মঙ্গলবার, মে ২৪, ২০২২

বিমা: ঝুঁকি কী? ঝুঁকির প্রকারভেদ এবং ঝুকি পরিমাপের উদ্দেশ্য কী?

ঝুঁকির মাত্রা অনুসারে ঝুঁকি ২ প্রকার। যথা: অবিমাযোগ্য ঝুঁকি ও বিমাযোগ্য ঝুঁকি।

ব্যক্তি পর্যায়ে ও ব্যবসাক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের ক্ষতিই হোক না কেন, বিমার ক্ষেত্রে তা অর্থের অংকে পরিমাপ করা হয়। সে কারণে বিমার ক্ষেত্রে ঝুঁকি (Risk) বলতে আর্থিক ক্ষতি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তাকে বোঝানো হয়েছে। মানুষের জীবনে সর্বত্রই ঝুঁকি জড়িত। ঝুঁকি পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব নয়। কিন্তু ঝুঁকিজনিত ক্ষতিকে চুক্তিবদ্ধ পক্ষসমূহের মধ্যে বণ্টন করা সম্ভব। আর এ কারণেই বিমা ব্যবসায় শুরু হয়েছে। বিমা (Insurance) ব্যবসায়ের মূল বিষয় হলো ঝুঁকি।

ঝুঁকির সংজ্ঞা কী? (What is the Definition of Risk?)

ভবিষৎ অনিশ্চয়তা থেকে ঝুঁকির উদ্ভব হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের জীবন চলার পথে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিপদাপদ, অনিশ্চয়তা ও বিপর্যয় রয়েছে। এগুলো ঘটতেও পারে, আবার না-ও ঘটতে পারে। আর এ অনিশ্চয়তাজনিত ঝুঁকি নিরসনের জন্যই বিমার উদ্ভব হয়েছে। বিমা ব্যবসার মূল উৎস হলো :

  • অনিশ্চয়তাজনিত ঝুঁকি
  • কোন আর্থিক ক্ষতি সম্পর্কিত অনিশ্চয়তা
  • পরিমাপযোগ্য ও নির্ধারণযোগ্য অনিশ্চয়তা। 

সংক্ষেপে বলা যায়, কোন আর্থিক ক্ষতি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তাই হচ্ছে ঝুঁকি। 

ঝুঁকির প্রকারভেদ (Types of Risks)

ঝুঁকির মাত্রা অনুসারে ঝুঁকি ২ প্রকার। যথা: অবিমাযোগ্য ঝুঁকি ও বিমাযোগ্য ঝুঁকি। 

অবিমাযোগ্য ঝুঁকি (Un-Insurable Risk)

এ ধরনের ঝুঁকি মোটামোটি নিশ্চিত। বিমা কোম্পানি যে ঝুঁকি গ্রহণ করার জন্য রাজি হয় না, তাকে অবিমাযোগ্য ঝুঁকি বলে। যেমন, বৃদ্ধ মানুষের জীবনবিমা অবিমাযোগ্য। ভুমিকম্প বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যে ক্ষতি হয়, তা অবিমাযোগ্য ঝুঁকি।

বিমাযোগ্য ঝুঁকি (Un-Insurable Risk)

যে সকল ঝুঁকি নিরসনের জন্য বিমা করা যায়, তাকে বিমাযোগ্য ঝুঁকি বলে। বিমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকি পরিমাপের জন্য একটি standard বা আদর্শ মান ব্যবহার করে। কোন ঝুঁকি যদি আদর্শ মান থেকে বেশি না হয়, তাকে বিমাযোগ্য ঝুঁকি বলে। এটি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। 

বিমাযোগ্য ঝুঁকি তিন প্রকার। যথা: ক) আদর্শিক ঝুঁকি, খ) উত্তম-আদর্শিক ঝুঁকি ও গ) উপ-আদর্শিক ঝুঁকি।

ক. আদর্শিক ঝুঁকি (Standard Risk)

আদর্শিক ঝুঁকি মানুষের স্বাভাবিক (ঘড়ৎসধষ) জীবনযাপনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। স্বাভাবিক জীবনযাপনের আদর্শিক মাত্রা ১০০ ধরে ২৫ পয়েন্ট যোগ-বিয়োগ সীমা পর্যন্ত আদর্শিক ঝুঁকির ব্যাপ্তি নির্ধারণ করা হয়। 

খ. উত্তম আদর্শিক ঝুঁকি (Super Standard Risk)

যে বিষয় বা জিনিসটি বিমার আওতাভুক্ত, সেটিকে বিমার ‘বিষয়বস্তু’ বলে। যখন কোন বিষয়বস্তুতে আদর্শিক ঝুঁকির চেয়ে কম ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে, তখন তাকে উত্তম আদর্শিক ঝুঁকি বলে। ঝুঁকি মূল্যায়নের আংকিক পদ্ধতি অনুযায়ী ৭৫ পয়েন্টর নিচের মাত্রায় ঝুঁকি থাকলে তাকে উত্তম আদর্শিক ঝুঁকি বলে। এ ঝুঁকিটি বিমা কোম্পানির জন্য লাভজনক। 

গ. উপ-আদর্শিক ঝুঁকি (Sub-Standard Risk)

কোন বিষয়বস্তুতে আদর্শিক ঝুঁকির চেয়ে বেশি ঝুঁকি বিরাজমান থাকলে তাকে উপ-আদর্শিক ঝুঁকি বলে। অর্থাৎ ১২৫ থেকে ৫০০ পর্যন্তু পয়েন্টের ঝুঁকিকে উপ-আদর্শিক ঝুঁকি বলে। বিপজ্জনক পেশায় নিয়োজিত ঝুঁকিকে এ জাতীয় ঝুঁকির আওতায় ফেলা হয়। বিমা কোম্পানি এ ধরনের ঝুঁকির বিমা করতে চায় না। যেমন, কয়লার খনিতে কর্মরত মানুষের জীবন বিমা এ ঝুঁকির আওতাভুক্ত। 

ঝুঁকি পরিমাপের উদ্দেশ্য (Purpose of Measuring Risk)

বিমা কোম্পানি ঝুঁকি পরিমাপের জন্য আর্থিক অংক ব্যবহার করে। অর্থাৎ ঝুঁকিকে আর্থিকভাবে প্রকাশ করে। তবে এর কতিপয় উদ্দেশ্য রয়েছে। নিচে ঝুঁকি পরিমাপের উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হলো: 

১. আর্থিক সিদ্ধান্তগ্রহণ

কোন ঝুঁকি গ্রহণ করা হবে কিনা সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ঝুঁকি পরিমাপ করা হয়। 

২. প্রিমিয়াম নির্ধারণ

ঝুঁকি বেশি হলে প্রিমিয়াম বেশি দিতে হবে, আর ঝুঁকি কম হলে প্রিমিয়াম কম হবে। বিমা কোম্পানি বিমা প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়বস্তুর ঝুঁকি নির্ধারণ করে। এরপর প্রিমিয়ামের পরিমাণ নিরূপণ করে। 

৩. ঝুঁকির শ্রেণীবিভাগ করা

বিষয়বস্তুর ঝুঁকির উপর নির্ভর করে কোনটির ঝুঁকি কত? পৃথকভাবে বিষয়বস্তুর ঝুঁকি পরিমাপ 

করে পৃথক পৃথক প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে এটি বেশ কঠিন। তাই ঝুঁকিকে পৃথক পৃথক শ্রেণীতে বিভক্ত করে বিমা কোম্পানিতে প্রিমিয়ামের হার নিরূপণ করা হয়।

এক নজরে ঝুঁকি

ব্যক্তি পর্যায়ে ও ব্যবসাক্ষেত্রে যে ধরনের ক্ষতিই হোক না কেন বিমার ক্ষেত্রে তা অর্থের অংকে পরিমাপ করা হয়। যে কারণে বিমার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বলতে আর্থিক ক্ষতি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তাকে বোঝানো হয়েছে। ঝুঁকি হলো ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা। ঝুঁকির মাত্রা অনুসারে ঝুঁকিকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। যথা, অবিমাযোগ্য ঝুঁকি ও বিমাযোগ্য ঝুঁকি। বিমা কোম্পানি যে ঝুঁকি গ্রহণ করার জন্য রাজি হয় না তাকে অবিমাযোগ্য ঝুঁকি বলে। ঝুঁকিকে আর্থিকভাবে পরিমাপ করা হয়। আর এ পরিমাপের ভিত্তিতেই বিমা কোম্পানি ঝুঁকি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের অন্যান্য নিবন্ধ

সমাজমাধ্যম

সবচেয়ে জনপ্রিয়
সবচেয়ে জনপ্রিয়

শিক্ষা কী? শিক্ষার সংজ্ঞা, ধারণা এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

শিক্ষা নিয়ে যারা কথা বলেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই নিজের মতো করে ভেবে নিয়েছেন শিক্ষাকে, নিজের মতো করে সংজ্ঞা দিয়েছেন। শিক্ষাবীদ কিংবা মনিষী, যার সংজ্ঞাই দেখা হোক না কেন, খুব একটা সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। তাই বলে যাদের হাত ধরে শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা আজ পর্যন্ত এসেছে তাঁদের মতো শিক্ষাবিদ বা মনিষীদের বলে যাওয়া বা লিখে যাওয়া কথাগুলোকে এড়িয়ে চলাও সম্ভব নয়।

গবেষণা: গবেষণার সংজ্ঞা, ধারণা ও প্রকারভেদ

গবেষণা হলো কোনো কিছু সম্পর্কে জানার জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এবং একটি গবেষণা শুধু একটি প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দুই বা ততোধিক প্রকারের হতে পারে

মূল্যবোধ কাকে বলে এবং মূল্যবোধের উৎস ও প্রকারভেদ কী?

মূল্যবোধ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Value এটি গঠিত হয়েছে...

নেতা ও নেতৃত্ব কাকে বলে? একজন আদর্শ নেতার গুণাবলি কী?

নেতৃত্বের মূল কাজ হলো আওতাভুক্ত ব্যক্তিবর্গকে প্রভাবিত করা, যাতে তারা নেতার নির্দেশ মেনে নেয় ও সে মোতাবেক কাজ করে। 

শিক্ষা: অভীক্ষার সংজ্ঞা এবং বৈশিষ্ট্য

শিক্ষাক্ষেত্রে অভীক্ষা খুবই পরিচিত একটি পদ। যারা শিক্ষাবিজ্ঞান পড়েছেন...

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা, পরিধি এবং গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা

মানব সভ্যতার শুরু থেকেই ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন মানব সংগঠনের সাথে...

ইতিহাস কাকে বলে? ইতিহাসের বিষয়বস্তু, উপাদান এবং ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা কী?

ইতিহাস পাঠ করার আগে আমাদের প্রত্যেকেরই জানা প্রয়োজন ইতিহাস কী, ইতিহাসের প্রকৃতি কীরূপ; আবার পাঠ্য বিষয় হিসেবে ইতিহাসের ভূমিকা কী। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট কালের এবং নির্দিষ্ট দেশের ইতিহাস জানার সাথে সমসাময়িক প্রাকৃতিক অবস্থা এবং পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। এই নিবন্ধে ইতিহাসের সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু, উপাদান এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার নীতি বা মূলনীতি কয়টি ও কী কী?

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনা একটি বাংলা শব্দ যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো...

পরিবার কাকে বলে? পরিবারের সংজ্ঞা, ধারণা, প্রকারভেদ, কার্যাবলি ও গুরুত্ব কী?

আমরা জন্ম থেকেই পরিবারের সাথে পরিচিত। আমরা নিশ্চয়ই অবগত...

শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল

পাঠকে ফলপ্রসূ করার জন্য শিক্ষক পরিস্থিতি অনুসারে একাধিক পদ্ধতি ও কৌশলের সংমিশ্রণে নিজের মতো করে পাঠ পরিচালনা করতে পারেন। পাঠের সাফল্য নির্ভর করে শিক্ষকের বিচক্ষণতা এবং বিষয়জ্ঞান ও শিখন পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগের উপর।

জেন্ডার কাকে বলে? জেন্ডার সমতা, সাম্য, লেন্স এবং বৈষম্য কী?

সাধারণভাবে বা সঙ্কীর্ণ অর্থে জেন্ডার শব্দের অর্থ বলতে অনেকে...