বুধবার, ডিসেম্বর ১, ২০২১

ব্রণ কেন হয় এবং ব্রণ দূর করার উপায় কী?

ব্রণ দূর করার জন্য মলম প্রয়োগ, অ্যান্টিবায়োটিক অথবা রেটিনয়েডজাতীয় ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে

ব্রণ (acne) নিয়ে সমস্যায় কমবেশি সবাইকেই পড়তে হয়।  বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরী-কিশোরীদের এই সমস্যা দেখা যায়। সাধারণত ব্রণ সাধারণত মুখমণ্ডলে দেখা দেয়। তবে অনেক সময় মাথা, পিঠ ও ঘাড় ও বুকেও ব্রণ উঠতে পারে।

ব্রণ ওঠার বয়স

ছেলে ও মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সে ব্রণ উঠে থাকে। ২০ বছরের পর ব্রণ কমে যেতে শুরু করে। তবে ব্রণ থেকে ঠিক কবে বা কত বছরে মুক্তি পাওয়া যায় এরকম সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। 

ব্রণ ওঠার কারণ

  • কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকালে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের আধিক্য
  • মাসিক বা গর্ভাবস্থায় হরমোনের মাত্রার পরিবর্তন।
  • প্রসাধনীর ব্যবহার
  • জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, স্টেরয়েড, খিঁচুনি বা মানসিক রোগ, ইত্যাদি ঔষধের প্রভাব
  • অত্যধিক গরম
  • বেশি ঘর্মাক্ত হওয়া
  • তেলতেলে চুল ও মাথার খুশকি
  • মানসিক চাপ
  • পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
  • কেরোসিন বা কয়লার প্রভাব
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব
  • নারীদের মাসিক ঋতুস্রাবের সঙ্গেও ব্রণের সম্পর্ক রয়েছে।

ব্রণের ধরণ

ব্রণ বিভিন্ন ধরণের রয়েছে। যেমন- ছোটো ছোটো গোল ফুসকুড়ি, লালচে ছোটো ছোটো গোটা, আবার পুঁজপূর্ণ বড় বড় চাকাও হতে পারে।

ব্রণ টিপলে ভাতের দানার মতো বের হয়ে আসে। এমনও ব্রণ আছে যেগুলো খুব যন্ত্রণাদায়ক।  এতে ত্বকে ছিদ্রও দেখা দিতে পারে।  কারো কারো মুখমণ্ডলে ব্রণের তীব্রতা বেশি থাকলে তা এবড়োথেবড়ো দেখায়।

ব্রণ থেকে মুক্ত হওয়ার উপায় কী?

ব্রণের চিকিৎসা কী?

ব্রণ দূর করার জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই। একটু সচেতনভাবে চলাফেরা করলেই ব্রণ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব। তবে আক্রান্তের গুরুত্ব বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। ডার্মাটোলজিস্ট বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।  চিকিৎসা না করালে অনেক সময় ব্রণ ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি, বিশেষ করে ত্বকে গভীর প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।  ব্রণ দূর করার জন্য মলম প্রয়োগ, অ্যান্টিবায়োটিক অথবা রেটিনয়েডজাতীয় ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে।

ব্রণ দূরীকরণের জন্য যা সাধারণ করণীয়

  • মাথায় খুশকি থাকলে তা দূর করুন
  • অ্যালার্জি না থাকলে বেনজাইল পার-অক্সাইড লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোতে হবে
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে
  • সাবান দিয়ে মুখমণ্ডল ধুতে হবে (সাবান মুখমণ্ডলের তৈলাক্ত ভাব দূর করে এবং লোমকূপ পরিষ্কার রাখে)
  • বারবার পানি দিয়ে মুখমণ্ডল ধুতে হবে
  • ক্ষতিকর প্রসাধনী থেকে দূরে থাকতে হবে বা যথাসম্ভব কম ব্যবহার করতে হবে
  • ব্রণ হাত দিয়ে খোঁটাখুঁটি করা যাবে না
জারিন তাসনিম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্বাধীন লেখক।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের সাম্প্রতিক নিবন্ধ