বুধবার, ডিসেম্বর ১, ২০২১

জীবনবিমা কী? জীবনবিমার ধারণা, বৈশিষ্ট্য, শ্রেণিবিভাগ এবং চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়া আলোচনা

বিমার চুক্তি লিখিত হতে হবে এবং এতে উভয় পক্ষের স্বাক্ষর থাকতে হবে

কখনো কখনো লক্ষ্য করবেন, যাত্রীবাহী বাসে লেখা থাকে- “সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি”। এর অর্থ কি? এর অর্থ হলো, রাস্তায় চলার পথে ঝুঁকি নিবেন না। তবে এ কথা সত্য যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ঝুঁকি জড়িত। তাই আমরা সকলেই সর্বদা জীবন রক্ষায় সচেষ্ট থাকি। মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে নিপতিত হই। তাই মানুষ এ সকল অপ্রত্যাশিত ঝুঁকিকে এড়ানোর জন্য জীবনবিমার (Life insurance) দ্বারস্থ হয়, কারণ জীবনবিমা অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এখানে জীবনবিমার ধারণা, জীবনবিমার বৈশিষ্ট্য এবং শ্রেণবিভাগ নিয়ে আলোচনা করা হলো।

এখানে যা আছে

জীবনবিমার ধারণা

জীবনবিমা মানুষের জীবনে বিদ্যমান অনিশ্চয়তার একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ বিমাটি জীবনের উপর আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার একটি প্রাপ্তির আগাম অঙ্গীকার। বিমা কোম্পানি প্রিমিয়াম লাভের বিনিময়ে এ ঝুঁকি গ্রহণ করে। জীবনবিমার মেয়াদ শেষে বীমাগ্রহীতা নিজে অথবা মেয়াদের মধ্যে মারা গেলে চুক্তি অনুযায়ী নমিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ পেয়ে থাকে। জীবনবিমার প্রসার আমাদের দেশে তেমন ঘটেনি। তবে পশ্চিমা বিশ্বে জীবনবিমার প্রচলন খুব বেশি। বিমা বিষয়ের অন্যতম লেখক এম. এন. মিশ্র (M. N. Mishra) এর মতে, “জীবনবিমা চুক্তি হলো এমন একটি চুক্তি যেখানে সালামী পরিশোধের প্রতিদানে বিমাকারী বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে অথবা নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব গ্রহণ করে।”

সুতরাং, জীবনবিমা হলো বিমাগ্রহীতা ও বিমা কোম্পানির মধ্যে এমন একটি চুক্তি যা এক পক্ষ নির্দিষ্ট পরিমাণ সালামী গ্রহণের বিনিময়ে অপর পক্ষকে তার মৃত্যুতে বা মেয়াদ শেষে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ প্রদানের অঙ্গীকার করে।

(‘বীমা’ বানানটি ভুল; সঠিক বানান ‘বিমা’)

জীবনবিমার বৈশিষ্ট্য 

১. চুক্তি (Formal Contract): বিমা চুক্তি একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি। জীবনবিমা চুক্তি লিখিত হতে হবে এবং এতে উভয় পক্ষের স্বাক্ষর থাকতে হবে। 

২. বিষয়বস্তু (Subject-Matter): জীবনবিমার বিষয়বস্তু হলো নিজ জীবন ও অন্যদের জীবন, যাদের সাথে বিমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান থাকে। 

৩. উদ্দেশ্য (Objective): জীবনবিমা চুক্তি বিমাগ্রহীতার জীবনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আর্থিক ক্ষতির নিশ্চয়তা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি মাত্র। প্রিমিয়ামের বিনিময়ে আর মেয়াদান্তে লাভসহ বিনিয়োগের টাকা ফেরত পায়। তাই জীবনবিমার অপর উদ্দেশ্য হলো সঠিক ও লাভজনক বিনিয়োগ করা। 

৪. চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের চুক্তি (Contract of Good Faith): বিমা চুক্তি একটি চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের চুক্তি। জীবনবিমা করার সময় উভয় পক্ষ থেকে কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করা যাবে না। সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদান না করলে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। 

৫. প্রস্তাবের স্বীকৃতি (Acceptance of Offer) বিমা কোম্পানির মূদ্রিত চুক্তির পর কোনো পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করার সুযোগ থাকে না। এটি একটি শর্তানুগ চুক্তি (Contract of adhesion)। বিমাকারী ফর্মে স্বাক্ষর করার সাথে সাথে স্বীকৃত বলে গণ্য হবে। যে কারণে বিমা গ্রহীতাকে তা পড়ে বুঝে স্বাক্ষর করতে হবে।

৬. দাবীর পরিমাণ (Amount of Claim): চুক্তিতে উল্লিখিত টাকা কোনো বিমাগ্রহীতার মৃত্যু বা মেয়াদ শেষ হলে পাওয়া যায়। 

৭. একতরফা চুক্তি (One-sided Contract): বিমাগ্রহীতা যখন প্রিমিয়াম দেয় তখন শুধু বিমাগ্রহীতাই তাঁর দায়িত্ব পালন করতে থাকে, আর বিমাকারী প্রিমিয়াম ভোগ করতে থাকে। অন্য দিকে, বিমার প্রিমিয়াম দেওয়া শেষ হলে বা বিমাগ্রহীতার মৃত্যু হলে কোম্পানি তখন বিমার দাবী পরিশোধের দায়িত্ব পালন করে। তখন বিমাগ্রহীতা বিমার দাবী ভোগ করে। তাই বিমা চুক্তিকে একতরফা চুক্তি বলে। 

৮. পূর্ণাঙ্গ চুক্তি: জীবনবিমা চুক্তি আংশিকভাবে পালন করা যায় না। কোম্পানি দায় গ্রহণ করলে বিমার দায় পুরোপুরি পরিশোধ করতে হবে। বিমা কোম্পানি যদি দায় গ্রহণ না করে, তাহলে প্রিমিয়াম পুরোটাই ফেরত দিতে হবে। 

জীবন বিমার প্রকারভেদ (শ্রেণিবিন্যাস বা শ্রেণিবিন্যাস)

ক. বিমাপত্রের মেয়াদভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ

মেয়াদের ভিত্তিতে জীবনবিমাপত্র চার ধরনের, যথা-

  • ১. আজীবন বিমাপত্র
  • ২. সাময়িক বিমাপত্র
  • ৩. মেয়াদি বিমাপত্র
  • ৪. উত্তরজীবী বিমাপত্র। 

১. আজীবন বিমাপত্র (Whole Life Policy) 

আজীবন বিমাপত্রে বিমাকৃত ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে থাকে। তাঁর মৃত্যুর পর পোষ্যরা এর সুবিধা পায়। যেমন, একক কিস্তি সম্পন্ন আজীবন বিমাপত্র, অবিরাম কিস্তি সম্পন্ন আজীবন বিমাপত্র এবং সীমিত কিস্তি সম্পন্ন আজীবন বিমাপত্র। 

২. সাময়িক বিমাপত্র (Term Policy)

সাময়িক বিমাপত্রে বিমাপত্র ২ মাস থেকে ৭ বৎসর পর্যন্তু সময়ের জন্য হতে পারে। এর প্রচলন সবচেয়ে বেশি। বিমা সময়ের মধ্যে মারা গেলে বিমার দাবী পরিশোধ করা হয়; অন্যথায় কিছুই পরিশোধ করা হয় না। মেয়াদি বিমার ক্ষেত্রে, মেয়াদকাল পর্যন্ত অথবা মৃত্যু পর্যন্ত (যা আগে ঘটে) বিমার কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। সাময়িক বিমাপত্রকে আবার কয়েকটি উপ-বিভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:

i. অস্থায়ী সাময়িক বিমাপত্র (Temporary Term Policy)

অস্থায়ী সাময়িক বিমাপত্র ২ বছরের জন্য ইস্যু করা হয়। এতে একটি মাত্র কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। এ সময় বিমাকারী মারা গেলেই মাত্র বিমার দাবী পরিশোধ করা হয়; অন্যথায় নয়। তবে, এ বিমা পলিসি অন্য একটি বিমায় রূপান্তর করা যায়। এ বিমার ক্ষেত্রে ডাক্তারি পরীক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। 

ii. নবায়নযোগ্য সাময়িক বিমাপত্র (Renewable Term Policy)

নবায়নযোগ্য সাময়িক ধরনের বিমাপত্র মেয়াদ শেষে নবায়ন করার জন্য ডাক্তারী পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। তবে, এক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের কিস্তির পরিমাণ বয়স অনুসারে পরিবর্তন করে দেয়া হয়। বিমাকৃত ব্যক্তি ৫৫ বৎসর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত একাধিকবার নবায়ন করতে পারেন। 

৩. মেয়াদি বিমা (Endowment Policy)

দীর্ঘ মেয়াদের জন্য যে জীবনবিমা করা হয়, তাকে মেয়াদি বিমা বলে। নিচে নানা ধরনের মেয়াদের বিমার বিবরণ দেওয়া হলো: 

i. বিশুদ্ধ মেয়াদি বিমাপত্র (Pure Endowment Policy)

এ ধরনের বিমাপত্রে বিমাকৃত ব্যক্তি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকলেই মাত্র বিমার দাবী পূরণ করা হয়। আর বিমার মেয়াদের মধ্যে মারা গেলে বিমার দাবী পূরণ করা হয় না। 

ii. সাধারণ মেয়াদি বিমাপত্র (Ordinary Endowment policy):

সাধারণ মেয়াদি বিমাপত্রে চুক্তি অনুযায়ী বিমাকারী বিমা সময়কালের মধ্যে মারা গেলে তাঁর নমিনিকে অথবা বেঁচে থাকলে বিমা গ্রহীতাকে বিমা দাবীর অর্থ পরিশোধ করা হয়। এ বিমার দ্বারা বিমাকারী বৃদ্ধ বয়সে নিজের ও পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করে। 

iii. যৌথ-জীবন মেয়াদি বিমাপত্র (Joint Life Endowment Policy)

এ বিমাপত্রে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকে। এ ধরনের বিমাতে বিমার মেয়াদ শেষ বা যেকোনো একজন বিমাকৃত ব্যক্তির মৃত্যু হলে বিমার দাবী পরিশোধ করা হয় এবং বিমাপত্রের মেয়াদ পর্যন্ত অথবা যেকোনো একজন বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বিমা কিস্তি প্রদান করতে হবে। 

iv. শিক্ষা বৃত্তি বিমাপত্র (Educational Endowment Policy)

এ বিমাপত্রটির ক্ষেত্রে সন্তানদের ভবিষ্যতের শিক্ষার খরচ যোগানের নিমিত্তে পিতামাতা সন্তানের নামে বিমাপত্র গ্রহণ করেন। আর যার কল্যাণের জন্য বিমাপত্র নেওয়া হয় তাকে সুবিধাগ্রহীতা বা বৃত্তিপ্রাপক বলা হয়। বিমার দাবী একত্রে প্রদান না করে ৫ বৎসর ব্যাপী সমান হারে অর্ধ বার্ষিক কিস্তিতে বিমাকৃত অর্থ প্রদান করা হয়। 

খ. বিমাগ্রহীতার সংখ্যা অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ:

বিমাকারীর সংখ্যা অনুযায়ী বিমাপত্রের শ্রেণিবিভাগ নিচে প্রদান করা হলো: 

i. একক জীবন বিমাপত্র (Single Life Policy)

এ বিমাপত্রে মাত্র একজন বিমাকারী ব্যক্তি থাকেন।

ii. যৌথ জীবন বিমাপত্র (Joint Life Policy)

যে বিমাপত্রে দুই বা ততধিক ব্যক্তি একত্রে বিমাপত্র গ্রহণ করে, তাকে যৌথ বিমাপত্র বলে। যে কোনো একজন বিমাকারীর মৃত্যু হলেই বিমাকৃত অর্থ প্রদান করা হয়। যৌথ জীবনবিমাপত্র সাধারণত দম্পত্তি ও অংশীদারদের জন্য বেশি প্রযোজ্য। 

iii. গোষ্ঠী জীবন বিমাপত্র (Group Life Insurance Policy)

কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদেরকে একটি বিমা চুক্তির অধীনে বিমা করা হয়, তকে গোষ্ঠী বিমাপত্র বলে। কোনো কর্মচারী তার চাকুরী জীবনে মারা গেলে বিমাকৃত টাকা পায়, নতুবা কোনো অর্থ পায় না।

চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়াজীবন বিমার চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়া (Contracting procedure of life insurance)

নিচে জীবনবিমার চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো: 

১. প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতাসমূহ

প্রথমেই বিমাগ্রহীতাকে বিমা কোম্পানির ছাপানো ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে। এটি বিমাপত্রের লিখিত প্রস্তাবনা। এ বিষয়টি সাধারণত পরিবর্তন করা হয় না। এটিকে আবেদনপত্রও বলা হয়। 

২. প্রস্তাব দান

বিমা কোম্পানির প্রস্তাবনা ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে বিমা কোম্পানির কাছে জমা দিলেই বিমাগ্রহীতা জীবনবিমা চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রস্তাব করেছেন বলে ধরা হয়। ফরমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যথা নাম, ঠিকানা, পেশা, বয়স, রোগ, পারিবারিক তথ্যের বিবরণী, ঘোষণা ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। প্রস্তাবনা ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। 

৩. প্রস্তাবনা পত্রের প্রশ্নোত্তর পর্যালোচনা

আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দেওয়ার পর প্রস্তাবকের পেশা, বয়স, ডাক্তারী রিপোটর্, বিমা প্রতিনিধির রিপোর্ট, ব্যক্তিগত ডাক্তারের রিপোর্ট, বন্ধুবান্ধবের রিপোর্ট ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হয়। 

৪. ডাক্তারী পরীক্ষা

বিমা কোম্পানির ডাক্তার বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মনোনীত কোনো ডাক্তার প্রস্তাবিত বিমাগ্রহীতাকে শারিরীক পরীক্ষা ও প্রশ্ন করে বিমা কোম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত ফরম পূরণ করে দেন। ডাক্তারী রিপোর্ট সন্তোষজনক হলে বিমা গ্রহণ করা হয়। আর সন্তোষজনক না হলে বিমাপত্র প্রদান করা নাও হতে পারে। 

৫. বিমা প্রতিনিধির রিপোর্ট

বিমা কোম্পানি অনেক সময় প্রতিনিধির মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন করে। বিমা প্রতিনিধির মাধ্যমে বিমা চুক্তি গঠন হয়ে থাকলে, সেক্ষেত্রে বিমা প্রতিনিধির প্রতিবেদন পেশ করতে হয়। বিমা প্রতিনিধি বিমাগ্রহীতা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যাদি সংগ্রহ করে। যদি রিপোর্ট ইতিবাচক হয়, তবে বিমাপত্র প্রদান করা হয়। 

৬. ব্যক্তিগত চিকিৎসকের প্রতিবেদন

বিমাকারী প্রতিষ্ঠান যদি প্রস্তাবিত বিমাগ্রহীতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও জানতে চায় তবে বিমাকারীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের নিকট থেকে প্রশ্নমালার মাধ্যমে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ব্যক্তিগত চিকিৎসকের উত্তর আবেদনকারীর আবেদনপত্র অথবা ডাক্তারী রিপোর্টের সাথে মিলিয়ে ঝুঁকি পর্যালোচনা করে প্রস্তাব গ্রহণ বা বর্জন করা হয়। 

৭. প্রস্তাবকারীর বন্ধু-বান্ধবদের মতামত

অনেক সময় বিমা-প্রস্তাবকারীর বন্ধুদের নিকট থেকে তার শারীরিক অবস্থা, অভ্যাস ও জীবনযাত্রা পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। 

৮. প্রস্তাব গ্রহণ

১ম কিস্তির টাকা পেয়ে বিমাকারী কর্তৃক পাকা রশিদ না দেওয়া পর্যন্ত বিমাকারী প্রস্তাবিত বিমার কোনো দায় গ্রহণ করে না। নির্ধারিত তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ১ম কিস্তির টাকা প্রদান না করলে প্রস্তাবকারীকে তার সুস্থতার যথাযথ প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায় বিমাকারী কোনো দায় গ্রহণ করবে না। বর্ণিত সময়ের মধ্যে ১ম কিস্তির টাকা প্রদান না করলে ডাক্তারী পরীক্ষার তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্য অবিরাম ভাল স্বাস্থ্যের ঘোষণা পত্র দাখিল করে কিস্তি পরিশোধ করা যায়। অন্যথায় দায় গ্রহণযোগ্য হয় না।

৯. বিমাপত্র প্রদান

বিমাকারী প্রস্তাবকের নিকট থেকে ১ম কিস্তির টাকা পরিশোধের পর বিমাগ্রহীতার নামে বিমাপত্র ইস্যু করে বিমাপত্রটি ডাকে পাঠিয়ে দেয়। এই বিমাপত্রটিই হলো বিমাকারী ও বিমা গ্রহীতার মধ্যে গঠিত ও সম্পাদিত বিমাচুক্তির লিখিত দলিল।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের সাম্প্রতিক নিবন্ধ