বুধবার, অক্টোবর ২৭, ২০২১

উপমহাদেশে যার হাতে সূচনা হাদিসের পাঠ

বহুগুণে গুণান্বিত শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (রহ.) নিজ দেশে অবস্থান না করে আনুমানিক ১২৬০ খ্রিষ্টাব্দে উপমহাদেশে আগমন করে দিল্লিতে অবস্থান করেন

সবুজের সমারোহ আর বনানীর শ্যামলিমায় মনোরম স্থাপত্যশৈলী এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ছায়াঢাকা, পাখি-ডাকা, হৃদয়ছোঁয়া, নৈসর্গিক পরিবেশ পর্যটকদের মন কেড়ে নেয় সোনারগাঁ। এই সোনারগাঁয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সোনালি অতীতের এক সুবর্ণ অধ্যায়। মধ্যযুগীয় প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিল আমাদের এই সোনারগাঁ। নামে-কামে আসলেই সোনায় ভরপুর ছিল সেসময়ের সোনারগাঁ। শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য সর্বোপরি সর্বজনীত সোনারগাঁ ছিল বাংলাদেশের এক গৌরবময় জনপদ।

অনেকের মতে, বারো ভূঁইয়ার প্রধান ঈশা খার স্ত্রী সোনাবিবির নামে সোনারগাঁর নামকরণ করা হয়েছে। 

আনুমানিক ১২৮১ খ্রিষ্টাব্দে এই অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনার পর আওরঙ্গজেবের আমলে বাংলার রাজধানী ঢাকা ঘোষণা হওয়ার আগ পর্যন্ত মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল সোনারগাঁ। যদিও তখন প্রাচীন এই রাজধানী পানাম নামেই পরিচিত ছিল। ঈশা খাঁ ও তার বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁ ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।

উপমহাদেশে পির-আউলিয়াদের আগমন

আরব ভূমিতে ইসলামের আলো বিকাশিত হওয়ার ঊষালগ্ন থেকেই ভারতভূমিতে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়ে। আরব মুবাল্লিগ বণিকরা ইসলাম প্রচারে ব্রতী হন। সাহাবায়ে কেরামের যুগ তথা ওমর (রা.) এর শাসনামল থেকে ইসলামের ঝাণ্ডাবাহী দল দিনের দাওয়াত (ইসলামের ধর্মে আসার আহবান) নিয়ে ভারতবর্ষে আগমন শুরু করেন।

ইসলাম ধর্মে আহবানের ধারা পরিক্রমায় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম পির-আউলিয়াদের মধ্যে আগমন করেন কামারুদ্দিন শাহ সুলতান রুমি (রহ.)। তিনি ভারতবর্ষে ১০৫৩ সালে আগমন করেন। এর কিছু দিন পর শাহজালাল (রহ.) এবং খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.)সহ আরও অনেক আউলিয়ায়ে কেরাম ভক্ত-মুরিদসহ ভারতবর্ষে আগমন করেন। (বাংলাদেশের সুফি সাধক পৃ. ২৩-২৪; ড. গোলাম সাকালায়েন)।

শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামার আগমন

বহুগুণে গুণান্বিত শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা (রহ.) নিজ দেশে অবস্থান না করে আনুমানিক ১২৬০ খ্রিষ্টাব্দে উপমহাদেশে আগমন করে দিল্লিতে অবস্থান করেন। তিনি ছিলেন একাধারে সুফি, মুহাদ্দিস এবং বিশিষ্ট ইসলামি আইন বিশারদ। ইসলামি বিষয়াদির পাশাপাশি তিনি ভেষজশাস্ত্র, গণিত, ভূগোল ও রসায়নশাস্ত্রেও একজন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন।

তিনি বহু দেবতাবাদী ভারতবর্ষকে একত্ববাদের রঙে রাঙিয়ে তুলতে জোর প্রচেষ্টা আরম্ভ করেন। এখানে তিনি জ্ঞানচর্চায় পুনরায় মনোনিবেশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে উচ্চতর জ্ঞানের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে দিল্লিবাসীরা তার প্রতি সশ্রদ্ধ অনুরক্ত হয়ে ওঠে। তার জনপ্রিয়তা দেখে সে সময়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন ভয় পেয়ে যান। তখন সুলতান কৌশলে তাকে বাংলাদেশের সোনারগাঁয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং সোনারগাঁ অবস্থানের বন্দোবস্ত করে দেন। সুলতানের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে তার সঙ্গে বিরোধ না করে তিনি তার কথা মতো দিল্লি থেকে ১২৭৭ সালে বাংলাদেশের সোনারগাঁওয়ে আগমন করেন। এতে বাংলাদেশের মানুষের কপাল খুলে যায়। (বাংলাদেশের খ্যাতনামা আরবিবীদ পৃ. ৩; ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ)।

প্রাথমিক জীবন

তিনি ১২০০ সালের গোড়ার দিকে বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক পাঠ সেখানে সমাপ্ত করেন। পরবর্তী সময়ে ইলমের খিদা নিবারনে ইয়েমেনে অবস্থান ও স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন। সেখানেই হাদিসের সর্বোচ্চ স্তরের ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। জ্ঞান অর্জন শেষে শিক্ষকতা মহান পেশা বেছে নেন। (বাংলাদেশে ইসলাম পৃ. ১৭; আবদুল মাননান তালিব)।

উপমহাদেশে সর্বপ্রথম হাদিসের দরস

তিনি তদানীন্তন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ে এসে ধর্মপ্রচার শুরু করেন। ভারত উপমহাদেশের এ মহাপুরুষ অমর হয়ে থাকবেন তার একটি মহান কর্মের জন্য। তিনি সোনারগাঁওয়ে এসেই ইসলামি শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে বর্তমান মোগরাপাড়ার দরগাবাড়ি প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠা করেন বৃহৎ মাদরাসা। এখন থেকেই শুরু হয় হাদিসের পাঠ।

তার প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাই উপমহাদেশে ইলমে হাদিসের সর্বপ্রথম বিদ্যাপীঠ। এর আগ পর্যন্ত উপমহাদেশে দু-একজন হাদিস জানা আলেম থাকলেও এত উচ্চ সনদ ও মূলধারার ইলম ও হাদিসের চর্চা শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (রহ.) এর মাধ্যমেই শুরু। ইলম অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্ররা এখানে ছুটে আসত। হিন্দুস্তানের মাটিতে ইসলামি শিক্ষার যে অঙ্কুরোদ্গম বীজ লুকিয়ে ছিল, তিনি এসে তা মাটি ফুঁড়ে বের করে আনেন। সে সময় ওই মাদরাসার ছাত্রসংখ্যা ছিল ১০ হাজার। তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর এখানে হাদিসের শিক্ষা দিয়েছেন।

তবে তার আগে মাওলানা তাকী উদ্দীন (রহ.) আরবি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু তা ততটা প্রসিদ্ধি লাভ করেনি। (রিয়াজুস সালাতিন পৃ. ৬০, বাংলা অনুবাদ)।

পূর্ব বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁয়ে বহু সংখ্যক হাদিস বিশারদ সমবেত হয়েছিলেন। এই অঞ্চলে হাদিস চর্চার এতটাই প্রসার ঘটেছিল, অনেক মসজিদ ও খানকা এ জন্য নির্বাচন করা হয়। আরও অনেক আলেম-অলি উপমহাদেশে আগমন করলেও তারা হাদিসের ততটা ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন ছিলেন না। কিন্তু শাইখ আবু তাওয়ামা যেমন মস্তবড়ো দরবেশ ছিলেন, হাদিস বিশারদও ছিলেন তেমনই।

শাইখ আবু তাওয়ামা সোনারগাঁও অঞ্চলের তার কর্মক্ষেত্র সীমিত রাখেননি। সোনারগাঁওকে কেন্দ্র করে আসাম, ত্রিপুরাসহ সমগ্র বাংলাদেশে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে একজন চিন্তাশীল ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নায়কের ভূমিকা পালনে বিভিন্ন ব্যতিক্রমধর্মী কর্মপন্থা গ্রহণ করেন। বাংলার সব নদীপথের দূরত্ব ও যাতায়াত সুবিধার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র প্রণয়নের নির্দেশ দেন। রাজমহল আসাম আরাকান এলাকায় যেসব মুসলমান বসতি করে, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করেন।

জ্ঞান বিতরণ ও ইসলাম প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে শায়খ আবু তাওয়ামা সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি একটি বড়ো আকারের লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং তাতে নওমুসলিম মুজাহিদ-মুসাফিরদের জন্যে ফ্রি থাকাণ্ডখাওয়ার সুব্যবস্থা করেন। শিক্ষাদান, ইসলামি দাওয়াত, প্রচার-প্রসার, তাযকিয়া-তরবিয়ত, সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্তব্য পালনে শাইখ আবু তাওয়ামা যে খ্যাতি অর্জন করেন, আধ্যাত্মিক সাধনায় তার চেয়েও অধিক সম্মান লাভ করেন। তিনি ছিলেন, বিজ্ঞ আলেম ও বুজুর্গ ব্যক্তি। রাতের বেলায় মাটির নিচে কুঠুরিতে আল্লাহর জিকির-আজকারের মুরাকাবায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা মগ্ন থাকতেন। আজও তার সে ইবাদতগৃহটি অক্ষত অবস্থায় আছে। (হাদিস সংকলনের ইতিহাস পৃ. ৬৭১, মাও. আবদুর রহিম)।

এখনকার মতো সে সময়ের শিক্ষাব্যবস্থা দু’রকমের ছিল না। জাতীয় আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করার জন্য একই শিক্ষাব্যবস্থায় সবাই জ্ঞান অর্জন করত। সমাজকর্মী, ডাক্তার, উকিল, ব্যারিস্টার, বিচারক, সাহিত্যিক, ইঞ্জিনিয়ার, প্রকৌশলী, শিল্পী, ধর্মপ্রচারক তথা সব ধরনের যোগ্য নাগরিক একই শিক্ষাব্যবস্থা থেকে গড়ে উঠতেন এবং একই উদ্দেশ্যে নিজেদের জ্ঞান অভিজ্ঞতা কাজে নিয়োজিত হতেন। দেশের কল্যাণ, মানুষের কল্যাণ এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভই ছিল তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

শাইখ আবু তাওয়ামা সে সময়ের সবচেয়ে বড়ো জ্ঞানী, প্রকৃতিবিজ্ঞানী, রসায়নবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও হাদিস বিশারদ ছিলেন। তাই তিনি শিক্ষাব্যবস্থাকে দুই ভাগে ভাগ করেন। ১. আল-উলুমুল নকলিয়া (Traditional Science) ২. আল উলুমুল আকলিয়া (Rational Science)।

আল উলুমুল নকলিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল- ইলমুল কিরাত, ইলমুল কোরআন, ইলমুত তফসির, ইলমুল হাদিস, ইলমুল ফিকহ, ইলমুল মীরাস, ইলমুল তাওহিদ, ইলমুল আদাব, ব্যাকরণ, ইতিহাস ও সিরাতে রাসুল। আল উলুমুল আকলিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল- দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, ভূগোল, গণিত, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিদ্যা, চিকিৎসা, প্রযুক্তিবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান ও ব্যবসা ইত্যাদি। (হজরত শাইখ আবু তাওয়ামা পৃ. ১৭)।

যোগ্য ছাত্র ও শাগরেদবৃন্দ

শাইখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা তার শিক্ষাপদ্ধতিতে এমন সব পন্থা অবলম্বন করেন, যাতে করে একজন শিক্ষার্থী কোনো একটি বিষয়ে যথেষ্ট ব্যুৎপত্তি লাভ করতে পারে। রাসুল (সা.) এর আদর্শ ও নীতির আলোকে শাইখ আবু তাওয়ামা তার মাদরাসায় শিক্ষা দিয়ে থাকতেন। তৎকালীন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ শাইখ তাকি উদ্দীনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। পরবর্তীকালে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন খালেদ বিন ওয়ালিদ (রা.) এর বংশধর আলাউল হক ওমর ইবনে আসাদ।

শাইখ আবু তাওয়ামা মৃত্যুর পর তার যোগ্য খলিফা শাইখ ইব্রাহিম দানেশমন্দকে সেই মাদরাসার অধ্যক্ষ নিযুক্ত করা হয়। সোনারগাঁয়ে জ্ঞানচর্চার যে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেখান থেকে যুগশ্রেষ্ঠ অলি এবং দিকপাল দ্বীনি সৈনিক তৈরি হয়েছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন শেখ শরফুদ্দিন ইয়াহইয়া মুনিরি, শাইখ বদরুদ্দীন যায়েদ, শাইখ যইন ইরাকী, শাইখ ইব্রাহিম দানেশমন্দ। তারা রসায়নবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, সমরবিদ্যা এবং তফসির ও হাদিস বিশারদ ছিলেন।

খানকা প্রতিষ্ঠা

মাদরাসার পাশে সেখানে তিনি একটি খানকাও প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মানজিলে মাকামাত নামে তাসাউফ সম্পর্কে একটি বই লিপিবদ্ধ করেন। তা ছাড়াও ছাত্রদের উদ্দেশ্যে ফিকহবিষয়ক যেসব বক্তৃতা দিয়েছিলেন সেগুলোর সংকলন নিয়ে ফার্সি ভাষায় রচিত নামাজে হক নামে একটি কাব্যগ্রন্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ গ্রন্থে ১৮০টি কবিতা লিপিবদ্ধ আছে। অনেকে এ গ্রন্থটিকে মাসনবী বনামে হক নামে অভিহিত করেছেন। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে কানপুর থেকে প্রকাশিত হয়। জানা যায়, ব্রিটিশ জাদুঘরের আর্কাইভ ভবনে শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা (রহ.) এর লিখিত পা-ুলিপির অস্তিত্ব সংরক্ষিত আছে।

ইন্তেকাল ও শেষ বিদায়

আবু তাওয়ামা (রহ.) ৭০০ হিজরি মোতাবেক ১৩০০ খ্রিষ্টাব্দে ইহলোক ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পরও বহুদিন এ মাদরাসা চালু ছিল। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কালের পরিক্রমায় এক সময় মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেই মাদরাসাটির অস্তিত্ব আর নেই। তবে কালের সাক্ষী হিসেবে ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠটির কিছু ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। (মানাকিবুল আসফিয়া পৃ. ১৩১-৩৩২)।

১৯৮৪ সালে ইসলামি দার্শনিক ও চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) সফরে এসে মাদরাসার ধ্বংসাবশেষ ও বেহাল দশা দেখে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। তিনি এর অদূরে ওই এলাকায় শায়খ শরফুদ্দিনের স্মৃতিকে ভাস্বর করে রাখার জন্য মাদরাসাতুশ শরফ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করে যান।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের সাম্প্রতিক নিবন্ধ