তর থেকে পূর্ব নির্ধারিত কর্মের কর্মনায়কদের উপর নেমে আসে। প্রত্যেক বিশেষজ্ঞ তাদের উপর অর্পিত এক একটি বিশেষ কার্য সম্পাদনের জন্য মুখ্য কার্যনির্বাহীর কাছে দায়ী থাকেন। এ ধরনের সংগঠনে শ্রমিকদের একাধীক নির্বাহীর অধীনে কাজ করতে হয়।  মূলতঃ সরলরৈখিক সংগঠনের অসুবিধাগুলো দূর করার জন্য বৈজ্ঞানিক ব্যস্থাপনার জনক এফ. ডব্লিউ, টেইলর কার্যভিত্তিক সংগঠনের প্রচলন করেন।

এফ ডব্লিউ টেইলরের কার্যভিত্তিক সংগঠন
এফ ডব্লিউ টেইলরের কার্যভিত্তিক সংগঠন

কার্যভিত্তিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্য 

কার্যভিত্তিক সংগঠনের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো আছে: 

  • ১. কার্যভিত্তিক সংগঠনে কাজের ধরণ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সব কাজকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করা যায় (যেমন, উৎপাদন, ক্রয়, বিক্রয়, বিজ্ঞাপন, মান নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি) 
  • ২. কার্যভিত্তিক সংগঠনে প্রত্যেকটা বিভাগের দায়িত্বে এক এক জন বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত থাকেন, এই বিশেষজ্ঞ তার উচ্চ স্তরে কর্মরত লাইন কর্মকর্তার নিকট থেকে বিভিন্ন প্রকার কর্তৃত্ব ভোগ করেন। 
  • ৩. কার্যভিত্তিক সংগঠনে কর্তৃত্ব ও কর্তব্য বন্টন বিশেষায়নের ভিত্তিতে করা হয়।
  • ৪. এই ধরনের সংগঠনে একজন শ্রমিক বা কর্মীকে একাধীক কর্মকর্তার অধীনে কাজ করতে হয়। 
  • ৫. কার্যভিত্তিক সংগঠনের কর্তৃত্ব উপর থেকে নিচের দিকে নেমে আসে। এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থিত ফোরম্যানগণ নিজেদের কর্মক্ষেত্র সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেন। 
  • ৬. কার্যভিত্তিক ধরনের সংগঠনে কর্মক্ষেত্র সীমিত হলোেও কর্তৃত্বের পরিধি অসীম। 
  • ৭. কার্যভিত্তিক সংগঠনে একজন কর্মী কেবলমাত্র একটি বিশেষ কাজে দক্ষতা অর্জন করেন। 
  • ৮. আধুনিক বৃহৎ ও জটিল প্রতিষ্ঠানে কার্যভিত্তিক সংগঠনের বেশি প্রয়োগ দেখা যায়। 

কার্যভিত্তিক সংগঠনের সুবিধা বা উপকারিতা

কার্যভিত্তিক সংগঠনের সুবিধাগুলো নিম্নরূপ: 

  • ১. কার্যভিত্তিক সংগঠনে বিশেষজ্ঞগণ স্বাধীনভাবে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করতে সক্ষম হয়। 
  • ২. কার্যভিত্তিক ধরনের সংগঠন বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় যে কোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতি সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। 
  • ৩. কার্যভিত্তিক সংগঠনে কর্মীগণ বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে কার্যাবলী সম্পাদন করে বলে কর্মীদের কাজের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। 
  • ৪. কার্যভিত্তিক সংগঠনের মাধ্যমে শ্রমের যথাযথ বিভাজন সহজতর হয় ও ব্যপক মাত্রায় উৎপাদন পরিচালনা করা যায়। 
  • ৫. বিভিন্ন কার্যসম্পাদন ও তদারকের জন্য বিভিন্ন কর্মকর্তাকে একটি বিশেষ বিষয়ে দক্ষ ও পারদর্শী হতে হয়। 
  • ৬. কার্যভিত্তিক সংগঠনে বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ফলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যভার লাঘব হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের স্টাফ ও প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস পায়। 
  • ৭. বিশেষজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের বিভাগগুলো সংগঠিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করা সহজতর হয়। 
  • ৮. কার্যভিত্তিক সংগঠনের প্রকৃতি অনুযায়ী কার্যের শ্রেণীবিভাগ ও বিশেষজ্ঞ দ্বারা কার্য সম্পাদন করা হয় বলে সর্বক্ষেত্রেই সুষ্ঠু সমন্বয় সাধন সম্ভব হয়। 

কার্যভিত্তিক সংগঠনের অসুবিধা 

একটি কার্যভিত্তিক সংগঠনের নিম্নরূপ বিভিন্ন প্রকার অসুবিধা দেখা যায়-

  • ১. কার্যভিত্তিক সংগঠনে নিম্ন স্তরে কর্মীগণ একই সময়ে বিভিন্ন উপদেষ্টার নিকট থেকে আদেশ-নির্দেশ লাভ করে বলে তারা কারও নির্দেশ শিথিল হয়, শৃঙ্খলা নষ্ট হয় এবং সমন্বয়সাধন কষ্টকর হয়। 
  • ২. কার্যভিত্তিক সংগঠনে একই সাথে একাধিক উপদেষ্টার নিকট হতে নির্দেশ লাভ করে থাকে যার ফলে এরূপ কর্মচারীদের কার্যভার মাত্রাতিরিক্তভারে বৃদ্ধি পায়। 
  • ৩. কার্যভিত্তিক সংগঠনে কার্যের প্রকৃতি অনুযায়ী কার্যাবলী অসংখ্য বিভাগ, উপবিভাগ প্রভৃতি স্তরে ভাগ করা হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানের কার্যপ্রক্রিয়ায় জটিলতা বৃদ্ধি পায়। 
  • ৪. একাধিক বিভাগের আদেশ নির্দেশ পালন করার কারণে কোনো কর্মী বা বিভাগ ইচ্ছা করলে অন্যের দোহাই দিয়ে কাজে ফাঁকি দিতে পারে। আর দ্বৈত অধীনতার কারণে এক্ষেত্রে অধস্তনদের সঠিকবাবে জবাবদিহিও করা যায় না।
  • ৫. বিশেষজ্ঞগণ নির্বাহী ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সরলরৈখিক কর্মকর্তাদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে পারে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিয়মাকানুন অমান্য করে অনেকক্ষেত্রে তারা নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়ে থাকে।
  • ৬. প্রতিষ্ঠানকে যাবতীয় কার্যাবলী বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত থাকে বলে ফলাফল পরিমাপ ও মূল্যায়ন এবং কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

২. অনানুষ্ঠানিক সংগঠন (Informal Organisation)

কোনোরূপ আনুষ্ঠানিক প্রথা ছাড়াই সংগঠনের কর্মী ও নির্বাহীদের ব্যক্তিগত মেলামেশলা, খেয়াল-খুশি, ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা পছন্দ-অপছন্দ থেকে অনানুষ্ঠানিক ভাবে যে সম্পর্ক বা যৗথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রবণতা সৃষ্টি হয় তাকেই অনানুষ্ঠানিক সংগঠন বলা হয়। এই অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক নির্বাহীদের মধ্যে, শ্রমিকদের মধ্যে কিংবা শ্রমিক সংঘের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সচেতন বা 

অবচেতন ভাবে গড়ে ওঠে। বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের মধ্যে উপদল গঠনের প্রবণতা দেখা যায়। সাধারণতঃ আঞ্চলিক, সাম্প্রদায়িক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক চিন্তাধারা বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে অনানুষ্ঠানিক সংগঠন গড়ে ওঠে। সংগঠনিক কাঠামোতে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্কের উল্লেখ না থাকলেও অনেক সময় উদ্দেশ্য অর্জনের ব্যাপারে এবং অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান করার ব্যাপারেও অনানুষ্ঠানিক সংগঠন খুবই সহায়ক হয়। 

অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের প্রকারভেদ 

প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের অনানুষ্ঠানিক সংগঠন গড়ে উঠতে দেখা যায়। যেমন: 

  • i. বন্ধুত্বসুলভ অনিয়মতান্ত্রিক সংগঠন;
  • ii. কর্ম গোত্রভুক্ত অনিয়মতান্ত্রিক সংগঠন;

নিম্নে  এগুলো আলোচনা করা  হলো: 

i. বন্ধুত্ব সুলভ অনিয়মতান্ত্রিক সংগঠন

প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক কর্মীর মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ফলে এসকল কর্মী একে অপরের সাথে সহযোগিতা ও যোগাযোগ করে এবং একে অপরের কার্যদ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই প্রতিষ্ঠানে যখন এরূপ দলের অস্তিত্ব থাকে তখন দেখা যায় একজন কর্মী তার বন্ধুকর্মীর কাজের সহযোগিতা করছে বা তার কাজে প্রভাব বিস্তার করছে।

ii. কর্ম-গোত্রভুক্ত অনিয়মতান্ত্রিক সংগঠন : 

অন্য এক প্রকার অনিয়মতান্ত্রিক সংগঠন দেখা যায় যেগুলো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে গড়ে ওঠে। সাধারণতঃ যে সব কর্মী খুব ঘনিষ্ঠভাবে একত্রে কার্য সম্পাদন করে, তাদের মধ্যে এরূপ সংগঠন গড়ে ওঠে।

৩. কমিটি (Committee)

কমিটি বা পর্ষদ হচ্ছে একাধিক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত একটি সংগঠন যার ওপর কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব বা কোনো কার্যভার অর্পিত হয়। বর্তমান জগতে সব ধরনের সহযোগিতামূলক কর্মকান্ডে এটা ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত 

হচ্ছে। বস্তুত: কমিটিকে গণতন্ত্রের একটি বিশেষ দিক হিসেবে চিহ্নিত করাহয়। কমিটিকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়ে তাকে। টিম (Team), পর্ষদ (Board), টাস্ক ফোর্স (Task Force), কমিশন (Commission), পরিষদ (Union) ইত্যাদি হচ্ছে কমিটির বিভিন্ন রূপ।

প্রসিদ্ধ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে কমিটির কয়েকটি সংজ্ঞা নিম্নে দেওয়া হলো: 

  • প্রফেসর ডব্লিউ, এইচ নিউম্যান (W. H. Newman)-এর মতে, “কমিটি হলো একদল লোকের সমষ্টি যাদের ওপর নির্দিষ্টভাবে প্রশাসনিক কাজ সম্পাদনের ভার ন্যস্ত করা হয়।” 
  • ওইইরিচ ও কুঞ্জ (Weihrich and Koontz) বলেন, ‘কমিটি হলো কতিপয় ব্যক্তি সমষ্টি যাদেরকে দলবদ্ধভাবে তথ্য সরবরাহ পরামর্শ প্রদান, ধারণার বিনিময় অথবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে দায়িত্ব অর্পন করা হয়।” 

সাধারণত কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কতিপয় বিশিষ্ট কর্মকর্তাকে নিয়ে কমিটি গঠিত হয়। কমিটি সমিষ্টিগতভাবে কাজ করে এবং কার্য সম্পাদনের জন্য সদস্যগণ নিজেদের মধ্যে মতামত বিনিময় করেন। শুধু কমিটির দায়িত্ব পালন কোনো সদস্যের মুখ্য কাজ নয়; প্রত্যেক সদস্যেরই নিজ নিজ দায়িত্ব থাকে যা তাদের প্রধান কাজ বলে গণ্য হয়। আর এই মূল দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ফাঁকে সস্যরা কমিটির দায়িত্ব পালন করেন। কমিটির উপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের সুবিধার্থে সদস্যদের একজনকে সভাপতি বা আহ্বায়ক মনোনিত করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। 

উপরের আলোচনা শেষে আমরা বলতে পারি যে, কমিটি  হলো বিশেষভাবে নির্বাচিত বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মনোনিত এমন কতিপয় ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি যাদের ওপর বিশেষ কোনো প্রশাসনিক কাজ বা দায়িত্বভার অর্পন করা হয় এবং যারা সু-সংগঠিত ভাবে মিলিত হয়ে আলাপ আলোচনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে। 

এখানে উল্লেখ্য যে, একটি কমিটি অবশ্যই একাধীক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বিভিন্ন সমস্যা তদন্তের জন্য “এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি” গঠন করা হয়ে থাকে। এটা ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো প্রকার কমিটির আওতায় পড়ে না। 

কমিটির বৈশিষ্ট্য 

উপরের সংজ্ঞাসমূহ এবং কমিটির স্বাভাবিক প্রকৃতি বিশেণ্ঢষণ করলে যেসব বৈশিষ্ট্যগুলো সাধারণভাবে আমাদের নিকট লক্ষ্যণীয় তা নিম্নরূপ:

  • ১. কমিটি  হলো সাধারণত কতিপয় (একাধিক) ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার সংগঠন।
  • ২. একটি কমিটির সদস্যগণ সাংগঠনিক নিয়মে নির্বাচিত বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মনোনীত হয়ে থাকেন।
  • ৩. সাধারণত একটি কমিটিতে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অন্তর্ভুক্ত হন।
  • ৪. কমিটির অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের কমিটির বাইরেও নির্ধারিত কাজ থাকে।
  • ৫. একটি কমিটি স্থায়ী বা অস্থায়ী যে-কোনো ধরনের হতে পারে। 
  • ৬. কমিটির সদস্যরা এতে সমমর্যাদা ভোগ করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক রীতির অনুসরণ করা হয়। 

কমিটির সুবিধা বা কমিটি ব্যবহারের কারণ

সাধারণত নিম্নোক্ত সুবিধার কারণেই একটি কমিটি গঠন করা হয়। 

  • ১. ইংরেজির একটি প্রচলিত কথা হচ্ছে “Two heads are better than one” বাস্তবে একটি কমিটির সদস্যগণ বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে চিন্তা-ভাবনা, আলাপ-আলোচনা ও স্বাধীন মত বিনিময়ের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। যার ফলে প্রতিষ্ঠান উপকৃত হতে পারে।
  • ২. একটি কমিটিতে সবসময় গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ করা হয়। কমিটিতে সব সদস্যই সমান মূল্যায়ন লাভ করে এবং সবার গুরুত্ব সমান। এক্ষেত্রে সদস্যদের অনুমোদন সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যা উর্ধ্বতন নির্বাহীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে। 
  • ৩. প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের কার্যাবলীর মধ্যে সমন্বয সাধনে কমিটি বিশেষ সহায়তা করে। বিভিন্ন বিভাগ হতে আগত ব্যক্তিদের সমন্বয় গঠিত কমিটিতে প্রত্যেক বিভাগের সমস্যা উপস্থিত হয় এবং তাদের সমবেত প্রচেষ্টা। আন্তরিক সহযোগিতা ও চমৎকার সমঝোতার কারণে তাদের বুদ্ধিদীপ্ত ধারণা ও যাবতীয় কার্যাবলী সুন্দরভাবে সমন্বিত হয়। 
  • ৪. পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিটির সব সদস্যের কমবেশি অবদান থাকে। ফলে সব সদস্যের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা লাভ করা যায়। 
  • ৫. বিশেষ ক্ষেত্রে কমিটিতে বহিরাগত বিশেষজ্ঞের অন্তর্ভুক্তির দ্বারা তাদের বিশেষজ্ঞ জনিত মতামত গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এর ফলে জটিল সমস্যা সমাধান ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়। 
  • ৬. প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরে তথ্যাদি পরিবেশনের জন্য কমিটি অত্যন্ত উপযোগী। কমিটি সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনাবলী ব্যাখ্যা সহকারে উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিকট পরিবেশন করে যা সময় ও অর্থ দুইটিই সাশ্রয় করে। 
  • ৭. কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ক্ষমতা যেহেতু অনেকের উপর অর্পিত হয় সেহেতু উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যভার লাঘব হয়। এভাবে বিক্রেন্দ্রীকরণের সুবিধা অর্জন করা যায়। 
  • ৮. কমিটি গঠনের ফলে সংশিণ্ঢষ্ট পক্ষসমূহের স্বার্থ সমুন্নত থাকে। এতেকরে ঐ প্রতিষ্ঠানে একটি ভারসাম্য অবস্থা বিরাজ করে।
  • ৯. অধীনস্থদের নিয়ে গঠিত কমিটিতে তাদের মতামতের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কমিটি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা বা নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজকে অধঃস্তনরা তাদের নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করে যা তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করে। 
  • ১০. কমিটির সদস্যদের যথাযোগ্য পদমর্যাদা ও সম্মান দান করা হয়ে থাকে। এতে প্রত্যেক সদস্যদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আর কর্মীদের মনোবলও বেড়ে যায়। 

কমিটির অসুবিধা 

একটি কমিটির নিম্নরূপ অসুবিধা দেখা দেয়: 

  • ১. কমিটির সদস্যগণ সাধারণত নিজ নিজ রুটিন ওয়ার্ক সম্পাদনের পর কমিটির কাজে এগিয়ে আসেন। ফলে জরুরী প্রয়োজনে তাদের একত্রিত করা কষ্টকর হয়ে পড়ে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহন বিলম্বিত হয়। এছাড়াও সকলের মতামত শোনার পর সিদ্ধান্তে পৌছতে হয় যা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। 
  • ২. অনেক সময় কমিটির প্রত্যেক সদস্য প্রতিটি বিষয়ে তার মতামত প্রদানের বিষয়কে অধিকার বলে মনে করে। এতে উর্ধ্বতন নির্বাহীদের সুষ্ঠু সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তরায় সৃষ্টি হয়। ফলে কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার চিড় ধরতে পারে। 
  • ৩. প্রকৃতপক্ষে কমিটিতে কিছু সংখ্যক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটে যাদের সাথে যুক্তি-তর্কে অথবা উপমায় সংখ্যাগুরু সাধারণ সদস্যগণ বিভ্রান্ত ও হতাশা হয়ে পড়ে। ফলে কতিপয় প্রভাবশালী সদস্যরাই কমিটির উপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। 
  • ৪. কমিটির কার্যাবলী প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বৃদ্ধি করে থাকে। আপ্যায়ন, সম্মানী, অন্যান্য ভাতাদি ইত্যাদি বাবদ যে অর্থ ব্যয় হয়, কমিটির সিদ্ধান্তের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে তা বেশি হয়ে থাকে। এছাড়াও মিটিং এ প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পরিমাণ শ্রমঘন্টা ব্যয় হয়। 
  • ৫. অনেক সময় দেখা যায় যে কমিটি গঠনের বিশেষ উদ্দেশ্য সাধিত হওয়ার পরও কিছু কিছু কমিটি থেকে যায়। এক্ষেত্রে কমিটির সদস্যরা এই কমিটিকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করার প্রয়াস পায়।
  • ৬. একটি কমিটি রাজনৈতিক দূষিত আবহাওয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন বিভাগ, প্রতিষ্ঠান বা দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা নিজের দল, বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকেই বড়ো করে দেখেন। এর ফলে কমিটিতে গৃহিত সিদ্ধান্ত সর্বসাধারণের অনুকূলে না হয়ে কূটনৈতিক চাল থেকে উদ্ভূত হয়। 
  • ৭. অনেক সময়ই কমিটিতে সৃজনশীল চিন্তাধারা বাধাগ্রস্থ হয়। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামত কোনোপ্রকার বিচার বিবেচনা ছাড়াই ভোটাভুটির মাধ্যমে বিশেষ গণতান্ত্রিক রীতির কারণে পাশ হয়। কখন কখনও প্রভাবশালী সদস্যের কথার বাইরে অন্যরা মুখ খুলতে চায় না আবার দায়িত্বে অবহেলার কারণেও অনেকে ভাল পরামর্শ দেয় না। 
  • ৮. কমিটির আর একটি বড়ো অসুবিধা হলো এটা প্রায়ই সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। আলোচিত বিষয়ের উপর সকল সদস্যই মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে আলোচনা অধিকতর দীর্ঘস্থায়ী হয়। এতে অনেক অবান্তর প্রসঙ্গের অবতারণা ঘটে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না। 
  • ৯. কমিটির আলোচনায় মতামতের ভিন্নতা, সংখ্যালঘু সদস্যদের বাড়াবাড়ি ছাড়াও সকল সদস্যের সিদ্ধান্তের পক্ষে মত লাভের প্রবণতা স্বাভাবিক ভাবেই আপোষমূলক সিদ্ধান্তের জন্ম দেয়। আর এরূপ আপোষমুলক সিদ্ধান্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাল ফল দেয় না। 
  • ১০. একটি কমিটির সদ্যদের মধ্যে অনেক সময় উপদল গঠনের প্রবণতা দেখা যায়। এই প্রবণতার ফলে মুক্ত বুদ্ধি ও যুক্তির উপরেও উপদলীয় স্বার্থ প্রাধান্য বিস্তার করে। এতে সুষ্ঠু সিদ্ধান্তগ্রহণ ব্যহত হয়।

সারসংক্ষেপ 

সংগঠনকে প্রধানত তিনভাবে ভাগ করা যায়- আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক ও কমিটি। যে সংগঠন chain of command অনুসরণ করে তাকে আনুষ্ঠানিক সংগঠন বলে। আনুষ্ঠানিক সংগঠনের ক্ষেত্রে-কর্মীদের দায়িত্বের অবহেলার জন্য শাস্তির বিধান থাকে। কোনোরূপ আনুষ্ঠানিক প্রথা ছাড়াই সংগঠনের কর্মী ও নির্বাহীদের ব্যক্তিগত মেলামেশা, খেয়াল-খুশী, ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা পছন্দ-অপছন্দ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয় তাকে অনানুষ্ঠানিক সংগঠন বলে। আনুষ্ঠানিক সংগঠন- সরলরৈখিক, কার্যভিত্তিক এবং সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা, এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। কমিটি  হলো একদল লোকের সমষ্টি যাদের ওপর নির্দিষ্টভাবে প্রশাসনিক কাজ সম্পাদনের ভার ন্যস্ত করা হয়।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের সাম্প্রতিক নিবন্ধ