শনিবার, অক্টোবর ১, ২০২২

বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টানা জয়

এই ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে জয় নিশ্চিত করে আসা আফিফ হোসেন ধ্রুব পান ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

প্রথম টি টোয়েন্টিতে (টি২০) জেতার পরে দ্বিতীয় টি টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশ জিতল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এটাই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্রিকেটের যে-কোনো সংস্করণে  প্রথম টানা (successive) জয়। টানা দুই ম্যাচের জয়ের মাধ্যমে ৫ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে।

বাংলাদেশের স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা আফিফ হোসেন ধ্রুব যখন জশ হ্যাজলউডের বাউন্সারকে স্কুপ করে চার হাকিয়ে নিজেদের জয় নিশ্চিত করল, স্টেডিয়ামের বাইরে কোনো একটি উঁচু দালানের ছাদ থেকে কিছু সমর্থক বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানো শুরু করল। উল্লেখ্য মাঠে কোনো সাধারণ দর্শক ছিল না কোভিড-১৯ মহামারির কারণে।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশের এই জয় ক্রিকেট সমর্থকরা ভালোই উপভোগ করেছেন।

আফিফ হোসেন ধ্রুব ও নুরুল হাসান সোহানের ম্যাচ জেতানো জুটির আগে মাত্র ৯ রানের ব্যবধানে সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মাহেদি হাসানের উইকেট পতন কিছুটা হলে ভয় জাগিয়েছিল বাংলাদেশ শিবিরে। কিন্তু ভয়ের কাছে কাবু না হয়ে স্বাভাবিক গতিতে রানের চাকা চালু রাখেন আফিফ এবং সোহান। এরা দুইজনই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টানা জয়ের শেষের তারকা।

টসে অস্ট্রেলিয়া জিতলে, সে দলের অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ দলকে বোলিংয়ে পাঠান। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল না সেটা প্রমাণ করে দেখান বাংলাদেশের বোলাররা। অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১২১ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ।

এই ম্যাচে মোস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৩ টি উইকেট তুলে নেন এবং শরিফুল ৪ ওভারে ২৭ রান খরচ করে নেন ২ উইকেট। সাকিব এবং মাহেদি নেন ১ টি করে উইকেট।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে এই দিন সর্বোচ্চ রান করেন মিচেল মার্শ। মার্শ ৪২ বল খেলে ৪৫ রান করেন। শরিফুল ইসলামের বলে উইকেট কিপার নুরুল হাসান সোহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলয়েন ফিরেন ১৬.১ ওভারে। তখন অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৯৯। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলন মইজেস হেনরিক্স, তিনি ২৫ বল খেলে ৩০ রান করে সাকিব আল হাসানের বলে বোল্ড হয়ে যান। তিনি যখন ফিরেন তখন রান ছিল ৮৮।

নিয়মিত বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার উইকেটের পতন ঘটতে থাকে। মাত্র ১৩ রানে অ্যালেক্স কেরিকে ক্যাচ আউট করর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম উইকেটের পতন ঘটান মাহেদি হাসান। দ্বিতীয় উইকেটের (ফিলিও) পতন হয় ৩১ রানে। তৃতীয় উইকেট ৮৮ রানে (হেনরিক্স), চতুর্থ উইকেট ৯৯ রানে (মার্শ), পঞ্চম উইকেট ১০৩ রানে (ওয়েড), ষষ্ঠ উইকেট ১০৩ রানে (অ্যাগার), ৭ম উইকেট ১০৬ রানে (টার্নার)।

অস্ট্রেলিয়া ২০ ওভার খেলে ৭ উইকেট হারিয়ে রান তোলে ১২১।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বিপদে সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ। সোম্য সরকার কোনো রান না করেই দুই বল খেলে মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হন। দলের তখন ২ ওভার ২ বলে সংগ্রহ মাত্র ৯। ২১ রানের মাথায় ছন্দে থাকা মোহাম্মদ নাইমকেও হারায় বাংলাদেশ। অবশ্য দুই ব্যাটসম্যানের চলে যাওয়া নিয়ে খুব একটা চিন্তিত হতে দেননি তিন নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে আসা সাকিব আল হাসান এবং চার নম্বর ব্যাটসম্যান মাহেদি হাসান, যদিও মাহেদির কিছু ভুল শট ছিল।

এই ম্যাচে সাকিব আলা হাসান ১৭ বলে ২৬ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন। এই ইনিংস খেলার শুরুতেই সাকিব আল হাসান মিচেল স্টাররকে পরপর ৩ চার মেরে বোলারের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেন। এই ওভারে স্টার্ক দেন ১৩ রান এবং তুলে নিয়েছিলন মোহাম্মদ নাইমের উইকেট। মনে হয় এই ওভারটিই বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

দলের ৫ উইকেট পতন হবার পর নুরুল হাসান সোহান আসেন ক্রিজে, সেখানে আগে থেকেই ছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। দুইজনের পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে প্রত্যাশিত জয় পায় বাংলাদেশ। আফিফ হোসেন করেব ৩১ বলে ৩৭ এবং নুরুল হাসান করেন ২১ বলে ২২ রান। 

অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা মোটেই খারাপ করেননি। অ্যাগার, জাম্পা, হ্যাজলউড, প্রত্যেকেই দারুণ করেছিলেন। কিন্তু রান কম হওয়ার কারণে ম্যাচ নিজেদের পকেটে রাখতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একমাত্র মিচেল মার্শ ছাড়া প্রত্যেকেই ১ টি করে উইকেট শিকার করেন। অস্ট্রেলিয়ানদের যে সব বলে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা আউট হয়েছিলেন তা ছিল দুর্দান্ত সব ডেলিভারি। এই ম্যাচে বাংলাদেশিদের কেউ ক্যাচ আউট হননি।

এই ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে জয় নিশ্চিত করে আসা আফিফ হোসেন ধ্রুব পান ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

বাংলাদেশের সাথে প্রথম টি২০ সিরিজে এভাবে নাকানিচুবানি খাবে অস্ট্রেলিয়া সে কথা কেউ ভেবে ছিলেন?

বিশ্লেষণ-এর সকল লেটেস্ট নিবন্ধ পেতে Google News-এ অনুসরণ করুন

মনির হোসেন
কন্ট্রিবিউটর, বিশ্লেষণ

নিবন্ধটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান আমাদেরকে। নিচের মন্তব্যের ঘরে সংক্ষেপে লিখুন আপনার মন্তব্য। মন্তব্যের ভাষা যদি প্রকাশযোগ্য হয় তবে তা এখানে প্রকাশিত হবে। আর যদি আপনার কোনো অপ্রকাশিত নিবন্ধ বিশ্লেষণ-এ প্রকাশ করতে চান তাহলে নিম্নোক্ত ইমেইলে তা পাঠিয়ে দিন নিজের নাম, পরিচয় ও ছবিসহ।

ইমেইল: [email protected]

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের অন্যান্য নিবন্ধ

সমাজমাধ্যম

সাম্প্রতিক মন্তব্য

সবচেয়ে জনপ্রিয়
সবচেয়ে জনপ্রিয়

গবেষণা: গবেষণার সংজ্ঞা, ধারণা ও প্রকারভেদ

গবেষণা হলো কোনো কিছু সম্পর্কে জানার জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এবং একটি গবেষণা শুধু একটি প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দুই বা ততোধিক প্রকারের হতে পারে

শিক্ষা কী? শিক্ষার সংজ্ঞা, ধারণা এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

শিক্ষা নিয়ে যারা কথা বলেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই নিজের মতো করে ভেবে নিয়েছেন শিক্ষাকে, নিজের মতো করে সংজ্ঞা দিয়েছেন। শিক্ষাবীদ কিংবা মনিষী, যার সংজ্ঞাই দেখা হোক না কেন, খুব একটা সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। তাই বলে যাদের হাত ধরে শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা আজ পর্যন্ত এসেছে তাঁদের মতো শিক্ষাবিদ বা মনিষীদের বলে যাওয়া বা লিখে যাওয়া কথাগুলোকে এড়িয়ে চলাও সম্ভব নয়।

মূল্যবোধ কাকে বলে এবং মূল্যবোধের উৎস ও প্রকারভেদ কী?

মূল্যবোধ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Value এটি গঠিত হয়েছে...

পরিবার কাকে বলে? পরিবারের সংজ্ঞা, ধারণা, প্রকারভেদ, কার্যাবলি ও গুরুত্ব কী?

আমরা জন্ম থেকেই পরিবারের সাথে পরিচিত। আমরা নিশ্চয়ই অবগত...

শিক্ষা: অভীক্ষার সংজ্ঞা এবং বৈশিষ্ট্য

শিক্ষাক্ষেত্রে অভীক্ষা খুবই পরিচিত একটি পদ। যারা শিক্ষাবিজ্ঞান পড়েছেন...

নেতা ও নেতৃত্ব কাকে বলে? একজন আদর্শ নেতার গুণাবলি কী?

নেতৃত্বের মূল কাজ হলো আওতাভুক্ত ব্যক্তিবর্গকে প্রভাবিত করা, যাতে তারা নেতার নির্দেশ মেনে নেয় ও সে মোতাবেক কাজ করে। 

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা, পরিধি এবং গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা

মানব সভ্যতার শুরু থেকেই ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন মানব সংগঠনের সাথে...

ইতিহাস কাকে বলে? ইতিহাসের বিষয়বস্তু, উপাদান এবং ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা কী?

ইতিহাস পাঠ করার আগে আমাদের প্রত্যেকেরই জানা প্রয়োজন ইতিহাস কী, ইতিহাসের প্রকৃতি কীরূপ; আবার পাঠ্য বিষয় হিসেবে ইতিহাসের ভূমিকা কী। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট কালের এবং নির্দিষ্ট দেশের ইতিহাস জানার সাথে সমসাময়িক প্রাকৃতিক অবস্থা এবং পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। এই নিবন্ধে ইতিহাসের সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু, উপাদান এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনার নীতি বা মূলনীতি কয়টি ও কী কী?

ব্যবস্থাপনা কী? ব্যবস্থাপনা একটি বাংলা শব্দ যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো...

সুশাসন কী? সুশাসনের ধারণা, সংজ্ঞা ও উপাদান কী?

সুশাসন হলো এক ধরনের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতার...

শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল

পাঠকে ফলপ্রসূ করার জন্য শিক্ষক পরিস্থিতি অনুসারে একাধিক পদ্ধতি ও কৌশলের সংমিশ্রণে নিজের মতো করে পাঠ পরিচালনা করতে পারেন। পাঠের সাফল্য নির্ভর করে শিক্ষকের বিচক্ষণতা এবং বিষয়জ্ঞান ও শিখন পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগের উপর।