বুধবার, ডিসেম্বর ১, ২০২১

শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা

বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্র হিসেবে শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত ব্যাপক।

শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব 

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর আচরণিক, সামাজিক ও নির্দেশনামূলক শিক্ষা প্রদান করা হয় যে কারণে সেখানে পাঠদানের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা আবশ্যক। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে শিখন শেখানো কার্যক্রমকে সফলভাবে পরিচালনার মাধ্যমে শিখনফল অর্জনে শিক্ষক যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন তাকে শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা বলে। বিদ্যালয়ে জ্ঞান চর্চার স্তরভিত্তিক কেন্দ্রস্থল হলো শ্রেণিকক্ষ। যেখানে শিক্ষকের একনিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা বিষয়গত জ্ঞান অর্জন করে থাকে। এই দিক বিবেচনায় বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্র হিসেবে শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত ব্যাপক।

বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বা  প্রয়োজনীয়তার কয়েকটি দিক নিচে উল্লেখ করা হলো-

  • শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে অবারিত জ্ঞান চর্চার সুযোগ দেওয়া হয়;
  • এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অবস্থানের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রক্ষা হয়;
  • শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জনের পরিসর বর্ধিত হয়;
  • এর ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জনের কৌতূহল বৃদ্ধি পায়;
  • আদর্শ শ্রেণি ব্যবস্থাপনায় শ্রেণিতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দুষ্টুমি প্রবণতা কমে;
  • শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা যথার্থ হলে শিক্ষার্থীর মনোযোগ বৃদ্ধি পায়;
  • আদর্শ শ্রেণি ব্যবস্থাপনার ফল পাঠকে সজীব করে প্রত্যেক শ্রেণিতে পদ্ধতিগতভাবে পাঠদান করা সম্ভব হয়ে থাকে;
  • আদর্শ শ্রেণি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি যথেষ্ট বাড়ে এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দূষণগত অবস্থা
  • রোধ করা সম্ভব হয়ে থাকে;
  • এর ফলে শ্রেণিকক্ষকে পরিচ্ছন্ন রাখা যায়;
  • আদর্শ শ্রেণি ব্যবস্থাপনার ফলে আনন্দদায়ক এবং সাবলীল পাঠদান ব্যবস্থাকে শিক্ষকের প্রয়োজনমতো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়;
  • শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আত্মিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়;
  • বিদ্যালয়ে জ্ঞান চর্চার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়;
  • যথার্থ উপকরণের সঠিক ব্যবহার সুনিশ্চিত হয়;
  • শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন যথার্থভাবে সম্পন্ন করা যায়;
  • বিদ্যালয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যক্রম ফলপ্রসূ করা যায়;
  • ঝরে পড়া বা অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পায়;
  • সার্বিক মূল্যায়নে বিদ্যালয়ের ফলাফল ভাল হয়;
  • শিক্ষকের দায়িত্ব সচেতনতা এবং কর্ম তৎপরতা সম্প্রসারিত হয়।

(পয়েন্টগুলো লেখার জন্য আবুল বাশার সম্পাদিত শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল বইটির সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে)

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের সাম্প্রতিক নিবন্ধ