বুধবার, ডিসেম্বর ১, ২০২১

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত জীবনী

তিনি সব সময়ই ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান বুকে ধারণ করে চলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো গণতান্ত্রিক দেশ ভারত (India)। ভারতের রয়েছে ২৮ টি ভিন্ন ভিন্ন রাজ্য এবং ৮ টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বা ইউনিয়ন টেরিটরি। পশ্চিমবঙ্গ, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল (West Bengal) হলো অন্যতম প্রধান একটি রাজ্য। এ রাজ্য থেকে পরপর তিনবার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । একজন মহিলা এ কৃতিত্ব তাঁর একারই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের সবার কাছে ‘দিদি’ বা বড়োবোন বলে পরিচিত।

এই নিবন্ধে সংক্ষিপ্তভাবে বলার চেষ্টা করা হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাজীবন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেমন; বলা যায় এটি হতে যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ছোটোখাটো জীবনী।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম, শিক্ষাজীবন এবং রাজনীতি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ও বাবা-মা

জানুয়ারি ৫, ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ কলকাতার হাজরা অঞ্চলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে পরিবারটিতে জন্মগ্রহণ করেন সে পরিবার ছিল অর্থনৈতিক দিক থেকে নিম্ন মধ্যবিত্ত। তাঁর পিতার নাম প্রমীলেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রমীলেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে যুক্ত ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাঁর মায়ের নাম মা গায়ত্রী দেবী, ছিলেন গৃহিণী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাজীবন

কলকাতার যোগমায়া দেবী মহাবিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। কলকাতা শহরেই অবস্থিত আরেকটি কলেজ, শ্রী শিক্ষায়তন কলেজ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বি. এড.) সম্পন্ন করেন। এরপরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব লজ (এলএল.বি.) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি শিক্ষাজীবন শেষ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাসে মাস্টার্স সম্পন্ন করার মাধ্যমে।

রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে হাতেখড়ি

রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেখড়ি হয় শিক্ষাজীবনেই। ১৯৭০ সালে তিনি যখন যোগমায়া কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন তখন ‘ছাত্র পরিষদ’ গঠন করেন।

জাতীয় কংগ্রেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ‘ছাত্র পরিষদ’ গঠন করেন অর্থাৎ তিনি ছাত্রাবস্থায় ছাত্ররাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলেন সেটি ছিল জাতীয় কংগ্রেসের অধিভুক্ত বা অঙ্গ সংগঠন। শিক্ষাজীবন শেষ করে যখন তিনি ছাত্ররাজনীতি থেকে বেড়িয়ে এলেন তখন কিছুকাল শিক্ষকতাও করেন এবং বাবা-মায়ের সংসারে মনোযোগী হন।

একটা সময় তিনি বুঝতে পারলেন তাঁর রাজনীতিতে আশা উচিৎ এবং তিনি সেটাই করলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরলেন জাতীয় কংগ্রেসে। অবশ্য তিনি যে কয়দিন রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন সেটি আসলে কাগজ-কলমের দূরত্ব ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব দ্রুতই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মহিলা শাখার অত্যন্ত প্রভাবশালী নেত্রী হয়ে উঠলেন। পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় কংগ্রেসের মহিলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত।

মমতা বদ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা নির্বাচনে প্রথম জয়

খুবই প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ছিলেন সোমনাথ চট্যোপাধ্যায়। ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলেন পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে যেখানে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছিল উল্লেখিত বর্ষিয়ান কমিউনিস্ট নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সাথে। খুব সহজেই সোমনাথকে পরাজিত করে প্রথম প্রচেষ্টাতেই মমতা গেলেন লোকসভায়। সাংসদ হিসেবে নাম লেখালেন প্রথমবারের মতো। মিস বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন অল্পবয়সী সাংসদদের মধ্যে অন্যতম।

লোকসভা নির্বাচনে মমতা বদ্যোপাধ্যায়ের প্রথম পরাজয়

মিস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম প্রচেষ্টাতে সফল হলেও অর্থাৎ ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হলেও তিনি ১৯৮৯ সালে নিজের কেন্দ্রে হেরে যান। কারণ ওই সময়টি ছিল কংগ্রেসের জন্য খুবই কঠিন যেহেতু জনগণের সিংহভাগ তখন কংগ্রেস বিরোধী হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

লোকসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফিরে আসা

১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে জয়লাভের পর পরের নির্বাচনে ১৯৮৯ সালে রাজ্যের জনগণ কংগ্রেস বিরুদ্ধ শিবিরে গেলে পরাজয়বরণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচনে পুনরায় সাংসদ নির্বাচিত হন। এবারে তিনি নির্বাচিত হন কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র থেকে। পরবর্তিতে কলকাতার দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র থেকেই ১৯৯৬, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০৪ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে টানা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মন্ত্রিসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

১৯৯১ সালের নির্বাচনে জিতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (Indian National Congress) ক্ষমতায় গেলে পামুলাপারথি ভেংকাটা নরসিংহ রাও (Pamulaparthi Venkata Narasimha Rao) ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি পি ভি নরসিংহ রাও নামেই অধিক পরিচিত। দক্ষিণ ভারত থেকে নির্বাচিত প্রথম ও ভারতের দশম প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিংহ রাও তাঁর মন্ত্রিসভায় কলকাতার দক্ষিণ লোকসভা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জায়গা দেন। মমতা বন্দ্যোপাধায়কে নিয়োগ দেওয়া হয় মানব সম্পদ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিকাশ মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে। ভারতের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রনালয় বা শিক্ষা মন্ত্রক (Ministry of Education) নামে পরিচিত। অটল বিহারী বাজপেয়ির মন্ত্রিসভায় মমতা ব্যানার্জি কোল অ্যান্ড মাইন্স মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রেল মন্ত্রণালয়ে প্রথবার

১৯৯৯ সালের ১৩ অক্টোবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রেল মন্ত্রলায়ের দায়িত্ব প্রদান করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী। মমতা ব্যানার্জি এই মেয়াদের দায়িত্ব পালন করেন ২০০১ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) আরেক প্রধান রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (Bharatiya Janata Party) নেতৃত্বে ন্যাশনাল ডেমক্রেটিক অ্যালায়েন্স (National Democratic Alliance – NDA) এর সাথে জোটবদ্ধ ছিল।

রেল মন্ত্রণালয়ে দ্বিতীয় বার

ভারতের প্রথম শিখ ধর্মালম্বী মনমোহন সিং ছিলেন ভারতে ১৪তম প্রধানমন্ত্রী, যাকে বলা হয় গণতন্ত্রের প্রাকত্ন। মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি রেল মন্ত্রণালয়ের বা ভারতীয়দের ভাষায় রেল মন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন মে ২৩, ২০০৯ থেকে মে ১৯, ২০১১ পর্যন্ত।

রেলমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার কারণ ছিল তিনি সর্বভারতী তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। মে ২০, ২০১১ তারিখ থেকে মমতা বদ্যোপাধ্যায় পশ্চিমঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ সময় তাঁর তৃণমূল কংগ্রেস জোটবদ্ধ ছিল ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (United Progressive Alliance) এর সাথে।

যেভাবে মমতা ব্যানার্জীর হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় সর্বভারতী তৃণমূল কংগ্রেস

মমতা বন্দ্যপাধ্যায় ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বা কংগ্রেসের জন্য অনেক কিছুই করেছেন। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সেই দল থেকে তিনি বের হয়ে আসেন ১৯৯৭ সালে, জাতীয় কংগ্রেসের নেতাদের মত ও আদর্শের সাথে অমিল লক্ষ্য করলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে তখন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একমাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠ বলে দাবি করেছিলেন।

অবশ্য তখন যে সব ঘটনা ঘটেছিল সে সবের মধ্যে অন্যতম ছিল তিনি যখন ক্রীড়া মন্ত্রকে ছিলেন তখন তিনি দেখতে পেয়েছিলেন তাঁর পশ্চিমবঙ্গকে অনেকাংশেই খাটো করে দেখা হয় এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গকে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করছে না। এই কারণে তিনি ১৯৯৩ মন্ত্রণালয় থেকে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। এরপরে ১৯৯৬ সালে পেট্রোলিয়ামসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তিনি প্রতিবাদ করেন যার কারণে অনেকের চোখে তিনি শত্রুও হয়েছেন। এছাড়া রেলের বাজেট ঘোষণার সময় পশ্চিমবঙ্গকে অবহেলা করা তৎকালীন রেলমন্ত্রী রামবিলাশ পাসোয়ানের কলার ধরেন। অবশ্য এই ঘটনায় তিনি সংসদ (লোকসভা) থেকে পদত্যাগের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। শেষ পর্যন্ত মমতা তখন একটি ‘পরিচ্ছন্ন কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।

১৯৯৭ সালের মাঝামাঝিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নতুন দলকে ‘সর্বভারতীয় তৃণমুল কংগ্রেস’ বা ‘All India Trinamool Congress’ নামে নিবন্ধিত করেন। ভারতের নির্বাচন কমিশন এই দলকে ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক বরাদ্দ দেয়। সর্বভারতীয় তৃণমুল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের জনগণের সামনে আসে ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি। তাই জানুয়ারি ১, ১৯৯৮ তারিখকে তৃনমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার দিন ধরা হয়।

ভারতের জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দল সর্বভারতীয় তৃণমুল কংগ্রেসকে সংক্ষেপে AITC, TMC, তৃণমূল, তৃণমূল কংগ্রেস বলে ডাকা হয়। এখানে AITC হলো All India Trinamool Congress; TMC হলো Trinamool Congress।

ক্ষমতায় তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

১৯৯৮ সালে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতায় আসে। এরই সাথে পতন হয় বামফ্রন্টের। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী (প্রথমবার)

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে (2011 West Bengal Legislative Assembly election) সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস অংশ নিয়েছিলে ‘পরিবর্তন’ স্লোগান নিয়ে। সত্যিই তাঁদের ‘পরিবর্তন’ স্লোগান অর্থবহ হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক নিয়ে অবসান ঘটয়েছে ’৩৪ বছরে বামফ্রন্ট রাজত্বের। সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট বা ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে মমতা ব্যানার্জি এই নির্বাচনে ২২৭ টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেন। মমতা ব্যানার্জির ২২৭ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে পায় ১৮৪ টি যা আগের বারের চেয়ে ১৫৪ টি বেশি। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মোট আসন ২৯৪ টি এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪৮ টি। বোঝাই যাচ্ছে কতটা প্রভাব খাটিয়েছেন মমতা সে সময়। ২০ মে, ২০১১ তারিখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের ৮ম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পড়ে একটি বিশেষ ঘটনায় সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট থেকে বের হয়ে আসে তৃণমূল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী (দ্বিতীয়বার)

২০১১ সালে ক্ষমতায় যাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারো ক্ষমতায় নিয়ে আসে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কোনো জোটে না গিয়ে এককভাবে নির্বাচন করে জয়লাভ করে যা একতি ঐতিহাসিক ঘটনাও বটে। ১৯৬২ সালেই কেবল এরকম কোনো দল জোটে না গিয়ে ক্ষমতা গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে।

২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস মোট ২১১ টি আসনে জিতেছিল যা ২০১১ সালের নির্বাচনের চেয়ে ২৭ টি বেশি। ২৭ মে ২০১৬ তারিখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুনরায় শপথ নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী (তৃতীয়বার)

অনেকেই ভেবেছিলেন যে, ২০১১ ও ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় যেতে দারূনভাবে সফল হলেও ২০২১ সালের নির্বাচনে তাঁরা ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে হেরে যাবেন। এবং যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তাতে মনেই হয়েছিল এবার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় যাবে। নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অনেক নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, যাদের মধ্যে মিঠুন চক্রবর্তি অন্যতম। যদিও মিঠুন বা জঙগণের কাছে গুরু নির্বাচনে যাননি। তবে যারাই তৃনমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়ে মনোনয়ন নিয়েছিল তাঁদের অনেকেই হেরেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের স্লোগান ছিল ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হেরেছেন তাঁর আসন নন্দিগ্রামে। তিনি হেরেছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। মমতা হেরে গেলেও তাঁর দল মোটের হিসেবে পূর্বের থেকে ২ টি আসনে জয় পেয়েছে অর্থাৎ ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল পেল ২০১৩ টি আসন। নিজের আসনে হারলেও সংবিধান অনুযায়ী মমতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পান মমতা। যা হবার তাই হয়েছে; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়াবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মে ২০, ২০২১ তারিখ। মে ৩, ২০২১ থেকে মে ৫, ২০২১ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেমন?

যদি প্রশ্ন করা হয় যে, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেমন?’ তাহলে আমার মনে হয় না এর জন্য আলাদা করে উত্তর দিতে হবে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি গ্রহণযোগ্য না হলে বারেবারে তাকে নির্বাচিত করতেন না পশ্চিমবঙ্গের জনগণ। তিনি সব সময়ই ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান বুকে ধারণ করে চলেন। বাংলার মানুষের কল্যাণে মমতা ব্যানার্জি সব সময়ই নিবেদিত প্রাণ। তাঁর চোখে তাঁর রাজ্য পশ্চিমবঙ্গই সব।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি বিয়ে করেছেন?- এমন প্রশ্নের উত্তর হলো, তিনি বিয়ে করেননি তাঁর কোনো সঙ্গীর খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং তাঁর কোনো সন্তান নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা মমতা ব্যানার্জি অথবা দিদি, যে নামেই তাকে ডাকা হোক না কেন তিনি একজনই। শুধু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সারা ভারত নাচানোর সক্ষমতা আছে মমতা ব্যানার্জির। ভারতের লোকেরা এখনই বলা শুরু করে দিয়েছেন, মমতা ব্যানার্জি হতে চলেছেন ভারতের পরবর্তি প্রধানমন্ত্রী। মমতা ব্যানার্জি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কি না সেটি সময় বলে দেবে তবে আপাতত তাঁর রেকর্ড নিয়ে আনন্দের থাকুক তাঁর অনুসারীরা।

মু. মিজানুর রহমান মিজানhttps://www.mizanurrmizan.info
শিক্ষার্থী, মাস্টার অব এডুকেশন, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা এবং স্বাধীন লেখক।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

এই বিভাগের সাম্প্রতিক নিবন্ধ